শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

হিমি মিত্র রায়।। পারক গল্পপত্র



'এই বাড়ি গ্যারেজ সমেত বিক্রি হবে, যোগাযোগ করার সময় বিকেল ৪- ৬ টা।'

ঝাপসা চোখে শব্দগুলো পড়তে থাকেন তিনি , রোজই পড়েন যদিও, তবুও আবার কোনওমতে স্নান সেরে বারান্দায় এসে বসেছেন আজও। একটা গরম কাপড়ের রোয়া ওঠা ম্যাক্সি পরে। চোখে পড়ছে শুধু সামনের লাগোয়া একফালি উঠোনে ওই গাঢ় খয়েরি রঙের টিনের সাইনবোর্ড, যাতে সাদা দিয়ে এই শব্দ গুলো লেখা।


লোপামূদ্রা বসু। বসু বাড়ির একমাত্র জীবিত সদস্যা। স্নানের পর বারান্দায় সারাটা দুপুর কাটে তার। বিকেলের নুইয়ে পড়া রোদ জঙ ধরা শিঁকের ফাঁক দিয়ে তার কাঁচাপাকা চুলের ওপর এসে পড়ছে।  অন্ধকার ঘরগুলোয় একটুও রোদ ঢোকে না,  বাকি সকলের মত রোদও লোপামূদ্রা বসুকে এড়িয়ে চলে হয়ত।

মাসিমা...! আজও বিক্রি হল না?

কে?

এই যে, এইদিকে, আমি সুবীর!

ও, সুবীর! নাহ, দামে পোষায় নি।

এবার একটু কমেই ছেড়ে দিন, ড্যাম্প পড়া পুরনো বাড়ি,অত দামে কেউ নেবে না,আচ্ছা চলি মাসিমা,  ছেলেকে কোচিং থেকে নিয়ে আসি।

উত্তরের অপেক্ষা না করে সাইকেল চালিয়ে দ্রুত চলে গেল সুবীর। লোপামূদ্রা তাকিয়ে থাকল যদ্দূর দেখা যায়, ধীরেধীরে সুবীর দৃষ্টির বাইরে চলে গেল।

বিগত তিন বছর ধরে এই হয়েছে তার কাজ, ঠিকঠাক খদ্দের না পছন্দ হলে নিজের বাড়ি কিছুতেই যার তার কাছে তুলে দিতে পারবেন না। শ্বশুরমশাইএর অনেক ঘাম রক্ত মিশে আছে এ বাড়িতে। লোপামুদ্রা তাঁর কাছে মেয়ের চেয়ে কম কিছু ছিল না। সবসময় বলতেন ' তুমি আমার মা হয়ে এসেছে বৌমা, কল্যান তো একদমই বোকা ওর হাতে কিছু ছাড়তে পারি না । তুমি দেখে রাখবে, তোমার ভরসায় এ বাড়ি ছেড়ে ওপারে গিয়ে শান্তিতে থাকতে পারবো। তোমার শাশুড়ি মা তোমাকে পেলে মাথায় করে রাখতেন। এখন তোমার ওপর এ বাড়ির সব দায়িত্ব দিয়ে দিলাম।'

লোপামুদ্রা জানত না যে এমন একটা শ্বশুরবাড়ি তিনি পাবেন। এ-বাড়ির প্রত্যেকটি কোনায় তার স্মৃতি জড়িয়ে আছে, কুড়ি বছর বয়সে বিয়ে হয়ে আসার পর থেকে।

 একমাত্র ছেলে অভিক জার্মানিতে থাকে। দু বছরে একবার আসে। জার্মান মেয়ে বিয়ে করেছে কিছুদিন আগে, তারপর জানিয়েছে। একই জায়গায় কাজ করে দু'জন। মায়ের ঘাড়ে দায়িত্ব দিয়েছে এ বাড়ি বিক্রি করে দেওয়ার। বাবা কিছুতেই রাজি ছিলেন না এ বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার। তাই বাবা মারা যাওয়ার পর ওর ইচ্ছে, মা, ছেলে- বৌমার কাছে গিয়ে থাকুক । ওদেরও কাজকর্মে অসুবিধে হয়, বাড়ি ফাঁকা থাকে। তাই জন্যই এই বাড়ি বিক্রির বিজ্ঞাপন। তবে প্রচন্ড ব্যস্ত থাকায় সে বাড়ি বিক্রির দায়িত্ব নিতে পারেনি , লোপামুদ্রা নিজেই তাই সে দায়িত্ব নিয়েছে।


পট পট করে রিমোটের বোতাম টিপে পছন্দের সিরিয়াল ঘোরায় শ্যামলী। দেখতে দেখতে শ্যামলীর মুখটা হাঁ হয়ে যায়,একদম ঢুকে যায় সিরিয়ালের ভেতর,কোনওদিকে হুস থাকে না ওর টিভি দেখার সময়।

লোপামূদ্রা ওকে দেখতে থাকে বিছানায় হেলান দিয়ে। কত'ই বা বয়স হবে ওর, কুড়ি একুশ!  এখনই কত দায়িত্ব সামলায়। ! ও ই একমাত্র গল্পের সাথী লোপামুদ্রার।

দিদা, চা খাবে?

নাহ, তুই টিভি দেখ।

বেরেক হচ্ছে তো,করে দিই?

না রে , তুই টিভি দেখ।

আবার চোখ বোজে ও। স্মৃতিতে পরপর কত কথা ঘুরে ঘুরে আসে। সেই কবেকার টিভিটা যেটা কল্যান মানে অর্থাৎ ওর স্বামী একবার হঠাৎ করে কিনে নিয়ে এসেছিল লোপামুদ্রার জন্য। বলেছিল তুমি বাড়িতে একা থাকো, সময় কাটবে না তাই টিভি দেখবে।  মাঝে মাঝে এই ঘরে বসেই ওরা তিনজন গানের অনুষ্ঠান দেখত দূরদর্শনে। শ্বশুরমশাই গান শুনতে খুব ভালোবাসতেন। গান শুনতে শুনতে লোপামুদ্রা রান্নাঘর থেকে ভেজে নিয়ে আসত তালের বড়া, পেঁয়াজি, মালপোয়া আরো কত কিছু। স্পষ্ট মনে পড়ে । তারপর তিনজনে মিলে গল্প-গুজবে সন্ধ্যেবেলা টা কি সুন্দর কেটে যেত। গানের সঙ্গে সঙ্গে শ্বশুরমশাই চোখ বন্ধ করে মাথা নাড়াতেন আর হাঁটুর উপরে তাল দিতেন।


 কলিং বেল বাজায় চমকে যায় লোপামুদ্রা ও শ্যামলী দুজনে। এখন আবার কে এলো! দেখি দিদা তুমি বস তোমাকে উঠতে হবে না। শ্যামলী টিভি বন্ধ করে দরজা খুলতে যায়।

---- আগে ভেতর থেকে জিজ্ঞেস করিস কে তারপর খুলিস।

--- হ্যা দিদা।


 শ্যামলী দরজার ভেতর থেকে জিজ্ঞেস করে 'কে'?

 লোপামুদ্রা বিছানায় বসে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে। দরজার বাইরে থেকে কোনও আওয়াজ ভেসে আসে। লোপামুদ্রা শ্যামলীকে ডেকে জিজ্ঞেস করে 'কে রে শ্যামলী?'

  শ্যামলী বলে 'দিদা বাড়ির খোঁজ-খবর নিতে এসেছে, খুলবো?

- - এই অসময়ে! আচ্ছা খোল।

 লোপামুদ্রা ধীরে ধীরে বসার ঘরের দিকে এগোয় একজন  ভদ্রলোক আর মনে হচ্ছে ওর স্ত্রী । দুজনেরই বয়স ষাট বাষট্টির ঘরে হবে। লোপামুদ্রা ওদেরকে বসতে বললেন। নমস্কার করলেন দু'পক্ষই।

_ _আমি সন্ধ্যা সেনগুপ্ত আর আমার স্বামী অজয় সেন গুপ্ত।

__ আচ্ছা।  আপনারা কি বাড়ির জন্য এসেছেন?

__ হ্যা। আসলে আমাদের ছেলেরা বাইরে থাকে, কিন্তু এখন তারা বাবা-মার সঙ্গে থাকতে চাইছে। একজন বর্ধমানে আর একজন ভুবনেশ্বরে, ছোটখাটো চাকরি করে।  নিজের বাড়িতে ফিরে আসতে চাইছে ওরা। কিন্তু আমাদের কোন বাড়ি নেই নিজেদের।  ভাড়া বাড়িতে থাকি, ছেলেরা টাকা জমিয়ে জমিয়ে আমাদের জন্য সামান্য  সঞ্চয় করেছে যাতে আমাদের শেষ বয়সে আমরা দুই ছেলে নাতি-নাতনি ছেলের বউ মিলে একটি বাড়িতে থাকি, এক হাঁড়িতে আমাদের ভাত রান্না হোক। ছেলেদের প্রস্তাব পেয়ে আমরাও একটু অবাক হয়েছিলাম । তারপর আর না করার সাহস হয় নি । আসলে আমাদের মনের মধ্যে তো তাই ছিল যে আমরা ছেলেদের সঙ্গেই শেষ বয়সটা কাটাই, তাই আমরাও আর সময় নষ্ট করলাম না , বাড়ির খোঁজে লেগে পড়লাম।

 এবারে ভদ্রলোক মুখ খুললেন।

__ কিন্তু আমাদের কোন বাড়ি মনে ধরছিল না, অবশ্য টাকা পয়সার ব্যাপারও ছিল। আর এত তাড়াতাড়ি কোনো জমি কিনে তাতে বাড়ি করার সময় ছিল না ফলে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করার সময় এই বাড়িটিকে আমাদের মনে ধরল। শান্ত চুপচাপ পুরনো ধাঁচের বাড়িখানা আমাদের দুজনেরই খুব ভালো লেগে গেল।  আমরা এই বাড়ির ছবি আমাদের দুই ছেলেকে পাঠাই ।বলি যে বাড়িটি পুরনো হলেও এই বাড়ির মধ্যে একটা শান্তি আছে কোথায় যেন ।যেভাবে ফ্ল্যাট বাড়ি বাড়ছে এবং রাস্তাঘাটের যা দুর্বিষহ অবস্থা তাতে মেন রাস্তার ধারে বাড়ি বা ফ্ল্যাটে আমাদের থাকতে ভালো লাগতো না, তাই এই ডিসিশন।যদি আমাদের বাজেটে কুলোয় তবে ......

__বাহ, খুব ভাল আপনার ছেলেরা। 

মৃদু হাসলেন লোপামুদ্রা এটা বলে।

__সত্যি তাই, ওদের পেটে ধরেছি দেখে গর্ব হয়, নাহলে আজকালকার দিনে বাবা মায়ের কাছে কেউ কি ফিরে আসতে চায়? উল্টে ফেলে রেখে চলে যায় বা বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে আসে।


বলতে বলতে চোখ জ্বল জ্বল করে ভদ্রমহিলার। প্রচ্ছন্ন গর্ববোধ প্রকট হয় তার মুখমণ্ডল জুড়ে।

 সন্ধ্যা  সেনগুপ্ত আর তার স্বামীকে লোপামুদ্রা হেসে বললেন,' যখন আপনাদের বাড়ি পছন্দ হয়েছে তখন চলুন ভেতরটা একবার দেখে নিন, আপনাদের মন মত হবে কিনা!'

__ হ্যাঁ হ্যাঁ চলুন না, একবার দেখে আসি, বুঝলে তো,বাবানের আবার বড় ঘর ছাড়া পছন্দ নয় চলো দেখি।

ওদেরকে ভেতরে নিয়ে গেলেন লোপামুদ্রা দেবী।

__  বাহ বেশ খোলামেলা তো, জানালো গুলোও বেশ বড়। আমার বাবুসোনার খোলামেলা ঘর ই পছন্দ আপনাকে বললাম না! এই জন্যই বাইরে থেকে দেখে আমাদের বাড়িটা খুব পছন্দ হয়েছে, আর বাড়িখানা দেখছি দক্ষিণ খোলা, তাই না?

__ হ্যাঁ ।

__আপনি দরজাটা বন্ধ করে রাখেন? খোলেন না?

__ আমি একা মানুষ মাঝে মাঝে হঠাৎ শ্যামলী এসে খোলে। আমার একার দরকার পড়ে না, নয়তো এই দরজা দিয়ে খুব ফুরফুরে হাওয়া আসত জানেন? এই দরজার ধারে বসে থেকে থেকে সময় কেটে যেত।

ভাবুক হয়ে পড়েন তিনি।

একবার নতুন বিয়ের পরপর খুব ঝড় উঠেছিল সেবার । দক্ষিণ খোলা দরজা দিয়ে খুব জোরে জোরে হাওয়া বইছিলো, ঘরের সমস্ত জিনিসপত্র পড়ে যাচ্ছিল  ধাম ধাম করে ।কল্যান আর লোপামুদ্রা দুজনেই দৌড়োদৌড়ি করে সেসব জিনিসপত্রগুলো তুলছিল জানলা বন্ধ করে। পোর্সেলিনের মিনে করা ফুলদানিটা টুকরো টুকরো হয়ে গেছিল যেটা বৌভাতে নতুন পিসিমা ওদেরকে ফুল সহকারে বাসর ঘরে রাখার জন্য দিয়েছিল। বড় প্রিয় ছিল ওই ফুলদানিটা। প্রত্যেকদিন বাড়ির সামনে থেকে নয়ন তারা অথবা বেলি ফুলের গোছা এনে ওই ফুলদানিতে রাখত ও। ঘরময় গন্ধে ভরে থাকতো।লোপামুদ্রার চোখে জল,  তার প্রিয় ফুলদানিতে ফুল রাখা হবে না আর।  পরদিন অফিস থেকে ফেরার সময় ঠিক ওরকমই দেখতে আরেকটা ফুলদানি এনে লোপামুদ্রাকে দিয়েছিল কল্যান। প্রথম ভালবাসার আদান-প্রদান ওই ফুলদানি থেকেই শুরু হয় ওদের দুজনের।


__ দিদি একটা প্রশ্ন করি?

 মৃদু হাসলেন লোপামুদ্রা তিনি জানেন ওকে কি প্রশ্ন করা হবে।

__ হ্যাঁ বলুন না আপনি কি একাই? মানে আপনার ছেলে মেয়ে..

--আমার এক ছেলে বাইরে থাকে। ওর কাছেই চলে যাবে বাড়ি বিক্রি করে।

--বাহ বাহ এতো খুবই আনন্দের কথা!

__ দেখো এখানে কিন্তু তিতলী মমপু গুবলুদের খেলার ঘর করলে কেমন হয়? এই জায়গাটা কিন্তু বেশ খানিকটা খালি থাকবে মনে হচ্ছে দুই পাশে দুই ছেলের বেডরুম, আমাদের বউমারা এখান থেকে ওদের দিকে নজর রাখতে পারবে। আবার আমাদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে পারবে ওরা চোখে চোখে থাকবে ,তাই না বলো? আমার তো খুব সুন্দর লেগেছে। বাথরুম কিন্তু দুটো দেখছি আজকালকার দিনে বাথরুম  দুটো থাকাটাই জরুরী।আর ঘরে লোক বেশি থাকলে দুটি বাথরুম মাস্ট।

,__ সব বন্দোবস্ত ঠিকঠাক করে রেখেছেন, আমারও বুঝলে গিন্নি, বেশ ভাল লেগেছে, দেখ ওদিকে কাপড় মেলার জায়গা রয়েছে, তোমাকে হাঁটু ব্যথা নিয়ে সিঁড়ি দিয়েও উঠতে হবে না! 

__আমার দুই বউমাই খুব ভাল, মেয়ের মত বুঝলে? ওরা থাকলে এমনিও আমাকে কিছু করতে দেয় না।


___হ্যাঁ গিন্নী, ঠিক বলেছ, আজকালকার দিনে এমন সন্তান পাওয়া যায় না, সঙ্গে মেয়ে হয়ে ঘরে আসা বউমারাও। ভাবতো, এই চুপচাপ ঘরটা যখন সবার কলতানে প্রাণ ফিরে পাবে, আমাদের নাতি নাতনীরা  সারাঘরময় দৌড়ে বেড়াবে, হাসি আড্ডায় আমাদের সেনগুপ্ত বাড়ি মেতে উঠবে, এর চেয়ে আনন্দের আর কি আছে বল! 

__সত্যিই তাই, পরিবার নিয়ে সুখে থাকতে পারলে জীবনের আর কিছু আক্ষেপ থাকে না।ওমা! দেখো ওদিকে মনে হচ্ছে তুলসী তলা! বাহ মনটা শান্ত হয়ে গেল গো! তুলসী গাছতো নেই, আমরা এসে এখানে একটা তুলসী চারা এনে লাগাবো। 

__দেখো আমরা নিজেরাই কথা বলে চলেছি উনি কোথায় গেলেন আগে টাকা পয়সার ব্যাপারটা ও তো ফাইনাল করতে হবে ।আগে থেকেই ধরে নিচ্ছে বাড়ি যেন আমাদেরই হয়ে গেছে।

__ হ্যাঁ গো সত্যিই বাড়ি টা বড্ড আপন মনে হচ্ছে।

নিজেদের মধ্যে একান্ত আলাপচারিতায় স্বামী স্ত্রী ভবিষ্যৎ দেখতে শুরু করে বাড়িটির আনাচে কানাচে।  দুজন নিজেদের মতো কথা বলেই চলে।

__দিদি আপনার বাড়ি আমাদের ভীষণ পছন্দ হয়েছে আপনি কত দামে হলে আমাদের এই বাড়িটি বিক্রি করবেন সেটা যদি একটু জানান।

 দু'পক্ষে কথা হয় লোপামুদ্রা দেবী বলে দেন আর একটা ফ্যামিলিও এসে দেখে গেছেন তারাও দাম বলেছেন, একদিন একটু ভেবে নিই তারপর আমি জানিয়ে দেব। আমাকে শুধু একটু সময় দিন।

__ হ্যাঁ হ্যাঁ নিশ্চয়ই আপনি আজকের দিনটা সময় নিন। আগামীকাল সন্ধ্যেবেলায় আমরা ফোন করবো আপনি যদি বলেন এ বাড়ি আমাদেরকেই বিক্রি করবেন এর চেয়ে খুশি আর কিছু হবে না।

  


__দিদি! হ্যালো,অজয় সেনগুপ্ত বলছিলাম, কাল আমরা বাড়ির জন্য গেছিলাম, আপনি কিছু ভাবলেন? __ও হ্যাঁ, ভীষণ দুঃখিত, আগে যারা বলেছিলেন ওরা আরও দাম বাড়িয়ে দিলেন, ফলে ওনাদেরকেই বাড়ি টা দেব। আপনারা অন্য কোথাও খোঁজ করলে ভাল।


 পেছনে আধো অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা ছায়া মূর্তিটি জানে যে দিদা এ বাড়ি হাতছাড়া হতে দেবে না। খদ্দেরের সঙ্গে টাকা পয়সায় কুলোলেও শেষ অব্দি এই বাড়ি দিদা কাউকে দেবে না। বিগত তিন বছর ধরে এই জিনিস হয়ে যাচ্ছে । এমনি দিদার বাড়িতে কেউ আসতো না। এখন এই বাড়ির জন্য নতুন নতুন খদ্দের আসে , দিদা তাদের সঙ্গে গল্প করে সময় কাটায়। এটা দিদার কাছে নতুন কিছু নয় । কিন্তু দিদা তার ছেলের কাছে কোনদিনই যাবেনা এ বাড়ি ছেড়ে এটা শ্যামলী বুঝে গেছে। এই বাড়ির প্রতিটি আনাচে-কানাচে দিদার স্মৃতিরা ঘোরাফেরা করে সব সময়। তাকে অন্যের কাছে কিছুতেই দিতে পারবে না দিদা।


 অন্ধকার ঘরটায় টিভি চলছে। টিভির ভলিউমটা কমানো। মাঝে মাঝে হালকা দু-একটা আওয়াজ ভেসে আসছে ।  বিছানার কোনে চুপচাপ বসে থাকা বৃদ্ধার বলিরেখা পড়া খড়খরে হাতটা ধীরে ধীরে পাশের টেবিলে রাখা ধুসর রঙা ল্যান্ড ফোনের  রিসিভারটা নামিয়ে রাখে। ঠোঁটে তাঁর বিজয়ীনির হাসি। তার চোয়াল শক্ত, দু চোখের দৃষ্টি স্থির, আবার কোন নতুন শিকারের অথবা খদ্দেরের অপেক্ষায়...


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন