বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

গোপা মুখোপাধ্যায়।। পারক গল্পপত্র



ঘড়ির কাঁটা ঠিক আটটা আর বারোটার ঘরে অনিতা বাবাকে খাইয়ে, ঘুমের ওষুধটা ও খাইয়ে ছিল। ওর হাতে আজ আর বেশী সময় নেই, আজ রাতেই বাবার, ঘুম ধরলে ওকে কাজটা শেষ করতে হবে। তাই আর একমুহুর্ত্ত ও দেরী করতে চাইছে না।   বাবাকে কিছু বুঝতে দেয়নি অনিতা। রোজকার মতো বাবাকে ঔষুধ খাইয়ে গায়ে মাথায় হাতও বুলিয়ে দিলো। বাবার বিছানার পাশের টেবিলে জল, ওষুধ, আর যে লাঠিটাতে ভর দিয়ে বাবা দু এক পা হাঁটেন, সেই লাঠিটা ও বিছানার কাছেই রেখে দিল। কারখানার এক্সিডেন্টে একটা পা বাদ চলে গেছে। আর একটা পায়ে তেমন জোর নেই। সেদিনের কথা আজও মনে পড়ে। বাবা কারখানায় সুস্থ অবস্থায় গেলেন, কিন্তু ফিরেছিলেন পঙ্গু হয়ে, হাসপাতালে দেড় মাস থাকার পর। কিন্তু আশা ছাড়ে নি অনিতা। অনেক চেষ্টা করেছিল। শেষরক্ষা করতে পারে নি। বাবা অখিলেশ বাবু বিছানা গ্রস্ত হয়ে গেলেন। বাবার এ অবস্থায় সংসারটা প্রায় অচল হয়ে গিয়েছিল। বাবা, মা, দুই বোন, সকলেই বড়ো।  তাই সংসার খরচা ও বেশী ছিল।    চারদিকে যখন ইন্টারভিউ দিতে দিতে অনিতা ক্লান্ত, ঠিক তখনই একদিন অধীরদার সাথে ওর দেখা। অধীরদাই ওকে এই কোম্পানীতে কাজে ঢুকিয়ে দিয়েছে। ও ঋণী অধীরদার কাছে। মায়ের মুখে হাসি ফুটেছিল সেদিন। কিন্তু  কারো  কালো দৃষ্টি ওদের সংসারেকে শান্তি দিলো না। ওর বোন অমৃতার নিত্য নতুন সাজগোজ ওদের বাড়ীতে একটা খারাপ আশঙ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। পরে মা, বাবা, দিদি  কাউকে কিছু না জানিয়েই, একটা অপরিচিত মানুষের সাথে চলে গেল অমৃতা।  ওর মায়ের হার্ট এতো বড়ো আঘাত সহ্য করতে পারলো না। হার্ট অ্যাটাক হয়ে অকালে দিব্যি চলে গেলেন মা। এখন শুধু বাবা মেয়ের সংসার।      

রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে ও যেন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে ওর মাকে, দুচোখ জলে ভরে ওঠে। মোবাইল হাতে নিয়ে একবার হোয়াটস্ অ্যাপটা খোলে। না, অর্জুন ওর পাঠানো  দশটা ম্যাসেজই সিন করেছে। কোন উত্তর দেয়নি। এবার ওর ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে যায়। বুকের চাপা কষ্টটা কান্না হয়ে আর বেরিয়ে আসে না । দুচোখ ঝাপসা হয়ে আসে শুনতে পায় পিছন থেকে ওর ছেলেবেলার বান্ধবী সুমনার গলা। ‘সরোজীনি বিদ্যাপীঠ’ থেকে ক্লাস টেনের সব মেয়েদের দল বেরিয়ে আসছে। অনিতা আর সুমনা গল্প করতে করতে পাশাপাশি হাঁটছে। হঠাৎ পিছন থেকে সুপর্নার গলা। ওকে ডাকছে।

