রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

শুভাশিস দাশ।। পারক গল্পপত্র



 না !এই ঝড় জলের রাতে আজ আর কেউ আসবে না l টেবিলে রাখা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে ধ্রুপদী দেখলো রাত নটা বাজে l 

এই মহল্লার মোড়টায় এতক্ষণে হাঁটু জল দাঁড়িয়ে গেছে l এখানে ভোটের আগে ওনাদের আনাগোনা l প্রতিশ্রুতির ঝড় উঠিয়ে ব্যাস চম্পট ! অবশ্য এখানে এইবার প্রথম আমরা ভোটার হলাম lরাস্তার ওপাশ থেকে ছিল পৌরসভা l তাই এলাকায় মিটিং হতো মিছিল হতো l আর যত্ত ষণ্ড গন্ড রা মাস্তানি করার জন্য আমাদের এই এলাকা কে বেছে নিতো l  বাইরের দমকা হাওয়ায় মাঝে মাঝে লন্ঠনের আলো টা কেমন দুলে উঠছে l ভোর থেকে মাত্র তিন জন এসেছিল ধ্রুপদীর কাছে l সৃষ্টিধর ,কেষ্ট আর ডাম্বেল আজ আসেনি l বকুল আর সুদেব এসেছিল l আর অন্য এক আনকোরা মুখ এই এলাকার বলে মনে হয়নি l বকুল আর সুদেব অবশ্য আসবেই l এদের সারাদিনের পরিশ্রমের পয়সা এই স্ফূর্তি তেই শেষ হয়ে যায় !কী জানি এদের পরিবার গুলো কি করে টিকে থাকে l ভাবতে ভাবতে এক রকম হুড়মুড় করে ঘরে ঢুকে পড়লো ডাম্বেল l এসে সোজা ধ্রুপদী র বিছানায় l শরীর দিয়ে জল গড়াচ্ছে l ইশারায় দরজা টা বন্ধ করতে বললো ডাম্বেল l 

এক মুহূর্ত ভেবে ধ্রুপদী লন্ঠন টা বাড়িয়ে দিয়ে ডাম্বেলের কাছে নিয়ে যেতেই চমকে উঠলো !ধ্রুপদী র বিছানার সাদা চাদর রক্তে লাল হয়ে গেছে !

 কী হলো ? উৎকণ্ঠা মিশানো স্বরে বললো ধ্রুপদী l 

 আবার ইশারায় চুপ করতে বললো ডাম্বেল l 

 শরীরের পোশাক ভিজে গেছে l 

একটু জিরিয়ে নিয়ে ডাম্বেল বললো -তোর ঘরে ডেটল আছে ?

ডেটল ? হা হা হা !আমাকে হাসালি রে মরদ !প্রতিদিন এক শিশি করে ডেটল তো তোরাই শেষ করিস !এইডসের ভয়ে !

তা আজ আবার আগেভাগে কেন ?

 ধ্রুপদী এটা মশকরা করার সময় নয় l আমার বাঁ হাতে গুলি লেগে রক্ত ঝরছে !

ভাগ্যিস গুলিটা হাত ছুঁয়ে বেরিয়ে গেছে l দে একটু ন্যাকড়া আর ডেটল দে l তারপর সব বলছি l 

 ধ্রুপদী ডেটল ন্যাকড়া নিয়ে ডাম্বেলের কাছে গিয়ে বসলো l লন্ঠন টা সাইডে রেখে আগে আশপাশের রক্ত গুলো মুছে তারপর তুলো করে ডেটল নিয়ে গুলির জায়গাটায় লাগিয়ে দিচ্ছিল পরম যত্নে l লন্ঠনের মৃদু আলোটা ঠিক ধ্রুপদী র মুখের উপর উঁকি দিচ্ছিল ! ডাম্বেল দেখছে কেমন সযত্নে তার ক্ষত স্থানে ডেটল লাগিয়ে দিচ্ছে l মা র  কথা মনেপড়ে গেলো ডাম্বেলের l ছোটবেলায় হাত পা কেটে গেলে ডেটল এনে ঠিক এভাবেই লাগিয়ে দিতো সে !

 কিরে মরদ চুপচাপ কী দেখছিস ?আজ মাল পেটে পড়েনি ?কি রে বললি না তো কী করে এটা হলো ?

 ওই যে তোর কেষ্ট র লোকেরা কাল বুথ দখল করবে তাই আমাকে ধরে আটকে রাখতে চেয়েছিল l আমি কোনমতে পালাতেই ওরা গুলি চালালো l আর একটু হলে তো ! আজ রাত টা তোর এখানেই থাকবো রে !

 ঠিক আছে ! ধ্রুপদী ওকে শুইয়ে রেখে রাতের খাবারের ব্যবস্থা করলো l আজ শুধু রুটি সব্জি !

 ডাম্বেল ভাবলো সমাজে এরা সবার অপ্রিয় অথচ এদের ভালবাসা খাদহীন !হ্যাঁ আগাম পয়সা নেয় ঠিকই কিন্তু এরা বেঈমান নয় ঘরের বৌও শালা বিপদ দেখে পালটি খায় l 

 নে একটু কষ্ট করে খেয়ে নে ?

 ডাম্বেল বললো তুই খাবি না ?

আমি তো আগে খেয়ে নিয়েছিরে !তিনটে রুটি ছিলো সকালের জন্য l 

 সত্যি খেয়েছিস ?

 ওই শালা !তোর অতো  দরদ দেখাতে হবে না রে ! ধাওয়া খেয়ে এসে আবার বড় বড় কথা !চুপ করে খেয়ে নে !

 ডাম্বেল খেয়ে নিলো l ধ্রুপদী এবার ওর সামনেই রাতের ড্রেস পাল্টে নিলো l ডাম্বেল দেখলো খাসা ! চেহারাটা এখনও ধরে রেখেছে মাল টা !

কিন্তু আজ যা অবস্থা শরীরের তাতে কিছু হবে না !

 ধ্রুপদী বললো তুই আমার একটা শাড়ি জড়িয়ে নে l ভিজেগুলো দে আমি চিপে মেলে দিই l 

তাহলে তুই শুয়ে পড় আমি ওধারের বিছানায় আছি অসুবিধা হলে ডাকিস l ঘড়িতে চারটের  এলার্ম দেয়া আছে !ডেকে দেব l 

-------------------------------------------------------------

 ধ্রুপদী শুয়ে পড়ে পাশের বিছানায় l এই প্রথম ঘরে বাড়তি কিছু নেই l শুধু জল খেয়েই কাটবে আজকের রাত l তা হোক একটা মানুষ কে খেতে দিতে পেরেছে l আর ওই ভীমের মতো চেহারায় তিনটে রুটি বা কতটুকু হবে ওর পেটে ! ঘড়িতে রাত বারটার বেল বাজলো l ঘুম আসছে না ধ্রুপদীর !কতো কথা ভিড় করে এলো মনে l ডাম্বেলের দিকে তাকিয়ে ভাবলো এরকম মরদ তারও ছিলো, ছিলো একটা ছোট্ট সংসার l একটুকরো জমির জন্য সংসার টাই ভেসে গেলো !সেই রাতের কথা আজও ভুলতে পারে না ধ্রুপদী !পেটের ছয়মাসে র  বাচ্চাটিকেও ওরা ক্ষমা করেনি !পরে জেনেছিল সব রাজনীতির খেলা ছিলো l 

 ওই শালা কেষ্ট কে দেখেও তো তাই মনে হয় !যেন মহাভারতের অর্জুন !কী যে কুটিল খেলায় মেতেছে কে জানে !এখানে আসে ছক কষতে কেননা ওরা জানে এটা নিরাপদ জায়গা l কেষ্ট তো কোনদিন মদ ছাড়া আর কিছু করেনি অবশ্য শরীর হাতিয়ে নিয়েছে l ফোনে যা যা বলে তা তো কিছুটা বোঝা যায় !প্রতিদিন কারো না কারো সর্বনাশ করছেন কেষ্ট ঠাকুর !

 বেশ নাসিকা গর্জন করে ঘুমাচ্ছে ডাম্বেল l আসলে মাথা মোটা l তবে মনটা খুব ভালো lশরীর খারাপ শুনলে  কতদিন শুধু টাকা দিয়ে চলে গেছে l বলতো বিশ্রাম কর l খদ্দের হলেও একটু আলাদা ছিল ডাম্বেল l তাই মনটাও ওর জন্য খারাপ হয় l ঘড়িতে দুটো র বেল পড়লো l দুচোখ বন্ধ করেই আছে ধ্রুপদী কিন্তু ঘুম আসছে না l 

 আর ঘুমানো যাবেও না ভাবে ধ্রুপদী l ওকে চার টের সময় বের করে দিতে হবে l 

 ভোরের আলো ফুটে ওঠার আগেই ওকে পাঠিয়ে দিতে হবে l 

এ রকম কতো মানুষ রাতের বিপদ কাটিয়ে যায় পরে আর খোঁজ নেয় না l 

 ডাম্বেলের জন্য চা করে ডেকে দিলো l রাতের ভেজা কাপড় গুলো একটু স্যাঁতসেঁতে আছে তা থাক l ডাম্বেল চা খেয়ে l মানিব্যাগে র ভিতর থেকে একটি পাঁচশ টাকার নোট বের করে ধ্রুপদী র হাতে ধরিয়ে দিতে গেলে ধ্রুপদী বলে উঠলো -কি রে বেশ্যা বলে কি মন নেই নাকি কোন দয়া মায়া নেই ?হ্যাঁ !বল্ বল্ !

কিসের টাকা দিবি তুই ?তুই কি আমার শরীর নষ্ট করেছিস ?

 তুই কাল বিপদে পড়ে এসেছিলি !তোকে একটু থাকতে দিয়েছি !তার তুই দাম মিটিয়ে দিচ্ছিস !কেন ভাবতে পারিস না তোর কেউ ভালবাসার মানুষ এখানেও আছে !এই বলে হাউমাউ করে কেঁদে ফেললো ধ্রুপদী !

 হতভম্ব হয়ে গেলো ডাম্বেল !এরকম তো ভাবেই নি !আজ কী দেখছে সে !

 তবে কী ধ্রুপদী তার প্রেমে পড়েছে ?নিজের কাছে প্রশ্ন করলো ডাম্বেল l 

ডাম্বেল টাকাটা রেখে কাছে এলো l ধ্রুপদীর মাথায় হাত বুলিয়ে বললো বুঝিনি ধ্রুপদী !আর আমরাও তো সেই দুঃশাসন এর মতো .....!লালসা তে ডুবে গিয়ে কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেলি l ভালো থাকিস l ভোট পেরিয়ে গেলে আসব !

 ধ্রুপদী ওড়নায় চোখ মুছতে মুছতে বললো সাবধানে যাস ! মাথায় দুহাত তুলে বললো -দুগ্গা দুগ্গা !


 আজ নির্বাচন l এবার ধ্রুপদী ভোট দেবে l আর কাকেই বা ভোট দেবে l এবারই অনেক ঝক্কি সামলে এই পল্লীর প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটে নাম উঠেছে l তাও তো উঠতো না l সেদিন রাতে  হঠাৎ এক সাহিত্যিক বাবু এখানে এসেছিলেন একটা কথা শোনার জন্য l তাঁর কাছে সেসব বলাতেই তিনি অনেক কসরত করে এই মহল্লার বাসিন্দাদের ভোটের ব্যবস্থা করেছে l 

 এখন যা চলছে !যিনি এই সমাজের হাল ধরে বসে আছেন তিনি স্নেহশীলা গান্ধারী 

 কুরু সন্তানদের কিছুতেই শান্ত করতে পারছেন না l ক্ষমতা !সব ক্ষমতার মোহে আর নারীর লালসা !

 ওদিকে পঞ্চপাণ্ডবদের কথাও তো অমৃত সমান l বেচারী দ্রৌপদী !প্রতিদিন কী নির্যাতন !আমরা হলাম গিয়ে ইচ্ছে মাফিক কারবারি l শরীর ভালো থাকলে ইয়েস নইলে নট !

 তোমার তো রক্ষে নেই দেবী ?তুমি ঘরের বৌ l 

 দরজায় টোকা শুনে ধ্রুপদী বললো কে ?

 আমি বকুল রে !

 এই সাত সকালে তোর কি বিগার উঠেছে ?

একটু রসিকতা করেই ধ্রুপদী বললো l 

 নারে একটু খোল দরকার আছে l দরজা খুলে দিলে বকুল ঘরে ঢোকে l সে নিজেই দরজা টা চাপিয়ে দেয় l আস্তে আস্তে বলে আজ আর রিকশা চালাব না রে l ওদিক টায়  খুব গন্ডগোল !তাই এক জায়গায় রিকশা রেখে তোর এখানে এলাম তাড়িয়ে দিস না যেন !পার্টির লোকরা বলেছে সারাদিন ওদের লোক আনতে হবে ভোটের জন্য সামনে ঝান্ডা লাগিয়ে ,আমি ওটা পারবনা l এতদিন যাকে ভালবাসলাম কি করে তাকে অপমান করি বলতো ?

 আমি তোর ঘরে লুকিয়ে থাকবো আজ সারাদিন l 

 ঠিক আছে আমি ভোট দিতে যাচ্ছি বাইরে থেকে তালা দিয়ে l 

 আজ আর এখানে তেমন খদ্দের আসবে না যাঁরা আসে তাদের প্রায় সবাই ভোট কেন্দ্রে l শালাদের তো ওই একটাই নেশা টিকে থাকা l ক্ষমতা !তবে ভালো মানুষগুলো আর এদিকে পা মাড়ায় না l 

ভাবতে ভাবতে সুধা এসে সঙ্গী হলো বললো কি দিদি আজ কেমন খুশি খুশি লাগছে না ?

ধ্রুপদী বললো কেনো রে ?ভোর বেলা উঠে কি মরদের .........!

 যাহ !তুমি যে কি বলনা !আরে আমি তো ভোটের কথা কইলাম l 

 ধ্রুপদী বলে বলি আনন্দটা কিসের শুনি ?

 রাম আসলেও আমাদের শরীর বেঁচে খেতে হবে যদু এলেও l সোনা রে সোনার লঙ্কায় যেই যায় সেই রাবণ হয় তবু সত্যি কারের রাবণের একটা আদর্শ ছিল আর এযুগে ?

ভোটের লন্ঠনের চেয়ে বরং আমদের লন্ঠন অনেক দামী l ওটাও সত্য আমাদের টাও সত্য তবে অশ্বথথামা হত ইতি গজ আর কি !

 ওই দেখো দিদি  কি সুন্দর সাজিয়েছে ? আরে ওটা নয় রে l ওটা তো একটি কোন পার্টির স্লিপ দেবার তাঁবু l ওখান থেকে আরও দুশ মিটার দূরে ভোট কেন্দ্র l সুধারা

 ধ্রুপদী কে মান্যকরে lসবাই জানে  ধ্রুপদী নাকি বিএ পাশ করা শিক্ষিত বিবাহিত মহিলা l এক দুর্ঘটনার স্বীকার হয়ে এসে পড়েছে এই নরকে l 

 লম্বা লাইন l মহিলাদের লাইনটাই বড় l দুজনেই দাঁড়িয়ে পড়ল l পাশাপশি ছেলেদের লাইন l খুব কাছ থেকে একটা চাপা আওয়াজ এলো -ওই দেখ্ ওই মাগিদেরও ভোট আছে l সম্ভবত সুধাকে চেনে l সুধা একটু বাইরে যায় মহল্লা থেকে l 

 কিছু মাঝবয়সী বকাটে লোক l প্রথমটায় ধ্রুপদী চুপ করেই রইলো !লাইন এগিয়ে যাচ্ছে কাছাকাছি হতেই একজন বলে উঠলো কিরে আজ কি কারবার বন্ধ ?

 ধ্রুপদী এবার লাইন ছেড়ে বেরিয়ে এসে সপাট চড় কষিয়ে দিলো লোকটির গালে l 

 ইতর !ছোটলোক !তোর মা বোন নাই ?খানকির বাচ্চা !ভেবেছিলাম তোরা বাইরে ভদ্র তা দেখালাম তোদের ভিতর বাহির সব সমান lমুহূর্তে ভোটে নিযুক্ত পুলিশ এসে গেলো l ধ্রুপদী আঙুল তুলে লোকটিকে দেখিয়ে বললো ধরুন শালাকে ও মেয়েদের অপমান করেছে l পুলিশ লোকটিকে লাইন থেকে বের করে নিয়ে গেলো l 

 প্রচন্ড রোদ্দুর !ছাতা তেও মানছে না l এক বয়স্ক মানুষ হঠাৎ পড়ে গেলেন মাঠের উপর l এই রোদে বোধহয় জ্ঞান হারিয়েছেন !

 সামনে থেকে চিত্কার করে কেউ বলছে ও মশাই একটু হাত চালান l 

 আর দু তিনজন পর ধ্রুপদী l বেশ একটা উত্তেজনা হচ্ছে প্রথম ভোট দেবার জন্য l 

 দ্রুম !কয়েক বার আওয়াজ হতেই লাইন ভেঙে গেলো যে যার মতো ছুটতে লাগলো দিকবিদিক ! সুধা ধ্রুপদীর শাড়ির আঁচল টেনে ধরলো ও দিদি কী হবে ?

 ধ্রুপদী এসব জানে l ওর অভিজ্ঞতা আছে !তাই সুধাকে অভয় দিয়ে বললো তুই আমার পিছন পিছন আয় !

 মুহূর্তে স্কুল মাঠ ফাঁকা হয়ে গেলো l দশ বারজন লোক মুখে কালো কাপড় বেঁধে এগিয়ে এলো ভোট কেন্দ্রের ঘরে সবার হাতে অস্ত্র !এতো দিন শুধু ধ্রুপদী রা শুনতো বুথ দখল !আজ নিজ চোখে দেখলো !তবে লোক গুলোকে চিনবার উপায় নেই !

 সবাই নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে l 

 ধ্রুপদী দ্রুত পা চালিয়ে সুধাকে নিয়ে মাঠ পেরুলো l 

 

মহল্লায় ফিরে দেখে সেখানেও শুনশান !ঘর খুলে ভিতরে ঢুকে দেখলো বকুল ঘুমোচ্ছে l ধ্রুপদী দুপুরের রান্না সেরে বকুল কে খেতে ডাক দিলো l প্রথমটায় আপত্তি করলো বকুল l পরে আর না করতে পারলো না l 

ঠিক সন্ধ্যার কোল ঘেঁষে বকুল বেরিয়ে গেলো l 

 মহল্লার রাস্তায় পথ বাতি জ্বলে উঠেছে তবু আলো আঁধারি থাকে এদিকটায় l লন্ঠন টা জ্বালায় ধ্রুপদী l শুধু ফ্যানটি চলে কারেন্টে আর আলো বলতে এই লন্ঠন !

 মাঝে মাঝে খুব ঘেন্না আসে জীবনের উপর কিন্তু উপায় নেই যে !

এখান থেকে বেরুনো কোন ব্যাপার নয় কিন্তু সমাজে ফিরবে কী করে ?আর ফিরেই বা কী হবে !তিন কুলে তো আর কেউ নেই !

 মনে পড়ল ডাম্বেলের কথা !বেচারীর কী যে হলো .....! দুপুরের ভাতে জল দিয়ে রেখেছিল ধ্রুপদী ,তাই খেয়ে শুয়ে পড়ল কাল রাতে একদম ঘুম হয়নি l 

 শুতে শুতেই ঘুমিয়ে পড়ল ধ্রুপদী l 

 মা ওমা ঘুমিয়ে পড়লে ?

আমি গো সেই যে .......মনে নেই !

 ধ্রুপদী ওকে কোলে তুলে আদর করতে থাকে ! একসময় ঘুম ভেঙে যায় !কই কেউ তো নেই ....!ধ্রুপদী ভাবে আসলে বোধহয়  এভাবেই স্বপ্নেরা আসে আমাদের নষ্ট যাপনের  মধ্যে !


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন