মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মণিদীপা নন্দী বিশ্বাস ।। পারক গল্পপত্র



আমার বাতাসী শরীর একটু আগে ইলেকট্রিক চুল্লীতে শেষ।এখন ঠিক এই মুহূর্তে আত্মাই বলুন আর যাই বলুন সেই নেই আমি টা ঘুরছি এখানে সেখানে মনের সুখে।শুধু দেখে বেড়ানো কান্নাগুলো,কিছু মনখারাপের মেকী সংলাপ অথবা স্মরণসভার আনাচ কানাচে কুম্ভীরাশ্রু।বেঁচে থাকতে এ জীবনের মানে বোঝা বড় দুষ্কর।তাই দুম্ করে যখন মৃত‍্যু হল আমার দম বন্ধ করা কষ্টটা আমাকে বীতরাগ হতে দিচ্ছিলনা। আরও বাঁচতে চেয়েছিলাম সত‍্যি।আর একটু নিজেকে দেখানো বাকি ছিল।আমি কি,কেমন করে অন‍্য পাঁঁচজনের মনের হদিশ নেওয়ার ক্ষমতায় বসে ছিলাম,আর তারপর ই কখন সময় ফুরোলো।চলতে চলতেই ভাবনা গতিময়তাতেও কেমন ক্লান্তি!দিনগুলো কেমন বয়ে নিয়ে যাওয়া টেনে নিয়ে যাওয়া।এইযে ডিপ্রেশন,ফাসট্রেশন শুরু হল সেটা মনে হয় সুমন ইচ্ছে করে সরে যাওয়ার পর থেকে।সেওতো বছর তিন চার হয়ে গেছে।তবু চলছি টেনে টেনে কখনো ছোটা,কখনো মনখারাপের বাতাস নিয়ে।তাই প্রাণ পাখিটা যখন ফুড়ুৎ করে বেরোই বেরোই করছিল,আঁকুপাকু করছিলাম,ইচ্ছে করছিলনা বটে এ সুন্দর পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে এ রঙীন পর্দা আঁটা চোখ দুটো অন্ধকার হয়ে যাক।কি ভয়ঙ্কর কালো।মনের ভিতরতো বিরাট কল্পনার মাঠ।মনে মনে ভেবে রাখা আকাশ।একার সঙ্গে যে এখন কত কথা বলছে বাতাসী।এমন ই তার স্বভাব।প্রাণ পাখিটা এগাছ ওগাছে আটকে থেকে স্বপ্ন দেখে ছোট্টবেলা।মা চলে যেত কাজে।একলাটি উঠোন জুড়ে বাঁশের মাচায় ঝুলে থাকতো উচ্ছেলতা,হলদে ছোট ছোট ফুল।কখনো পুঁই পাতার গুটিগুলো ফাটিয়ে রঙ মেখে নিত হাতে নখে।নেলপালিশ,লিপষ্টিক সব ছিল নিষিদ্ধ।টানও ছিলনা ওসবে।কাচপোকা টিপ পরত কপালে,খোলা রোদ ভরা আকাশের নীচে উঠোনে দাঁড়িয়ে পড়ত দুহাত ছড়িয়ে ।নিজের ছায়ার দিকে তাকাত,মিনিট তিনেক কি কয়েক সেকেন্ড নীচে ছায়াতে তাকিয়ে আকাশের খোলা নীলের প্রশস্ত উদার কোলে নিজের সাদাটে ছায়ার প্রতিবিম্ব দেখত।এটা নিয়ে অনেক ভেবেছে বাতাসী,বড় হয়ে এখনো ভাবে...ওরা বলত'আনমনা খেলা' কিন্তু চোখের ছায়া আকাশে কি করে পৌঁছত তার ব‍্যাখ‍্যা ওকে কেউ সঠিক বুঝিয়ে বলেনি কোনদিন।বন্ধুরা দাঁড়িয়ে যেত সার সার।ছায়াদের ভীড়ে হারিয়ে যেত তারা।খুব আনন্দে।এ ব‍্যাপারটা সবচেয়ে ভাল হত স্কুলের বিরাট মাঠে এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে।মাথার উপর উড়ত চিল।গোল চক্করকাটা প্লেনের মত।বাতাসীরা লুকিয়ে নিত হাতে ধরা টিফিনের জিলিপি,আমৃতি,লবঙ্গলতিকা।নয়তো ঐ উঁচু থেকেও নির্দিষ্ট চোখে শিকারীর মত ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে টিফিনটুকু।ধারালো ঠোঁটে অথবা নখে কেটে যেত গাল,ঠোঁট ছড়ে যেত।লাল ওষুধ লাগানোর জন‍্য হুড়োহুড়ি পড়ত।খেলা ততক্ষণে মাথায়। বাতাসীরা আশপাশ থেকে শিখেছে কত কিইযে!বাড়তে থাকে আকাশ ধরবে বলে। ভাগ‍্যিস বাবা নেই,মাও অকালে চলে যাওয়া...বাতাসের টানে অনেকদিন ঘুরছে ওঁরা।চারদিকে জড়িয়ে আছে নি:শ্বাসে।অদ্ভুত মায়ায় বাতাসীর দুহাত ধরে আছে ওঁঁরা।একলা ঘুমিয়ে পড়লে উষ্ণ ওমের মত বায়বীয় সূক্ষ্ম শরীরে মা ওর শরীরে ঢেকে দেয় চাদর।কি পরিচ্ছন্ন নরম আর কি সুন্দর গন্ধ।সে একলা বিছানায় চোখ বোজে।আঁচলের গন্ধ পায়।মার অসুস্থ বিছানার পাশে দাঁড়ানোর কোন সাধ ছিলনা ওর।ওষুধ আর অসুখ অসুখ গন্ধ একদম নিতে পারেনা ও। এখনো না।বাবা অসুস্থ শুয়ে আছে বিছানায়।বাতাসী দূর থেকে উঁকি দেয়।কাছটিতে যেতে কষ্ট পায়।বুক চেপে ভয় আসে।সবাই ভাবে এ কেমন ধারা মেয়ে!ঐযে চাপধরা ব‍্যথাবোধ মাথার ভিতর,বুকের ভিতর,বুঝবে কে?বাড়ীর অন‍্য সবাই ডাক্তার আনে।বাবাকে ধরে তোলে,শুশ্রূষা করে।আসলে মাঝে মাঝেই অ্যাসিড  হয়ে বুকে কষ্ট হত। অ্যান্টাসিডে সেরেও যেত।কিন্তু সে পালিয়ে বেড়ানোর ভয়টা রয়েই গেল।নিজের জ্বরের বিছানায় মার উপস্থিতি চেয়েছে মনে মনে।এ কেমন যেন স্বার্থপরতা।দু চোখ জলে ভরে যেত মা না থাকলে।একরাশ গল্পের ব ই

 চিকেনপক্স হলে বা টাইফয়েড হলে মশারীর মধ‍্যে থাকতো।মা ঠিক সময়ে মশারী তুলে তেল লাগিয়ে নিমপাতার হাওয়ায় আরাম করে ঘুম পাড়িয়ে চলে যেত।সে গন্ধ বাতাসীকে বড় ই হতে দিলনা আর।...একদিন সেই বাতাসীও প্রেমে পড়ল।প্রেম মানে একটু একটু চেয়ে থাকা শুধু।সব ফেলে পড়াভুলে বেরিয়ে পড়া কোন চোখের টানে।সে ছোঁয়া টোয়ার কথাগুলো পরে মনে হয়েছে কিই ছেলেমানুষী।মার তীব্র তীক্ষ্ণ বকুনির দু চোখকে ভীষণ ভয় তার।থরথরিয়ে কাঁপত শরীর। তবু রঙ ফাগুনে রঙ লাগানো।খেলতে যেতে পাশাপাশি হাঁটতে থাকা অথবা দৌড় সেওতো পাওয়া অনেক করে প্রকৃতিকে।শিহরণে ডুবতে থাকা।কৈশোরের অ্যান্ড্রলিন গ্রন্থি থেকে কি নি:সরণ হত কে জানে!বাতাসী,ছেলেমানুষ বাতাসীটা নিজের মত বড় হল খুব সহজে সাবলীল ভঙ্গিমায়।যেখানে দুহাত বাড়ালেই পৌঁছনো যায়,সহজ হতে পারা যায় ঠিক ওর বাবার মত।আর মার মত খিলখিলিয়ে হেসেও নেওয়া যায়।

২.

বাতাসীদের বিয়ে হয়।ওরও হয়েছিল ধুম্ মচাকে।নহবৎ,রোশনচৌকির আওয়াজ ঘিরেছিল।ও তখন দেখার মত অবস্থায় ছিল নাকি!পরে অনেক পরে সবার কাছে শুনে টুনে কি আপশোস।মনের ভিতর আঁকু পাকু,স্থলপদ্মের উঠোন ছেড়ে চলল কংক্রিটের ইটের শহরে সে কোন ধূলো বালিতে কে জানে!ওখানে ব‍্যালকণি বারান্দাটুকু পেল।প্রথম দিকে ভাড়াটে হয়ে।যাকে ভালবাসল সেতো চালচুলোহীন।আর মা বাবাও বাতাসীর ইচ্ছেকে গুরুত্ব দিতে শুধু ছেলেটাকেই দেখল।বা: খাসা ছেলে।আর মেয়ে যখন পছন্দ করেছে প্রশ্ন নেই।আবেগে টই টম্বুর বিয়ের বছর। এমন ভালবাসার ছবি কে কবে দেখেছে!....ওদিকে বাতাসী ভেবেছে,বাবা মার এক ছেলেই হল ওর বর।বেশ হল।এক গাছের ছাল যে অন‍্য গাছে লাগেনা এসবকি জানা যায়! সে অফিসার ছেলের মুখভঙ্গি মা বাবার কাছে এলে কেমন যেন উচ্চিংড়ে।হাসতে জানেনা,মিশতেওনা।খুব রাগ হত বাতাসীর।বাবাকে বাজার স ট করে একটুও সাহায‍্য করতনা সে ছেলে।কর্তব‍্যবোধ ই তৈরি হয়নি কোন।অর্থাৎ বাতাসীর কথায় বিয়ে করেছি,সারাজীবন ও আমার।আমি পায়ের ওপর পা।অফিস বেরোবো সময়ে।সব রেডি চাই।তবেই কিনা বাড়ীর কর্তা।প্রথম প্রথম এসব ত্রুটি দেখেও না দেখার ভান করত সে।কিন্তু বুঝিয়ে দিত অপছন্দ।সেগুড়ে বালি।বাবা মায়ের সে একাকীত্ব বাড়ল বই কমলনা।...গুমড়ে গুমড়ে বাতাসীর মুখে যন্ত্রণার প্রলেপ।'ভাল আছিসতো মা?' বাবার উৎকন্ঠিত প্রশ্নের সবসময় সঠিক উত্তর পেতনা।দুচোখ ভরত জলে।মা কি বুঝত কে জানে প্রশ্ন করতনা।মাস বছর পেরোতে পেরোতে বাবা একদিন,পাঁচবছর পুরতেই মা চোখ বুজেছে।অফিসারটির সময় হয়নি।বাতাসী গেছে চলেও এসেছে।শূন‍্যবাড়ীর ঘরগুলো খাঁ খা করে।জানান দেয় শরিকি মুখ ,আর কেন বাবা!ক্ষ‍্যামা দাও।আহ্লাদে এ বোন সংসারী ব‍্যাপারে পাত্তা পায়নি তেমন।বাবা মার স্বপ্নকুমারীর স্বপ্ন আগল বাস্তব পথ পেল কিনা,এসব খবরে ওদের আগ্রহ নেই।বাতাসীর হঠাৎ চাকরী পাওয়াতেও তাদের কোন হেলদোল ছিলনা।সুুতরাং বাপের বাড়ীর আগ্রহ সেখানেই ইতি।...ঘুরে ঘুরে যত বয়স বেড়েছে বাতাসী মাটির দাবীতে উকিলের পরামর্শ নেবে ভেবেছে। সে অফিসার জানিয়ে দিয়েছে,যাই কর তাই কর বাপু, সে ওর মধ‍্যে নেই।অতএব একাই'রণে চলল মেয়ে'।অফিসার গিন্নী পরিচয় কবেই ঘুচিয়েছে।কাজ আর কাজ,এনজিও।তার এনজিও বয়স্ক মানুষের যাপনের স্থান নির্দেশ করে।"পাইওনীয়র"বলে এক আবাসন তৈরি করেছে।যোগার করেছে সরকারী সাহায‍্য।সেইসঙ্গে একশো জন প্রৌঢ়,বৃদ্ধ বৃদ্ধার অন্ধের নরি সে।......এবার হঠাৎ করে তার অনুপস্থিতি এদের জন‍্য কালো ধোঁয়া তৈরি করবে নাত!!আজকের বাতাসীর নি:সার দেহ ছাই হয়ে যাওয়া একমুঠো জড় বস্তু হয়েও আছে।যেতে পারছেনা মায়ায়।আসলে আকাশ বাতাসে স অস্তিত্ত্বতো আছেই।থাকবেও।যেমন একলা ঘরে পরিষ্কার বাবার নি:শ্বাস শব্দ,মার হাতের ছোঁয়া শেষদিন পর্যন্ত অনুভব করেছে বাতাসী।...ঠিক অমনি পাইওনীয়রের একশোজনের অভিভাবক,কারো কাছে সন্তান হয়ে উঠে হাত উঠিয়ে অদৃশ‍্য হয়ে যাবে কি করে!এবার বাতাসে মিশেই মুখচেনা মুখোশধারীদের চিনে নেবে।

৩.

সকাল থেকে পাইওনীয়রের বারান্দায় ভীড়।একটুপর রণদাপ্রসাদ ব‍্যানার্জি তার স্ত্রীর মৃত শরীর নিয়ে ঢুকবেন,তার প্রস্তুতি চলছে।কেউ কেউ কান্নাভেজা চোখে অপেক্ষায়।কৌতুক নিয়ে অন‍্য সূক্ষ্ম শরীর বাতাসী দেখবে পাইওনীয়ারের চেয়ারম‍্যান পদে সকলে পীড়াপীড়ি করে বসাতে চাইছেন মি:ব‍্যানার্জিকে।....এসব উদারনৈতিক কাজে এতটুকুও উদ‍্যম নেই যার সে ই এক বানানো বেদীতে বসতে কিরকম আগ্রহী হয়ে উঠেছে দেখ।লোভীর মত লাগছে ওকে।চেয়ারম‍্যান পদে বহাল হয়ে সবটুকু ধারাবাহিকতাকে এলোমেলো করে দিতে পারে সে।মি:ব‍্যানার্জি এখন পঁয়ষট্টি।প্রতিদিনের নিয়মিত ব‍্যায়াম,আহারে তাজা শরীর।এ স্বার্থপরতা কি পারবে পাইওনীয়ারের একশো মানুষের একশো সমস‍্যা সহ একাত্ম হতে!!কেমন কেঁপে যায় বাতাসীর হাওয়া হাওয়া শরীর।

বাতাসীর সব কাজে বাধা দেওয়া নিন্দে সমালোচনার ঝড় বইয়ে উপেক্ষা করা একজন মানুষ বাতাসীর ভাবনা,বলে যাওয়া কথা শব্দগুলো কেমন উগড়ে দিচ্ছে!কি অদ্ভুত মিথ‍্যায় বাতাসীর কতটা বশংবদ,সাহায‍্যকারী সে ছিল বলে যাচ্ছে!প্রমাণ করতে চাচ্ছে নিজে হয়ে ওঠার লোভে!....সদস‍্যদের মুখে ফুটে উঠছে প্রত‍্যাশা হারানোর যন্ত্রণা ভুলে যাওয়া হাসি।বাতাসী নিজেও কি....না না।আরো দেখবে।যার প্রতি আস্থা নিবে যাওয়া ঘৃণা উপেক্ষা নিয়ে চলে গেল বাতাসী সামান‍্য দুদিনের কালান্তক জ্বরে,লোকটার ভিতর মহত্ত্ব জেগে উঠছে সত‍্যি না অর্থ অন্ধি সন্ধি জানতে.....কত কষ্টে দাঁড় করানো বৃদ্ধাবাস যোজনার কাগজ তৈরি,দৌড়ে বেড়ানো সব চেষ্টাগুলো আকাশ প্রমাণ ছিল বলেই সার্থকতার মুখ দেখেছে পাইওনীয়ার।মাত্র দশ জন নিয়ে শুরু করা ঘর আজ বেড়েছে।স্থায়ী আবাস পেয়েছে।ব‍্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এখনো বাতাসীর সই।জয়েন্টলি মি:জয়ন্ত বাসু আছেন।অত‍্যন্ত নিরীহ সৎ মানুষ।সবসময় বাতাসীকে সাহায‍্য করেছে।যার ফ‍্যামিলি হিষ্ট্রি অদ্ভুত।ছেলেরা চাইলেও নিজের ইচ্ছেয় এখানকার মেম্বার হয়েছেন তিনি।ভবিষ‍্যতের কথা ভেবে।কোন তিক্ত সম্পর্ক না হয় সেটা জানান দিয়ে ঘর ছেড়েছিলেন তিনি।তার স্ত্রী সন্তান,নাতি নাতনিদের ফেলে আসতে চাননি।কিন্তু মেনে নিয়েছেন জয়ন্তবাবুর সিদ্ধান্ত।নিশ্চিন্তে মি বাসু পাইওনীয়রের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন,শরিক হয়েছেন।অনেকে এসেছেন বাতাসীর সঙ্গী হয়ে। মূলে সেই রক্তকরবীর নন্দিনীর মত বাতাসীর টান।

পাইওনীয়রের উদ‍্যোক্তা প্রতিষ্ঠাতা বাতাসীর সব সদস‍্যের খাদ‍্যতালিকা,ওষুধ পত্র সবেতে কড়া নজর।ওর বিদেহী আত্মার বুক কন কন করে ব‍্যথায়।বন্ধু সুহাসিনী কিংবা মি:বাসু এদের যদি ফিসফিসিয়ে সাবধান ও করে দিতে চায় বাতাসী,ওরা ভয়ে ভিরমি খাবে,নয়তো অবিশ্বাসী হবে।....যাক,আপাতত রণদাপ্রসাদের উত্তরণে খুশী হ ওয়া উচিত বাতাসী আত্মার।

ওকি!সবাই উঠে দাঁড়াচ্ছে কেন হঠাৎ!মি.ব‍্যানার্জির পাশ কাটিয়ে পুরোভাগে সুহাসিনী দত্ত আর মি.বাসু চলছেন।ওদের হাতে বড় লম্বা ফ্রেমে বাঁধানো একটা ছবি।একেবারে স্থায়ী মঞ্চের পোডিয়ামের পাশে স্থায়ীভাবে লাগাচ্ছে সমীর।সবসময়ের কর্মী কয়েকজন সঙ্গে নিয়ে।চোখ মুছে নেয় রুমালে সুহাসিনী।বাতাসী হাওয়ার তালে মিশে লুকিয়ে দেখে ওর চেপ্টে থাকা মুখটা।ওরা যৌথ হাত তুলে কিছু বলছে।মি.ব‍্যানার্জিকে সবটা বোঝাতে পারবেতো!!ইলেকট্রিকের তারের কাছাকাছি এখন বাতাসী।....ইস্ বড় দ্রুত ছবি হতে হল। ঐতো...রণদা চোখের জল ফেলছেন।...হু,ব‍্যাপার সবটা না জেনে হাওয়ার তীব্র দাপটেও সরবেনা বাতাসী।ইট সিমেন্টের বাঁধানো চাতালে ঝুলছে এখন।...অনেকক্ষণ চলল এ শোক পর্ব।তারপর সময় যাবে।সময় নদীর স্রোত।ধীরে বাতাসী হারিয়ে যাবে।ওদের সবার মন থেকেই মুছে যাবে।তানাহলে আর মানুষ নাকি! সবচেয়ে তাক লাগিয়েছে রণদা।সবচেয়ে মুখিয়ে থাকা,বিরোধিতা করা লোক এখন কেমন গুটি গুটি বাতাসীর তৈরি পথে দাঁড়িয়ে'বসন্ত পবনের'ডাকে সাড়া দিয়েছে!...সব প্রবলেম  নিয়ে বাতাসী নেই।বেশ হল রণদার ও না থেকে।বাতাসীর সূক্ষ্ম শরীর আহত হয়।একচোট প্রতিরোধ পর্বতো মিটেছে।পুরোটা মি.বাসু আর সুহাসিনী সামলাবেন।বাতাসী তৃপ্ত।....এখন সব ঠান্ডা।বাড়ীর মানুষেরাও শান্তির শ্বাস নেবে।বাতাসীর থাকা না থাকায় কিছু যাবে আসবেনা কারোই।বেঁচে থাকবে পাইওনীয়ার।এইতো জীবন।আ: শান্তির বেঁচে থাকা।এর নাম জীবন....জোরালো হাওয়ায় কৃষ্ণচূড়ার একখানা ডাল এসে লাগে মঞ্চে।ফুল ছড়িয়ে পড়ে প্রাঙ্গণে...



--------------