 “অনিতা, এই অনিতা”। 

অনিতা ওর দিকে তাকাইতে দেখে সুপর্না একজন কে হাত ধরে টানতে টানতে ওর দিকে নিয়ে আসছে। সুন্দর মিষ্টি চেহারা, লম্বা, মুখে হালকা দাড়ি গোঁফের রেখা। সুপর্না হেসে বলে, “আমার পিসতুতো দাদা, অর্জুন।”  

আনিতা বলে, “হাই, আমি অনিতা।”

সুপর্না দুষ্টু হেসে বলে তোকে খুব পছন্দ। রোজ দুর থেকে দেখে।”  

অনিতা এবার লজ্জা পায়। সেদিনের সেই আলাপ। ধীরে ধীরে ভালোবাসায় পরিনত হয়। কেটে  যায় আরো তিনটে বছর। অনিতা কলেজের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে অর্জুনের সাথে দেখা করে। কখনো নদীর ধারে কখনো ও বা নির্জন বটগাছের শীতল ছায়ায় বসে গল্প করেও শেষ হয় না ওদের  দুজনের কথা । রোজ কতো কথা বলে ওরা। স্বপ্ন দেখে দুজনেই। কখনোও বা অর্জুন ওর চুলে আঙুল দিয়ে বিলি কাটতে কাটতে কবিতা আওড়ায় , “ চুল তার কবেকার ............।” 

অনিতা বলে , “আ! কি করছ কি?”

অর্জুন বলে “কি আবার! এসবইতো আমার।” 

অনিতা হারিয়ে যায় অর্জুনের চোখের তারায়।   

কখনো বা অজান্তে দুজনের ঠোঁট এক হয়ে যায়, সুপর্না সব জানে। অনিতাকে ‘বৌদি’ বলে ডাকে ।

মাঝে মাঝে দুষ্টমি করে  বলে, “কবে আসছিস বলতো বৌ হয়ে?”   

“অনিতা বলে আগে তোর দাদা একটা চাকরি জোগাড় করুক।”  সুখের সময় বড়ো ক্ষনস্থায়ী।  নির্জন ঘরে অনেকবার অর্জুন আর অনিতা একসাথে অনেকসময় কাটিয়েছে। অনিতা সেদিন অর্জুনের ভাড়া ঘরে এসে নিজের হাতে ওকে রান্না করে খাওয়ালো। সারাদিনই ওরা একসাথে ছিল। মনে হচ্ছিল যেন নবদম্পত্তির সংসার। দুপুরে দুজনে একসাথে খেতে বসে ছিল মেঝেতে। একসাথে খাওয়াতে যে কি আনন্দ! অনিতা খুশিতে পাগল সেদিন। তারপর একবিছানায় দুই নরনারী। ভালোবাসার আনন্দে জড়িয়ে দুজনে শুয়ে পড়ে। আকাশে কালবৈশাখীর কালো মেঘ। নিমেষে ঝোড়ো হাওয়ায় ঝরিয়ে দেয় অকাল বর্ষনে। সেই প্রাকৃতিক নিয়মে বাঁধা এই দুই নরনারী ও জীবনের কালবৈশাখীর প্রলয় বইয়ে দেয় ছোট্ট বিছানায়। অনিতার অনাবৃত বুকে মুখ গুঁজে অর্জুন সেদিন কী স্বপ্ন দেখেছিল তা অনিতার জানা নেই। কিন্তু অর্জুনের প্রসারিত বুকে মুখ গুঁজে অনিতা এক নতুন পৃথিবীকে খুঁজে পেয়েছিল। কি অনাবিল সুখ  তখন অনিতার মনে।  

বাড়ীতে অনিতা বাবা মাকে অর্জুনের কথা বলে। বাবা মা মেয়ের ভালোবাসাকে আনন্দের সাথে মেনে নেয়। অর্জুনকে নিমন্ত্রন করেন ওর মা। নিজেদের সংসার সম্পর্কে সব জানায় অর্জুনকে। হঠাৎ আসে খুশীর খবর। অর্জুন এস এস সি তে সিলেক্ট  হয়েছে। বান্দোয়ান হাইস্কুলে ওর পোষ্টিং হয়েছে। খুশী আর ধরে না অনিতার মনে।  দুচোখে আগামী দিনের সোনালী স্বপ্ন ওর। অর্জুন আর অনিতা দুজনে দুজনের ভালোবাসাকে গভীর ভাবে উপোভোগ করে সেদিনও। ঠিক তার পরদিনেই অর্জুন রওনা দেয় বান্দোয়নে। চোখের দুরত্বে ধীরে ধীরে মনের দূরত্বও বেড়ে যায়। অর্জুন আগের মতো আর ফোন করে না অনিতাকে। সময়ের অভাবের দোহাই দেয়। অনিতা সাময়িক মেনে নিলেও মন থেকে মানতে পারে না। ওর বাবার এক্সিডেন্টের খবর পেয়ে ও অর্জুন দেখতে আসে না। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে ফোনেই সান্ত্বনা দেয়। মনকে শক্ত করার পরামর্শ দেয়। কিন্তু আন্তরিকতা যেন কোথাও স্পর্শ করে না। তাও ফোন নম্বর আছে বলে হোয়াটস্ আপে মাঝে মাঝে কথা হয়। যদিও অর্জুন খুব কম সময়ই উত্তর দেয়। 

একদিন ডিপিতে অর্জুনের সাথে একটি  সুন্দরী মেয়ের ছবি দেখে অনিতা। অফিসেই সেদিন অজ্ঞান হয়ে যায় ও।  তারপর অধীরদা এসে ওকে বাড়ীতে পৌঁছে দেয়। অনিতা অর্জুনকে জিগ্যেস করে ঐ মহিলার সম্পর্কে।

 অর্জুনের স্পষ্ট জবাব, “আমার বান্ধবী, ঈশিতা।”  

অনিতা বলে, “কোথায় থাকেন?” 

অর্জুন বলে, “বান্দোয়ানে। আমার স্কুলেই চাকরী করেন।”     

বড় শ্বাস নিয়ে অনিতা বলে। “ভালো থেকো।” 

অর্জুন ফোনটা কেটে দেয়। তারপর দীর্ঘ দিন কোনও কথা হয়নি। ঘুম থেকে উঠে বাবা আর মেয়ের সেই একই রুটিন। অনিতা সকালে রান্না সেরে বাবাকে স্নান করানো, খাওয়ানো এমনকি বিছানার কাছে সমস্ত ওষুধ, জল রেখে বাবাকে শুইয়ে দিয়ে তারপর অফিসে যায়। আর বৃদ্ধ অখিলেশ বাবুর সারাদিন শুয়ে শুয়ে কড়ি বর্গা গোনা আর স্মৃতি রোমন্থন করাই কাজ। কোনো ও পরিবর্তন নেই ওদের  জীবনে। অনিতা ফিরে এসে বাবার কাছে বসে একটু কথা বলে। তারপর রান্না ঘরে গিয়ে সমস্ত কাজকর্ম করে। মাঝে মাঝে সোশ্যাল নেটওয়ার্কের  মাধ্যমে পুরানো বন্ধু বান্ধবীর সাথে একটু আধটু কথাবার্তা হয়। ছোটবেলায় পড়া-গল্পের বইগুলোও সময় পেলে উল্টে পাল্টে দেখে। কিন্তু আজকাল ওর আর কিছুই ভালো লাগে না। 

আজ আকাশটা দুপুর থেকেই কেমন যেন গুমরে গুমরে আছে। তখন থেকেই অনিতার মনে হচ্ছিল জোর ঝড় উঠবে। কিন্তু না, একটু ঝোড়ো বাতাস দিয়ে মেঘটা সারা আকাশে ছড়িয়ে দিল। ওর অফিস থেকে বেরিয়ে পাঁচ মিনিট হাঁটা পথ তারপর বাস ধরে চল্লিশ মিনিটের পথ। ও ছট্ফট্ করছিল বাড়ীতে বাবা একা আছেন, ঝড় উঠলে দুশ্চিন্তা করবেন এটা ভেবে। বাস থেকে নেমে পাঁচুদার দোকানে বাবার জন্য সুগার-ফ্রি কিনে নিল। এবার বাজার পেরিয়ে অশ্বত্থ তলার মোড়ের বাঁকেই দেখা সুপর্ণার সাথে। অনেক বছর পর সুপর্ণার চেহারায় নতুনত্ব এসেছে। স্বামী-সন্তান নিয়ে লুধিয়ানার ওর সুখের সংসার। সবই শোনা ছিল অনিতার। আজ স্বচক্ষে দেখতে পের। চিনতে ওর একটুও অসুবিধা হয়নি। সুপর্ণা এগিয়ে এল ওর দিকে। কেমন যেন অপরাধীর মতো তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ অনিতার দিকে। দুজনে কিছুক্ষন নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। তারপর নীরবতা ভঙ্গ করে সুপর্না বলে, “অনিতা, কেমন আছিস?”  

অনিতা শুধু ঘাড় নাড়ে । বুঝিয়ে দেয়, “ভালো।” 

সুপর্না বলে, “আমাকে ক্ষমা করিস রে।”   

অনিতা বলে, “তোর কোনো দোষ নেই।” 

সুপর্না বলে , “কাল দাদার বিয়ে, তোকে না বললে আমার আরো ও অপরাধ হবে।”  

অনিতা এতটা শুনবে তা মনে ও ভাবতে পারেনি। 

দুচোখ দিয়ে দরদর করে জলধারা নেমে আসে অনিতার, মনে মনে চরম কষ্ট পেলেও মুখে আলতো হাসি হেসে বলে অনিতা , “ওরা ভালো থাক রে সুপর্না”।  

এক বুক কষ্ট নিয়ে বাড়ী ফিরে আসে অনিতা। মায়ের ফটোর সামনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষন কেঁদে মনটা হাল্কা করে নেয়। তারপর বাবার কাছে গিয়ে তাঁর সারাদিন শরীর কেমন ছিল সে খোঁজ খবর নেয়। মনে মনে খুব কষ্ট ও পায় এই সৎ মানুষটির জন্য। ভগবানের উপর রাগ ও হয়। বাবা কেমন করে ওর দিকে তাকিয়ে থেকে বলেন, “বোস্ একটু আমার কাছে ।” 

অনিতা একটু কঠোর হয় মনে, বলে, “না আগে রান্নাটা করে নিই।”  

বাবা বলেন , “সবাই আমাকে ছেড়ে চলে গেল, এক শুধু তুই-ই পারলি না ।”  

অনিতা বলে, “আজ সুপর্নার সাথে দেখা হল বাবা।”  

উৎসুক হয়ে বাবা বলেন , “তাই! কেমন আছে ওরা ? অর্জুন ? ”

 অনিতা বলে,” খুব ভালো আছে ওরা সবাই।”  

বাবা বলেন , “আমাদের কথা মনে আছে ওর ?”  

মিথ্যা কথা বলতে অভ্যস্ত নয় অনিতা । তাও বাবার কাছে এসে বলে , “খুব মনে আছে। তোমার কথাও জিজ্ঞাসা করেছে”।     

বিছানা গ্রস্ত বৃদ্ধ মানুষটির চোখে মুখে প্রশান্তীর ছায়া দেখতে পায় অনিতা। ক্ষমা চেয়ে নেয় বিধাতার কাছে।  আরে, রাত  একটা বেজে গেছে। কোন্ কল্পনার জগতে ছিল এতক্ষন অনিতা! বুঝতেই পারে নি সময় নিজের গতিতে চলে যাচ্ছে। না না। আর নয়। আর এক মুহুর্তও দেরী না। কত কিছু ওর করার ছিল। হল না। এক একটা দিন যেন ওর কাছে এক একটা যুগ মনে হচ্ছিল। সুখ বা শান্তি কোনটাই ওর কাছে বেশী দিন টেকেনি। বোন মায়ের মতোই দেখতে ছিল আর অনিতা বাবার মতো। মায়ের মুখে পুরোটাই বাঙালী শিক্ষিত গৃহবধূর সৌন্দর্য্য ছিল। সুন্দর করে শাড়ি পরা। গোল গোল হাতে শাঁখা পলা আর এতেই মা যেন সর্বসুন্দরী ছিলেন । কী ব্যক্তিত্বপূর্ন সৌম্য চেহারা ছিল মায়ের। এবার সিলিং ফ্যানটার দিকে একবার তাকালো অনিতা। তারপর নিজের একটা শাড়ী নিয়ে ঠিক করে সিলিং এ ঝুলিয়ে নিল। না , আর একটুও সময় নষ্ট করবে না অনিতা। একবার মায়ের ফটোটার দিকে তাকালো। অস্ফুট স্বরে মাকে বলল, “আমাকে ক্ষমা করে দাও মা, আমি খুব স্বার্থপর মেয়ে তোমার।” টুলটা বিছানার উপর রেখে নিজের হাতে লেখা  সুইসাইড নোট টা হাতে ভাঁজ করে নিল। এবার শেষ বারের মতো মায়ের ফটোর দিকে তাকালো, টুলটাতে উঠে ঝুলন্ত শাড়ীটাতে গলাটা পরাতে যাবে,  এমন সময় বাবার ঘর থেকে একটা জোর আওয়াজ এল। ঠিক যেন কিছু একটা পড়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে টুল থেকে নেমে অনিতা ছুটে আসে বাবার ঘরে।

এসে দেখে, বাবা জল খেতে গিয়ে হাত থেকে গ্লাসটা পড়ে গেছে মাটিতে, জলে সারা বিছানা ভিজে গেছে। না, কোন রাগ নয়। মনে মনে ভাবে এই অসহায়- মানুষটাকে এই স্বার্থপর পৃথিবীতে কার ভরসায় রেখে চলে যাচ্ছিল অনিতা! নিজেকে খুব স্বার্থপর মনে হয়। বাবার মুখে কি অসহায় একটা ছাপ। সেই মানুষটাকে, যে নিজের পেট কেটে পয়সা রেখে ওদের দুই বোনকে মানুষ করেছেন, সমাজে চলতে শিখিয়েছে, তাকেই আজ পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় ভেবেও অনিতা একা করে চলে যাচ্ছিল অন্য এক স্বার্থপর মানুষের জন্য। পরম আদরে বাবাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ওঠে অনিতা। বাবার গায়ে-মাথায় হাত বুলিয়ে বলে, “আমি তো পাশের ঘরেই আছি বাবা, আমাকে ডাকলে না কেন?”    

বাবা বলেন, “সারাদিন তুই এতো পরিশ্রম করিস তাই তোকে আর ডাকলাম না। ভাবলাম নিজেই জলটা নিয়ে নিতে পারবো। বড়ো তেষ্টা পেয়েছিল রে। গলাটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল। তাই....” 

এবার আর অনিতা থাকতে পারে না। হাউ হাউ করে কেঁদে ফেলে। অনিতা সামনের পৃথিবীতে মুহুর্তে শুধুই বাবার অসহায় মুখটা। আর কিছু দেখতে পাচ্ছে না। বাবাকে জড়িয়ে বলে , “বাবা গো, আজ থেকে আমি এই ঘরেই তোমার কাছে শোব, তোমাকে একা রেখে কোথাও চলে যাবো না বাবা।” 

 আর মনে মনে ধিক্কার জানায় নিজের অন্ধ ভালোবাসাকে। ঘৃণা হয় নিজের উপর। বাবার বুকে মুখ লুকিয়ে পরম শান্তি পায় অনিতা, আর অখিলেশ বাবু কিছুই বুঝতে না পেরে ও মেয়ের মাথায় তাঁর আর্শীবাদের হাত রেখে অনিতার পরমায়ু যেন বাড়িয়ে দিলেন। নবজন্ম হলো অনিতার। 

 

1 টি মন্তব্য: