শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০

পারমিতা মন্ডল


সকাল থেকেই বাড়িতে হুলস্থুল কান্ড।বাড়ির একমাত্র মেয়ে চিনির বিয়ে বলে কথা। সকলের খুব আদরের।দধি মঙ্গল,জল সইতে যাওয়া,গায়ে হলুদ একের পর এক অনুষ্ঠান হয়ে গেছে।এবার হবে বৃদ্ধি। সেইমতো সব আয়োজন করছে সকলে। উৎসবের সুরে সকলের মন বেশ ফুরফুরে।চিনিকে ঘিরে বসে আছে তার বান্ধবীরা।হাসি ,ঠাট্টার আনন্দ উৎসবে হঠাৎ বাধ সাধল চিনির মায়ের চিৎকার।

- কি করছ কি!তুমি এতো কাছে বসে আছ কেন? কিছু ছোঁয়া হয়ে গেলে কি হবে!তুমি জান না এসব কাজে তোমার থাকা চিনির জন্য কতটা অমঙ্গলের!যাও একটু দূরে গিয়ে বস।
মায়ের এইসব কথা শুনে ঘরের বাইরে বেরিয়ে এল চিনি।রাগে ফুঁসছে যেন ও।ওর একমাত্র পিসি রুচি খুব কম বয়সেই বিধবা।

মুখ বুজে মাথা নত করে সব শুনছিল রুচি। প্রচন্ড রাগে রুচির কাছে গেল চিনি।চিনির মা বলে উঠল
- কি করছিস তুই চিনি।যাস না।ও ছুঁলে তোর যে অমঙ্গল হবে মা।
দুহাত দিয়ে পিসিমণির মাথা তুলে চিনি ওর মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল আমার পিসিমণিই বৃদ্ধির সময় আমার পাশে বসবে।এতে কারোর আপত্তি থাকলে আজ আমি বিয়েই করবো না।এক নিমেষে সব হইহল্লা থেমে গিয়ে এক শান্ত হাওয়া বয়ে গেল।এবার শুধু রুচির বাঁধ ভাঙা কান্না ও চিনির প্রাণখোলা হাসির মিশ্রণের শব্দ শোনা যাচ্ছে।