শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

রাজর্ষি বিশ্বাস।। পারক গল্পপত্র



আকাশের পূব কোণ কালো হয়ে এসেছে। মকসেদ তার লরঝরে সাইকেল নিয়েই প্রাণপনে চলছে। প্যাডেল যেন আর ঘুরতে চায় না। মকসেদ ও তার সাইকেল দুইই আজ বয়সের ভারে নুব্জ। সে আর দম পায় না।  সে’দিন গ্রামের বিশম্বর ডাক্তার ঘোলা হয়ে যাওয়া মোটা ফ্রেমের চশমাটা নাকের ডগায় রেখে বলেছিল, এবার বিড়িটা ছাড়। 

চেষ্টা যে করেনি তা নয়। বিশম্বর ডাক্তার সময় পেলেই বিনা পয়সায় প্রেশারটা মেপে দেয়। ওষুধ দেয়। এমন কী নানা পরামর্শ দেয়। হয়ত নিজের বলে মনে করে! তবে লোকটার ওপর মাঝে মাঝেই খুব রাগও হয় আজকাল। কেন হয় জানে না সে। মকসেদের রঙ বদলানোটা কোন ভাবেই সমর্থন করেনি ডাক্তার। সম্পর্ক  নষ্ট না হলেও, খোঁচা দিতেও ছাড়ে না। কথা উঠলেই নতুন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে। মকসেদ মুখ বুজে সহ্য করে।

আসলে রঙ পাল্টানোর কোন ইচ্ছেই তাঁর ছিল না। পরিবর্তনের পর একদিন দলবল নিয়ে এসে সাহের হক বললো, ভাইজান তোমার লাল পার্টি এবার ছাড়েন। কিছুই তো পাবেন না। কয়েক দিনের মধ্যে গ্রাম পঞ্চায়েত আমরাই দখল  করবো। আর তাছাড়া, এই সরকার আমাদের সরকার। এই সরকারের পাশে থাকা উচিৎ কি না বলেন ?  কাল আপনার ডারিয়া ঘরে মিটিং করবো। না কিন্তু করবেন না। শহরের নেতারাও আসবে। একটু চা-বিস্কুটের ব্যবস্থাও করবেন।

দাওয়ায় দাঁড়িয়ে মাথায় কাপড়টা দিয়ে সবই শুনছিল জারিনা। মকসেদ মাথা নিচু করে ছিল। এতদিনের পার্টিটা ছেড়ে দেবে! সেই কবেকার কথা। সবে লাল পার্টি ক্ষমতায় এসেছে। তখন কিছুই ছিল না। আব্বাদের কোন জমিজমা ছিল না। গ্রামের গিরির বাড়িতে কাজ করেই সারাটা জীবন কেটেছে। লাল পার্টির নেতারা বলেছিল, যাদের জমি নেই তাদের জমি দেওয়া হবে।

শুধু মুখের কথা নয়, জমি পেয়েও ছিল কিছুদিন পর। তারপরেই তো জারিনার সাথে শাদি হল। যে পার্টিটা জমি দিল, জান দিল- আজ ছেড়ে দিতে হবে ! ভাবতে পারছিল না কিছুই। রাতে জারিনা বলেছিল, কি আর করবেন ?  বয়সও হইছে। ছেলেটারও একটা গতি করতে হবে। আর নদীতে থেকে তো কুমীরের সাথে লড়াই  করা যায় না। মকসেদ বিড়িতে শেষ টানটা দিতে গিয়ে দেখে সেটা নিভে গেছে কখন...  

ডাক্তারের আজকাল মতিগতি বোঝা দায়। সব সময় কি ভাবে আর বিড়বিড় করে কি যেন বলে। এক সময় সে নিজেও লাল পার্টি করত। বাংলাদেশ থেকে এসে জটামারিতেই প্রথম দোকান খোলেন। অকৃতদার মানুষ।  আগে লোকে বলত, জয়বাংলার ডাক্তার। প্রায় চল্লিশ বছর আগে তিনিই হাতে করে তাকে লাল পার্টিতে নিয়ে আসেন।  বলেছিলেন, গরীবের পার্টি। তোরাই তো থাকবি। এ’রকম কতজন যে তার হাত ধরে পার্টিতে  এসেছে ! কুড়ি পঁচিশ বছর আগেও পাঞ্জাবির হাতা গুটিয়ে উচ্চ স্বরে শ্লোগান দিতেন। ডাক্তারির সাথে সাথে মিছিল মিটিং করে বেড়াতেন। কোনকিছুর নেশা ছিল না। টাকারও না। গরীব লোককে ফ্রিতে দেখতেন।  ওষুধও দিতেন।  গ্রামের এহেন এমন লোক নেই যে, তার কাছে উপকার পায়নি। সে যে দলেরই হোক না কেন।  তবু লোকের মুখ বন্ধ হয় না। বলে, খিটখিটে বুড়ো একটা। আসলে মানুষটার ঠোঁট সত্যিই কাটা। এলাকার দোর্দণ্ডপ্রতাপ ওই প্রামাণিক এমএলএকেও খারাপ কিছু দেখলে ছেড়ে কথা বলতেন না। অনেকে ভগবানের মত দেখলেও, অনেকে আবার এড়িয়েও চলতেন। খুব ঠেকায় না পড়লে এখনও অনেকে তার ডিস্পেন্সারি মুখো হয় না। লাল পার্টি চলে যাওয়ার পর ওরা জটামারি বাজারে তার ডিস্পেন্সারি বন্ধ করে দেয়। তারপর বেশ কয়েক মাস যাওয়ার পর বিশম্বর ডাক্তারের ডিসপেনসারি খোলে। অবশ্য এমনি এমনি খোলে নি। অঞ্চলের নেতা হাবিবুর সম্পর্কে আত্মীয় হয় মকসেদের। সে সকাল বিকাল গিয়ে ডাক্তারের ডিসপেনসারি খোলার জন্যে অনুনয় করে। 

হাবিবুর প্রথমে বলে, ডাক্তার তো লাল পার্টি করে। ওর পার্টি তো একসময় কম অত্যাচার করেনি। এখন তো এসব সহ্য করতেই হবে। যদি আমাদের পার্টিতে আসে, তাহলে আজই দোকান খুলে দেব। নইলে পার্টিতে আলোচনা করতে হবে। আর চাঁদা তো দিতেই হবে। মকসেদ হাবিবুরকে বুঝিয়েছে, ডাক্তার কিন্তু পার্টি দেখে রুগী দ্যাখে না। ওর দোকান না খুললে আমাদেরই অসুবিধা। রাতবিরাতে কিছু হলে... উনি ছাড়া কেউ আছে এই গ্রামে ?  মকসেদ মিথ্যা হলেও বলেছিল, ডিস্পেন্সারি বন্ধ... ডাক্তার বলেছেন, শহরে চলে যাবে। ওনাকে না আটকালে লোকে গালমন্দ করবে। সেদিন বিকালেই হাবিবুর গিয়ে ডাক্তারের বাড়ি গিয়েছিল। মকসেদকে হাবিবুর বলে যে সে ডিস্পেন্সারি খোলার জন্যে বলে এসেছে।  তবে সে এসব জানে তা ঘুণাক্ষরেও জানায় নি ডাক্তারকে। জানলে আর রক্ষে নেই। 

আসলে লোকটার জন্যে মায়া পড়ে গেছে। এই তো সেদিন বলছিলেন, মারা গেলে তুই দোকানটা নিয়ে নিস।  আমার আর কে আছে বল ? ভ্যাপসা গরমে তিলে ভরা মকসেদের আদ্দিকালের পাঞ্জাবিটা ভিজে চেপ্টে গেছে ঘামে। সাইকেলেরও আয়ু তার মতই যেন ফুরিয়ে আসছে। গ্রাভেল রোডটা দিয়ে আর যেতে পারছে না। জায়গায় জায়গায় কাঁদা জল জমে আছে। এক বছরও হয় নি বাবলু কনট্রাক্টর এই রাস্তা তৈরি করে। ডাক্তার ঠিকই বলেন, এই পার্টিটা তুই এখনও করছিস! কি লাভ ? সবাই তো কামিয়ে নিচ্ছে। নেতারা তো সবাই গাড়ি বাড়ি করে নিল। তোর হাবিবুরকে দ্যাখ। কি ছিল আগে ? ভাঙ্গা ঘরে বিছানায় পাতার মত একটা বেডকভারও তো ছিল না। আর এখন চার চাকা ছাড়া চলতে পারেন না। তুই কি পেলি ? এমএলএ-র গ্রুপও করিস না। তোর ছেলেটা তো পড়াশোনা শিখেছে। ওরা চাকরি দেবে ? মধ্যে থেকে শত্রু বাড়াচ্ছিস। কোন উত্তরই দিতে পারেনি সে। চুপ করে থেকেছে।

বাড়ির কাছাকাছি আসতেই শুরু হয় অঝোরে বর্ষণ। কোন রকমে সাইকেলটা বারান্দায় তুলে গামছা দিয়ে মাথা মুছতে থাকে। বিকট শব্দে বাজ পড়ছে। জারিনাও বেড়িয়ে আসে ঘর থেকে। মকসেদকে দেখে যেন নিশ্চিত হয়। কিছুদিন হল তাকে নিয়ে ভয়ে ভয়ে থাকে জারিনা। সেদিন রাতে ঘরের মধ্যে  কালচে এক সাপের ওপর অল্পের জন্যে পা পড়ে নি। লণ্ঠনের আলোয় আর খুঁজে পায়নি সাপটাকে। কোথায় যে চলে গেল। এখন রাত্রি হলেই সাপের ভয় হয়। অন্ধকারে কোথায় ঘাপটি মেরে আছে ! মকসেদেরও বয়স বাড়ছে। চোখে ভালো করে দেখতে পায় না। 

ডাক্তার বলেছিল, মাথাভাঙ্গা হসপিটালে একজন ভালো চোখের ডাক্তার আছে। ডঃ পাত্র।  উনি কবিতাও লেখেন। কত গুণী মানুষ বল দেখি ! ওর কাছেই অপারেশনটা করিয়ে নে। শুনে মাথা নেড়েছিল। তারপর যাচ্ছি যাব বলে, আর হয়নি। আজকাল ভালো করে দেখতেও পায় না সে। সেদিন ঘরের মধ্যে সেই কালো সাপটি দেখার পর জারিনাও অপারেশনের জন্যে চাপ দিতে থাকে।   

তার চোখের মত চারপাশের সব কিছু দ্রুত ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে। চির পরিচিত মুখগুলোও আজকাল অচেনা লাগে। সবার চোখে অবিশ্বাসের ছায়া। আসলে যে ভোট আসছে !  ভোটের আগে সবাই সবাইকে সন্দেহের চোখে দেখছে। 

জটামারি বাজারে তার দুটোই গন্তব্য এক ডাক্তারের ডিসপেনসারি, আর ভরতের চায়ের দোকান। সেই চায়ের দোকানে এখন আর লোকে মন খুলে কথা বলে না। মকসেদ চুপচাপ চা ও বিড়ি খেয়ে কারোর সাথে কথা না  বলে বাড়ি ফিরে আসে প্রায় দিনই। 

সেদিন পাশের বাড়ির মনিরুল বলেছিল, ওদের থেকে সাবধানে থাকবেন। বলা তো যায় না, কখন কি হয়। চারদিকের অবস্থা ভালো না। কিন্তু বিরোধীরাও যথেষ্ট শক্তিশালী এবার। পঞ্চায়েত ভোটের মত হবে না এবার। বছর খানেক ধরে এলাকায় হিন্দু মুসলমান কাজিয়া চলছে। বাড়ি বাড়ি লাঠি বল্লম রাখছে দুপক্ষই। চাপা টেনশন চারদিকে। মকসেদ বোঝে, উভয় পক্ষই একজোট হয়ে গেছে। 

সেদিন স্কুল বাড়িতে মিটিংএ হাবিবুর, সাহের হকরা বলে, এবারের ভোট আমাদের বাঁচা মরার লড়াই। এই সরকার না থাকলে আমাদের কেউ দেখবে না। ভাইজান সবাইকে প্রয়োজনে জান দিতে হবে। জান দিতেই হবে।  আপনারা ভোটের দিন যা মনে হয় করবেন। রক্ত ঝরলে ঝরবে। যেভাবে হোক জিততে হবে। বিরোধীরা আসলে আমাদের সব কিছুই হারাতে হবে। এই লড়াই আমাদের ধর্ম বাঁচানোর লড়াই। 

মকসেদেরও  মনে হল ঠিকই তো বলছে ওরা।  মিছিল মিটিংএ যাওয়া শুরু করে সে। না যেভাবেই হোক পার্টিকে জেতাতে হবে। এখন যেন তার মাথাটা ঠিক মত আর কাজ করে না। মাথার দু’পাশের শিরা উপশিরা  গুলো প্রায়ই দপ দপ করে। চোখেও অস্পষ্ট দেখে। সব কিছু ঘোলাটে। ডাক্তার বলেছিল, প্রেসারটা বেড়েছে রে। সাবধানে থাকিস। রাতে শরীরটা খারাপ লাগলে, ছেলেকে বলিস ফোন করতে। আমি যাব। 

দিন কয়েক হল আর যে কি হয়েছে ? সবসময় ঘুরে ফিরে আসে সেই কালো সাপটা। যেন জড়িয়ে ধরে তার পা ! তারপর আস্তে আস্তে উঠতে থাকে শরীর বেয়ে। আজকাল রাতে জারিনা জারিনা বলে চিৎকার করে।  কিন্তু কেউ কিছুই শুনতে পায় না। 

আর যেন বহু দূর থেকে শোনে হাবিবুরদের সেই কথা, এবারের ভোট আমাদের বাঁচা মরার লড়াই। আমাদের ধর্ম বাঁচানোর লড়াই। দম বন্ধ হয়ে আসে যেন। ধড়পড় করে উঠে পড়ে। টের পায় সারা শরীর ঘামে ভিজে গেছে। পাশে জারিনা তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। টর্চটা নিয়ে সাবধানে পা ফেলে। উঠানে এসে একটা বিড়ি ধরায়। আকাশটা এত বৃষ্টির পরেও গুমোট হয়ে আছে। আবার ঢালবে বোধহয়!   

সবাই কেন যে পাল্টে যায় ? পার্টির মধ্যে তার সমবয়সী ভবেশ, ধনেশ্বর, রবিকান্ত ওরাও যেন কত দূরে চলে গেছে ! মিছিল, মিটিংএ ডাকলেও তেমন আর আসে না। তবে কি ওরাও তলে তলে বিরোধীদের সাথে হাত মিলিয়েছে ? হয়ত। হয়ত নয়। 

কাল সকালে উঠেই দৌড়াতে হবে মাথাভাঙ্গায়। মঙ্গল ও বৃহস্পতি এই দুই দিনই ডঃ পাত্রকে আউট ডোরে পাওয়া যায়। আর সপ্তাহে দুদিন অপারেশন করেন। সকাল থেকেই লাইন পরে যায় বিশাল। দেরী করলে গত্তান্তর নেই। তাই সকাল সকালই বেড়িয়ে যেতে হবে। সাইকেলটা ডাক্তারের ওখানে রেখে তারপর অটো বা টোটো - যা মেলে। চারদিকে এত ওলটপালট ডাক্তারই যেন তার ভরসা। ডাক্তারকে বলে তারপর যাবে সে।

সকাল সকাল বিশম্বর ডাক্তার ডিসপেনসারি খুলে পেপার নিয়ে মন দিয়ে পড়ছে। মকসেদ যে এসে বেঞ্চে বসেছে, টেরও পায়নি। সে অস্ফুট স্বরে বলে, ডাক্তার বাবু ... এতক্ষণে পেপার থেকে মুখ তুলে একরাশ বিস্ময়ের সুরে বলেন, তুই ? এখন ? এত সকালে ? মকসেদ কিছু বলতে যাচ্ছিল, বিশম্বর চিৎকার করে ভরতকে বলে, দুটো চা দে। বিস্কুটও দিস। পেপারে চোখ রেখেই শোনেন মকসেদ চোখ দেখাতে যাচ্ছে মাথাভাঙ্গায়। বলে, যাক এতদিনে তোর সময় হল! শোন তোকে একটা কথা  কয়েক  দিন ধরেই বলবো ভাবছি... এবার তোদের অবস্থা খুব খারাপ। তুই আর মিটিং মিছিলে যাস না। চারপাশের অবস্থাও ভালো না। একটা গণ্ডগোল লাগবে। যা শুনছি, ভোটে কিছু একটা হবে। আর তোরা তো এবার নিশ্চিত ভাবে হারবি... তোদের চোখ রাঙ্গানি আর লোকে সহ্য করবে না। অনেক হয়েছে। তোদের ঘর ছাড়তে হবে।    

ডাক্তারের মুখে বার বার এই ‘তোরা’, ‘তোদের’ শব্দগুলো শুনতে কেমন যেন খটকা লাগে তার। এ’রকম ভাবে তার কাছ থেকে তো কোনদিন ‘তোরা’, ‘তোদের’- শোনে নি! তাহলে কি ডাক্তারও...

মকসেদ বলতে যায়,  হাবিবুরই তো সেবার আপনার বন্ধ ডিসপেনসারি খুলে দেয়। এবার খেঁকিয়ে উঠে বলেন, হ্যাঁ ও আমাকে দয়া করেছে। তাহলে শুনে রাখ, দুই ভাগে পঁচিশ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। মকসেদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। এত বড় মিথ্যাচার! হাবিবুর বলেছিল, ভাইজান আপনার জন্যেই ডাক্তারকে ছাড় দিলাম। এতদিন মকসেদ এটা ভেবে মনে মনে আনন্দ পেত যে, ডাক্তারের জন্যে তার মত সাধারণ মানুষও কিছু একটা করতে পেরেছে। তাও মিথ্যে হয়ে গেল! সারাটা জীবন লোকটা তার জন্যে করেই গেল।  প্রতিদানে সে কিছুই দিতে পারলো না! কথা না বাড়িয়ে উঠে আসে। পাশেই বাসস্টপেজে গিয়ে দাঁড়ায়। সব কিছু গোলমাল হয়ে যাচ্ছে তার। মাথা ঘুরছে। আবার যেন ঘোলাটে হয়ে আসছে চারপাশ। মনে পড়ে গেল কাল রাতের স্বপ্নটা। ঘামতে শুরু করে। আজ যে কি হয়েছে ? এদিকে একটাও গাড়ির দেখা নেই। হসপিটালে চোখটা ভালো করে দেখাতে হবে। অপারেশনেও রাজি। কিন্তু অনেকটা যে দেরী হয়ে গেল... 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন