রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সত্যম ভট্টাচার্য।। পারক গল্পপত্র



  নবারুণদার সাথে সেদিন সকাল সকাল দেখা।আমি পেপার কিনছিলাম,দেখি পাশের ফুলের দোকান থেকে ফুল কিনছে।সেই এক চেহারা,কোন পরিবর্তন হয়নি।বয়স যেন মানুষটাকে কোনভাবে স্পর্শই করতে পারেনি।আমাদের থেকে ও কমপক্ষে বছর দশেকের বড় তো হবেই অথচ একইরকম আছে।বেশভূষাও সেই,সেই জিনস, সাথে পাঞ্জাবী,গালে খোঁচা খোঁচা দাড়ি,কাঁধের ঝোলাব্যাগটা যদিও সেদিন ছিলো না।দেখতেই তাড়াহুড়ো করে দোকানদারকে পয়সা মিটিয়ে দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলাম-কিগো,তুমি এত সকালে এখানে কি করছো?সামনের ভারত সেবাশ্রম আশ্রমটাকে দেখিয়ে নবারুণদা সামান্য হেসে বললো-আমার এক মাসী মারা গেছেন রে,ওখানে কাজ,তাই দেখা করতে যাচ্ছি।তুই কেমন আছিস?বললাম।আমিও জিজ্ঞেস করলাম-তোমার বাড়িতে সবাই কেমন আছে?নবারুণদা বললো-ভালো,তবে সবারই তো বয়স হয়েছে,একটু আধটু ছোটোখাটো সমস্যা,সে তো থাকবেই,বুঝতেই পারছিস।

  বললো বটে ভালো,কিন্তু নবারুণদার গলায় সেই উচ্ছাসটা পেলাম না।আজ থেকে বছর বিশেক আগে নবারুণদা ছিলো আমাদের কাছে একটা আদর্শ।সবসময় হৈচৈ,আড্ডা,আবৃত্তি,গান,বক্তৃতায় মাতিয়ে রাখতো গোটা পাড়া।আমরা যারা একটু আধটু পড়াশোনায় ছিলাম তারা সবাই মনে করতাম আমাদের সকলকে নবারুণদার মতো হতে হবে।একের পর এক গণসঙ্গীত গাইতে পারতো ও।কি গলা ছিলো।একদম খোলা,গান গাইলেই মনে হতো জানলা দিয়ে হু হু করে বাতাস ঢুকছে,মেঘলা দিনে মেঘ কাটিয়ে সূর্য উঠছে।রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতো পীযুষকান্তির স্টাইলে,মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে নেড়ে গাইতো,মনে হতো যেন সামনে দাঁড়ানো শ্রোতার সাথে কথা বলছে।স্টেজের কোন জড়তা ছিলো না ওর,ডাকলেই গান বা আবৃত্তি বা বক্তৃতা দিয়ে দিতে পারতো।কোন প্রস্তুতিই লাগতো না ।সাম্যবাদ-পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ-বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সময়ের গণআন্দোলন সম্পর্কে অনর্গল বলে যেতে পারতো ও।ওর মুখে সাতষট্টির নকশাল আন্দোলনের কথা শুনে রক্ত গরম হয়ে যেতো আমাদের।ভাবতাম কবে এরকম করে বলতে পারবো।সবসময় নকল করার চেষ্টা করতাম ওকে।

  নবারুণদা ছিলো ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের ভক্ত আর ফুটবলে জার্মানী আর ইস্টবেঙ্গল।আশি নব্বই দশকের খেলাধুলার সব পরিসংখ্যান ছিলো ওর ঠোঁটস্থ।কোথায় কোন টেস্টে জোয়েল গারনার কাকে কিভাবে আউট করেছিলেন,ম্যালকম মার্শালের কোন বলটা গাভাসকার কিভাবে খেলেছিলেন,ওদিকে ম্যাথিউস,এদিকে কৃশান-বিকাশ-সব যখন বলতো মনে হতো কমেন্ট্রি শুনছি যেন।পাড়ার মাঠেও কয়েকবার কমেন্ট্রি করেছিলো মনে আছে।বাড়ির গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে যখন নাম ধরে ডাকতো,কি অসম্ভব উত্তেজনায় লাফিয়ে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসতাম। নবারুণদা বলতো-মাঠে চল,কি করিস এখোনো ঘরের ভেতর?চল,চল।মা রেগে যেত খুব।বলতো-ঐ যে সুড়সুড়ি দিলো আর উনি চললেন।নবারুণদা কিন্তু জানতো বা বুঝতে পারতো এসব,কিন্তু যখনই বাড়িতে আসতো,মাকে কিছুই বুঝতে দিতো না।হৈ হৈ করে কথা বলতে বলতে রান্নাঘরে ঢুকে গিয়ে মা-র সাথে গল্প জুড়ে দিয়ে বলতো-কি কাকিমা,কি রান্না করেছো আজকে?দাও তো দেখি।খেয়ে বলতো-আহ,কি দারুণ হয়েছে,ফ্যানটাস্টিক।মা-ও দেখতাম তখন ওর সাথে পুরো গল্প করছে।তারপরের কদিন মা-র রাগটা একটু কম থাকতো নবারুণদার ওপর।

  দেখতাম কি সহজে মিশছে ও মেয়েদের সাথে আর মেয়েরাও কি সহজ ওর সাথে।এই কারুর শাড়ির পাড় ঠিক করে দিচ্ছে স্টেজে ওঠার আগে আবার নির্দিদ্ধায় হয়তো কাউকে বলছে-তোকে না এই শাড়িটায় দারুণ লাগছে আজ।যখন তখন স্টেজে উঠে তবলা বাজাচ্ছে আবার হয়তো শ্রুতিনাটক করছে সবার সাথে বসে।আর কি দারুণ শ্রুতিনাটক লিখতো ও।একরাতে দারুণ দারুণ স্ক্রিপ্ট খাড়া করে দিতো।কি দুর্দান্তই না ছিলো ওর সঞ্চালনা।অনর্গল অসাধারণ ভাষায় কথা বলতে পারতো ও।অল্পতেই মেয়েরা মুগ্ধ হয়ে যেত আর হিংসায় জ্বলে যেত আমাদের ভেতরটা।কিন্তু তবু আমরা সবাই নবারুণদাকে খুব ভালোবাসতাম।খুব বলতে সত্যিই খুব ভালোবাসতাম।

  আর ওদের বাড়িটাও ছিলো সেরকম।থরে থরে বই চারিদিকে,অগোছালো হারমোনিয়াম,ডুগি,তবলা।নবারুণদার দুই বোন ছিলো,দেখতে ভালো ছিলো না একদমই,কিন্তু দারুণ গান গাইতো।এক পিসী ছিলেন,তিনিও গান গাইতেন,পাড়ার ফাংশানে নাটকের মেকআপ করে দিতেন সবার।নবারুণদার বাবা ছিলেন আমাদের মফস্বলের সংস্কৃতিতে প্রবাদপ্রতিম ব্যাক্তিত্ব।তখন জানতাম না,পড়ে পড়েছি,সমরেশবাবু অনেক জায়গাতে- আত্মকথায় উনার উল্লেখ করেছেন।কিন্তু এ নিয়ে উনার কোনো দেমাক ছিলো না।যে কোন বাড়িতে উনি ঢুকে পড়ে বাচ্চা-কিশোর-যুবকদের জিজ্ঞেস করতেন-আবৃত্তি কর? কিছু লেখ-ছড়া-কবিতা-গল্প-এইসব?না করলে বলতেন-কর না কেন,লেখ না কেন?এই নাও,আমার সাথে সাথে আবৃত্তি কর ,-তারপর উদাত্ত কন্ঠে হয়তো সুকান্ত ভট্টাচার্যের কোন কবিতা আবৃত্তি শুরু করতেন।অনেকেই হাসতো,উনি কিন্তু পাত্তা দিতেন না।সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায়,নিজের উদ্যোগে আমাদের মফস্বলের কয়েকজন টগবগে তরুণকে নিয়ে সে সময়েই গড়ে তুলেছিলেন একটা নাটকের দল।নিয়মিত তাদের তালিম দিতেন।

  ২৫শে বৈশাখের অনুষ্ঠানের রিহার্সাল চলতো ওদের বাড়িতে।কি কি অনুষ্ঠান হবে-নাটক,নাচ,গান,আবৃত্তি-সব ঠিক করে দিয়ে সকলকে তালিম দেওয়া সবেতেই নবারুণদাদের বাড়ি সবার আগে ছিলো।সকলকে শেখানো শুধু নয়,ড্রেস পড়ানো বা সাজানোর কাজটাও করে দিত নবারুণদার বোনেরা বা পিসী।এমন কতবার হয়েছে স্টেজ হয়নি,শেষমেষ ওদের বাড়ির বিছানা নামিয়ে দিয়ে চকি নিয়ে এসেও অনুষ্ঠান হয়েছে।হাসিমুখে ওদের বাড়ীর সবাই সব করে দিতেন।জেঠিমা গেলেই জল আর বাতাসা খেতে দিতেন।কিন্তু একটা ব্যাপার তখন বুঝিনি,পরে বড় হয়ে বুঝেছি,ওদের দারিদ্র্য ছিলো।অথচ তার কোন প্রকাশ ছিলো না।আমাদের সকলের বাবা যেমন কিছু না কিছু কাজ করতেন,নবারুণদার বাবা কিন্তু কোন কাজ করতেন না।বিছানা নামানোর সময় দেখতাম সেগুলো শতছিন্ন হয়ে গেছে।নবারুণদার বাবা দেশভাগের কথা বলতেন কথায় কথায়,তখন বুঝতে পারতাম না।অনেক বড় হয়ে বুঝেছি।প্রথমবার মেঘে ঢাকা তারা দেখে আমরা অনেকেই বলেছিলাম-ঠিক যেন নবারুণদাদের বাড়ি।

  আমাদের পাড়ায় বা চেনাশোনার মধ্যে যখন প্রথম নবারুণদা ইউনিভার্সিটি পড়তে গেলো,ছুটিতে বাড়ি এলে আমরা অবাক হয়ে ওর মুখে সেখানকার গল্প শুনতাম।ও গল্প করতো ইউনিভার্সিটির শালবন,হোস্টেল,হোস্টেলের জানালা থেকে দূরের পাহাড়ে রাতে ঝিকমিক তারার মতো আলো জ্বলে ওঠে।শুনে ভাবতাম কবে যাব সেখানে পড়তে।ওকে চিঠি দিতাম,চিঠিতে বলতাম অমুক অনুষ্ঠানের স্ক্রিপ্ট পাঠাও।ও পাঠাতো।সেগুলো দিয়ে নিতান্ত আনাড়ীর মতো কাজ চালাতাম আমরা।তারপর যখন ও দারুণ রেজাল্ট করে ফিরলো,নবারুণদার বাবা অনেকের বাড়িতে গিয়ে বলেছিলেন-আমার ছেলের কাছে পড়াও,শিখবে।পরে বুঝেছি ওটা উনি খুব দরকারেই করতেন,ওদের ঐটুকুর প্রয়োজোন ছিলো।

  আমরা চার কি পাঁচজন মনে হয় ক্লাস ইলেভেনে ওর প্রথম ছাত্র হলাম।কি অসাধারণ পড়াতো ও বাংলা।যেন নতুন একটা দিগন্ত খুলে দিলো আমাদের সামনে।প্রথম দিন এসে বললো-শোন,কবিতা কোন বোঝানোর জিনিস নয়,বড়জোর ধরিয়ে দেওয়া যেতে পারে,বাকিটা কবিতা ফিল করার,ফিল কর আর লেখ।আমাদের তো ছিলো নোট মুখস্থ ব্যাপার।ও বললো-কিস্যু মুখস্থ করার কোন দরকার নেই,শুধু টেক্সটটা বোঝ,আর ভাব আর লেখ।ভাবা প্র্যাকটিস কর।পরে বুঝেছি যে ওটা ঋত্বিক ঘটক থেকে বলেছিলো।আরণ্যক ছিলো সিলেবাসে আমাদের,অল্পটুকু।যে দিন পড়ালো,সারারাত শুধু ওটাই ভাবলাম।মনে হচ্ছিলো যেন চোখের সামনে দোবরুপান্না-ভানুমতী-এদেরকে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি।পরেরদিন সকালে ওটা নিয়েই বসে থাকলাম।বিকেলে ছুটলাম পাড়ার লাইব্রেরীতে।আরণ্যক নিলাম,সেদিন গোটা রাত,তারপর দিন ধরে আরণ্যক পড়লাম।আস্তে আস্তে লেখা প্র্যাকটিস করতে লাগলাম,নবারুণদাকে দেখাতাম,ও বলতো অল্প অল্প হচ্ছে।এত ভালো লেগে গেলো বাংলা যে ক্লাস ইলেভেনেই ইলেভেন আর টুয়েলভ পড়া হয়ে গেলো।যেদিন মাসের প্রথমদিকে নবারুণদাকে টাকা দিতাম,ওর মুখের হাসিটা যেন আরো চওড়া হয়ে যেতো।পড়া বাদ দিয়ে নাটকের রিহার্সাল করে ,আবৃত্তি করে,কবিতা লিখে ওকে দেখাতাম।ও দেখিয়ে দিতো কবিতায় কোথায় কোথায় মাত্রা কেটেছে।মনে আছে টুয়েলভ এ শেষের ক মাস আর পড়িনি আমি।তাতে কিন্তু নবারুণদার সাথে কোন সমস্যা হয়নি।

  তারপর তো আমারও কলেজ হল,ইউনিভার্সিটি হল।সেখানেই মনে হয় শুনলাম,নবারুণদা স্কুলে চাকরী পেয়েছে,অনেক স্টুডেন্ট পড়াচ্ছে।শুনে মনটা খারাপ হল,ওর জন্য আরো বড় কিছুর দরকার ছিলো।তারপর আমিও বাইরে চলে গেলাম।পাড়ার সাথে,নবারুণদার সাথে যোগাযোগ কমতে লাগলো।এরমধ্যেই দুম করে একদিন বাবা মারা গেলো আমার,আমি সব ছেড়ে ছোট্ট একটা আবাসিক স্কুলে কাজ নিয়ে চলে গেলাম।তারপর এই কাজ ঐ কাজ করতে করতে অবশেষে একটা স্কুলে স্থায়ী কাজ জুটলো।আর তারপর যা হয় ওই আর কি।সংসার-বৌ-মা-বাচ্চা নিয়ে আমার সেই মফস্বল পাড়া ছেড়ে অনেকদিন হল আমি জেলা শহরের বাসিন্দা।মাঝে মাঝে পুরোনো পাড়ার লোকেদের সাথে দেখা হলে কথায় কথায় শুনেছি নবারুণদার বাবা মারা গেছেন,বোনেদের বিয়ে হয়ে গেছে,নিজেও বিয়ে করেছে,এইসব।তবে দু তিন বছর আগে নবারুণদা সম্পর্কে একটা কথা শুনে একদম বিশ্বাস করিনি।ও নাকি চিটফান্ডে সর্বস্বান্ত হয়েছে।সবসময় ওর বাড়িতে পাওনাদারদের আনাগোনা,একটা গাড়ি কিনেছিলো সেটা বিক্রী করে দিতে হয়েছে।

  তুই কখন এসেছিস এখানে?-নবারুণদা বললো আমাকে।আমার সাথে সাইকেল বা মোটরসাইকেল কিছুই ছিলো না বলে ভাবলাম ও মনে হয় ভেবেছে আমি আমার পুরোনো জায়গাতেই থাকি।কিন্তু তাও বা কিভাবে সম্ভব।বাড়ি ছাড়ার কথা নিশ্চয়ই কারুর মুখে শুনে থাকবে।বললাম-বারো বছরের বেশী হয়ে গেলো আমি এই শহরের বাসিন্দা।নবারুণদা বললো-ওহ,তাই তো,দেখ আমি ভুলেই গেছিলাম।আমরা দুজনে হাঁটছিলাম,সেই ফুল পেপারের দোকানের দিক থেকে আশ্রমের গেটের দিকে।আমার খুব ভালো লাগছিলো।অনেকদিন পর এত পছন্দের মানুষকে পাশে পাওয়ায় খুশি যেন উপচে পড়ছিলো আমার।কিন্তু নবারুণদাকে দেখলাম একটু যেন অন্যরকম।সেই গলার জোর বা উন্মাদনা কোনটাই নেই।কেমন মৃয়মাণ নিস্তেজ ভাবে কথা বলছিলো আমার সাথে।একটু ঝুঁকে হাঁটছে,একটু অন্যমনষ্কও।কথা বলছে বটে আমার সাথে কিন্তু ভাবছে অন্যকিছু।ঐভাবে হাঁটতে হাঁটতেই আমরা দুজনে নিজেদের কথা বলছিলাম।নবা্রুণদার মা আর পিসী নাকি খুবই অসুস্থ।হাঁটাচলা প্রায় বন্ধ।শুনে খুবই খারাপ লাগছিলো।কি উদ্যমী মানুষ ছিলেন ওরা।

  নবারুণদাকে বললাম-এখন আর গান-নাটক-আবৃত্তি-শ্রুতিনাটক কর না?উত্তরে নবারুণদা যা বললো শুনে চমকে উঠলাম।বললো-ধুর,সব বেকার।ও বলছে এই সব বেকার!ওর মতো পরিবারের ছেলে বলছে এইসব বেকার!-নিজের কানকে নিজে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।এইসব কথাবাত্তা বলতে বলতেই আমরা আশ্রমের গেটে পৌঁছে গেছি।দেখতে পাচ্ছি মন্দিরের বিশাল বারান্দায় শ্রাদ্ধের কাজ চলছে।নবারুণদা কারুর হাত দিয়ে ফুল আর মিস্টিটা ভেতরে পাঠিয়ে দিয়ে পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে আমাকে বললো-তোর ফোন নম্বরটা আমাকে দে তো।দেখি একটা সেলোটেপ জড়ানো ছোট্ট মোবাইল।ওতো খুব শৌখিন লোক ছিলো।যাই হোক,আমারই ফোন নম্বর নেওয়া উচিত ছিলো।এত আনন্দের চোটে ভুলেই গেছিলাম।বললাম-ওহ,আমিও তো নেবো তোমার নম্বর!তারপর আমার নম্বরটা বলে বললাম- আমকে একটা রিং কর।ও রিং করে বললো-সেভ করে নে আর শোন তোর আমাকে একটা হেল্প করতে হবে।আমি আমার বাড়িটা বিক্রী করবো,তুই আমাকে একটা কাস্টমার দেখে দিতে পারবি?আমি ফ্যালফ্যাল করে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে বললাম-কোন বাড়ি?নবারুণদা বললো-আরে আমার বসতবাড়িটা বিক্রী করবো রে।আট ডি জায়গা আছে,দেখিস তো লোক,কেউ যদি কেনে।তবে যা করার সামনের মাসের আট তারিখের মধ্যে।

  আমি আর ওকে প্রশ্ন করতে পারলাম না-কেন?আমার চোখের সামনে তখন ওদের বাড়ি-ঘর-উঠোন-বারান্দা-বাড়ির সামনে ছোট্ট ফুলের বাগান-সব একের পর এক স্লাইড চলে যাচ্ছে।কানে শুনতে পাচ্ছি কে যেন বলছে-নবারুণদা চিটফান্ডে সর্বসান্ত।সবসময় ওর বাড়িতে পাওনাদারদের আনাগোনা।নবারুণদা-আসিরে,দেখিস কিন্তু,আমি তোকে ফোন করবো-বলে ধীর পায়ে আশ্রমের ভেতর চলে যেতে লাগলো।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন