শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সুবীর ঘোষ।। পারক গল্পপত্র



না-ই বা জানা গেল তার নাম । পৃথিবী তার কাছে বেশিদিনের পুরোনো নয় । তাই দ্বিধাহীন কন্ঠে ঘোষণা করে দেওয়া যায়--বসন্তবয়স তার এখনও শেষ হয়ে যায়নি । সে এক যুবক । মাথায় অনেকখানি লম্বা --দোহারা গড়ন । টানা টানা দুটো স্বচ্ছ চোখ । পরনে হাল্কা রঙের মানিয়ে যাওয়া শার্টপ্যান্ট । হাতে একখানি বিদেশি কালো ডায়ালের ঘড়ি ।

রাতের ট্রেনে জানলার ধার ঘেঁষে তার সিটে নিজেকে কায়েম করে বসে পড়ল যুবকটি । ট্রেন তো নয় , এ যেন তার সেই বহুকাল আগের দেখা গ্রামের ডাকহরকরা । সারা রাত ধরে ছুটে ছুটে যাকে ভোরবেলা পৌঁছে যেতে হয় গন্তব্যে । এ গাড়ি সেই মন্থর রানারের দ্রুতগামী রূপ ।

স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে খুব বেশি লোক আর নেই । পিলারের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা জলের কলটাতে মুখ লাগিয়ে জল খাচ্ছে একটা কুলি – হয়তো বেশ কয়েকটা গাড়িতে মাল ওঠানামা করিয়ে এখন বেশ নিশ্চিন্তে গলা ভিজিয়ে আরাম নিচ্ছে । এখানওখান ক’টা লোক ছেঁড়া ছেঁড়া পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে । এদিকের বেঞ্চে বসে থাকা কয়েকজন লোককে দেখতে পাচ্ছে যুবকটি । তারা বোধহয় ডাউন ট্রেনের যাত্রী । তার এখন নিশ্চিন্তি । অনেকদূর যেতে হবে । তাই ভোরবেলার আগে তার ব্যস্ততার কোনো মানে হয় না। উঁকিঝুঁকি মেরে তাকে স্টেশনের নাম পড়তে হবে না । আর যদি হয়-ও তবে তা হবে নেহাত কৌতূহলের তাগিদে, প্রয়োজনের চাপে নয় ।

তার চোখ পড়ে গেল ছবির মতন সেই বেঞ্চটায় বসে থাকা এক সার লোকের ওপর । আরে ! সরস্বতী ? না না তা কী করে হয় ! তবে কীরকম অদ্ভুত মিল আছে না দুজনের মধ্যে ! এ যদি সেই সরস্বতী না-ও হয় তবে এ-ও কোনো অজানা বাড়ির বউ । ঐ বোধ হয় তার স্বামী যার সঙ্গে সে কথা বলছে ।

তার কামরায় যারা সহযাত্রী রয়েছে তারা ঘুমের তোড়জোড় করছে । ঘুমোবার কথা সে ভাবছে না আদৌ । কপালের রেখাগুলো কুঁচকে উঠছে তার । সাদা কুয়াশার বৃত্তে তার চারপাশ ঘিরে রচিত হয়েছে এক নিজস্ব পরিমণ্ডল । নিজের ভেতরের টানে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার এ এক পরম সুবিধাজনক পরিবেশ । গাড়ির

গতি বেড়েছে । স্টেশনের আলোর রেখা আর দেখা যাচ্ছে না। বাইরের পৃথিবী নিস্তব্ধ নির্জন । তাই ফুটফুটে জ্যোৎস্না এত উদোম করে শুইয়ে রেখেছে নিজেকে । এ যেন সেই একলা ঘরের নতুন কিশোরীটি, নির্জনতার সুযোগে যে নিজেকে এমনই উন্মুক্ত করে দেখতে থাকে ।

দেখা যাচ্ছে না স্টেশন—সেই জল খেতে থাকা কুলিটা—সেই একসার লোক কিম্বা সেই সরস্বতী বউয়ের মতন দেখতে বউটাকে । নিজের সঙ্গে নিজের কথা বলার এ এক চরম অবকাশ ।

 

আমাদের গ্রামের নাম বনমালীপুর । সেখানে আমার কাকা কাকিমা আর খুড়তুতো ভাইবোনেরা থাকত । আমার বাবা সিন্দ্রীতে ডাক্তারি করতেন । মা থাকত সেখানেই । আমি বেনারসের হস্টেলে থেকে পড়াশুনো করছি । গ্রামের সঙ্গে আমার যোগাযোগ কম । বনমালীপুরে যে  যেতাম না তা নয় । জন কয়েক বন্ধুও আছে সেখানে । একবার গ্রীষ্মের বন্ধে হস্টেল থেকে চলে গেছিলাম গ্রামে । মেতে ছিলাম সেই সব বন্ধুদের নিয়ে—অশোক আনন্দ সল্টু রবি । ওদের শোনাতাম গোধুলিয়া মোড়ের ভিড়ের গল্প । নৌকো থেকে দেখা মণিকর্ণিকা ঘাটে চিতা জ্বালানোর কথা । বনমালীপুরের দক্ষিণে গ্রামের প্রান্তে বয়ে চলেছে একটা ক্ষীণ নদী—ওখানেই গ্রামের শ্মশান । শ্মশানকালীর মন্দির । কাছেই কয়েকটি পরিবারের বাস । নদীতে আসবার পথটা খুব সংকীর্ণ । শালবনের মধ্যে দিয়ে পথ । ওটার নাম ছিল কানসোনার বন । সেই বনের পথ ধরে এগিয়ে গেলে পাওয়া যেত একটা মাঠ—লোকে যার নাম দিয়েছিল গোষ্ঠের মাঠ । সেই মাঠের এক কোণে বহু অযত্নে দাঁড়িয়ে ছিল একটা বেদী । কবে কে কেন সেটা তৈরি করেছিল আজ আর কারো সে কথা মনে নেই ।

একদিন বিকেলে কালবৈশাখীর ঝড় আর বৃষ্টি হয়েছিল বেশ । সন্ধের আগেই থেমে গিয়েছিল । সেদিন আবার রবি আনন্দ এরা সবাই তাদের কোনো বন্ধুর দিদির বিয়েতে গেছিল । সে জন্যে একা একা হাঁটতে হাঁটতে এগুচ্ছিলাম উদ্দেশ্যহীনভাবে । একা বেড়াতে বেশ ভালো লাগছিল সেদিন । এলোমেলো পায়ে এসে বসেছিলাম সেই নির্জন বেদীটার ওপর । বৃষ্টিশেষের মিষ্টি আকাশে একটুখানি ভেসে যাওয়ার খুশি নিয়ে উড়ে যাচ্ছিল পাখির সার। সামনে নদী । ওদিকে কানসোনার বনে ভেজা শালগাছ দুলছে হাওয়ায় । মাথার ওপরে আকাশ ভাসিয়ে সূর্যাস্ত । বেদীর গা বেয়ে উঠেছে ফুলের লতানে গাছ । নাম-না-জানা ফুলের সবুজ কলিগুলোর চোখে যেন সন্ধে শুরুর বেলায় ঘরের ছোট্ট শিশুটির  ঘুমের মতোই ঘুম নেমে আসছিল ।

কেউ কোত্থাও ছিল না। তাই বড় বেশি করে চোখে পড়েছিল তাকে । একটু দ্রুত পায়ে নদীর দিকে এগিয়ে চলেছিল একটি অল্পবয়েসী বউ । পরনে তাঁতের লাল ডোরাকাটা শাড়ি । জামাহীনতার ফলে বড় স্পষ্ট করে দেখা যাচ্ছিল তার সুঠাম হাত দু’খানি । ফরসা রঙ সুন্দর গড়ন আর বড় দুটো টানা চোখ । কাঁখের কলসি আর গামছা দেখে বোঝা যায় নদীর জলে স্নানে চলেছে সে । মাতাল বাতাসের খেয়ালে কাপড়চোপড়ের ঠিক থাকছিল না তার । হাওয়ায় ঘোমটা খসে যাওয়ায় ওর লম্বা ঘন কালো চুল চোখে পড়ছিল । বেদী থেকে নদীর ঘাট চোখে পড়ে না। তাই কিছুক্ষণের জন্য সে অদৃশ্য রইল । কিছুক্ষণ পরই ভারী কলসি এ হাত ও হাত বদলাতে বদলাতে ফিরতে লাগল সে । এক সময় বেশ অন্ধকার নেমে এল । পর পর কয়েকদিন এভাবে গেল । শালবনের কাঁচা পথে তার ফুটফুটে পা দুখানা দেখতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার মন দুলে উঠত । দূর থেকে সঙ্গ নিত তার । আমার নিজের ভেতর আলোচনার সুবিধার জন্য আমি তার নাম রেখেছিলাম—সরস্বতীবউ । একদিন সামনে দিয়ে পেরিয়ে গেলাম । সে একটু মৃদু হাসিতে দুলে উঠল । সন্ধে নেমে আসত । আমি আমার ছড়িয়ে পড়া মন কুড়িয়ে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসতাম। ঐ কানসোনার বন হয়ে উঠল আমার নতুন যৌবনের উপবন ।

একদিন রবি আনন্দ সবাই ফিরে এল । কাউকে কিছু বললাম না ,যদিও বলবার ইচ্ছে হচ্ছিল খুব । ভাবলাম না থাক্ , আমার কর্মহীন অবকাশজীবনের কল্পঅভিসার আমারই থাক্ । একদিন ওদের সঙ্গে বেড়াতে বেরিয়েছি , সরস্বতীবউ পেছন থেকে এসে পেরিয়ে গেল । রবিকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম ওরা থাকে গোষ্ঠের মাঠের ওপারের বসতিতে । ছোট মেটে ঘর । তার স্বামী ভবানন্দ একতারা বাজিয়ে বাউল গান করে । কবিতা লেখে । একটা মুদির দোকান চালায় ।

অমাবস্যা এল । তার আগে অপদেবতার প্রসঙ্গ ধরে জোর তর্ক হয়ে গেছে বন্ধুদের সঙ্গে । অশোক আনন্দ এরা অপদেবতায় বিশ্বাস করে । আমি অবিশ্বাসী । অশোক বলল -- সামনের অমাবস্যার দিন মাঝরাতে শ্মশানে যেতে পারবি , একা ? ঝোঁকের মাথায় বলে দিলাম—পারব । অশোক প্ল্যানটা বুঝিয়ে দিল—কোনো অস্ত্রশস্ত্র , টর্চ, মোমবাতি নিয়ে যাওয়া যাবে না । প্রতি অমাবস্যায় শ্মশানকালী মন্দিরের পুরোহিত সারা রাত জেগে থাকে । সে খুব সৎ লোক । মিথ্যে বলে না । তাকে তুই মাঝরাতে গিয়ে তোর নামলেখা একটা কাগজ দিয়ে আসবি । আমরা সকালে গিয়ে সে কাগজটা নিয়ে আসব ।

সেদিন রাত্রে গোষ্ঠের মাঠ পেরিয়ে কালীমন্দিরে যাচ্ছিলাম । ঘন আঁধারে ঢাকা পথঘাট । দূরে ঝুপঝুপে বটগাছটার ডালপালা জোনাকিতে ভরে আছে । মাথার ওপর রহস্যে মোড়া এক আকাশ । এমন সময় একটা শব্দ – কেউ যেন হুমড়ি খেয়ে পড়ল । স্ত্রীলোকের গলার পরিষ্কার কান্না—মা কালী , হে মা তুমি আমার স্বামীকে বাঁচাও । আমার বুকের এ পাশ থেকে ওপাশ যেন শ্রাবণ-আকাশের বিদ্যুৎ চলে গেল । মানুষ না কোনো অশরীরী ! অন্ধকারের আলোয় ঠাওর করে বুঝলাম মন্দিরে পৌঁছনোর কিছু আগেই পাথরে হোঁচট খেয়ে পথে পড়ে গোঙাচ্ছে একটি স্ত্রীলোক । হাত ধরে টেনে তুললাম তাকে । মুখের খুব কাছে চোখ নিয়ে যেতেই বুঝলাম এ তো সেই সরস্বতীবউ । স্বামী ভবানন্দ খুব অসুস্থ , প্রলাপ বকছে । ও তাই চলেছে কালীমন্দিরে হত্যে দিয়ে পড়ে থাকবে বলে । বললাম—ডাক্তার ডাকোনি ?

ভবানন্দের শুকনো চোখমুখের দিকে তাকিয়ে খুব কষ্ট হল আমার । বাড়িতে ছোট দুটো শিশু । তাড়াতাড়ি ফিরে এসে অশোক আনন্দ রবি সল্টু ওদের ডেকে আনলাম । ওরা তখনও ক্লাবঘরে তাস খেলছিল । নদীর ওপারে থাকতেন এক ডাক্তার । রবি গিয়ে ডেকে নিয়ে এল তাঁকে । তিনি দেখলেন ভবানন্দকে । ওষুধ দিলেন । ওকে একটু ভালো দেখে আমরা বেরুলাম। ঘড়িতে তখন  চারটে বাজে ।

 

ঝমঝম করতে করতে ছুটে চলেছে রাতের গাড়ি । রাতের গাড়ি কী মোহময় ! এক অনির্ধারিত নেশায় তেতে ওঠে সারা দেহমন । জানলার বাইরে যে ছড়ানো একফালি জগৎ তা সাদা জ্যোৎস্নায় ভরে উঠেছে । অনেকটা দূরে কয়েকটা আলো দেখা যাচ্ছে । হয়তো ইলেকট্রিকের আলো । শহর হতে পারে । কিম্বা কোলিয়ারি । সামনের মাঠটায় ক’টা লম্বা লম্বা গাছ দাঁড়িয়ে রয়েছে । ঠান্ডা হাওয়া ভেসে আসছে । হয়তো কোথাও বৃষ্টি হয়ে থাকবে । ইতিমধ্যে অনেকগুলো স্টেশন পেরিয়ে গেছে । গাড়ি দাঁড়িয়েছিল যথারীতি—আবার যাত্রাও করেছে । হাত বাড়িয়ে ওয়াটারবটলটা খুঁজে নিয়ে কয়েক চুমুক জল খেল যুবকটি । প্যান্টটা ঝেড়ে নিয়ে একবার বাথরুমের দিকে এগুলো সে । সহযাত্রীরা অনেকেই তখনও ঘুমোচ্ছে ।

 

বেনারসে থাকি শুনে অন্বেষার মা আমাকে ওদের বাড়ি যেতে বলেছিলেন । রামাপুরায় ওঁরা থাকতেন । আমি ছুটি শেষে বেনারস ফেরার আগেই অন্বেষারা বেনারস ফিরে এসেছিল । আমি হস্টেলে ফিরে প্রথম যেদিন ওদের বাড়ি গেলাম চা খেতে খেতে অন্বেষা সেই পুরোনো প্রসঙ্গই তুলল ---- তোমার সঙ্গে আলাপটা চিরদিন মনে থাকবে । সেইদিন অত রাতে মায়ের সঙ্গে কালীমন্দিরে পুজো দিতে যাওয়ার কথা ছিল খুশি মামীর । মামীর দেরি দেখে আমরাই ওদের বাড়ি চলে যাই । তখন অনেক রাত । ভয় ভয় করছিল । ওকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করলাম—খুশিমামী কে ?

--ওই যে ভবানন্দ মামার বউ । সেদিন মামা বেশ একটু ভালো রকমই অসুস্থ হয়েছিল ।

এবার সব মনে পড়ল আমার । খুশিমামী মানে সরস্বতীবউ । হ্যাঁ সেদিন রাতে এক ভদ্রমহিলা তাঁর রূপসী কিশোরীকন্যাকে সঙ্গে নিয়ে ওদের বাড়ি এসেছিলেন বটে । তখন আমরা সবাই ডাক্তারকে নিয়ে ব্যস্ত । তার মধ্যেই ওই কিশোরীকে দেখে হঠাৎ হাওয়ায় গাছের ডালপালা নেচে ওঠার মতো আমার মনটাও দুলে উঠেছিল । পরে একদিন  পোস্ট অফিসে গিয়ে যে অন্বেষার মা’র সঙ্গে আলাপ জমে যাবে তখন তা কে জানত ! অন্বেষার ডাক নাম এষা । আমিও ওকে সেই নামেই ডাকি । এষা খুব কথা বলতে ভালোবাসে । ওর বাবার রেলের চাকরি । এবং বদলির চাকরি । ওরা তখন থাকে সোনাডিহিতে । ওদের বাড়ি ছিল একটা পুকুরের ধারে । ওদের বাড়িতে যে মেয়েটা কাজ করত সুযোগ পেলেই এষা তার সঙ্গে পুকুরঘাটে চলে যেত । ও ঘাটে বসে পা দোলাত । একদিন পায়ের কাছে চকচকে কী একটা চোখে পড়ল । তুলে এনে সে তার ছোট্ট রুপোর কৌটোয় সেটাকে লুকিয়ে রেখেছিল । তার পর একদিন কী করে কে জানে সেই কৌটোটাই হারিয়ে গেল । ভীষণ কেঁদেছিল এষা । বড় হয়ে সে তো কত বার আসল সোনার গয়না হারিয়েছে কিন্তু অমন করে আর কখনও কাঁদেনি ।

কত দিন ছাদে আমাদের টুকরো গল্পের গতির সঙ্গে বেলা পড়ে আসত । সন্ধেবেলার ক্লান্ত ডানার পাখিরা ফিরে যেত ঘরে । আমরা হঠাৎ হঠাৎই অনেক পরিকল্পনা করে ফেলতাম । সমুদ্রে বেড়াতে যাবো । তা-ও কাছাকাছি নয় । মহাবলীপূরমের সমুদ্রে । একবার এষা, মুন্নী আর আমি গ্রামের পূর্বপ্রান্তে তিনপাহাড়ের গায়ে এসে বসেছিলাম । এষা গাঢ় নিশ্বাসে কামনা নিয়ে বলে উঠেছিল—ফুল্লরায় যাবে , ট্রেনে চেপে , জানলার ধারে বসে ?

সেই থেকে এক গহন উৎসবের আয়োজন করেছি নিজের ভেতরেই । সেই থেকে এক স্বপ্নে দেখা খেয়াঘাট , তাতে ঝোলানো দু’খানা নূপুর-পরা পা , গাঁয়ের কুয়োতলা আর দূর থেকে দূরে চলে যাওয়া নরম খড়ের মাঠ ক্রমাগতই আমাকে চিঠি পাঠাচ্ছে । সবাই বলছে—এসো একবার , একটিবার , আত্মীয়ের বাড়ি  কখনও ভুলে যেতে নেই ।

আমাদের ফুল্লরায় যাওয়া হয়নি । যাওয়া হয়নি মহাবলীপূরমের সমুদ্রেও । বিস্তীর্ণ  হাটখোলার মাঠের দিকে নেচে নেচে উড়ে গিয়েছিল কয়েকটা মাছরাঙা । তিনপাহাড়ের বুড়ো বটগাছটার মাথার ওপর টপটপ সুরে বৃষ্টি নেমেছিল সেদিন ।

 সামনে দিয়ে ভারী জুতোর আওয়াজ তুলে কে যেন পেরিয়ে গেল । যুবকটি উঠে দাঁড়াল । ছোট ব্যাগটা গড়িয়ে গেছে সিটের নীচে । সেটা তুলে রাখল । জানলা দিয়ে চোখ রাখল কোন্ স্টেশনে ট্রেন থেমেছে সেটা বুঝবার জন্য ।




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন