শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০

লতিফ হোসেন। পারক গল্পপত্র


অস্তিত্ব ওই কান্নাটুকুতেই একথা মনে রেখো, তারপর যখন থেকে আমি হাসছি, ভাববে সেই হাসির কোনও বিন্দুতেই তুমি নেই।
এভাবে মরতে চাই নি কখনো! অ্যাপেন্ডিক্সে যন্ত্রণা হলে, সেই বর্ধিত অংশ কেটে ফেলাই শ্রেয়, এ যাবৎ তাই করে গেছি।
দিনগুলো ফ্যাকাসে হচ্ছে ক্রমশ। শকথেরাপিতে আর যাই হোক, সম্পর্কের গ্যাঁটে ফেভিক্যুইক লাগিয়ে আস্ত একটা পিণ্ড বানাবো, এতো বড়ো পাগল আমি নই। তোমার দাড়িতে একটা মায়া আছে, অদ্ভুত সে মায়া গোলাপের লালের মতোই। শুধু কাঁটাতেই ভয়। ভেবেছি প্রেমে ওটুকু ব্যথা থাকবেই, ব্যথাটুকুই তো আনন্দের,,না হলে মাউন্টব্যাটেন এত দ্রুত দেশটাকে ভাগ করে দিয়ে পালায়? একটা ইচ্ছে মতো দাগ কেটে দিলেম আর হলো!! হ্যাঁ ঠিকই বুঝেছেন, শকথেরাপিই বটে! কন্ট্রোভার্সি?? ও সব ভেবে লাভ নেই।

মনে আছে, কোনো এক বৃষ্টি ভেজা রাতে তুমি-আমি, আমি-তুমির মিথ্যে খেলায় থ্রি-বিএইচকের পিলারে কত এম এম রড দেবো বলে যত্তসব আজগুবি প্ল্যান করেছিলাম?? আজ শুনবে সত্যিটা, তখন আমি মনে মনে কী ভাবছিলাম !! ভাবছিলাম আমি তোমার কবর খুঁড়ছি। হ্যাঁ, আমি আজও বিশ্বাস করি, আমি সেই সাড়ে তিন হাত মাটি আজও খুঁড়ে চলেছি।
তুমি মিথ্যে বলেছ। হ্যাঁ মিথ্যে।
মিথ্যে মিথ্যে খেলায় নিজের অজান্তেই আমাকে ধর্ষণ করেছ সহস্রবার। হ্যাঁ তাই।

তুমি মানবে কিনা জানি না, প্রেম আর কলঙ্কের বস্তাপচা গসিপে আমার গা গুলোয়। আমার মিডিল-ক্লাস শরীরে আর যাই হোক, অবিশ্বাসের খোলস নেই, আছে শুধু প্রপঞ্চ।

ভালো করে দেখুন আপনার  চারিদিকেও অজস্র সুশান্ত সিং রয়েছেন...
বলা বাহুল্য আপনিও তাদের মধ্যে একজন হতে পারেন...।


২টি মন্তব্য:

  1. লতিফ হোসেন মহাশয়, আপনার লেখা আমি অনেক ব‌ই-এ পড়েছি। বরেন্দু স‍্যারের 'ছিটমহলের গল্প' ব‌ইয়ে আপনার লেখা বিশেষ করে 'সাড়ে তিন হাত মাটি' অনুগল্পটি অসাধারণ। কী নিঁখুত ভাবে কয়েকটি শব্দের মায়াজালে অনুগল্পটি লিখেছেন। ছিটমহলের বাস্তব সমাজের প্রতিচ্ছবি হিসেবে তুলে ধরেছেন। এছাড়াও আপনার লেখা ছিটমহল ও নো-ম‍্যানস-ল‍্যান্ড বিষয়কে কেন্দ্র করে কয়েকটি প্রবন্ধ পড়েছি।

    -রমা সেন

    উত্তরমুছুন