মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

বৈদূর্য সরকার।। পারক গল্পপত্র



গল্পের একটা টার্নিং পয়েন্ট থাকে । ভোম্বলের জীবনে সেই বাঁকটাই এল না । 


গরীব হিরো অসম্ভব পরিশ্রম করে বড়লোক হয়, কারোর জন্য জীবন বাজি রাখে, সবকিছু ছেড়ে চলে যায়, বারবার মার খেয়েও বাঁচার ইচ্ছে হারায় না। 

ভোম্বলের অবস্থা হিরোর সেই বন্ধুর মতো- যার কিছু হয় না শেষপর্যন্ত । 

ও যখন ইউনিভার্সিটিতে, বন্ধুরা ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে এমএনসিতে । ভোম্বলের মতো বহু লোক ক্ষুব্ধ হলেও দল জোরালো বিরোধিতা করেনি । ভোম্বলের মনে হতো ওরা যেন বিদ্রুপ করছে । কেননা ভোম্বল অনুষ্ঠানে কবিতা পড়ে, বাঁশি বাজিয়ে, নাটকে অনেক হাততালি পেত । 

ছোটবেলার বন্ধু সুজয়ের সাথে যোগাযোগ ছিল । কাঁচা টাকা থাকাতে  ভোম্বলকে খুব খাওয়াতো সুজয় । বিপ্লবের বুলির থেকে মিত্র ক্যাফের ফিস ফ্রাই বেশি সুস্বাদু –ততদিনে বোঝা গেছে ।  ভোম্বলের চাপ সম্পূর্ণার সাথে সুজয়ের আলাপ করিয়ে দিয়েছিল । ক’দিনের মধ্যেই সম্পূর্না ভিড়ে গেল সুজয়ের সাথে । 

সেসব এক যুগ আগের কথা, সুজয় এখন টরেন্টোতে থাকে । ছেলে কোলে সম্পূর্ণার সাথে গতবার পুজোয় দেখা হয়েছিল, বিরাট ফুলে গেছে ।



ভোম্বল গুগুল করে নানাজায়গার ছবি ম্যাপ আবহাওয়া দেখে, বিদেশের লোকজনের সাথে কথা বলে, ট্র্যাভেল গ্রুপে নানা ছবি দেয়... লোকজনের রেসপন্স বেশ ভাল । ফেসবুকে ‘ভোম্বল সর্দার’ নামটা যে এর’ম হিট করে যাবে ভাবতেই পারেনি।  এখানে টিকে থাকার মহামন্ত্র – সবার প্রশংসা করে যাওয়া । সেটা চালাকির সাথে করাটাই ট্রিকস । মেয়েদের ছবির বদলে তার পোস্ট করা কবিতা, ফিল্ম বা নাটকের,  তোলা ছবির সুখ্যাতি করলে কাজ অনেক বেশী হয়।  সেই সূত্রে কারো সাথে সাউথের কফিশপে দেখা করে, গ্রুপের গেট টুগেদারে ইনভিটেশান পায়, হাউস পার্টির ছবিতে জায়গা । বাংলা মিডিয়াম পড়ানো মাস্টারের এই কি কম !  

কর্পোরেট বাবুরা কিছু পোস্ট করে তিনটে লাইক পেলে খুব বুঝেশুনে করা আর ভোম্বল নিরানব্বইটা লাইক পেলে তা হয়ে যায় সবসময় ফেসবুক করা । এজন্যই ভোম্বল পুরনো বন্ধুদের সাথে বিশেষ যোগাযোগ রাখে না । ওদের বরং আউট ডেটেড বলে মনে হয়, বউ বাচ্চা অফিস সংসার কেচ্ছা নিয়ে সবসময় ব্যতিব্যস্ত । সেসব বিস্তারিত শুনলে আজকাল বিরক্তি লাগে। সেটা প্রকাশ করে ফেললে বিপত্তি । সবাই মনে করিয়ে দেয় ওর ব্যর্থতার গল্পগুলো,  শুনলে নেশা কেটে যাওয়ার উপক্রম হয় । 

খেলাধুলোয় অচল, পড়াশোনায় মধ্যম, দেখতে শুনতে গাবলু, হাবেভাবে ক্যাবলা ভোম্বল সম্ভবত জীবনে এই প্রথম কিছু গুরুত্ব পাচ্ছে সেটা আগেকার চেনাজানা কেউ বিশেষ আমল দিতে চায় না । একটা বড়সড় গ্রুপের অ্যাডমিন হয়ে উঠেছে ও । নিয়ম করে সবার পোস্টে কমেন্ট করে এবং সেটা সবসময়েরই প্রোগ্রেসিভ কথাবার্তা । শুধু তাই নয়, এসব পরিচয়ের সূত্রেই ট্রাভেলের ব্যবসা খুলে বসেছে ভোম্বল । আরেকজনের সাথে পার্টনারশিপে। সে ইনভেস্ট করলেও মাঠে নেমে কাজ ভোম্বলই করে। 

মৌসুমীর সাথে বেশী বয়সের প্রেমটাও বেশ জমে উঠেছে । অন্তত বেপাড়ায় খরচ করার থেকে নির্দোষ ব্যাপার বলেই ভাবে ভোম্বল । কিছু বাড়তি খরচাপাতি হলেও ছেলেমেয়ে পড়িয়ে বেশ চলে যাচ্ছে । লোকে নাক সিটকালেও কলেজের সময় থেকে এটাই তো করছে । 



অলির সাথে যখন পরিচয়, ভোম্বল ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট । কেউ আমল না দিলেও মিটিং মিছিলে অস্বীকার করার উপায় নেই । অধিকাংশ ছেলে মাতব্বরির সুযোগে মেয়েদের কাছে পৌছলেও ভোম্বলের দ্বারা হয়নি । বরং বক্তৃতা শুনে ইউনিভার্সিটিতে নতুন ভর্তি হওয়া অলিই কাছে এসেছিল অন্যদের পাশ কাটিয়ে। ক’বছর সোসালিস্ট কায়দায় প্রেমের পর আসল গোলমালটা হয়েছিল – বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়াতে । অলির বাড়িতে ভাবতো – মেয়ে  এমএ, বাপ রেলে চাকরি করে অনেক কামিয়েছে ... ভাল পাত্র জুটবে । 

বছর দু’য়েকের বাঙালি দাম্পত্যর পরে অলি ছেড়ে চলে গেছে । অলি ভেবেছিল ভোম্বল একটা ক্লারিক্যাল কাজ অন্তত জোগাড় করবে । ও যে অঙ্কে কাঁচা আর কম্পিটিশানের বাজারে ওসব পাওয়া আজকাল সহজ নয়, সেটা বুঝতে চায়নি । ওদের পুরনো বাড়িতে অলি আহ্লাদ করে আসতো, সেটা হয়েছিল বিষময় । এলোমেলো ঘোরাঘুরি আর ভোম্বলের ঢিলেঢালা বেঁচে থাকাকে অলি পছন্দ করলেও সেটা উঠে গেছিল কাঠগড়ায় । তাই ওর মায়ের ইন্ধনে পুরোটা জানাবোঝার আগেই সেপারেশান হয়ে গেল ।  পরে শুনেছে অলি কীভাবে যেন একটা প্রাইভেট চাকরি পেয়েছে ।   

ভোম্বলের এখন মনে হয় ওদের মধ্যে কোনও সম্পর্কই ছিল না । কারো সেন্টিমেন্ট বেঁচে ছিল না । গল্পের অনুসরণটুকু করেছিল মাত্র । দু’জনের আলাদা থাকাতে কোনও অভাববোধ তাই তৈরি হয়নি । বরং ভোম্বল বেশ ফুরফুরে জীবন কাটাচ্ছে এখন । সাংসারিক চাহিদাগুলো পূরণ করতে গিয়ে ওর নাভিশ্বাস তোলার অবস্থা হয়েছিল। 



বেলায় চা খেতে পাশের দোকানে গিয়ে অদ্ভুত একটা অভিজ্ঞতা হল ভোম্বলের । 

ক্ষয়াটে হাত বাড়িয়ে একটা লোক ওকে একটা মাটিমাখা কয়েন দেখালো । নেহাত রোগাভোগা চেহারা –মুখে খোঁচা দাড়ি, লুঙ্গি আর ময়লা জামা পড়া । 

সে এসব ব্যাপারে কিছুই জানে না । তবে এটা বুঝলো কয়েনে যা লেখা আছে তা ঠিক স্বাভাবিক নয় । লেখা আছে ‘ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি’ । কয়েনটা তামা দিয়ে তৈরি । সালের জায়গাটা ঘষে গেলেও ১৭১৭ বোঝা যাছে । মানে তিনশো বছরের পুরনো । 

ভোম্বল শুনেছে তেমন হলে কয়েনের দাম কোটি টাকা হতে পারে ।  

লোকটা বলল, মাটি খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়েছে । লোকটার বক্তব্য – এটায় হিন্দুদের ভগবানের মুর্তি খোদাই করা আছে তাই কোনও হিন্দুর হাতে দিতে চায় । সে সাচ্চা মুসলমান । ভোম্বল দেখলো, উল্টোপিঠে সত্যিই একটা মুর্তির ছাপ । যতদূর মনে হয় - রামসীতা । 

ভোম্বল বিশ্বাস না করলেও লোকটার কথা খুব যুক্তিপূর্ণ বলে মনে হল ।কিন্তু লোকটা কত চাইবে ? 

লোকটা বোধহয় ওর মনের ভাব বুঝতে পেরে বলল, নানা বাবু... আমি টাকাপয়সা কিছু চাইছি না ।চারটে লোক আছি, খুশি হয়ে দুপুরের খাওয়াটা যদি... । শুনে অস্থির লাগলো ভোম্বলের । মনে মনে হিসেব করেও নিল, পকেটে যা আছে – চারজনের ডিম ভাত হয়ে যাবে । লোকগুলোকে কাছের  দোকান থেকে ভাত খাওয়ালো ভোম্বল । 

সন্ধেয় জমিয়ে বসে ফেসবুকে ঘটনাটা সচিত্র পোস্ট করতে বিপুল সাড়া পড়ে গেল । নানারকম প্রশ্ন, ইনবক্সে টুকটাক আগ্রহ এতেই ভোম্বল যথেষ্ট খুশি ছিল । কিন্তু খেলাটা ঘুরে গেল একটা মেসেজে ।

এনার নাম ইন্দ্রনীল, প্রোফাইল পিকচারে একটা ট্যাঁকঘড়ির ছবি । খুঁজেপেতে ভোম্বল বুঝলো, ইনি অ্যান্টিকের ব্যবসা করেন  ।  নানারকম কয়েনের ছবি আপলোড করেছেন এবং তার সম্বন্ধে বিস্তারিত লেখা । লোকটাকে নিয়ে গল্প লেখকরা খুব উৎসাহ পাবে । শনিবার এই রহস্যময় পেশার লোকটার সাথে দেখা করবে ঠিক করলো । 

তবে লোকটা  কয়েনের ছবি দেখে বলে দিয়েছে – নকল !

কথা বলতে বলতে লোকটা ওর রিসেন্ট কালেকশান ওরঙ্গাবাদ মিন্টে তৈরি আকবরি মোহরের ছবি দিল ইনবক্সে, দাম বারো লাখ টাকা । দেখেশুনে আক্কেলগুড়ুম অবস্থা ভোম্বলের । ও যে গঙ্গাধারে প্রাচীন অঞ্চলে থাকে, তাতেই  লোকটা বেশ উৎসাহিত হয়েছে । জিজ্ঞেস করেছে, বাড়িতে পুরনো কিছু আছে কিনা ! ভোম্বল বেশী কথা বাড়ায়নি,  বলে কী হবে – তার যে কানাকড়ির সংস্থান নেই ।



ভোম্বল তার সামান্য জীবনে –দেখতে চেয়েছে শুধু । সে আশাতে এসে ঠকেনি । কিড স্ট্রিটে থাকা ইন্দ্রনীল ভোম্বলের দুনিয়ার অনেক বাইরের, সোফায় বসে সে কথাই ভাবছিল ভোম্বল । 

ইন্দ্রনীলের কিউরিয় শপ নেই । এখন বেশীরভাগ কেনাবেচা যোগাযোগ অনলাইনে হয় । নানা এক্সজিবিশানও হয় বটে । 

এখানে অন্য একজনের উপস্থিতি ভোম্বলকে বিচলিত করে তুলেছিল । অবিকল সিনেমার ভিলেনের মতো চেহারা।  ভোম্বলের মুখের ভাব দেখে ইন্দ্রনীল বলে উঠল, ঠিকই সন্দেহ করেছ ...ইন্টারন্যাশানাল স্মাগলার ঘরে বসিয়ে রেখেছি । শুনে ভোম্বলের মনে হল –তার সাথে প্রাক্টিক্যাল জোক করছে । কেননা সত্যিই তো কেউ মাফিয়ার সাথে বড়মুখ করে আলাপ করিয়ে দেয় না । ব্যাপারটা বুঝে ওদের দিকে তাকিয়ে হাসলো ভোম্বল । তার হাসিতে ভিলেন লোকটা ভরসা পেয়ে বলল, আপনার অভিজ্ঞতা ঠিক কির’ম ?

ভোম্বল কয়েন পাওয়ার গল্পটা  বলল...আসলে লোকটা এতোটাই ইনোসেন্টভাবে এসেছিল - ও ফেরাতে পারেনি । উনি বললেন, অদ্ভুত ট্রিকস । ইন্দ্রনীল এবার বলে উঠল, ওয়েবসাইটে বিক্রি পর্যন্ত হচ্ছে কয়েনগুলো । লোকজন ফেক হিসেবেই কেনে । কিন্তু প্রশ্ন হল, হঠাৎ দিকে দিকে তামার কয়েন ছড়িয়ে দিচ্ছে কারা ? ব্যাপারটা অদ্ভুত কারণ কারো ফ্রড হওয়ার অভিযোগ নেই । দু’চারশো টাকার জন্য কে আর থানা পুলিশ করে ! ইন্দ্রনীল আরও যেটা বলল, ওরা রামসীতা দিয়ে হিন্দুদের অ্যাপ্রোচ করে আর মুসলিমদের জন্য আরবিতে লেখা কয়েন । এসব করে কী লাভ হচ্ছে ?

ভোম্বল সবটা শুনে বুঝেছে, ওর যেমন কপাল ! নেহাত পেটি কেস - কেউ মাথা ঘামাবে না ।

ফিরে আসার সময় সেই ভিলেন চেহারার লোকটা তার কার্ড দিল - মিঃ মিত্র । লালবাজারের উঁচু তলার অফিসার।

 

সন্ধের ভিড় মেট্রোর বদলে বাসে যেতে ভাল লাগে । বিরস মুখে আজ ফিরছিল। বাসটা যখন ধর্মতলার সিগন্যালে দাঁড়িয়েছে তখন ভোম্বল নাড়া খেল । গলায় ডালা ঝুলিয়ে সেই লোকটা লটারির টিকিট ফিরি করছে । লোকে কিনছেও । ভোম্বলের কাছে আসতে চোখাচোখি হল । একরকম মুখ,  জামাকাপড় । ভোম্বল চিনতে পারলেও বুঝতে পারলো না লোকটা ওকে চিনেছে কিনা । ততক্ষণে সিগন্যাল ছেড়ে দিয়েছে, লোকটা বাস থেকে দ্রুত নামার সময় কারো দিকে না তাকিয়েই বলে গেল, স্বপ্ন ফিরি করি... তাছাড়া জীবনে আর কী ! 



এই গ্রাম্যমেলায় এত ভীড় হতে পারে বোঝেনি ভোম্বল । এখন দোলে শান্তিনিকেতন যাওয়ার উপায় নেই । তাই এক বন্ধু বলেছিল দোলে সতী মায়ের মেলায় আসার জন্য । ভোম্বল বেশ উৎসাহিত হয়েছিল । মেলাটা মন্দিরকে কেন্দ্র করে হলেও সেসবে ওর বিশেষ আগ্রহ নেই । 

ছোটবেলায় পড়া 'বেতের বোনা ধামা কুলো', ঠাকুর দেবতার মুর্তি থেকে লোহার হাতুড়ি কাটারি, আচার নিমকি জিলিপি মোয়া, হরেক মাল দশ টাকার সাথে হুঁকোকলকে পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে । ভোম্বল লোভ সামলাতে পারলো না – ষাট টাকা দিয়ে একটা হুঁকো কিনে এলোমেলো ঘুরতে লাগলো । মাঝে হঠাৎ একটু থমকে গেল ভোম্বল । অদ্ভুত একটা সুর এসে ঝাপটা দিয়ে গেল ওর বুকে । খেয়াল করে দেখলো, সেই লোকটা আজ চোখ বুজে বুঁদ হয়ে বাঁশি বাজাচ্ছে । ভোম্বল আগুপিছু না ভেবে লোকটার একটা ছবি তুলে, লোকেশান লিখে মিঃ মিত্রকে হোয়াটসঅ্যাপ করে দিল । কয়েক সেকেণ্ডের মধ্যে রিপ্লাই এল, লোকটার সাথে লেগে থাকুন... ফোর্স আসছে ।

খানিকটা বাধ্য হয়েই ভোম্বল গুটি গুটি ওর কাছে গিয়ে দাঁড়ালো । লোকটা কি ওকে চিনতে পেরেছে ? মুখে একটা অদ্ভুত হাসি । আবার একটা সুর ধরল । শুনতে শুনতে মাথার ভেতরটা কেমন যেন করে উঠল ভোম্বলের । একটা বাঁশি হাতে ধরে মনে হল, ও পারবে । 

প্রথম ফুঁয়ে বাঁশিটা বেজে উঠতেই লোকটা চকচকে চোখে ওর দিকে তাকালো । তিনটে ফুটো চেপে অনেকক্ষণ ‘সা’ বাজালো ভোম্বল । আস্তে আস্তে ভোম্বলের আঙুল সাবলীলভাবে খেলাতে লাগলো সুর । লোকটা পরাজয়ের সম্ভবনায় মরিয়া হয়ে বাজাতে শুরু করলো । দু’জনের সুরের কাটাকাটি কতক্ষণ চলেছিল তার হিসেব নেই, তবে চারপাশে লোক জমে গেছিল ।  

লোকাল থানার পুলিশ আসতে, খেয়াল ফিরল ভোম্বলের । লোকটা ফুঁসে উঠে বলল, স্বপ্ন ফিরি করতাম... সুরের ফাঁদে ধরা খেয়ে গেলাম । ভোম্বলেরও মনে হল, সত্যিই তো লোকটা সামান্য টাকার বিনিময়ে অসম্ভব আশার প্রদীপটাকে উসকে দিয়েছিল !


তারপর যা হল, সিনেমার মতো । …যুদ্ধজয়ের পর মিঃ মিত্রের পাশে দাঁড়িয়ে ভোম্বল শুনল –বাংলাদেশী এই  টেররিস্টকে অনেকদিন পুলিশ খুঁজছে । 


সকালের খবরে, মিঃ মিত্রের সাথে ভোম্বলের ছবিও বেরোলো । পুরনো বন্ধুরাই সবার আগে শুভেচ্ছা জানালো । যদিও মনটা ভালো নেই ভোম্বলের, স্বপ্ন ফিরি করা লোকটার কথা খুব মনে পড়ছে । 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন