মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সায়ন্তনী বসু চৌধুরী।। পারক গল্পপত্র

 

           

“তুই এবার বিয়ের কথা ভাব রে। প্রতিটা মেয়েরই তো একটা সামাজিক নিরাপত্তা দরকার। তোর জন্য বড্ড চিন্তা হয়।”

আবীরার মেসেজটা পড়ে চুপ করে গেলো মহুল। অভ্র কীবোর্ডে এতক্ষণ বেশ স্বতঃস্ফূর্তভাবেই বাংলা টাইপ করছিল সে। এখন যেন আর হাত সরছে না। আবীরার কথার উত্তরে কী লিখবে সে নিজেই জানে না। গত রাতে অফিস থেকে ফেরার পথে অটোতে যা ঘটেছে সেটা আবীরাকে বলার পরেই দুই বান্ধবীর সাধারণ আলোচনাটা বর্তমান সমাজের অবক্ষয়, ভায়োলেন্স, সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট, মেয়েদের নিরাপত্তা এসব বিপজ্জনক মোড় ঘুরে ফিরে অনিবার্যভাবেই বিয়েতে এসে আটকে গেছে। যেন বিয়ে ছাড়া মেয়েদের সুরক্ষিত থাকার আর কোনো পথ নেই। মহুল চুপ করে আছে দেখে আবীরা আবারও লিখল,  

“এই যে মেয়ে, চুপ করে থাকলে চলবে না কিন্তু। আমি যেন তাড়াতাড়ি নেমতন্ন পাই। সেই সুযোগে কলকাতাটাও আমার একবার ঘোরা হয়ে যাবে।”

কাটা কাটা বিচ্ছিন্ন কটা শব্দ লেখার চেষ্টা করেও আঙুলের ছোঁয়ায় মুছে ফেলল মহুল। উত্তরে একটা বড়ো স্মাইলি পাঠিয়ে দিয়ে অফলাইন হয়ে গেল। মাঝে মাঝে পলায়নই যে বাঁচবার পথ। 

আবীরা জামশেদপুরের মেয়ে। এখন থাকে যুক্তরাজ্যে। একটি নামকরা কোম্পানিতে জব করে। ওরা স্বামী-স্ত্রী একই অফিসে আছে বলে কাজ নিয়ে দুজনের মধ্যে কোন সমস্যা নেই। ওদের আড়াই বছরের বাচ্চাটা সারাদিন ন্যানির কাছে থাকে। একমাত্র রাতেই সে বাবা মায়ের সঙ্গ পায়। উইক এন্ডে ঈশানকে নিয়ে ছবিছাবা পোস্ট করে আবীরা। যতটা প্রশস্ত পথ একটা মানুষকে মাথা উঁচু করে হাঁটতে সাহায্য করে আবীরা ঠিক ততটাই পেয়েছে। ওর জীবনে আসলে প্রয়োজন শব্দটার তেমন কোনো জায়গা নেই। অর্থ, সম্মান, যশ সবই হাতের মুঠোয়। মহুলের মনে হয়, এইধরনের জীবন আসলে অর্জিত আশীর্বাদের মতো। প্রিয়তমা বান্ধবীর সঙ্গে নিজের অতীতের নেগেটিভ কথাগুলো শেয়ার করতে গিয়েও বারবার থমকে যায় মহুল।     

বছর খানেকের বন্ধুত্ব। কিন্তু এখনও একবারও সামনাসামনি দেখা সাক্ষাৎ হয়নি। মহুল যে লাইফস্টাইল ম্যাগাজিনটায় আছে তার রান্নাবান্না বিভাগে ইলিশ মাছের একটা রেসিপি পাঠিয়েছিলো আবীরা। সেই থেকেই পরিচয়। প্রথম দিন কথা বলার পরেই আপনি থেকে তুমিতে নেমেছিল মেয়ে দুটো। আর এখন তো তুই তোকারি চলে। মাঝে মাঝে চরম হতাশার দিনগুলোতে দুঃখ করে আবীরাকে মা বাবার সঙ্গে নিজের দূরত্বের কথা বলে মহুল। দালানওয়ালা তিনতলা বাড়ীটাতে সে যে একরকম ঘরবন্দী, সেটাই নানাভাবে বোঝাতে চায়। আবীরা বলে, 

“মিটিয়ে নে না মহুল। জীবনে বাবা মায়ের মতো আপনজন আর কি কেউ আছে?”  

মহুল ভেতরে ভেতরে গুমরে মরে। তবুও নিজের জীবনের আট আটটি অভিশপ্ত বছরের কথা কিছুতেই মুখ ফুটে বলতে পারেনা। এক এক দিন গভীর রাতে আবীরা ফোন করে। নিজেদের যৌথ জীবনযাপনের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দেয়। শিউরে ওঠে এপারের মেয়েটা। তার সস্তা রাতের পোশাক বেয়ে যৌবনের থইথই কম্পন ছড়িয়ে পড়ে কর্মক্লান্ত পায়ের পাতার দিকে। আবীরা নির্লজ্জের মতো বলে চলে,

“ছেলের তিন বছর হয়ে গেল, তবুও ওর শখ মেটেনি জানিস! এখনও সেই একই রকম ওয়াইল্ড! আমিই বরং টায়ার্ড হয়ে যাই।”

ওদের কথার মাঝে টুপ্সী কেঁদে উঠলে তাড়াতাড়ি মহুল ফোন কেটে দেয়। মিনিট পাঁচেকের জন্য ফোন অফ করে রাখে। পরে আবীরাকে জানিয়ে দেয়,

“একেবারে চার্জ ছিলো না রে। প্লিজ ডোণ্ট মাইন্ড! কাল কথা হবে।”

***  

ডিভোর্সের সিদ্ধান্তটা নেবার সময় মহুলের পাশে কেউ ছিল না। দৈনন্দিন জীবনের ঝঞ্ঝাটগুলো মাকে অনেকবার জানিয়েছিলো মহুল। বিশেষ পাত্তা পায়নি। এখন তার মনে হয়, বাড়ী থেকে সম্বন্ধটা হয়েছিলো বলেই মা তখন এড়িয়ে গিয়েছিলেন। বাবার সঙ্গে চিরকালই অনেকখানি মানসিক দূরত্ব। তিনি আড়চোখে তাকিয়ে ছিলেন কেবল। বিন্দুমাত্র মাথা ঘামাননি। অরিন্দমকে ছেড়ে দেবার পর থেকেই বাড়ির লোকেদের কাছে মহুল এক অচেনা গ্রহের বাসিন্দা হয়ে উঠেছিল। সেই প্রথমবার হিসেবের খাতা বের করে বিকৃত মুখে বাবা দেখিয়েছিলেন,

“সাড়ে এগারো লাখ খরচ হয়েছিলো তোমার বিয়েতে। পরের পাঁচটা বছরে ধরে রাখো আরও লাখ দুয়েক। এর পরেও যদি তোমার সিদ্ধান্ত একই থাকে, আমি আর কিছু বলব না।”

তখন শুধু হিমাদ্রির সাপোর্ট ছিলো। তার শক্ত হাতটা ধরেই মহুল এককাপড়ে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিল। আসবাবপত্র, গয়নাগাঁটি কিছুই ফেরত পায়নি। সে আশাও ছিল না। হিমাদ্রি সেসময় অনেক করেছে মহুলের জন্য। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত হিমাদ্রির ঋণ মহুল শোধ করতে পারবে না। তবে ওই মানুষটার সঙ্গে এক ছাদের নীচে থাকাও যে একদিন অসম্ভব উঠবে, নতুন করে ঘর পাতার সময় একবারও বুঝতে পারেনি মহুল। মাঝে মাঝে একা একা বসে মহুল ভাবে, ঋণ শোধ করার জন্যই কি সেসময় হিমাদ্রিকে বিয়ে করেছিল সে? না কি সত্যিই ভালবেসেছিল ছেলেটাকে? দ্বন্দ্ব আর প্রশ্নচিহ্নের ভিড়ে মনের মধ্যে মেঘ করে এলেই দেড় বছরের টুপ্সী হামা দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। তাড়াতাড়ি চোখের জল সামলে নেয় মহুল। মহুল আর হিমাদ্রির মেয়ে টুপ্সী। মেয়েটা হিমাদ্রির মতো হয়েছে। বাবার মতই টিকালো নাক, গভীর কালো দুটো চোখ। ঘন ভ্রু জোড়া! মায়ের মতো কেবল দুই গালে দুটো গভীর টোল পড়ে। মেয়ের ছোট্ট পেটে কাতুকুতু দিয়ে তাকে কোলে তুলে নেয় মহুল। টুপ্সী খিলখিলিয়ে হাসে। তার গালে মহুল আনমনে হাত বোলায়।   

হিমাদ্রি আর মহুল এক ক্লাসের বন্ধু। হাইস্কুলে ওরা দুবছর একসঙ্গে পড়েছে। ছেলেটা শুরু থেকেই মহুলকে একটু আলাদা নজরে দেখতো। কিন্তু কোনোদিন প্রেম নিবেদন করেনি। অরিন্দমের সঙ্গে সম্পর্কটা যখন একেবারে শেষের পথে ঠিক সেই সময়েই আচমকাই যোগাযোগ হয়েছিল ওদের। ডুবে যাবার সময় মানুষ যেমন করে সামান্য খড় কুটোকে আঁকড়ে ধরে, তেমন করেই হিমাদ্রিকে জড়িয়ে ধরেছিল মহুল। ম্যাগাজিনের চাকরীটা তখন হিমাদ্রিই করে দেয়। এখন ওইটুকুই মহুলের ভরসা। সাড়ে আট হাজার মতো পায়। মা মেয়ের তাতেই চলে যায়। মাঝে মাঝে নিজে থেকেই বয়স্ক বাবা হাতে কিছু গুঁজে দেন। দাদা বৌদিও টুপ্সীকে খেলনা পুতুলে ভরিয়ে রাখার চেষ্টা করে। যদিও সেসবে মহুলের প্রবল আপত্তি। ও বলে,

“মায়ের সামর্থ্য বুঝেই টুপ্সীকে বড় হতে হবে। একবার ভাল জিনিসের অভ্যেস হয়ে গেলে পরে আর সাধারণে মানাতে পারবে না ও। আমি চাই না ওর স্বাভাবটা খারাপ হয়ে যাক।” 

কান্না এসে গেলে মুখ লুকিয়ে নিজেকে সামলে নেয় মহুল। নিজের কোমল স্বভাবের ওপর কাঠিন্যের একটা নকল বর্ম চাপিয়ে সকলের থেকে একটু দূরেই থাকে সে। 

আবীরার সঙ্গে মহুল কোনোদিনই নিজের তুলনা করে না। আবীরা মেয়েটা একটা খরস্রোতা পাহাড়ী নদীর মতো। জীবনের টুকরো টুকরো আনন্দ দুহাতে মেখে নিয়ে কঠিন পাথরের ধাপ কেটে কেটে অবিরাম এগিয়ে চলেছে। তাকে বাঁধবে সে সাধ্য আছে কার! আর মহুল! শ্যাওলা আর পাঁকে ওর গতিপথ এখন প্রায় রুদ্ধ। সামান্য এগোতে গেলেও ওকে পায়ে কাদা মাখতে হয়। হিমাদ্রি ওদের ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায় কিন্তু ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আর ফেরা সম্ভব নয়।  

অরিন্দমকে ছেড়ে এসে মহুলকে একটা দিনও কষ্ট পেতে হয়নি। হিমাদ্রির উপস্থিতি ঘন ওমের মতো চব্বিশ ঘণ্টা ওকে আঁকড়ে ছিল। গভীর রাতে বাড়ীর সকলে যখন ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে থাকে, বিছানায় একলা শুয়ে মহুল আবীরার কথা ভাবে। ওদের দুজনেরই মাত্র চৌত্রিশ বছরের জীবন। সব চাওয়া পাওয়া যে মুছে যাবে তেমন বয়স তো হয়নি। চাহিদা, আকাঙ্খা মহুলেরও কি নেই? ও কি চায় না দিনের শেষে কোনো উন্মাদ পুরুষ রোমশ চওড়া বুকে ওকে আঁকড়ে ধরুক? চাওয়ার যে কোন শেষ নেই। কিন্তু পাওয়ার বেলায় নিয়মের কড়াকড়ি।   

অরিন্দম মহুলকে আটকে রাখার কোনো চেষ্টাই করেনি। নিজের অক্ষমতা লুকোতে দিনের পর দিন ভীরু কপুরুষটা মহুলের দোষ দিয়ে যেতো। শাশুড়ি সন্দেহ করতেন যে ওর অন্যত্র অ্যাফেয়ার আছে। নাহলে বিয়ের পাঁচ বছর পরেও বাচ্চা চাইছেনা বৌ, এমন তো হতে পারে না! একদিন রাগে অন্ধ হয়ে ফেটে পড়েছিল মহুল,

“বাচ্চা চাইলেই তো আর পাওয়া যায় না মা। বিশেষ করে যে মেয়ের স্বামী অক্ষম, সে কি অন্যের কাছ থেকে বাচ্চা ভিক্ষে করে আনবে? অরিন্দমের রিপোর্টগুলো বোধহয় আপনার চোখে পড়েনি?” 

মহুলের নরম গালের ওপর ঠাস করে একটা চড় কষিয়ে দিয়েছিল অরিন্দম। সেইদিনই সব শেষ হয়েছিল। এক কাপড়ে ঘর ছেড়েছিল মহুল। রোজ রোজ মরার চেয়ে একেবারে সব শেষ করে দেওয়াই তো ভালো। হিমাদ্রিকে বরাবরই খুব নির্বিবাদী ছাপোষা একটা মানুষ বলেই মনে হতো; কিন্তু ওবাড়ী থেকে চলে এসে যখন মহুল নিজের বাবা মায়ের থেকেও প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলো তখন মনে হয়েছিল হিমাদ্রি আসলে একটা লড়াকু ছেলে। কখন যে ছেলেটাকে ভালোবেসে ফেলেছিল মহুল নিজেও টের পায়নি।

 অরিন্দমের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি মহুলকে কাঁদায়নি। ওর চোখে তখন নতুন পুরুষের নেশা। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই হিমাদ্রি বিয়ের কথা বলে বসল। খুব কাছের কটা মানুষ ছাড়া আর কাউকেই ওরা ডাকেনি। রেজিস্ট্রির পর মহুল আর হিমাদ্রি একটা সুখের কুঁড়ে ঘর বেঁধেছিল। কিন্তু টুপ্সী আসার ঠিক আগেই যে কী হল, সামান্য সামান্য ব্যাপারেও হিমাদ্রি রাগ করে ঘরের জিনিস ভাঙচুর করতো। একদিন তো মহুলের গায়ে তুলল। হিমাদ্রির ওই বদলটা মহুল কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি। আজও পারে না। দু’কান কাটার মতো নিজের বাপের বাড়ীর শরণাপন্ন হয়েছিলো ও। এখন মেয়েকে বুকে আঁকড়ে মাঝে মাঝে মনে হয়, বোধহয় অর্থের অভাবই হিমাদ্রিকে সেসময় অতোটা অস্থির করে তুলেছিলো। আবীরা যখন রসিয়ে রসিয়ে নিজের বরের প্রতিপত্তির কথা গল্প করে, মহুল মনে মনে হিমাদ্রিকে কল্পনা করে। ওর ভীষণ ইচ্ছে করে, আবারও ওই ভাড়া বাড়ীটায় ফিরে গিয়ে সব মিটিয়ে নিতে। কিন্তু বাচ্চাটার মুখের দিকে চেয়ে মহুল সাহস পায় না।  

*** 

“এভাবে আর কতোদিন নিজের কাজের জন্য আমাকে ব্যাবহার করবে তুমি?”

“টেক ইট ইজি মাই লাভ। এটাই তো জীবন। গিভ অ্যান্ড টেক। টেক অ্যান্ড গিভ!” 

বিধ্বস্ত আবীরা নিজের লজ্জাটুকু কোনোমতে ঢেকে নিয়ে হোটেল রুম ছেড়ে বেরিয়ে এল। এভাবে আর কতোদিন নিজের রূপ বিক্রি করে সৌরাংশুর হাতে সাফল্যের ট্রফি তুলে দিতে হবে তার জানা নেই। আবীরার গ্ল্যামারাস ত্বক, টানটান নির্মেদ চেহারা সবই তো আসলে ওই লোকটার পাতা ফাঁদ। বড়ো চাকুরের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিয়ে আবীরার বাবা মা ভেবেছিলেন দুনিয়াটাই বোধহয় জয় করে ফেলেছেন; কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সৌরাংশুর লুকোনো নখ আর দাঁত বেরিয়ে এল। টাকার জন্য প্রায় প্রত্যেকদিনের অশান্তি তখন রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আবীরা নিজের বাড়ীর লোকের কাছে হাত পাততে রাজী না হলে গালিগালাজ, মারধোর কোনোটাই বাকি রাখত না তার স্বামী। শেষে একদিন নিজের কিছু খাস ক্লায়েন্টকে বাড়ীতে নিয়ে আসে সৌরাংশু। সেই থেকেই নোংরা খেলাটার শুরু। 

এইভাবে আর কতোদিন বেঁচে থাকতে হবে জানা নেই। বিয়ের আগে আবীরা একটা ছোট্ট বাড়ীর স্বপ্ন দেখত। স্বামী আর সন্তান নিয়ে একটা সুখের সংসার। সেখানে যদি সামান্য অভাব, সামান্য একটু টানাটানি থাকে তো থাকবে। অভাবও তো জীবনেরই একটা অঙ্গ! কিন্তু নাহ। সে জীবন পায়নি আবীরা। রাজপথের ধারে দাঁড়ানো পাথরের নারীর মতো ওকে এখন সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হয়। যখনই অতিথি আসবে তখনই নিজেকে মেলে ধরে আপ্যায়ন করতে হবে। ইচ্ছেমত হাত আর চোখ বোলাবে অতিথি। ফেরার সময় সোনার মোহর ছড়িয়ে যাবে আর মুঠো ভরে সে দৌলত কুড়িয়ে নেবে সৌরাংশু। শান্ত থাকবে কিছুদিন। রাগে ঘেন্নায় কাঁদতে কাঁদতে আবীরা বলে উঠল,

“একটা নির্লজ্জ শয়তান!”  

আজ প্রথমবার আবীরার মনে হচ্ছে তার জীবনে একজন সত্যিকারের বন্ধুর বড়ো প্রয়োজন। যাকে অকপটে সওব কথা খুলে বলা যায়। প্রতিটা আঘাতের দিনে যাকে আঁকড়ে ধরে কাঁদা যায়। সৌরাংশু রাতভর পার্টিতে মেতে থাকবে। আবীরার কান্নায় তার কিচ্ছু যায় আসে না। 

ঈশান ঘুমিয়ে কাদা। অন্ধকার ঘরের নিঃসঙ্গতা আবীরাকে দংশন করতে আসছে। এতদিন নিজের যাবতীয় কল্পনা মিশিয়ে মহুলকে জ্বালিয়ে এসেছে ও। ওর সুখের কথা শুনে না জানি ওই একলা মেয়েটা কতটা পুড়েছে! অথচ সুখ তো আবীরার জীবনে একটি কাল্পনিক চরিত্র মাত্র। কোথাও তার অস্তিত্ব নেই। 

আবীরার সত্যিটা জানলে মহুল কি ওকে ঘেন্না করবে? না কি সাজানো কথার পর্দা ভেদ করে দুটি নারী খুব সহজেই নিজেদের গল্পটা মিলিয়ে নিতে পারবে? না পাওয়াগুলো ভুলে গিয়ে আবার নতুন করে বইতে শুরু করবে দুটি নদী? আবীরা জানেনা তবুও আজ বড্ড ইচ্ছে করছে সমস্ত সাজান কথা মুছে ফেলে মহুলকে নিজের সত্যিটুকু জানায়। কান্নায় শ্রান্ত চোখদুটো মুছে আলতো হাতে মোবাইলটা তুলে নিল আবীরা। আজ আর দেশ কালের ভেদাভেদ নেই। দুটি নদী এইবার মিলেমিশে বইবে একই মোহনার দিকে। প্রেম নয়, হয়ত বন্ধুত্বই জীবনের প্রবাহকে প্রাণ দিতে পারে।  


 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন