শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

রোমেল রহমান।। পারক গল্পপত্র



রাত আটটার দিকে সিরাজুদ্দিন গলির মোড়ে গিয়ে হাঁটাহাঁটি, মোড়ামুড়ি, লুঙ্গি ঝারাঝারি করতে থাকে! মুখে একটা মাস্ক পরা! সমস্ত রাস্তা শুনশান! লগডাউনের ছায়া সমস্ত শহরে! কিছু চ্যাংড়া ছেলে বউ আর খাটাশ কিসিমের বুড়ো ছাড়া অন্য কেউ নেই! কুকুরগুলো ড্রেনে মাথা নামিয়ে জমিনে পশ্চাৎ উঁচিয়ে খাবার খুঁজছে! অভাব ছড়িয়ে গেছে চারদিকে! ঘরে ঘরে চাল বাড়ন্ত! হাত ফাঁকা! কোথাও কোন কাজ নেই! বেশ্যাপাড়াতেও ভিড় নেই! ভাসমান মেয়ে গুলো খিদের যন্ত্রণায় রাজি হয়ে যাচ্ছে অল্প টাকাতেই! সিরাজুদ্দিন সেই ফিকিরেই  আছে! আজ তার মনের মধ্যে আমোদ! একটা বড় দান মেরে দিয়েছে! সরকারের দেয়া গরিবের সস্তা চালের এক ট্রাক চাল তার দোকানে পানির দরে বেঁচে দিয়ে গেছে এক ডিলার! সে শুধু বস্তা গুলো পাল্টে নিয়েছে! আকালের দিনে কিছু কামিয়ে নিতে না পারলে গ্রামে দোতলার কাজটা এবার শেষ করা যাবে না! বড় ছেলেটা স্কুল ছাড়িয়েছে, ছোট ছেলেটাকে মাদ্রাসায় দিয়েছে! এরমধ্যে খবর এসেছে গতমাস বউ আবার পোয়াতি! সিরাজুদ্দিনের অবশ্য ভালো লাগে বউ পোয়াতি শুনে! তার খোয়াব এবার একটা মেয়ে হোক! মেয়ের জন্য মনে মনে নাম সে খোঁজাখুঁজি করছে! গ্রামের মাদ্রাসার বিল্ডিঙয়ের কাজ শুরু হয়েছে! সেখানে দাতাদের একজন সিরাজুদ্দিন! গ্রামে এইটুকু না করলে ইজ্জৎ থাকবে না! লগডাউনের এই সময়ে ভালো ব্যবসা করা যাবে সেটা টের পেয়ে গেছে সিরাজুদ্দিন! 


অনেকক্ষণ হাঁটাহাঁটির পর সিরাজুদ্দিন দেখে যাত্রী ছাউনির অন্ধকারে একটা মেয়ে ঘুরঘুর করছে! বোরকা পরা! সিরাজুদ্দিনের বুঝতে দেরি হয়ে না! সে দ্রুত ওদিকে এগিয়ে গিয়ে ইশারা দেয়! পুলিশ এসে গেলে ঝামেলা আছে! মেয়েটা সিরাজুদ্দিনকে পেয়ে যেন সমুদ্রে একটা আস্ত গাছের টুকরো খুঁজে পাওয়ার মতো স্বস্তি পায়! মেয়েটা জানে এই বুড়ো হাবড়া গুলোর লালচ সবচে বেশি! এদের চোখ শরীর লাগলেই ঝরতে শুরু করে! খেলার মাঠে গিয়ে সামান্য লোফালুফি করে হুমড়ি খেয়ে  পড়ে! 


বড় বাজারের পাশের এই পাড়ায় বাজারের লোকেরা ভাড়া থাকে বেশি! রাতবিরাতে মেয়েছেলের কণ্ঠ শোনা গেলে কেউ কিছু মনে করে না! কখনো কখনো কিশোরদের গোঙানিও শোনা যায়! মেয়েটাকে যখন ঘরে নিয়েসলো সিরাজুদ্দিন মেয়েটার চেহারা দেখে তার শরীরের মধ্যে ঝিমঝিম লাগে! মেয়েটার সাথে সিরাজুদ্দিনের কথাবার্তা শুরু হয়...


নাম কি?

বিউটি!

আগে দেখি নাই এই মোড়ে! কোন দিকের তুই?

তা দিয়া কাম কি! চোদার কাম চুইদা পয়সা দিয়া দেন!


এই বাক্য শুনে সিরাজুদ্দিন আমোদ পায়! মেয়েদের মুখে অশ্লীল কথাবার্তা শুনতে তার ভালো লাগে! অথচ তার বউটা একটা ভ্যান্দা! তার সামনে মুখ খারাপ করলে উল্টা আল্লা খোদার নাম নিয়ে নিজের দুইগালে হাত ছুয়িয়ে তওবা পড়ে! সিররাজুদ্দিন বলে...


চোদনের টাইম হইলে খাবি! আগে দুইটা কথা কই!

কথা বলবার টাইম নাই! আপনের একারে বাটলে আমার পেট বাঁচবো না! আরও কাস্টমার  লাগবো! আকালের দিনে সব মোল্লা হইসে! কাছে গেলে কয় ভাইরাস! দুইদিন আগেও যে ঠাপায় গেলি তহন ভাইরাস লাগে নাই?

তোরে পছন্দ হইসে! তুই রাজি থাকলে একটা কাজ দিতে পারি! আমার রান্ধার কাজ! রোজ রাইতে আইসা রাইন্ধা দিয়া যাইতে পারবি? টেকা পাবি!

শুধু রান্ধা নাকি কামও করবেন?

ঐ হইলো আর কি!

বুঝছি! রান্ধার কাম আমি করি না!  রান্তে গেলে সবাই ঠাইসা ধরে! তার থিকা এইটাই ভালো!

দুই কাজের জন্য দুইরকম টেকা পাবি! রাজি?

বাংলায় কন রোজ লাগবো আপনের আমারে।  কামের বেটি অফ তাই তো?

হ!

বুঝছি! পরে ভাইবা বলি! এহন কি করবেন করেন।  বাইরে পুলিশ! আমি বেশিক্ষণ থাকতে পারবো না! আর রাখতে হইলে পুরা রাইতের টেকা দিয়া রাখতে হবো!

ভ্যাজরভ্যাজর কম কর মাগী! টেকা পয়সা কোন বিষয় না! আড়ৎদার আমি! কারে কেম্নে কিনতে হয় জানি! এইদিক আয় তোর বাস্না নিই!


মেয়েটাকে সিরাজুদ্দিনের ভীষণ ভালো লেগেছে! এইরকম দুঃসময়ে এমন একজন সঙ্গী পাওয়া আমোদের ব্যাপার!  মেয়েটা টাকা নিয়ে যখন বেরিয়ে যাবে তখন সিরাজুদ্দিন বলে, দাড়া এক মিনিট! ভেতর ঘরে বাজারের দোকান মালিক সমিতির উদ্যোগে দরিদ্র কুলিদের দেয়া ত্রাণের থেকে কয়েকটা ছোট বস্তা সে রেখে দিয়েছিলো তার নিজের লোকদের জন্য! সেখান থেকে একটা বস্তা এনে দেয় মেয়েটার হাতে! সিরাজুদ্দিন বলে, না খায়া থাকলে আসিস আবার, এখন এইটা নিয়া যা!  ক্ষুধার্ত মেয়েটা এবার কিছুটা টসে যায়! সিরাজুদ্দিন টের পায় চাল খেয়েছে কবুতর!


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন