বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

দেবযানী কর সিনহা।। পারক গল্পপত্র




লোকটা সামনে এগিয়ে এল। বলল, দিদি পাঁচ টাকা দেবেন? চা খাব, অনেকদিন চা খাই না।

ওকে দেখে থমকে দাঁড়ালাম। মানুষটা কিছুটা চেনা আবার কিছুটা অচেনাও। সারাদিন রাস্তায় ঘোরে, একসময়ে এখানকার বাসিন্দা ছিল। এই উন্মত্ত অবস্থায় প্রথমবার দেখে চিনতে পারছিলাম না।কয়েক বছর আগে হঠাৎ করেই নিরুদ্দিষ্ট হল।তারপর কিছু বছর তাকে দেখা যায়নি। ফিরল যখন একেবারে অন্য রূপে।ভিখিরি বেশ আর মস্তিস্ক বিকৃত। আগের পরিচিতিকে ছাপিয়ে গেছে সে। সারাদিন পথে পথে ঘোরে আর অবান্তর কথা বলে। কাকে কী বলে কেন বলে তা বোঝা মুশকিল।পারতপক্ষে কেউ কাছে যায়না।কেউ তাকে মানুষও ভাবেনা। তবে কিছু সহৃদয় লোকজন এখনো আছেন যাঁরা তাকে দেখলে করুণা করেন।


এখন  আচমকা সামনে এল, 

কে? ও আপনি! অবাক হয়েছি একটু ঘাবড়েও গেছি। এত সামনে চলে এসেছে যে ওর কথা না শুনে উপায় নেই।

হামেশাই রাস্তায় ঘুরতে দেখি কিন্তু কথা তো হয়না। কথা বলার দরকার কী।মেইন রাস্তা ধরে প্রতিদিন দু একটি পাগল, ভিখিরি, ফেরিওয়ালা, সাধারণ মানুষ যে কেউ চলে যায় নিজেদের গন্তব্যে। কে কাকে চেনে।ভাবলাম চেয়েছে তো মাত্র পাঁচ টাকা।যদিও পাঁচ টাকা আমার কাছে নেই।  দিলাম দশ টাকা,হাতেই টাকাটা দিলাম। ও কথা না বাড়িয়ে অন্য দিকে চলে গেল।ও অন্যদিকে চলে যেতে সবাই হাঁফ ছেড়ে বাচঁল।


অথচ এই লোকটা একদিন সুস্থ ছিল। আমাদের বাড়িতে এলে ওদের পরিবারের গল্প করত। ওর স্ত্রী সন্তান সব থাকা সত্ত্বেও আজকে পাগল হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।এটা সত্যি মর্মান্তিক।চেহারাটা অনেক বদলে গেছে। এখন কিছুই আর মনে নেই ওর, একটু আগেই আমি যখন ওর সঙ্গে কথা বলছিলাম আশেপাশের অনেক লোক আমার দিকে খুব সন্দেহজনক দৃষ্টি নিয়ে দেখছিল। কেউ বিরক্ত হয়ে পেরিয়ে যাচ্ছিল এর একটা কারণ অবশ্যই আছে, ও যে উন্মাদ!এদেরকে লোকে সহজে বিশ্বাস করবে না। যদি খিঁমচে দেয়  কামড়ে দেয়। প্রাথমিকভাবে এই ভয়টাই আসে। একবার শুনেছিলাম একটা উন্মাদ পাড়ার এক যুবতী মেয়েকে লোকজনের সামনেই জড়িয়ে ধরেছিল। মেয়েটা তখন ভয়ে লজ্জায় ঘৃণায় আধমরা হয়ে গেছিল। অনেকে মিলে বাঁচাল সেদিন ওই মেয়েটাকে। এই ঘটনাটির জন্য,ভয় কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে অনেক সময় লেগেছিল মেয়েটার।

কখন কী বলবে কী করবে তার ঠিক নেই বলে

সাধারণ মানুষরা এদের দেখলেই তাড়াতাড়ি পালিয়ে যায়। তবে সব পাগল কিন্তু মারপিট করেনা বা ক্ষতি করেনা। তবুও সাধারণ মানুষ ওদের ভয় পায়।আগেও দূর থেকে দেখে মনে হয়েছে এই মানুষটা ততটা ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেনি।এর মাঝেই এই জায়গায় চারিদিকে বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন চলতে থাকে। যে যার নিজেদের উদরপূর্ণ করতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে যায়।এরা একটা সমাজে আবর্জনা হয়ে বেঁচে থাকে।


নোংরা পোশাক, ধুলোভর্তি মাথায় ধূসর চুল জট পাকিয়ে গেছে। কত বছর স্নান করেনা। সামনে এলে বিশ্রী গন্ধে গা গুলিয়ে উঠবে এমন লোককে সুস্থ স্বাভাবিক মানুষরা এড়িয়ে যাবে এটা স্বাভাবিক। ওর সঙ্গে বাক্যালাপ করবে কে? মাঝে মাঝে এদের জন্য খুব খারাপ লাগলেও কিছু করতে পারবনা ভেবে চুপ করে থাকি। 



ওকে দেখার পর বারবার মনে হতে লাগল সেই লোকটার কিকরে এরকম অবস্থা হল। তারপর যা হয় আস্তে আস্তে ভুলে গেলাম। এই এলাকার লোক যাবে কোথায়,যখনই কোনো কাজে বাইরে বেরাই দেখতে পাই। কিছুদিন পরে আবার দেখা হল।

 এদিন দোকান থেকে কিছু জিনিস কিনে বেরিয়ে আসছি হঠাৎ দেখি পেছনে দাঁড়িয়ে। লোকটা দাঁত বের করে হাসছে। পেটে ক্ষুধার পাহাড় কিন্তু দেখে বোঝার উপায় নেই।লম্বা সুঠাম চেহারা। তবে আজকে কিছুটা পরিচ্ছন্ন লাগল ওকে। চুল দাঁড়ি কেটে একেবারে ভদ্রলোক হয়ে ঘুরছে। কিন্তু সারাক্ষণ নিজের মনে বকবক করে যাচ্ছে ।সবসময় কথা বলতে থাকে কিন্তু কী বলে কেউ বুঝতে পারেনা। ওর কথা জড়িয়ে যায়। অনেক চেষ্টা করেও কথাগুলো বোঝা যায়না। একটু আগেই দোকানপাট খুলে দোকানদাররা সব সাজিয়ে গুছিয়ে খদ্দেরের অপেক্ষায় আছে,  ওকে দেখেই দোকানি ধমকের সুরে বলল, কী হল যা যা, আবার কী চাই, রোজ রোজ কী চাইতে আসিস বলতো। এখন দিতে পারবনা! বিরক্ত হয়ে দুচারটে খুব খারাপ গালি দেয়। যা যা পরে আসবি বলে কুকুরের মতো ওকে প্রায় তাড়িয়ে দিল দোকানদার। ততক্ষণে আমার কেনা হয়ে গেছে। ও করল কী তাড়া খেয়ে দোকানের সামনে মেইন রাস্তায় দাঁড়িয়ে রইল। কত গাড়ি যাচ্ছে ওর হুঁশ নেই।ওর নাম বাদল।নামটা আমিও ভুলে গেছিলাম কেউ ওই নাম ধরে বলছিল, সরে যা গাড়ি চাপা পড়বি। কে বলছিল ভীড়ের মধ্যে দেখা গেলনা।


আমিও পাশ কাটিয়ে চলে আসছিলাম আবার কী মনে করে দোকানে গিয়ে ঢুকলাম। একটা পাউরুটি একটা বিস্কিটের প্যাকেট কিনে এসে ওর হাতে দিই। দোকানদারের কাছে তাড়া খেয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। এক মুহূর্ত দেরি না করে ওখানে দাঁড়িয়েই পাউরুটির প্যাকেটটা ছিঁড়ে গোগ্রাসে খেতে শুরু করল। ওকে দেখিয়ে দোকানি বলল এই দিলেন, ব্যস এরপর  দেখবেন রোজ আপনার কাছে চাইবে।সেদিন কোনো উত্তর না দিয়েই চলে আসি, এমনিতে বেশি কথা বলতে ভালোলাগেনা।একেকটা মানুষের চিন্তা ভাবনা আর অভিজ্ঞতা আলাদা হয়। ভাবলাম লাখ লাখ টাকা চাইছে না! একটু খেতে চায়। এটুকু দিতে দোষ কোথায়। এমনিতে ও ততটা ভায়োলেন্ট না।কারোর ক্ষতি করছেনা। মনে মনে ভাবলাম সব দোকানদার আপনার মতো ভাবেননা তাঁরা বেঁচে থাকা খাবার ওকে দেন নাহলে সে বেঁচে আছে কিকরে?সব জায়গায় এমন কোনো সংস্থা নেই যারা এদের নিয়মিত দেখভাল করবে।দুচারদিন বাদে আবার হঠাৎ দেখতে তাকে দেখতে পেলাম।সেদিন একটু তাড়াও ছিল। আনমনে হেঁটে যাচ্ছি, কে যেন পেছন থেকে ডাকছে। স্বর শুনেই বুঝতে পেরেছি কে? আমাদের এখানে কোয়াটারের দুপাশে কোথাও কোথাও ঘন জঙ্গল, প্রচুর গাছপালা আছে। একেকসময় মনে হয় প্রকৃতিকে দুহাত উজাড় করে দিয়েছে। মানুষের বৈচিত্র্য, বিভিন্ন প্রকারের পাখি পোকা মাকড় সাপ কুকুর বিড়াল সব আছে।মালভূমির বিচ্ছিন্ন অংশে উঁচু নিচু পথে পলাশের রংয়ে সেজে ওঠে এই ক্ষুদ্র টাউনশিপ। এখানে দেখবার মতো বসন্তকাল। অন্যান্য ঋতুও সুন্দর। তাই সুযোগ পেলে আমিও ঘুরি,ওর মতই ঘুরে বেড়াই এখানে ওখানে। ওই উন্মাদ মানুষটার মতো ঘুরি কিন্তু একা একা এত কথা বলিনা। এই যা পার্থক্য! 


দেখলাম একটা গাছের আড়ালে চুপ করে বসে আছে। ঝুঁকে থাকার ভঙ্গিটা দেখে মনে হচ্ছে ঝোপে ঝাড়ের ভেতর খুঁজছে কোনো মূল্যবান জিনিস। 


ওকে দেখে আমি দাঁড়িয়ে পড়েছি। কৌতূহল দিনে দিনে বেড়ে যাচ্ছে। আসলে আমি জানতে চাই এমন হল কেন আর ওর ভেতর কিছু গুণ আছে যেটা ইম্প্রেসেড করবেই। ওর এই দুরাবস্থার জন্য কে দায়ী বুঝতে চেষ্টা করি।


আমাকে দেখেই বেরিয়ে এল। হাসিমুখে জিজ্ঞেস করল দিদি ভালো আছেন? এই কথাটা বেশ কয়েকদিন ধরে জিজ্ঞেস করে, শুনে চমকে উঠি।দেখেই জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এল যখন

বললাম কী খুঁজছেন? পেলেন? কিছু খুঁজে না পাওয়ার জন্য মনে মনে 

খুব বিরক্ত হয়েছে বোঝা যাচ্ছে। ও অস্থির,অস্বস্তি নিয়ে জবাব দেয় 

,-না না সব খেয়ে চলে গেছে রাক্ষুসী শালী। আমার পাঁচ বছরের মেয়েকে খুঁজছিলাম ঝোপের মধ্যে।


শুনে শিউরে উঠি, বলে কী? এইজন্য মাথা খারাপ লোকদের থেকে দূরে থাকে সুস্থ মানুষরা। আহারে,মেয়েকে নিশ্চয়ই দেখতে ইচ্ছে করে। ওর ফ্যামিলি এখন কোথায় আছে কেউ জানেনা। ওরা বাদলকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। চিকিৎসাও করায়নি।পাগল হয়ে গিয়ে সবকিছু ভুলে গেছে কিন্তু ওর ফ্যামিলি একবার তো আসতে পারে। মানসিক রুগীদের জন্য যে হাসপাতাল সেখানে ভর্তি করাতে পারে।ও বলল,


-দেখলাম,যা ছিল সব গায়েব। কত খুঁজব আর।উপরের দিকে তাকিয়ে দেখাল কিছু, বুঝলাম প্লেন পাখি ইত্যাদি দেখাল। না না হয়তো অন্য কিছু বোঝাতে চাইল। ওর কল্পনার কূল কিনারা করতে পারবনা জানি তবু আমি নাছোড়, জানতে হবে। আগের কথায় ফিরে গেলাম, বললাম, কী হয়েছে? রাক্ষুসী কে? কোথায় থাকে আপনার রাক্ষুসী?ও বলল

রাক্ষুসী না ভুল বললাম বেইমান।রাক্ষুসীর দয়া মায়া থাকে। তারপর ভ্রু কুঁচকে এমন একটা ভাব প্রকাশ করল যেন এটা কিছুইনা। মামুলি সমস্যা। ও নিজের মতো ভালোই আছে। ওরা

অনেকদূরে চলে গেছে। ওর দুহাতে গাছের ডাল আর কিছু পাতা শেকড়বাকর দেখে জানতে চাইলাম ওগুলো কী?

বলতে পারলনা, তোতলাচ্ছিল খুব, ওগুলো নিম গাছের ডাল । বিরবির করল নিম বিম ডিম।


'ভাতের ফ্যান, রুটির ফ্যান, ঘরের ফ্যান'


এ সুস্থ হলে কবিতা লিখে ঝড় বইয়ে দিত! এদিনও অন্যবারের মতই আবার খুব ব্যস্ততা কে  বলবে সায়েন্স গ্রাজুয়েট, পড়াশোনা করার অভ্যাস ভালোই ছিল। ভোটের আগে চৌরাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে প্রতিদিন কোনো না কোনো দলের হয়ে ভাষণ দেয়। কেউ শোনেনা। গ্রাহ্য করেনা।

তখন বিড় বিড় করে যা বলল কিছুই বুঝিনি।


সেদিন শুধু বুঝলাম এই ভয়ঙ্কর পরিণতির পেছনে বিরাট কাহিনী লুকিয়ে আছে। একটা মানুষ এমনি এমনি সোজা পথ থেকে ছিটকে পড়েনা।আমি ওর সঙ্গ নিলাম, দেখি কোথায় যায়। হাসিটা অমায়িক।আশ্চর্য ব্যাপার যখনই দেখা হয় বলে, ভালো আছেন? আমি খুব খুশি হই ওর এই কথাটায়। এটা শুনতেই ওকে দেখলে এড়িয়ে যাইনা।


কোথায় থাকেন আপনি? দুজনেই পাশাপাশি হেঁটে যাচ্ছি।বলল,দূরে অনেক দূরে। কোনো কষ্ট নেই। আমার মতো পাগল ছাগলের আর ভালো জায়গা কোথায় হবে। সাবলীলভাবে কথাগুলো বলে দিল। সবসময় একটা ব্যস্ততা একটা অস্থিরতা দেখি কখনো এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকেনা। কথাগুলো জড়ানো, তবু বুঝতে পারলাম তিনি যেখানে থাকেন ওই জায়গাটা আমার চেনা। সামনে এক মন্দির আছে রাতে ওখানেই থাকে। ঝড় জল বৃষ্টি গায়ে লাগেনা। খেতে পায় কিনা জিজ্ঞেস করতেই আবার বড় বড় পা ফেলে চলে গেল।



অনেক রকমের পাগল আছে । সবার কী আর আচরণে ধরা পড়ে, কত মানুষ তাদের অস্বস্তিগুলোকে লুকিয়ে রেখে দেয় কষ্ট পায়।কেউ সুস্থ হয়ে যায় উপযোগী পরিবেশ পেলে।কেউ আস্তে আস্তে তলিয়ে যায়।ওকে নিয়ে আমার বিস্ময়ের শেষ নেই।





আবার একদিন দেখা হয়ে গেল। চা আর সিঙ্গারা খাবে বলে টাকা চেয়ে চলে যাচ্ছিল আমার চেনা এক ভদ্রলোক যাচ্ছিলেন পাশ দিয়ে। আমাকে ওখানে দেখে যারপরনাই বিস্মিত হয়েছেন। ওকে দেখে ভদ্রলোক বললেন আজকাল পুজো টুজো করছ নাকি ভাই, বুঝলাম ব্যঙ্গ করছেন। বাদল আমাকে দেখিয়ে ওঁকে বলল এই দিদিদের বাড়ি কত পুজো করেছি কিন্তু আপনাকে তো চিনতে পারলামনা। এটা শুনেই ভদ্রলোক অস্বস্তিতে পড়ে গেলেন। বাদলের কথা বলার ভঙ্গি দেখে মনে হলনা ও পাগল।ভদ্রলোক ভুল কিছু বলেননি বাদল আগে পুজোটুজো করত, সেই সূত্রেই আমাকেও চেনে।আমিও সামান্য চিনি।




এরপর বহুদিন তাকে দেখা গেলনা। সারাদিন রাস্তায় আঁকতো। চক বা রং না, ভাঙা ইঁটের টুকরো দিয়ে নানারকম ছবি আঁকতো দেখতাম। সবাই জানত ব্যাপারটা। কেউ ওকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা কোনদিন ভাবেনি। অনেকবার বাড়িতে আসতে বলেছি আসেনি। ভেবেছিলাম পুরনো জামাকাপড় মশারি জুতো এগুলো দিয়ে দেব কিন্তু আসেনি।ঠিকানা বলেছি ভুলে গেছে।টাকা দিলেও ফেলে দেয়।


সেদিন প্রচন্ড বৃষ্টি পড়ছিল আমি বাড়ি ফিরছিলাম। রাস্তায় কোনো রিকশা ছিলনা অগত্যা একাই ফিরতে হচ্ছিল। শুকনো দিনে এতটা ভয় ভয় করেনা। বৃষ্টি হলে চারিদিকটা আরো নিঝুম হয়ে যায়। আমি হেঁটে আসছি দেখি অন্ধকারে কে আমার সামনে দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বেশ লম্বা লোকটাকে দেখে একটু ভয় লাগছিল। তারপর পরিচিত কণ্ঠস্বরটা পেলাম। বুঝলাম বাদল আসছে। কেন জানিনা ভয়টা বেড়ে গেল আরো। ভাগ্যিস অন্ধকারে আমাকে দেখতে পায়নি। যতটা সম্ভব নিঃশব্দে হেঁটে আসবার চেষ্টা করছি। চারিদিকের কোয়াটারগুলোর দরজা জানলা বন্ধ করে রেখেছে। এমনিতেই সন্ধে হলেই সবাই বাইরে বেরোয় না। শব্দ না ওঠে সেভাবেই খুব আস্তে আস্তে আসছি। ঝিঁঝি পোকাদের ডাক, গা ছমছম করা পরিবেশ। বাড়ির কাছাকাছি চলে এসেছি তখন স্ট্রীট আলো জ্বলে উঠল। এতক্ষণ অন্ধকারেই ছিলাম। বাদল পুরো রাস্তা সামনে সামনে এল।কোয়াটারের কাছে আসতেই ও পেছনে তাকাল বেশ জোরে জোরে বলল

 -যান দিদি তাড়াতাড়ি ঘরে ঢুকে যান, বৃষ্টিটা বেড়েছে। ওকে বললাম আসুন বাড়িতে, আপনি তো আগেও এসেছেন।ও কোনো উত্তর দিলনা।বড় বড় পা ফেলে প্রচন্ড বৃষ্টিতে আবার কোথায় চলে গেল বুঝতেই পারলাম না। ও তো আসলে পদাতিক।পথেই জীবন কাটায়।রক্ষা করে।




৯টি মন্তব্য:

  1. দুর্দান্ত গল্প। একটা পাগলকে পদাতিক বানানোর
    মুন্সিয়ানা ভালো লাগল। সবথেকে বড় কথা টানটান
    লেখা। কোথাও কোথাও আমার চারপাশটা দেখার উৎসাহ জুগিয়েছে। এটাই গল্পের সার্থকতা।শুভেচ্ছা।

    উত্তরমুছুন
  2. অন্য ধরনের ভালোলাগা ও দায়বদ্ধতার গল্প...

    উত্তরমুছুন
  3. দারুন লিখেছেন, আরও গল্প চাই৷

    উত্তরমুছুন
  4. দারুন লিখেছেন, আরও গল্প চাই৷

    উত্তরমুছুন