শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

অমিত মুখোপাধ্যায়।। পারক গল্পপত্র



বাগানের পেছনের গেট এমন করে কখনো খোলা থাকতে দেখি নি।শরীর কেমন অলস,মন অবশ, কিছু ভাবার আগেই পড়ি ঢুকে ভেতরে।চকিতে বদলে যায় দুনিয়া! দীঘির জল,চারপাশের সবুজ ছুঁয়ে জ্বর কমে যায় হাওয়ার।তবু বিলম্বিত বসন্তের ললিত শিহরণ বিলিয়ে দিয়ে যায়।


বাইরে থেকে টের পাওয়া যায় না ভেতরে এত সৌন্দর্য!জলের বিস্তার জুড়ে কেবল ঝরা পাতার বাহার দেখে মোহিত হই।লাল,কমলা,বাদামি,হলুদ,গেরুয়া,খয়েরি,ধূসর থেকে সুরকি – কোন রঙ যে ভেসে নেই!দুয়েকটা গোলাপি পাতাও ঘাড় উঁচু করে রূপ দেখাতে নড়েচড়ে বেড়ায়।প্রতি পাতার প্রতিবিম্ব দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয় পারিজাত কাননের বিভ্রম।


বাইরের বিশ্বে ব্যাধির বাড়বাড়ন্ত।ঘরে লুকিয়ে খালি সন্দেহে নিজের হাত দেখে মানুষ।হাতের রেখা নয়,অদৃশ্য দানোর ন্যানো শরীর খোঁজে।বারবার ফেনাময় হাত ধোয়।ঘরে, বসতে, দুর্গে তারা বনে যায় ম্যাকবেথ-দম্পতি, সাথে তাদের আপনজন,নিয়ত হাত থেকে নিয়তি ঝেড়ে ফেলতে চায়।হাত আজ সম্পদ নয়,বিপদ!


বাইরে হাজারো ঠুসি,ঠুলি,নাক-চাপা,চুল-ঢাকা আর মুখোশে মরমে মরে লুকিয়ে চলা দেহ।হাতে দস্তানা,সাথে দোস্ত থাকা মানা।সেই হাত-মোজা যত্নে ধরে রাখে গরলনাশক তরল।যার কাছে যাও, গম্ভীর হয়ে বা হেসে হাতে মাখিয়ে দেবে।চোখ পরীক্ষা করে বুঝে নিতে হবে ভাব।কাজ মিটিয়েই কেটে পড়তে হবে, নাকি অন্য দু’এক কথার সম্ভাবনা আছে।


নাক-মুখ আটকানো থাকলে শ্বাস নিতে বড় কষ্ট হয়, বিশেষ করে চলা বা বলার সময়।দেশি বিদেশি কিছু চিকিৎসক কাগজে লিখেছেন যে এমন দশায় বেশি সময় থাকলে ফুসফুস ও হৃদয় নির্দয় হয়ে উঠতে পারে স্নায়ু বা ধমনীর ওপরে।ফলে সে কারণেই প্রাণ যেতে পারে।বাড়ি ফেরার পথে বেশ ক্লান্ত হয়ে ছিলাম, পাছদুয়ারের ফাঁক পেতেই তাই অমনি সেঁধিয়ে যাই।


যে জলাশয় অমন এঁদো ছিল,তাকে নিশ্চয়ই অনেক যত্ন করেছে।লাগাতার সাফা করে সাজিয়ে,সবুজের লালন করে,মাছ পালন করে নিভৃত নিসর্গ  তৈরি করেছে।জলে ভেসে আমার দিকে আসে জলজ পানা,তার কচি মিহি হলুদময় সবুজের লেজ হয়ে পেছনে নড়ে শেকড়বাকড়।আরো কাছে ভেসে এলে জোড়া-পাতার প্রতিটিতে দু’টি করে বিন্দুজল ঝলমল করে –এত বেলা অবধি কি শিশিরকণা টিকে থাকে!এক ঝাঁক ছোট মাছ এসময় জোড়া-পাতার পিছে তাড়া করে,লম্বা ছড়ানো শেকড়ে ঢুঁ মারে।থুতনিসহ মুখ নড়ে মাছেদের।মূলে লেগে থাকা কেঁচো বা পোকা খুঁটে খায় নাকি!মাছেরা ঘোরে,জোড়া-পাতাকে ঘিরে ধরে,পুচ্ছ খুবলে খায়।আবার একে অপরকে তাড়া করে,ধাওয়া দিয়ে ঝগড়া করে।কান পাতি অস্পষ্ট শব্দে,মাছেদের কথা শোনা যায় নাকি!আহা আরেকটু জোরে বল না রে মীন,যেমন করে দূরাগত তিমি তিমিঙ্গিল গান গায়, স্বর তোল তোরা, অন্তত ক্ষীণ শৌখিনতায় ! ... তার বদলে বেহায়া কোকিল ইনিয়ে বিনিয়ে তার অনুরোধ জানায় বারংবার !


পাশের পুরনো যে কয়লার দোকান, তার কালো টুকরো ডাঁই হয়ে এদিকে ঢুকে ছোট টিলা হয়ে আছে।তার গা জুড়ে হলদে কমলা ঝরাপাতা মনের সুখে নকশা তৈরি করে পড়ে আছে।কত সময় চেয়ে স্বাদ নিয়ে যেন অতীত ধরার রূপ দেখি।কালো-হলুদে বাঘের বিন্যাস।বেড়ার গায়ে হেলান দিয়ে কোমর সিধে করে বেতো সাইকেল।তাকেও প্রাচীন পৃথিবীর সাজিয়ে রাখা স্মারক বলে মনে হয়।


উল্টো দিকের চওড়া সুন্দর মূল ঘাটে ছোট ছেলেটি আসে।মুখচেনা,পাড়ায় দেখি।হাতের লাঠির ডগায় বাঁশের ফালি গোল করে তার সাথে জাল বাঁধা।সে খানিক ওত পেতে মাছ তাক করে, জলে ঘা মারে।   উঠে আসে বুড়ো পাতার কাঁচা সোনা রঙ! দর্শনীয়রকম মহার্ঘ বস্তু বলে মনে হতে থাকে।হাওয়া ছাড়লেই ফের গেল গেল রব ওঠে।বেসামাল আয়ুহীন পল্লব পাশের কিশলয়ের দিকে নজর ছুঁড়ে খসে পড়ে।ঝরা পাতার দল আর্তস্বরে উড়ান দেয় দিকবিদিকে।পরিবেশ ভার হয়ে ওঠে।ভেসে দুলে পাক খেয়ে যতক্ষণ শ্বাস নেয় বাতাস, ততক্ষণ তাদের আশ।তারপর এক একটি রঙের বিন্যাস একেক মিনতির ঢঙে ঝাঁপ দেয়, নিজের মতো আত্মসমর্পণ করে।জল ছোঁয়ার লগ্নে আরেক দফা শব্দমালা, তখন শেষ কাঁদন সারা হয়।


তবু চারপাশে মানুষের মরণের মতো মর্মান্তিক নয় এ সব মৃদু হাহাকার।মৃত্যু স্বাভাবিক অসুখে হোক বা অতিমারির ছোবলে,কিছু লোকের হাবভাব অবাক করে।তার চেয়েও বেশি পাগলামি মেলে মৃত্যুভয় থেকে গজানো আচরণে।পাড়ায় ঢোকা নিয়ে সুস্থ লোক থেকে খোদ  চিকিৎসককে পর্যন্ত তারা জোট বেঁধে বাধা দেয়!দোষীকে ধরার মুরোদ নেই বলে হাতের কাছে পাওয়া মানুষকে হেনস্থা করে।এখন এই মুহূর্তে মনে হতে থাকে,কৃত্রিম সভ্যতা  আর সহজ মরণ দিতে পারে না, স্বাভাবিক মৃত্যু দেবার ক্ষমতাই সে হারিয়ে ফেলেছে।এসময় সে যা করে, তাকে বলে আতঙ্কসহ প্রাণহরণ!বেঁচে থাকা তাই রোজ বেশি করে দায় হয়ে ওঠে।


আপাতত ভুলে থাকতে চাই জুজু-জাগানো জগতকে।একই আলোচনা  আর ভালো লাগে না!  ... এক যুবক আসে ঘাটে।নাকমুখের পটি খুলে ঘড়ি দিয়ে চাপা দেয়।গামছা সরিয়ে আদুল গায়ে বেদির শীতল ছায়ায় বসে।ছেলেটি তাকে ডাকে।সিঁড়ি বেয়ে নামে যুবক।সংলাপ শুনে বুঝি মাছ ধরতে গিয়ে সাপ দেখা গেছে।দু’জনে ঝুঁকে আতিপাতি করে খোঁজে।লাঠির ঘা পড়ে জলে।মাছেরা ত্রাসে উর্ধ্বশ্বাসে, ভুল হলো,নিম্নশ্বাসে উধাও হয়।পাতা ঝরে চলে।পাতা ভেসে চলে।জলতলে রেখা সরে যায়,খুদে ঢেউ অবয়ব ধরে,মিলিয়ে যায়।লতাগুল্ম,পানার ছানারা দোলে।নারকেলের পাশ থেকে বিবাগি কুসুমতরু তার গেরুয়া পশরা মেলে দেখাতে চায়।পুকুরের মায়ামুকুরে বিচলন কমতেই কুসুমকুহক জাগিয়ে ফের আচ্ছন্ন করতে চায়।কখন উল্টো দিকে পালিয়ে এসে মাছেরা গভীর তল থেকে ভেসে উঠে  সমবেত পাখনার দোলায় আলো-কে নাচাতে থাকে। কেমন মিহি আবেশের শব্দ ওঠে, মনে হয় তাদের অনেকেই আমার দিকে দৃষ্টি ছুঁড়ে দেয়।বুঝে নিতে চায় নতুন মুখ।


সাপটি যে ঘাপটি মেরে লুকিয়েছে, তা বুঝে মাছে মন দেয় ছেলে।তার সামনে ফুটে ওঠে নতুন ঝাঁক,নতুন আশা।তার মাঝে তৃতীয় মুখের আগমন।প্রৌঢ় সাদা দাড়ি নেড়ে জলের অন্য ধারে নামে।আঁজলায় তুলে মুখে চোখে ঝাপটা দেয়।আচমন করে গামছায় মুখ মোছে।এক ধারে রাখা শববাহী রঙিন খাটিয়ার হাতল পরখ করতে থাকে।


বড় এক নারকেল খসে পড়ে জলে তোলপাড় তোলে।শব্দের বিস্ফোরণ হয়।নলবন থেকে বিশাল লাফ দিয়ে খরগোশ ছোটে। সেই জাতকে বলা গল্পের মতো তাদের আকাশ কি ফের ভেঙে পড়েছে?সে কি তাই বিশ্বের বিনাশের খবর ছড়াতে গেল!যুবক সব দেখে শুনে ছেলেটিকে ভাসমান নারকেল তুলে আনতে বলে।প্রৌঢ়কে বলে, ফের নোংরা হতিছে হো দিকের পাড়।দেখতি হবে।


চার নম্বর মুখ যৌবন পেরনো বলিষ্ঠ লোকের।সে নিজেকে মুসাফির পরিচয় দিয়ে শৌচঘরের হদিস জানতে চায়।সেখানে গিয়ে ফের ফিরে আসে,বদনা কই!


ওই হো দিকে!


এ লোটা তো  ফাটা!


ও আধা জল থাকপে ‘খন লোটায়।কাজ চলি যাবে।


তা বললি হয় নাকি!এতো সোন্দর মসজিদ তুমাদের!নয়া রঙ,সাফসুতরো জমিন, আর ফাটা লোটা!কত দূর দরাজ সে আদমি আসবে, এইসা দেখেগা কেয়া!কেয়া শোচেগা?


যুবক ও প্রৌঢ় এ ওর দিকে চেয়ে হাসে। তাতে খানিক লাজ আছে,আবার মুসাফিরের প্রতি তাচ্ছিল্যও।এত লোকের কাজ দিব্যি মিটে চলেছে,তুমি কোথা থেকে কে এলে হে! ...যুবক বলে, আরে ছেল তো এই সেদিনও, কে আপনার ভেবে নে চলে গেছে!


আপনদের ইধার দুকান আছে, নজদিগে কুথাও! ...শুনে নিয়ে মুখে কাপড়ের দেওয়াল তুলে বেরিয়ে যায় মুসাফির।


এততো বেলা হলো, ফির লকডাউন জমানা, অভি মিলবে করেগা কেয়া!যুবক স্বগত বলে।


স্নানের আয়োজন করে দুজনে।দূরের লোক এসে তাদের বিব্রত করে গেছে,তাই আপাতত কথা নেই।ছেলেটি সব শুনে কেমন ঘাড় দুলিয়েছে।বড়দের স্নানের পালা সারা না হলে আর মাছের আশা নেই।সে সেই লাঠি-মুখো গোল জাল রেখে পাড় ধরে অলস হাঁটে।


আবার স্তব্ধতা, মাছেদের সংলাপ ফের যেন শুনি ! আজ হলো কী !ডালের সবুজ পাতা চুপিসাড়ে বলে।হাওয়ায় ভেসে যাওয়া লালচে পাতা বলে।জলে দুলে চলা ভিজে বিবর্ণ পাতা বলে! হয়ত জল নিজেও দু’এক ছলাত-ছলে , ছলাকলাতে সকলকে একসাথে নিয়ে কিছু জানাতে চায়।যা বলে,তাতে অন্তত কোন আশঙ্কার সুর নেই।শরীর হালকা লাগে, মন খোলামেলা লাগে।বুকে যে এত পরিসর আছে, তা কে জানত!


কখন সে ছেলে এসে দাঁড়ায় পাশে।পাশে মানে দৈহিক তফাত রেখে।টনটনে তার জ্ঞান, কখন নাক-ঠুসি নিয়েছে পড়ে। পা ঝুলিয়ে বসে বলে, তুমাকে আমি কিন্তুক চিনি !


সে তো আমিও তোকে চিনি।কী নাম?


আশরাফ গো! তুমি টুকচা দম ছাড়তে এয়েচ, তাই নয়?


বেহায়া সে কোকিল কেমন ভিন্ন রাগিণী গায়, নাকি তামাশার মজা পায় !


আমি অবাক, মানে অ-বাক।সামলে নিই, তুই হেথা কি করিস?


কাজকাম থেকে পালিয়ে আসি।মা বড় জ্বালায়।এদিক পানে এলে ভাবে ইবাদত কবুল করতে যায়, ইবার তাইলে ভালা হইব পোলা ! ...এই ঠাণ্ডা খুলা পানিত গোসল করতি মজা আসে।


বাঃ, দিব্যি মাথা তো !


হাঁ, খাসা মুণ্ড আমার, নিজাই টের পাই।কী বুকা বেওকুফ লুকজন !পাইলেই হক্কলরে ঝাঁপি দেই! .…. ছাড়ান দেও, চলো লকডাউনগো আগের কথা কই !এখন তো ঐ এক কথা !..  বলি ?


আরে বল বল, শুনি।দারুণ কথা বলিস তো !


গেল মাসে ইকটা দারুণ দিন ছিল জানো?


কোন দিন ?


আরে সে দিন শিবের ইয়ে ছিল না?


মানে বিয়ে ?


হাঁ গো!মাছ ধরতি যেয়ে আজ সাপ দেখি সেদিনের কথা মনে পড়ল। তা বাদে ও দিন জুম্মাবার ছিল।হেথা খুব ভালা খাইছি।তা বাদে ও দিন আমাগো ভাষার জন্যি জান দেছেল দামাল ছেলার দল ! জানো !


তাদের নাম জানিস ?


ওই তো রফিক, বরকত, সালাম, ... আর জব্বার আর সফিউর, তাই না !


ভুল ধরে কার সাধ্যি ! ওর গুরু কে তা জানতে হবে ছল করে।


শিবের ইয়ের দিনকে কী বলে জানিস?


শিবরাত্রি বলে।প্রতি কৃষ্ণপক্ষের চোদ্দ নম্বর রাত হলো শিবরাত্রি। ফাগুন মাসের ওই রাত হলো মহাশিবরাত্রি।ওদিনটাকে বছরের সবচেয়ে অন্ধকার রাত বলে। ওই রাতেই মহাদেব গৌরীর পাণিগ্রহণ করে।...আচ্ছা, এই রাতেই শিব সৃষ্টি, স্থিতি আর, আর   প্রলয়ের তান্ডব নৃত্য করে,তাই বলে না সবাই! 

বলে শিব আর  শক্তি ওদিন মিলে যায়, মুক্তি পাওয়া যায় তখন ! ঠিক কি ! ..

কে বলে রে ?

 

আশরাফ চোখের পাতা নাড়ে খানিক।চোখ পিটপিট করে।হাসে, কে আবার ! সবাই !


ব্যাটা তুই কার কাছে শুনলি?


আশরাফ চোখ গোল করে আমার চোখে চায়। মুসাফির নতুন লোটাহাতে ফিরে এসে কোন দিকে না তাকিয়ে ছোটঘরে ঢোকে।ওদিকে স্নানপর্ব সারা।প্রৌঢ় মাথা-দাড়ি মুছে বলে, দেখতি হবে খাটিয়া যেন করোনার কবলে না পড়ে।যদিও হাতল আমি দেখে দিসি।


কখন আশরাফ দূরে চলে গেছে, অসামাজিক দূরত্বে।চেঁচায়, মাছে ঘাই দিতেছে, দেখি ফের !


এই পলে বনতলে নেই কেউ।বিলকুল সুনসান।আশরাফ কি গা ঢাকা দিল ! কেমন গা ছমছম করে।আমার সাথি একমাত্র সেই বেতো সাইকেল ! ফেলে আসা দিনের জিনিস। আবার আগামী সময়ের নিরাপদ বাহনও বটে। মুসাফিরও যেন অতীত থেকে এসে বর্তমানে ঢুকে পড়েছে ! ওই ছেলে আজ বুঝি শিবের চেলা হয়ে উঠেছে ! নিসর্গ, চরিত্র, তাদের স্বর, মায় ভাষা-দিবস নিয়ে চমকে দিল তারা !  কেমন করে যেন এই লগ্নে আগে পরে  সময়, কাল, তিথি সব মিলে এক হয়ে গেছে ! খুলে গেছে সামনে পেছনে পাশের সব দরজা।আমি চাইলে উড়ে বাড়ি ফিরতে পারি।জীবন্ত নাটকের কুশীলব যে যার ভূমিকা পালন করে তৃপ্তি দিয়ে গেছে। কেউ যদি কেবল তা সাজিয়ে নেয়, কিতাবের কিস্যা হতে পারে।


... দরজা কোথাও মুখ বন্ধ করলে, অন্য কত দরজা যে খুলে যায় !


 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন