মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মধুমিতা সেনগুপ্ত।। পারক গল্পপত্র



সদ্য আনা  চকোলেটে কামড় দিয়ে রায়ান মায়ের মুখটা একবার ভালো করে  দেখে নিয়ে  বলে 

―“জানো মা বিনায়কের মা না ওকে খুব বকাবকি করেন  । সবাইকে  বলেন ― জিনিস নষ্ট করা আমার পুত্রের জন্মগত  দক্ষতা ... এভাবে অপমান করা উচিত না বলো মা । "


          বিকেলবেলা ওকে চা দিয়ে রূপা একটু বের হয়েছিল । ওষুধের দোকানে গিয়ে সারা মাসে যা যা ওষুধ লাগবে  সবার সব প্রেসক্রিপশন মিলিয়ে কিনে এনেছে । বাবা মায়ের এক সন্তান সে । তাই ওনাদের ওষুধপত্র একবারে কিনে দিয়ে আসে । ফেরার পর মাস্কটা খুলে   রায়ানের অতিরিক্ত  হাসি মুখটা দেখে তার সন্দেহ হল । কেমন যেন গড়বড় ঘটনা মনে হচ্ছে । চোখ সরু করে ছেলের দিকে তাকিয়ে দেখে নিয়ে সোজা বাথরুমে ঢোকে । বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগেই বালতিতে সাবান জল গুলে রেখে গিয়েছিল । স্নান করে বাড়ির জামাকাপড় ও  গুছিয়ে রেখে গিয়েছিল । কবে যে এই হতভাগা ভাইরাস দেশ ছেড়ে যাবে আর সবাই আগের ছন্দবদ্ধ জীবনে ফিরতে পারবে কেউ জানে না । এই ছয় মাস ধরে আতঙ্কে দিন কাটাতে কাটাতে অবসাদ গ্রাস করেছে সবাইকে । 


    স্নান সেরে সব কিছু স্যানিটাইজ করে চা এ লবঙ্গ এলাচ দারুচিনি আদা তেজপাতা মিশিয়ে দুটি কাপে ঢেলে আনে রূপা । চানাচুর আর পিঁয়াজ লংকা দিয়ে মুড়ি মেখে ছেলেকে দেয় নিজেও নেয় । 

         

     একটু লজ্জা লজ্জা মুখ করে রায়ান বলতে শুরু করলো 

―“ও মা তুমি কি ভালো ।"

       মাথা গরম হয়ে গেলো রূপার । সে বলে  ―“মাসের শেষ । হাত খরচ আর দিতে পারব না রায়ান । "


     রায়ান বললো ―“  লাগবে না আবার লাগবেও  .. আসলে  তুমি খুব ভালো মা । "

    আতঙ্কিত হয়ে রূপা বলে ―“ দাবিটা কি ? কি আকাম করেছিস ! " 

 ―“চা শুদ্ধ কাপটা হাত থেকে পড়ে গেছে .. ” অপরাধীর মতো মুখ করে হাসে রায়ান । 

―“যাক বাবা আমি নিশ্চিন্ত হলাম । একটা কাপ গেছে । এতে তো এতো বছরে আমি অভ্যস্ত সোনা । তুই তো শিল্পী চা ফেলুনি  রে । "  বলে রূপা । 


―“ কি ভয় করছিলো মা তুমি এসে হয়ত ভীষণ রাগ করবে । আসলে কাপটা ভাঙেনি । ওটা ..মানে চাটা পড়েছে কিন্তু কাপটা গড়িয়ে গেছে আর কি ।” ঢোঁক গিলে রায়ান বলে । 

―“ ঠিক করে বল কি করেছিস ?” চোখ বড়বড় করে মেরুদন্ড টানটান করে ভীষণ কিছু একটা দুঃসংবাদ শোনার জন্য প্রস্তুত হয় রূপা । 

―“ মা খুব ভয় করছে তুমি বোধহয় মেরে ফেলবে । কাল পেপারে হেডলাইন হবে মায়ের মারে ছেলের মৃত্যু । ” রায়ান বলে  ।

―“ রায়ান আমার মাথার শিরা ছিঁড়ে যাওয়ার আগে বল কি হয়েছে । " চিৎকার দেয় রূপা । 

―“মা প্লিস একটু বোঝার চেষ্টা করো ।অ্যক্সিডেন্ট তো হতেই পারে বলো ।   বাবা তো ফোনে বললো এটা হতেই পারে । তাড়াতাড়ি ভালো করে মুছে চালের ড্রামে ঢুকিয়ে দে । জল টেনে নেবে চাল , মোবাইল থেকে । " রায়ান দেখে নেয় কোন দরজা দিয়ে ছুট লাগানো সোজা হবে । 


―“ মোবাইলে চা ফেলেছিস তার উপর তোর বাবা তোকে ..আজ তোর শেষ দিন । মেরেই ফেলবো  । ” রান্নাঘরে চালের ড্রাম দেখতে যায় রূপা । 


   পাশের ঘর থেকে চুপচাপ  বেরিয়ে আসে রায়ানের বাবা শৈবাল । সে আজ অফিস থেকে আগেই এসেছে । কিন্তু রূপাকে জানান দেয় নি । ওর স্টাডিতে আলো নিভিয়ে বসে ছিল ।  বাপ ছেলে একে অপরকে চুপ করে থাকতে ইশারা করে । 

      চালের ড্রাম খুলে প্রথমে চাল ছাড়া কিছুই দেখতে  পায়না রূপা । মোবাইলটা নির্ঘাৎ চালের ভিতরে ঢুকিয়ে রেখেছে ছেলেটা  এবং ওটা নষ্ট হয়ে গেছে । 

  

      চালের ভিতরে হাত ঢোকাতেই শক্ত কিছুতে ঢাক্কা খায় তার হাত । চাল সরিয়ে পলি প্যাকে মোড়া একটা  কালো চকচকে  বাক্স তুলে আনে । আরে এটাতো নতুন ফোনের বক্স । দৌড়ে ঘরে এসে দেখে বাপ ছেলের মুখে চওড়া হাসি ।


―“তুমি কখন এসেছ ! আমাকে বলনি কেন ? ” বিস্মিত রূপা প্রশ্ন করে । 


―“ আগে দেখো না ওটা ,  সব প্রশ্নের উত্তর দেব । " হেসে বলে শৈবাল ।

 

   বক্স খুলে দারুন একটা মোবাইল হাতে নেয় রূপা । 

―“ তোমার জন্মদিনের আমাদের পক্ষ থেকে সারপ্রাইজ  গিফ্ট । এর বেশ কিছু টাকা ছেলে দিয়েছে ।   কি বুঝলে ? " বলে শৈবাল । 


―“ বুঝলাম ছেলেকে নাটকের ক্লাসে ভর্তি করতে হবে । অভিনয়ের কি প্রতিভা ! তুমি নিশ্চয়ই স্ক্রিপ্ট লিখেছো । চাকরি ছেড়ে বলিউডে যোগাযোগ করো । বাবা !  আমার কি ভাগ্য ! চারপাশে সব রত্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে আমি শুধু চিনতে পারিনি । " হাসতে থাকে রূপা । 


    অনেক রাত । ঘুম আসছে না রূপার । ছেলে যেন আজকাল কি লুকাচ্ছে তার কাছ থেকে । ফোনের কত টাকা রায়ান দিয়েছে সেটাও শৈবাল বলেনি । কিছু টাকা মানে কি ? শৈবাল খুব নাটুকে মানুষ ওর ইচ্ছা ছিল অভিনয় করার কিন্তু বাবা মায়ের চাপে ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গেছে । অভিনয় করে বাস্তব জীবনে । সারপ্রাইজ দেওয়াটা ওর নেশা ।

    ছেলেটাও বাবার স্বভাব পেয়েছে । কোনো কথার সরাসরি স্পষ্ট জবাব দেয় না । মানসিক চাপ বাড়ছে রূপার । বাড়ির সব কাজ করতে করতে দেহে মনে ক্লান্তি জেগেছে । যে যা করতে বলছে সব নিয়ম পালন করছে । সারাদিন পাঁচন খাচ্ছে খাওয়াচ্ছে । ভাইরাস এতে আটকাবে কিনা তার জানানেই কিন্তু ইমিউনিটি বাড়ানোর চেষ্টা তো করেই যেতে হবে । অন্তত আশেপাশের কমিউনিটি স্যোশাল মিডিয়া তাই বলছে । দিনে পাঁচটা নতুন তথ্য জানতে পারছে । টিভি দেখতেও আতংক হয় সমস্ত পৃথিবীতে মৃত্যু মিছিল ।বাবা মায়ের জন্য সারাদিন চিন্তা হয় তার ।  


     সব কাজে কেমন ভুল হচ্ছে আজকাল । ফ্রিজের সামনে এসে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অনেকক্ষণ কিছুতেই মনে পড়েনা সে কি নিতে এসেছিল । আবার ফিরে যায় রান্নাঘরে তারপর মনে পড়ে সব বৃত্তান্ত ।  টাকা পয়সা হারিয়ে যায় মাঝে মাঝে । কিন্তু  সব গুনে রাখতে হবে এবার থেকে । রায়ান টাকা পাচ্ছে কোথা থেকে আর সেটা কি খাতে খরচ হচ্ছে সেটা জানা দরকার । তার ইচ্ছা হচ্ছে শৈবালকে ডেকে তুলে জিজ্ঞাসা করে ছেলে কত টাকা দিয়েছিল তার হাতে । রাতে আজকাল ভালো ঘুম হয়না তার । পাড়ায় দুজন কোভিড আক্রান্ত । ঘুমালেই সে স্বপ্ন দেখে সে কোভিড পজিটিভ হয়ে মরে গেছে । ঘেমে ঘুম ভেঙে যায় । বাবা মা জীবিত তাঁদের কোনো রকম কষ্ট সে দিতে পারবে না ।

 

     দুদিন বাদে একটি অচেনা ছেলে এলো রায়ানের সাথে দেখা করতে । শৈবাল সপ্তাহে তিনদিন অফিস যায় । সেদিন ও সে অফিস গেছে । ছেলেটির সাথে কথা বলতে গিয়ে রায়ান মাস্ক আর গ্লাভস পরে রাস্তায় গিয়ে দাঁড়াল । অল্প কথাবার্তার পর রায়ান পকেট থেকে একটা খাম নিয়ে ছেলেটির হাতে দেয় । ছেলেটি সেটা পকেটে পুরে হাঁটতে হাঁটতে চলে যায় । 


       রাগে উত্তেজনায় কাঁপতে থাকে রূপা । রায়ান ঘরে ঢুকতেই সে গম্ভীর গলায় ডাকে ―“ কত টাকা দিলি ? " 


     চমকে উঠে রায়ান । হালকা গোঁফ উঠেছে ক্লাস নাইনের ছাত্রের । চোখ বড়বড় করে সে একটু সময় নিয়ে বলে 

― “বেশি না সামান্যই ।” 

      

―“ কত টাকা সোজাসুজি বলো ..” রাগের সময় ছেলেকে তুমি করে সম্বোধন করা রূপার অভ্যাস । 


―“ হাজার দুয়েক " মিনমিন করে জানায় রায়ান । 


―“ এত টাকা কোথায় পেয়েছ ? কাকে দিলে টাকাটা ! আমার পারমিশন নাও নি কেন ? টাকার বদলে ছেলেটা কি দিয়ে গেল দেখি ? " এগিয়ে গিয়ে ছেলের পাজামার পকেটে হাত ঢোকাতে যায় রূপা ।  রাগে তার মাথা আগুন হয়ে গেছে । 


―“ মা ! কি করছ কি ! সরে যাও । কিছুই বলবো না । তুমি তো জানো আমি খারাপ ছেলে .. " কান্না চেপে নিজের ঘরে ঢুকে দরজাটা সজোরে বন্ধ করে দেয় রায়ান । 


   রক্তচাপ বেড়ে যায় রূপার । ফোন তুলে শৈবালকে সব জানিয়ে রাগে ফেটে পড়ে । 

      সে থামলে  শৈবাল শান্ত গলায় বলে ―“ খুব চাপে আছি বাড়ি ফিরে বলবো । " 


     সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে স্নান করে চা খেয়ে রূপাকে নিয়ে ছাদে যায় শৈবাল । পাশাপাশি দাঁড়িয়ে গলা ঝেড়ে বলতে শুরু করে 

―“ প্রতিটি ছুটির দিন ছেলে আমার গা ম্যাসাজ করে দেয় । সেই বাবদ ওকে আমি দুশো টাকা করে দি । হাতে নয় ব্যাংকেই জমা থাকে শুধু শর্ত একটাই ওর দরকার অনুযায়ী ওকে আমি টাকাটা দেব কোনো বারণ ছাড়াই । তুমি তোমার নিজের ছেলেকে একটু চেনার চেষ্টা করো রূপা । ও ওর জমানো টাকা থেকে ওর সামর্থ বুঝে  দুহাজার টাকা ফোন কেনার সময় নিতে বলেছে । আর দুহাজার আমি ওকে দিয়েছি । যে ছেলেটি এসেছিল সে পাশের পাড়ার একটি  ক্লাবের ছেলে যারা আমফান বিধস্ত এলাকায় যাচ্ছে ত্রাণের কাজে । ত্রাণের জন্য নিজের রোজগারের টাকা দিয়েছে ছেলে । ও আমাদের ছেলে । কত সুন্দর কোমল মন ওর । তোমার এই সন্দেহ বাতিক ছেড়ে ওকে বুকে টেনে নাও আদর দাও । ভালো ভালো রান্না করে খাওয়ালেই কি ভালো মা হওয়া যায় ? আর ও তোমার দাদার মতোই হবে এটা ভাবছ কেন ? " 


      দুচোখ বেয়ে জল নামে রূপার । ওর মাথাটা নিজের বুকে টেনে নিয়ে শৈবাল বলে ― “ যাও ছেলের সাথে মিটমাট করে নাও । আর ..সরি আমি তোমার দাদার প্রসঙ্গ আনতে চাইনি । কিন্তু এটা না বললেই নয় । তোমার জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার রেশ টেনে চলেছে তোমার অবচেতন মন তাই আমাদের উপর লাঠি ঘুরিয়ে যাচ্ছ তুমি । বাস্তবে বাঁচতে চেষ্টা করো প্লিস । ” 


―“ আমি সত্যি ভুলতে পারিনি দাদা ওই ভাবে ড্রাগের নেশায় পড়ে বাড়ির সব টাকা পয়সা সোনা দানা নিয়ে পালিয়ে যাবে । এত বাজে চক্রে মিশে শেষে ওভাবে কোথায় হারিয়ে যাবে ..আমার ভিতরটা যন্ত্রণায় ফেটে যায় । দাদাকে যে বড় ভালোবাসতাম । বাবা মায়ের কষ্ট দেখে কত রাত ঘুমাইনি । তুমি ঠিকই বলেছ আমি অনেক দিন আগে ঘটে যাওয়া পারিবারিক দুর্ঘটনার স্মৃতির কবল থেকে বের হতে পারিনি । আমি তোমার উপরেও অন্যায় করেছি কত আমাকে তোমরা ক্ষমা করে দিও । "জোরে কেঁদে ফেলে রূপা । 

―“কেঁদো না । দেখো তুমি বকাবকি করছ এটা তোমাকে মানায় তুমি কাঁদছ এটা আমার সহ্য হয়না । কার শাস্তি তুমি আমাদের দিয়ে চলেছ ভেবে দেখেছ কখনো ? সবচেয়ে খারাপ লাগে কি জানো রূ তুমি যখন ভালো মুডে থাকো তখন তুমি একদম স্বাভাবিক মানুষ । পৃথিবীর সেরা স্ত্রী আর দুনিয়ার সবচেয়ে ভালো মা । কিন্তু যদি তোমার মাথার পোকা একবারও নড়ে সেদিন আমার সমস্ত অনুভূতিকে তোমার নাটক বলে মনে হয় । " পরম মমতায় রূপার চোখের জল মুছিয়ে দেয় শৈবাল । 


―“ আমি সত্যি কেমন হয়ে যাচ্ছি গো কাউকে বিশ্বাস করতে পারছি না কেন ? আমাকে একটু সামলে নিও  " আবার কেঁদে ফেলে রূপা ।


―“ আমি সামলাতে গিয়েছি রূ তুমি তাতে আরো হিংস্র হয়ে উঠেছ ।  নিজের রাগকে সম্বরণ করো" শান্ত গলায় বলে শৈবাল । 


―“ মা বাবা রোজ ভয় দেখান । আমি আরো আতঙ্কে ডুবে যাই । দাদা কত ব্রিলিয়ান্ট ছেলে ছিল কত ভালো রেজাল্ট করেছিল সেই ছেলে একদম বখে গেল । " আবার কান্নায় ডুবে যায় বিপর্যস্ত রূপা । 


―“ হয়েছে । শরীরের সব ফ্লুইড চোখের জল হয়ে বেরিয়ে গেল যে । এবারে  চোখ মুছে তাড়াতাড়ি নিচে চলো ক্ষিদে পেয়েছে জোর । এক্ষুনি খেতে দাও নাহলে মারা পড়বো । " শৈবাল জানে এই তীর অব্যর্থ ।


―“ তখনই বললাম কিছু খাও সব রেডি আছে তুমি আমার একটা কথা শোনো না । আগে এসে খাবে কতদিন বলেছি ..।"  শৈবাল তাড়াতাড়ি তার মুখ চেপে ধরে । একগাল হেসে বলে ―“ ব্যাস আবার শুরু করে দিলে ! চোরনি না শোনে কভু ধম্মের কাহিনী । " 


―“ চোরনি ! চোরের স্ত্রী লিঙ্গ বুঝি ? আর ধম্ম নয় মহাশয় ওটা ধর্মের কাহিনী । " সিঁড়িতে নামতে নামতে বলে রূপা । 


―“ আচ্ছা মহাশয়া দেখি আপনার পুত্র তো গোঁসা ঘরে রয়েছেন তাকে ঘুষ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বার করি । "  বলতে বলতে ছেলের ঘরের দিকে চলে যায় শৈবাল ।


    বাবার হাত ধরে অভিমানী ছেলে মুখ নিচু করে ডাইনিং টেবিলের সামনে এসে দাঁড়ায় । রূপা আর পারে না । ছেলেকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে ওঠে । সে আবেগের বশে অনেক কথা বলতে যাচ্ছিল রায়ান বলে ― “ মা কতদিন তোমার হাতে খাইনি । আজ খাইয়ে দেবে ? ” 


     পাশাপাশি বসে মা আদর করে ছেলেকে খাইয়ে দেয় । এক অনাবিল খুশিতে ডুবে যায় মা আর তার ছানা । ছেলের জন্য মায়ের বুক গর্বে ভরে ওঠে । আদরে আদরে ভরিয়ে দেয় ছেলেকে ।  নতুন কেনা ফোনে আনন্দে আটখানা বাবা ফোটো তুলতে থাকে ..ক্লিক ক্লিক । 


   একটু বাদেই তিনজনেরই ফেবুতে প্রোফাইল পিক পাল্টে যায় । অনেকদিন বাদে তিনজনের সত্যি খুশি মাখা চেহারা দেখতে পায় সবাই । আসল খুশির ছবিতে সত্যির আলো জ্বলে যা সবার অন্তর ছুঁয়ে যায় । সেটা নকল করা অসম্ভব ..।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন