শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০

ইন্দ্রাণী সমাদ্দার


 স্কুলের ক্লাস শেষ হলো অথচ কোনো বন্ধুর সঙ্গে  একটুও গল্প হলো না।  এই ভাবে তিয়ার আর  ভালো লাগে না। কত কথা জমে আছে পেটের ভিতরে। কথাগুলো পেটের ভিতর ক্রমাগত ঘুরপাক খাচ্ছে। বেরোনোর  জন্য হাঁকপাক করছে। কিন্তু কাকে সে বলবে মনের কথা! মা-বাবা বেশিক্ষণ শুনতে চায়না। মা-বাবার শুধু কাজ। আগে অফিসে যেত তাই সে ভাবে মা-বাবাকে পেতো না। এখন সারাদিন মা-বাবা বাড়িতে তাও সে ভাবে পায়না। বড়দের কত কাজ,  অফিসের কাজ। তারপার কাজের মাসি আসছে না বলে বাড়ির কাজ। ‘করোনা’ নামে এক দৈত্য এসেছে। ঠিক দৈত্য নয় মা যেন কী বলে –‘করোনা ভাইরাস’। তার ভয়ে খুব দরকার ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বেরোয় না। বাবা মুখে মাস্ক লাগিয়ে  বাজার নিয়ে এসেও সেই সব জিনিসকে কতক্ষণ  সাবান দিয়ে স্নান করায়। তারপর বারান্দার রোদে ফেলে রাখে। তাই  তিয়ার  বাড়ির বাইরে খেলতে যাওয়া বারণ। স্কুল থেকে ড্রইং সবই অনলাইন হচ্ছে।

এখন দুপুরবেলা। দুপুরের খাওয়া হয়ে গেছে। মা ডাইনিং টেবিল পরিষ্কার করছে। বাবা বাসন মাজছে।  তিয়া জানলার পাশে বসে। হঠাৎ দেখে একটা কেবলের তারের উপর সুন্দর ছোট্ট দুটো পাখি বসে। কি সুন্দর খেলা করছে। মুখেও কোনও মাস্ক নেই। তিয়ার খুব ইচ্ছে করছিল  পাখিগুলোর সঙ্গে খেলা করে কিন্তু ওরা কি তাকে খেলতে নেবে? ওর ভাষাও ওরা বুঝবে না। পাখিদের ভাষাও তিয়া বোঝে না।

নিশ্চয়ই ওদের নিজস্ব ভাষা আছে। একটা পাখি এগিয়ে যাচ্ছে । আরেকটা পাখি তাকে ধরতে যাচ্ছে। যেই ধরে ফেলবে সঙ্গে সঙ্গে সামনের পাখিটা উড়ে গেল। ওদের খেলা দেখে তিয়া আনন্দে হাততালি  দিয়ে ওঠে। ভাবে স্কলের কথা। স্কুুুুলের  বন্ধুদেের কথা। কবে যে আবার স্কুুুুলে যাবে।  সবাই মিলে খেলবে সে দিনের অপেক্ষায়  আছে।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন