সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সৌরভকুমার ভূঞ্যা



'মা, দুটি ভিক্ষে দাও।’

ভর দুপুরে একটা বেশ ক্ষীণ গলা ভেসে আসে। রান্নাঘরের বেসিনে সবে প্লেটগুলো পরিস্কার করতে শুরু করেছিল বীথি। এমন সময় ভিখারি আসায় মনে মনে বেশ অসন্তুষ্ট হয়। কাজ ছেড়ে যাওয়ার উপায় নেই। তাই ছেলেকে ডাকে, ‘প্রিয়, এদিকে একটু শুনে যা তো।’

প্রিয়াংশুর কানে মায়ের ডাক পৌঁছোয় না। বন্ধুদের নিয়ে ভিডিও গেম খেলায় মত্ত সে। জন্মদিনে বাবা আজ তাকে এটি উপহার দিয়েছে। আজ দশে পা দিল প্রিয়াংশু। সেই উপলক্ষ্যে আজ বাড়িতে একটা ছোট্ট অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে প্রয়াগ আর বীথি। খুব বেশিজনকে ডাকেনি। পরিচিত বন্ধুবান্ধব, দু-একজন আত্মীয় মিলিয়ে জনা পঁচিশেক মানুষ।

কেক কাটা হয়ে গেছে অনেকক্ষণ। ছোটোরা দুপুরের খাওয়ার খেয়ে নিয়েছে। বড়োরা ছাদে গল্প করছে। একটু পরে তারা খেতে বসবে। প্রয়াগ ছাদে তাদের সঙ্গে গল্প করছে। বীথি আর তার বোন তিথি মিলে তারই আয়োজন করছিল। 

‘মা, দুটি ভিক্ষে দেবে?’

আবারও সেই গলা ভেসে আসে। বীথি এবার একটু জোরে ডাক দেয়, ‘এই প্রিয়, একবার এদিকে শুনে যা তো।’

এবার মায়ের ডাক কানে পৌঁছোয় প্রিয়াংশুর। খেলা ছেড়ে ছুটে আসে মায়ের কাছে।

‘বাইরে ভিখিরি এসেছে। বাবার কাছ থেকে পাঁচটা টাকা নিয়ে এসে দিয়ে দাও।’

ভিডিও গেম ছেড়ে উঠে এসেছে প্রিয়াংশু। ছুটে যায় ছাদে।

টাকাটা দিতে গেলেও সহসা নেয় না বৃদ্ধটি। শুকনো মলিন মুখটা তুলে ক্ষীণ সুরে বলে, ‘দাদুভাই, মাকে বলো একটু মুড়ি হবে? সকাল থেকে কিছু খাইনি। খুব ক্ষিদে পেয়েছে।’

বৃদ্ধটির বেশ বয়স হয়েছে। শরীর ঝুঁকে পড়েছে। গায়ে-মুখের চামড়া কুঁচকে গেছে। হাতগুলো কাঁপছে। চোখ দুটো প্রায় কোটরে বসে গেছে। রোদের তাপটাও আজ বেশ বেশি। খুব কাহিল অবস্থা বৃদ্ধটির। কথা বলতে গিয়ে হাঁপাচ্ছিল সে।

বৃদ্ধটিকে দেখে মনটা কেমন করে ওঠে প্রিয়াংশুর। বলে, ‘দাদু, তুমি এখানে বস। আমি মাকে গিয়ে বলছি।’

এমনিতেই এ-সময় ভিখারি আসায় অসন্তুষ্ট ছিল বীথি। তার ওপর খাওয়ারের কথা শুনে মেজাজ গরম হয়ে যায়। সরাসরি না বলে দেয়। ওদিকে প্রিয়াংশুও নাছোড়। ভিখারিকে সে ভাত খাওয়াবে। বীথির মেজাজ গরম থেকে আরও গরম হতে থাকে। যতটা সম্ভব চাপা স্বরে বকাঝকা করতে থাকে ছেলেকে। ঠিক এমন সময় ছাদ থেকে নেমে আসে প্রয়াগ।

‘কী হল, মাথা গরম করছ কেন?’

‘মাথা গরম হবে না! ঘরে অতিথি বসে আছে। তাদের এখনও খাওয়া হয়নি। আর তোমার ছেলে এসে জেদ করছে ভিখারিকে খাওয়াবে।’

প্রয়াগ বুঝে যায় ব্যাপারটা কী হয়েছে। সে কিছু বলার আগে প্রিয়াংশু বলে, ‘বাবা, দাদুটার না খুব ক্ষিদে পেয়েছে। তুমি মাকে বলো না দাদুটাকে খাওয়ার দিতে।’

তার কথা শেষ হয়েছে কি হয়নি ঝাঁঝিয়ে ওঠে বীথি, ‘আবার বাবার কাছে জেদ করা হচ্ছে! বাবা বলবে কী? পয়সা দিয়ে দিয়েছি চলে যেতে বলো। এখন খাওয়ার হবে না।’

প্রয়াগ সহসা কিছু বলে না। জানালা দিয়ে বাইরে উঁকি মারে। বৃদ্ধটি গেটের গায়ে ঠেস দিয়ে হাঁটু মুড়ে বসে চোখ বন্ধ করে হাঁপাচ্ছিল। তাকে দেখে কষ্ট হয় প্রয়াগেরও। বলে, ‘দেখো, একেবারে বয়স্ক মানুষ। অভুক্ত। একটু খেতে চাইছে। সমস্যা কোথায়?’

‘বাঃ, তোমারও দেখছি এক সুর। ছেলে না হয় ছোটো। বোঝে না। কিন্তু তোমার মাথাটাও কি খারাপ হয়ে গেছে?’

‘মাথা খারাপের কী দেখলে?’

‘ঘরে এতজন গেস্ট বসে আছে। তাদেরই এখনও খাওয়া হয়নি। আর তুমি বাইরের একটা ভিখারিকে খাওয়ানোর জন্য ছেলের সুরে সুর মেলাচ্ছো!’

‘ওদের খেতে এখন বাকি আছে। আর একজন বুড়ো মানুষকে সামান্য কিছু খাওয়ার দিলে অভাব তো পড়ে যাবে না।’

‘অভাব পড়ার কথা হচ্ছে না। ঘরে কত বিশিষ্ট মানুষ বসে। আর তুমি ভিখারিকে খাওয়াবে! এরা দেখলে ভাববে কী! একটা মান-সম্মানের ব্যাপারও তো আছে।’

‘কাউকে খাওয়ালে মান-সম্মান নষ্ট হয় না। তুমি মিথ্যে বেশি চিন্তা করছ। একটা অভুক্ত মানুষ খেতে চাইছে। তাকে না খেতে ফিরিয়ে দিলে সেটাই বরং বেশি খারাপ হবে।’

‘তাহলে আর কী! যাও বাবা-ছেলে মিলে অতিথি সেবা কর যাও।’ বীথি গজগজ করতে থাকে। এটাও বুঝতে পারে প্রয়াগ যা করবে স্থির করেছে তা করেই ছাড়বে। কোনোদিন কি আর তার কথা শোনে!

প্রয়াগ তিথিকে বলে ঘরের ভেতরের দাওয়ায় একটা আসন পেতে দিতে। একথা শুনেই আবারও জ্বলে ওঠে বীথি। ‘ঘরের ভেতরে আসন পাতবে মানে! তুমি কি ঘরের ভেতরে বসে খাওয়াবে নাকি!’

‘হ্যাঁ, তাই।’

‘সত্যি তোমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। রাস্তার একটা ভিখিরিকে ঘরের মধ্যে বসে খাওয়াবে. আজ সকলের সামনে নাক কাটিয়ে ছাড়বে তুমি।’ একটু থেমে ক্ষোভ আর বিরক্তির সুরে বলে, ‘দেখো, তোমাকে একটা কথা স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছি। বাবা-ছেলে মিলে ভিখারীকে খাওয়াতে চাইছ যখন খাওয়ায়। আমার বাধা তো শুনবে না। শোনওনা কোনো কালে। কিন্তু ঘরের মধ্যে একদম নয়। বাইরের দাওয়ায় বসিয়ে খাওয়ায়। ওখানে বসে খেয়ে চলে যাক। ঘরের মধ্যে যেন না আসে।’

প্রয়াগ বিস্ময়ের সুরে বলে, ‘তোমার মাথা খারাপ হয়েছে! একটা লোককে ঘরের বাইরে বসে খাওয়াব!’

‘মাথা আমার খারাপ হয়নি, হয়েছে তোমার। তুমি ভুলে যাচ্ছ বাড়িতে গন্যমান্য লোকজন রয়েছে। কোথায় তাদের কথা ভাববে। তা না, একজন রাস্তার ভিখিরিকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছ। ওই লোক যেন ঘরের মধ্যে না আসে।’ 

‘বাইরে আমি মোটেও খাওয়াতে পারব না। সেটা ঠিক দেখায় না। তাছাড়া আমি তো ডাইনিং রুমে ঢোকাচ্ছি না।’

‘তার মানে তুমি আমার কথা রাখবে না?’

বীথি আর প্রয়াগের মধ্যে চাপা বাদানুবাদ শুরু হয়ে যায়। তিথি এতক্ষণ চুপচাপ সব দেখছিল। সে বুঝতে পারে এই পরিস্থিতি চললে ব্যাপারটা খুব খারাপ হবে। বাইরের লোকের সামনে তাদের নাক কাটা যাবে। জামাইবাবুর প্রস্তাবটা তারও মন-পূত হয় না। কিন্তু পরিস্থিতি সামলাতে সেটাকে মেনে নেওয়া সমীচীন মনে করে। চাপা সুরে দিদিকে বলে, ‘শোন দিদি, অযথা কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। তুই তো জানিস জামাইবাবু কেমন গোঁয়ার। এখন নিয়ে বিবাদ করলে ঝামেলা বাড়বে। তার থেকে এক কাজ কর, তুই আর জামাইবাবু গিয়ে ওদের সঙ্গে একটু গল্প কর। তার মধ্যে আমি ওই লোকটিকে খাইয়ে বিদেয় করে দিচ্ছি।’

তিথির কথায় সম্বিৎ ফেরে বীথির। মেজাজটা শান্ত করে। গলার বিরক্তি জিইরে রেখে বলে, ‘না না, আমার দ্বারা সম্ভব হবে না। আমি অত বেশি কথাবার্তা বলতে পারি না। এসব তুই ভালো পারিস। তুই গিয়ে ওদের সঙ্গে কথা বল। তারপর বেশ বিরক্তির সুরে বলে, ‘বাবা-ছেলের দয়া উথলে উঠেছে। কী আর করা যাবে! আমি অতিথি সেবা করছি।’

‘কিন্তু আমি তো সবাইকে ঠিকঠাক চিনি না। তিথি কিন্তু কিন্তু করে।’

বীথি একটু ভাবে। তারপর প্রয়াগের দিকে ঘুরে বলে, ‘তাহলে তুমিই যাও।’

প্রয়াগ কিছুটা কিন্তু কিন্তু করে। বীথিকে ভরসা করতে পারে না। খাওয়ার হয়তো দেবে ঠিকই, কিন্তু তাকে কঠোর কঠোর কথা শুনিয়ে দেবে এটা নিশ্চিত।

তাকে ইতঃস্তত করতে দেখে বীথি বিরক্তি সহকারে বলে, ‘ভয় নেই। তোমার মহান অতিথির কোনো অমর্যাদা হবে না। এখন আমাদের মর্যাদা যাতে রক্ষা হয় সেটা দেখো। উপরে গিয়ে অতিথিদের ব্যস্ত রেখে আমাকে কৃতার্থ কর।’

প্রয়াগের মন চাইছিল না। কিন্তু বুঝতে পারে বীথির কথা না শুনলে আরও সমস্যা হবে। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও তিথিকে নিয়ে উপরে উঠে যায়।


মনের মধ্যে বিরক্তি থাকলেও বৃদ্ধি ভিখিরির সঙ্গে কোনো খারাপ ব্যবহার করে না বীথি। বেশ তৃপ্তি করে খায় লোকটি। তবে সব খেতে পারে না। একসঙ্গে এত ভালো খাওয়ার কোনোদিন খাওয়া দূরে থাক বোধহয় চোখেও দেখেনি। খেতে খেতে তার চোখ ছলছল করে ওঠে। তার চোখের জল দেখে বীথির বুকটাও যেন কেমন করে ওঠে।

মুখ হাত ধুয়ে বেরিয়ে যেতে গিয়েও যায় না বৃদ্ধটি। তার চোখে-মুখে যেন কিছু একটা আকুতি ফুটে ওঠে। কিছু একটা বলতে চাইছে অথচ বলতে পারছে না। 

তাকে ইতস্তত করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বীথি বলে, ‘কী হল, দাঁড়িয়ে আছেন কেন? খাওয়া হয়ে গেছে, এবার যান।’

‘হ্যাঁ মা, যাচ্ছি।’ বলেই ঘুরে পড়ে পড়ে বৃদ্ধটি। কিন্তু এক পা গিয়ে আবারও পিছু ফিরে দাঁড়ায়। কেমন যেন উসখুস করতে থাকে।

‘কী হল? আর কিছু চাই?’

‘না না।’

‘তাহলে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?’

আমতা আমতা করে বৃদ্ধটি বলে, ‘মা, দাদুভাইকে একবার ডাকবে?’

‘দাদুভাইকে! কেন? ওর সঙ্গে কী দরকার?’

বৃদ্ধটি বেশ সঙ্কোচের সুরে বলে, ‘দাদুভাইয়ের জন্মদিনে খেলাম। যাওয়ার সময় একবার দেখা করতে ইচ্ছে করছে।’

বীথি সহসা কিছু বলতে পারে না। মনের মধ্যে একরাশ দ্বিধা। বৃদ্ধটি এবার কাতর সুরে বলে, ‘মা একটিবার। দাদুভাইকে একবার আশীর্বাদ করে যাব।’

‘ভিখারির আবার আশীর্বাদ!’ মনের মধ্যে কথাটা জন্ম হতে গিয়েও থেমে যায়। আজ তার ছেলের জন্মদিন। মানুষটা যেমনই হোক ছেলেকে আশীর্বাদ করতে চাইছে। তাকে অবজ্ঞা করলে যদি ছেলের কোনো অকল্যাণ হয়। হাজার হোক সে মা। মনটা কেমন করে ওঠে। তাই ইচ্ছে না করলেও প্রিয়াংশুকে ডেকে আনে।

অনেক দ্বিধা সংঙ্কোচ এড়িয়ে বৃদ্ধি তার কাঁপা কাঁপা হাত রাখে প্রিয়াংশুর মাথায়। বিড়বিড় করে বলে, ‘দীর্ঘজীবি হও দাদুভাই। অনেক বড়ো হও।’

প্রিয়াংশু কী বলবে ভেবে পায় না। সহসা বৃদ্ধটি তার ছেঁড়া ফতুয়ার পকেট থেকে কয়েকটা নোট বের করে প্রিয়াংশুর দিকে বাড়িয়ে বলে, ‘এটা রাখো দাদুভাই। ভিখারিদাদুর উপহার।’

প্রিয়াংশু হতভম্ভ। বুঝে পায় না টাকাটা নেবে কী নেনে না। তিনটি দশ টাকার নোট। বীথিও বেশ হতভম্ভ। এমনটার জন্য সে মোটেও প্রস্তুত ছিল না। মুহূর্তের বিহ্বলতা কাটিয়ে ব্যস্তভাবে বলে, ‘এ-আপনি কী করছেন! টাকার দরকার নেই। ওটা আপনি রেখে দিন।’

‘দাদুভাইয়ের জন্মদিন। খালি হাতে কী করে আশীর্বাদ করি। এই সামান্য কটা টাকা নিলে আমার ভালো লাগবে।’

‘আপনি ওকে আশীর্বাদ করেছেন সেটাই অনেক বড়ো ব্যাপার। আশীর্বাদের থেকে টাকাপয়সা কখনওই বড়ো নয়।’ মন থেকেই কথাগুলো বলে বীথি। নিজের অজান্তেই গলার স্বর অনেকটাই নরম হয়ে যায়।

‘জানি মা। কিন্তু দাদুভাইয়ের জন্মদিন। সবাই কত সুন্দর সুন্দর উপহার এনেছে। খালি হাতে যেতে আমার খুব খারাপ লাগছে। আমার এ-টাকা খুব সামান্য। এ-দিয়ে কিছু হবে না। তবুও এটা যদি ও নেয়, আমার বুকটা আনন্দে ভরে যাবে।’

বীথি বিভ্রান্ত। কী বলবে ভেবে পায় না। তার ভাবনাগুলো তালেগাল পাকিয়ে যায়। বুকের মধ্যে যেন একটা ভাঙন অনুভব করে।

বৃদ্ধ আবেগমথিত সুরে বলে চলে, ‘মা, আমি ভিখারি। ভিক্ষা করে খাই। কিন্তু আজ তুমি যে যত্ন করে আমায় খাওয়ালে মনে হচ্ছে যেন আমি ভিখিরি নই। যেন এই শুভদিনের একজন অতিথি। তাই এই সামান্য উপহারটুকু নিলে খুব ভালো লাগবে আমার।’

বীথির কথা হারিয়ে যাচ্ছিল। বুকের মধ্যে একটা উথাল পাতাল অনুভব করে সে। কোনোরকমে নিজেকে সামলে বলে, ‘দেখুন, আমি আপনার কথা বুঝতে পারছি। কিন্তু এ-আপনার অনেক কষ্টের উপার্জন। এটা দিয়ে দিলে আপনার চলবে কী করে?’

বিষণ্ণ হেসে বৃদ্ধটি বলে, ‘মা, আমি বুড়ো মানুষ। কতটুকু আর খাই। আর আজ তোমার এখান থেকে যে ভালোবাসা নিয়ে যাচ্ছি তাতে সাতদিন না খেলেও আমার চলে যাবে।’

বীথি চুপ। বৃদ্ধ বলে চলে, ‘আমি জানি এই টাকা দিয়ে কিছু হবে না। তবুও যদি নাও...।’ কথা শেষ করতে পারে না। চোখদুটো ছলছল করে ওঠে। নীরব অশ্রু গড়িয়ে পড়ে দু-চোখের কোন বেয়ে।

বীথি বুকের মাঝে একটা মোচড় অনুভব করে। চোখের ইঙ্গিতে ছেলেকে বলে টাকাটা নিতে।

হাত বাড়িয়ে টাকাটা নেয় প্রিয়াংশু। বৃদ্ধের দুচোখ আনন্দে চিকচিক করে ওঠে। অশুভেজা কাঁপা কাঁপা সুরে বলে, ‘দাদুভাই, ভিখিরিদাদুর ক্ষুদ্র উপহার।’

নিজেকে সামলে রাখতে পারে না বীথি। তার চোখদুটো ছলছল করে ওঠে। আবেগমথিত সুরে বলে, ‘আপনার এই উপহার ক্ষুদ্র নয়। আজকে এটাই ওর সবচেয়ে সেরা উপহার। আপনার এই মহার্ঘ্য উপহার আমরা মাথা পেতে নিলাম।’

বৃদ্ধ আর কিছু বলতে পারে না। তার চোখ দিয়েও জলের ধারা গড়িয়ে পড়ে। বাম হাতে চোখ মুছতে মুছতে ধীরে পায়ে বেরিয়ে যায় সে। তার যাওয়ার পথের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে বীথি। অদ্ভুত এক ভালোলাগার আবেশ তাকে জড়িয়ে রাখে।


1 টি মন্তব্য:

  1. চোখ ভিজে এলো।অসাধারণ বললেও কম হবে।ভীষণ ভাল লাগলো লেখাটি।

    উত্তরমুছুন