শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মানস সরকার।। পারক গল্পপত্র



হেঁটেই বাজার যান সুপ্রতীম। আর কথাটা যাবার সময়েই কানে এল। কানে এল মানে রোজ যেমন বেরিয়েছিলেন, সেভাবেই বেরিয়েছিলেন। যা যা অন্তরা বলেছে, ফর্দতে ঠিকঠাক লিখেছিলেন কিনা, মেলাতে মেলাতে হাঁটছিলেন। ছেলে ছোকরার দল যেমন কানে হেডফোন গুঁজে কথা বলতে বলতে যায়, এ ছেলেটাও সাইকেল চালিয়ে সেভাবেই যাচ্ছিল। হঠাৎই কানে আসে শব্দগুলো। “তাহলে আজ বিকেল চারটের সময় মিনার পার্কে দেখা করছিস....।”   

একটু চমকেই উঠেছিলেন সুপ্রতীম। বেশ কিছু বছর পর ‘মিনার পার্ক’ শব্দটা কানে এসেছিল। শব্দটাকে ভুলতেই বসেছিলেন। অনেক বছর পর স্মৃতির প্রেক্ষাপটে ভেসে উঠল শব্দটা। নিজেকে একটু বিহ্বল লাগছিল। নিজের জীবনের সঙ্গে শব্দটাকে মেলাতে গিয়ে খুব বেশি পরিমাণে স্মৃতিমেদুর হয়ে উঠছিলেন।

কতবছর হবে, বছর তিরিশই হোক। নিজের এই শহর থেকে বিশ কিলোমিটার দূরের আর একটা শহর পান্ডুয়ার এই মিনার পার্কেই তো বিশাখার সঙ্গে দেখা  করতেন। অন্তত আট-দশবার তো দেখা করেছেনই। অথচ সম্পর্ক ছিন্ন হবার পর এত দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে বিশাখাকে মনে করিয়ে দিতে পারে এমন কোনও শব্দই তো তাকে আঘাত করেনি।

ছেলেটা একমনে কথা বলতে বলতে চলে গেল। নভেম্বরের বেলা। ছোটবেলায় দেখেছেন, এইসময় বেশ ভালোমতো একটা শীত শীত ভাব এসে যেত। হেমন্ত শহরতলীর এই চন্দননগরে এসে গেছে, টের পাওয়া যেত। এখন বাতাসে সারা বছরই কেমন যেন একটা গুমোটভাব। মনটাতেও হঠাৎ কেমন গুমোটভাব এসে জমাট বাঁধল।


ইউনিভার্সিটির দু’টো বছর কীভাবে যে কেটে গিয়েছিল বিশাখার সঙ্গে, ভাবা যায় না। বর্ধমান ইউনিভার্সিটির রেগুলার বোট্যানি এম.এস.সি.–তে ভর্তি হয়েছিলেন সুপ্রতীম। ফার্স্টক্লাস পেয়ে ইউনিভার্সিটিতে পড়তে এসে একটু কোথাও প্রচ্ছন্ন গর্ব কাজ করত। আশির দশকের সেই মাঝামাঝি সময়ে অনার্সে ফার্স্ট ক্লাস পাওয়াটা বিরল ঘটনার মধ্যেই পড়ত।


ক্লাস শুরু হওয়ার সপ্তা দুয়েকের মধ্যেই বিশাখার সঙ্গে স্টেম ডিসেকশন করতে গিয়ে ল্যাবরেটরিতে আলাপ। এত তাড়াতাড়ি অথচ সূক্ষ্মভাবে প্রস্থচ্ছেদের স্লাইড বানাচ্ছিল একটা মেয়ে, অবাক হয়েছিলেন সুপ্রতীম। যেচেই আলাপ করেছিলেন। বর্ধমান শহরেই থাকে। আগে পড়ত রাজ কলেজে। লম্বা চুল, সালোয়ার কামিজ আর ঘরোয়া চেহারার মেয়েটা অনার্সে প্রায় সত্তর শতাংশ নম্বর পেয়েছে শুনে চমকেই উঠেছিলেন। একটা অন্যরকম ভালোলাগা তৈরি হয়েছিল। এখনকার মতো তখন সহজে কোনও মেয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব তো হতই না, প্রেম অনেক দূরের কথা।


সুপ্রতীম আর বিশাখা’র প্রেমটা শুরু হয়ে গিয়েছিল আচম্বিতেই। সৌমেন পড়ত একই ক্লাসে। ও-ও থাকত বর্ধমানে। 

দু’একবার বিশাখার সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। সৌমেন সরাসরি প্রশ্ন করেছিল, - “তোর কি বিশাখাকে ভালো লাগে?”

দু-একবার ‘না’, ‘আসলে’ বলেও বলে ফেলেছিলেন মনের কথা। সৌমেন শুধু বলেছিল, - “দাঁড়া দেখছি। তুই তো পুরো দস্তুর শহুরে। তাও ভালো লাগল?” 


হেসে মাথা নিচু করে ফেলেছিলেন সুপ্রতীম। সেটা মোবাইলের জমানা নয়। ইশারা, চিঠি লেখা – কিছুই করতে হয়নি। মনে হয়েছিল, সৌমেন পছন্দের কথাটা বড় জোর জানাতে পারে। তাতে বিশাখার রাজি হওয়ার কারণ দ্যাখেননি। কিন্তু সপ্তাহখানেক বাদে ইউনিভার্সিটিতে ঢুকতেই এক কোণে সুপ্রতীমকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল সৌমেন।


মুচকি হেসে ডান চোখটা অল্প মেরে বলেছিল, - “রাজি হয়েছে দেখা করতে। তুই লাকি কিন্তু।”


হাসিটা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সুপ্রতীম। শান্ত থাকবার চেষ্টা করলেও ভেতরে উত্তেজনার দমকটা টের পাচ্ছিলেন। বলেছিলেন, - “কোথায়? কীভাবে?” - “বর্ধমানে নয়। একটু দূরে কোথাও।”

সৌমেনই মিনার পার্কের নামটা বলেছিল। জায়গাটা একটু নিরিবিলি। স্টেশন থেকে নেমে রিক্সাকে বলতে হবে আটপুর। পাঁচ মিনিট লাগে। ওটা একটা লাভার পয়েন্ট। একটা ইংরেজ আমলের মিনার আছে। একটা লম্বা ঝিল আছে। সুপ্রতীম ঠিক করে ফেলেছিলেন যাবেন। নিজের ও বিশাখার দু’জনের বাড়ি থেকেই দূরে। কেউ দেখে ফেলার সম্ভাবনা থাকছে না।

গিয়েছিলেন দু’জনে। পান্ডুয়া স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর এসেছিল বিশাখা। লম্বা বিনুনি, সালোয়ার, ঠোঁটে খুব হালকা লিপস্টিক। জীবনের প্রথম প্রেমে কোথাও ঘুরতে যাওয়া। কলেজে একজনকে ভালো লাগত। কিন্তু সাহস করে বলে উঠতে পারেননি। বিশাখার মুখের দিকে তাকিয়ে মনে হয়েছিল, একটা সম্পর্কের দিকে হাঁটতে সে প্রস্তুত।

মিনার পার্কের পৌঁছে বেশ অদ্ভুত লেগেছিল সুপ্রতীমের। সৌমেনের বলা সব কথাই মিলে গেসল। ছড়িয়ে ছিটিয়ে বেশ কিছু কাপলরা বসে আছে। ঝিলের পাশের গাছের নিচে। সুপ্রতীম বিশাখাকে নিয়ে মিনারের পাশে ছায়াতে বসেছিলেন। এটা-ওটা কথা বলতে বলতে সময় কেমন নিঃসারে এগিয়ে গিয়েছিল। পড়ন্ত সূর্যের আলোয় বিশাখার চোখ আর মুখের দিকে তাকিয়ে একটু দ্রুতই সম্পর্কে বাঁধা পড়েছিলেন। খানিকটা লজ্জা, অনেকটা প্রশয়ে বিশাখাও এগিয়ে এসেছিল। হুড়মুড়িয়ে এগিয়ে গিয়েছিল সময়ও। প্রচুর পড়াশোনা, প্র্যাকটিকাল ক্লাস ও তার ফাঁকে ফাঁকে বিশাখার সঙ্গে আড়ালে আবডালে দেখা করা। কখনও ব্যান্ডেল চার্চ, ইমামবাড়ি, হংসেশ্বরী মন্দির বা চুঁচুড়া-র সিনেমা হলে এসে সিনেমা দেখা। কিন্তু অনেকবার দেখা করে সময় কাটিয়েছিলেন মিনার পার্কে। এম এস সি’র রেজাল্ট মোটামুটি ভালো হলেও ব্যাঙ্কের চাকরিটা পেতে একটু দেরিই হয়েছিল সুপ্রতীমের। ততদিনে সম্পর্কের সুতো আলগা হয়েছে অনেকটাই। বিশাখা বাড়ির চাপে অন্য জায়গায় বিয়ের মত দিয়ে ফেলেছে। ক্রমশ পরিণত হওয়া সুপ্রতীম এ নিয়ে যে বিশাল হাহুতাশ করেছেন এমনও নয়। চাকরি জীবনে ক্রমশ থিতু হয়েছেন। বেড়েছে ব্যস্ততা। ছোট মাসি সম্পর্ক এনেছিলেন অন্তরাদের বাড়ি থেকে। বিয়েও হয়ে গিয়েছিল।

বিয়ের পরে অন্তরাকে দু’এক বার বিশাখার কথা বলেওছিলেন। অন্তরা হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলেছিল, - “কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে ও সব একটু আধটু সব ছেলে-মেয়েরই হয়। অতীশ স্যারের প্রতি আমারও একটু ইয়ে ইয়ে হয়ে গিয়েছিল। তোমাকে বলিনি?”


হেসে ফেলেছেন সুপ্রতীম। এগিয়ে গেছে সাংসারিক জীবন। একমাত্র ছেলে স্যমন্তক মেডিসিনে এম.ডি. করে কলকাতার এক সরকারি হাসপাতালে দাপিয়ে চাকরি করছে। নিরাপদ জীবন। ঠিক দু’বছরের মাথায় নিজে রিটায়ার করবেন। এর মধ্যেই ছেলের বিয়ে পর্যন্ত ঠিক হয়ে গেছে তারই এক ডাক্তার কলিগের সঙ্গে। জীবনে অনেকটা হেঁটে ফেলেছেন সুপ্রতীম। এই একটা শব্দ ‘মিনার পার্ক’ প্রায় তিরিশ বছরের ব্যবধানে অনেক স্মৃতিকে জাগিয়ে তুলল। শুধু তাই নয়। একটা অদ্ভুত ইচ্ছে হচ্ছে। বাজারটা আজ পুরো মন দিয়ে করতে পারলেন না। কোথাও যেন আজ খুব আলগা লাগছে।


(২)

ট্রেন চন্দননগর প্ল্যাটফর্মে দিতেই উঠে পড়লেন সুপ্রতীম। ট্রেনে বেশ ভিড়। বর্ধমানের দিকের ট্রেন একঘন্টা অন্তর থাকে। তার উপর উইকডেজ। তাঁর গন্তব্য অবশ্য পান্ডুয়া। আধ ঘন্টার মতো লাগা উচিত। বসার জায়গা পেলেন না। তাতে, খুব একটা অসুবিধে হচ্ছে না।

দীর্ঘ এত বছরের সাংসারিক জীবনে তিনি কখনও রুটিন ভাঙেননি। ফলে কথাটা বলতে অন্তরা অবাকই হয়েছিল। বলেছিল, - “পুরনো বন্ধু? তোমার? তার সঙ্গে দেখা করতে যাবে তার বাড়িতে? বাব্বা!”

- “হ্যাঁ, আসলে জোর করছে খুব। শরীরটা খারাপ। চন্দননগরে কিছু টেষ্ট করাতে এসেছিল। সে দিনও বলেছিল। আজ আবার ফোন করল।” বুকটা ঢিপ ঢিপ করছিল। তাও  কথাগুলো বেশ সাজিয়ে গুছিয়ে বলতে পেরেছিলেন সুপ্রতীম। কথা বাড়ায়নি অন্তরা। দাম্পত্য জীবনে কোনওদিন এমন কোনও কাজ করেননি সুপ্রতীম, যাতে তাকে বাড়তি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হত।

ফলে কোনও বাধাবিপত্তি ছাড়াই চলেছেন নিজের ইচ্ছে পূরণে। ছেলেটার মুখে শোনার পরেই ইচ্ছেটা চাগিয়ে উঠেছিল সুপ্রতীমের। নিজের জীবনের একমাত্র প্রেমের স্মৃতির একবার মুখোমুখি হলে কেমন হয়। না, সৌমেনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন। বিশাখা ঠিক কোথায়, জানেনই না। চাকরি জীবনের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত এদের দু’জনের কারোর সঙ্গেই আর দেখা হয়নি। কিন্তু ‘মিনার পার্ক’টা তো থেকে গেছে। একবার সেখানে গেলে কেমন হয়। তাঁর বয়সী মানুষের সেখানে যাওয়াটা একটু কি বেমানান হবে! দ্বিধা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত চলেই এলেন।

বিশাখার সঙ্গে অনেকবার ওখানে দেখা করার সূত্রেই জায়গাটা চিনেছিলেন অনেক বেশি। বিশাখার মুখটা আবছা হয়ে গেছে। এ জায়গাটা হয়নি।

তা ছাড়া আর একটা কারণও আছে। বিশাখার সঙ্গে মগ্ন এক দুপুরে নিজের ডিসেকশন বক্স থেকে বের করে এনেছিলেন সবচেয়ে ধারালো স্ক্যালপল। বেছে নিয়েছিলেন মিনারের একটা বিশেষ অংশ। তারপর নিজের নাম আর বিশাখার নামের আদ্য অক্ষর বেশ বড় বড় করে দেয়াল কেটে লিখেছিলেন। নেহাতই কম বয়সের বেখেয়াল। হঠাৎ করেই এত বছর পর মনে হল সুপ্রতীমের সেই ‘এস প্লাস বি’ লেখাটা দেখতে। ইচ্ছেটা শিশুসুলভ। কিন্তু বেশ প্রকট হয়ে উঠল। হয়তো আছে। হয়তো নেই। জানেন না তিনি। তবুও খুঁজে দেখতে চান।

লোকাল ট্রেনে এখন মেট্রোর মতো স্টেশন ঘোষণা হয়। ট্রেন প্ল্যাটফর্মে থামতে নেমে এলেন সুপ্রতীম। অবাক লাগল, জীবনের সেই পর্বের পর তিনি আর পান্ডুয়াও আসেননি। রিকশা নিতে হবে। স্টেশনের বাইরে এলেন। রোদটা আজ বেশ মিঠে লাগছে।


(৩)

‘মিনার পার্ক’এর সামনে এসে বেশ বিরক্ত হলেন সুপ্রতীম। জায়গাটা থেকে কেমন যেন ব্যবসায়িক গন্ধ ছড়াচ্ছে। নির্মল স্মৃতি-র গন্ধ বোধ হয় পাওয়া যাবে না।

স্টেশন থেকে টোটো নিয়ে এসেছিলেন। এসে দেখলেন সার সার টোটো দাঁড়িয়ে আছে। যাত্রী নিয়ে ফেরত যাবে। ফুচকা, রোল, চিপস, মিনেরাল ওয়াটার, ফুলের বোকে আর আইসক্রিমের সারি সারি স্টল। সাইকেল আর বাইক রাখার গ্যারেজ। লোকে প্রেম করতে আসবে। আবার এ দিকে অনুসারী শিল্প গড়ে উঠেছে। বিশাখাকে নিয়ে যখন আসতেন, এ সব কিছুই ছিল না।

ঝিলের কাছটায় এলেন। ওনার সময়ে সংখ্যায় এত কাপলও চোখে পড়েনি। এত কাছাকাছি সব বসেছে, প্রাইভেসির ‘পি’-ও নজরে পড়ছে না। তবে ছেলেমেয়েদের মধ্যে খুব একটা মগ্নতাও চোখে পড়ছে না। যে যার মতো নিজের মোবাইল ঘাঁটছে। কথা বলছে কম, মোবাইলের স্ক্রিণে তাদের চোখ বেশি। 

মনে পড়ছে, সুপ্রতীমের। সে সময় তো মোবাইলে ব্যাপারই ছিল না। ঠিক মতো বাড়ি ফিরল কি না বিশাখা জানতে পারতেন না। দু’জনের কারোর বাড়িতে বেস ফোনই ছিল না। দু’একবার ওকে বর্ধমান স্টেশন পর্যন্ত ছাড়তে গেসলেন। যতক্ষণ থাকতেন, এখানে বসতেন, কেউ কারোর থেকে প্রায় চোখ সরাতেন না। কথা দু’জনের কম হলেও অদ্ভুত একটা উষ্ণতা ঘিরে থাকত।

বেশ কিছু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বেশ কয়েকটা সিমেন্টের বেঞ্চ করা হয়েছে।

- “কাউকে খুঁজছেন?”

চমকে দেখলেন সামনে একজন রক্ষী। এদিক ওদিক তাকিয়ে বললেন, - “একটু মিনারটা দেখতে এসেছিলাম।” - “ও, উঠতে পারবেন কি ওতটা?”

“দেখি-”

এগিয়ে এলেন সুপ্রতীম। অবাক হচ্ছেন সত্যি সত্যিই। এ সব রক্ষী, নজরদারি কিছুই ছিল না তখন।

স্মৃতি হাতড়াচ্ছেন সুপ্রতীম। কিন্তু পাচ্ছেন না। মিনারটার কাছে এসে প্রচন্ড অবাক হয়ে গেলেন। চারপাশে লোহার গ্রিল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। দূর থেকে বুঝতে পারেননি। ঝকঝকে তকতকে করা হয়েছে। সুন্দর করে রং করা হয়েছে 

আগাগোড়া। ঐতিহাসিক, পুরনো গন্ধ আর চেহারাটাই অদৃশ্য হয়ে গেছে। এখানেও আশে পাশে কয়েকটা ছেলে মেয়ে বসে আছে। কারোর কারোর কানে আবার হেডফোন গোঁজা। সুপ্রতীম বুঝতে পারলেন না, কেউ কারোর কথা শুনবে কী করে। নিজের চোখ অনবরত খুঁজছে একটা বিশেষ জায়গা। নিজের চোখ এখনও দারুণ সুপ্রতীমের। গেটটা খোলা যায়। খুলে ঢুকেও পড়লেন। পেছন থেকে হালকা আওয়াজ এল, - “কাকু, কাকিমাকে নিয়ে ঠিক কোথায় যেতে চাইছে বলত?”

কিছু বললেন না। সুপ্রতীম খুঁজছেন। না, বিশেষ সে জায়গাটাও রং দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তিরিশ বছরের সময়ের ঢেউ। জানতেন, দু’টো নামের আদ্যক্ষর পাওয়া সহজ নয়। তবুও কোথায় যেন একটা প্রচ্ছন্ন আশা ছিল।

বেরিয়ে চলে আসছিলেন। ক্লান্ত লাগছিল। মিনারটার পুরো পাকটা ঘুরতেই চোখে পড়ল। দু’টো ছেলেমেয়ে খুব কাছাকাছি ঘেঁষে বসে রয়েছে। ছেলেটা এদিক ওদিক সাবধানী চোখে তাকিয়ে নিল। তারপর যত্ন করে হাতের মার্কার পেনটা দিয়ে বড় বড় করে লিখতে লাগল দু’টো নামের প্রথম অক্ষর। অক্ষর দু’টো ঠিক কী বুঝতে পারছেন না সুপ্রতীম। বুঝতে চাইছেনও না। মনে হচ্ছে, এস প্লাস বি লিখল। একটা অদ্ভুত স্মৃতির দোলা। তাজা বাতাস বুকে নিয়ে ফেরার পথ ধরলেন। 

___________________


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন