শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০

দীপঙ্কর বেরা। পারক গল্পপত্র


সেদিন চায়ের দোকানে রবি খুব দুঃখ করছিল - অকালে চলে গেল। মাথার উপরে ছাদ ছিল। বটবৃক্ষের মত আমাদের আগলে রাখত। আমার জীবনের শিক্ষাগুরু। আমাদের হাসিমুখের জন্য কত কষ্ট করেছেন। এখন কিভাবে কি করব কে জানে?

সবাই হা হুতাশ করল। ভাল লোক ছিল ইত্যাদি বলল। দুঃখী দুঃখী মুখ করে রবি বসে থাকল। একটু পরে বলল - যাই। আমাকেই তো আবার বাজার হাট সব করতে হবে।

আমি পিছনে পিছনে গেলাম। একটু এগিয়ে বললাম - কেন বাবার নামে এত মিথ্যে মিথ্যে বললি?

দাঁড়িয়ে পড়ল রবি। আমার দিকে কটমট করে তাকাল। বলল - কেন এমন বলছ তুমি? আমার বাবা তোমার কি ক্ষতি করেছে শুনি?

আমি শান্ত ভাবে বললাম - তোর বাবা আমার কোন ক্ষতি করেননি। তবে তোর মাথার ছাদ ছিল কি? বটবৃক্ষ ছিল? আর শিক্ষাগুরু? উনি বেঁচে থাকতে একটাও কথা শুনিস নি। বরং তোর পড়াশুনা মন না দিয়ে বাঁদরামো করার জন্য বাধা দিত বলে বাবাকে আপদ মনে করতিস? উনি চলে যেতে তোরা কি এমন বিপদে পড়েছিস শুনি? ভালই তো টাকা পয়সা পেলি। এবার চাকরিও পাবি। তোকে নিয়েই উনার যত কষ্ট ছিল। বেঁচে থাকতে যে প্রাপ্য সম্মান দেওয়া উচিত ছিল সে সব না দিয়ে এখন ফেসবুক স্ট্যাটাসের মত আর মিথ্যে বলিস না। উনি কষ্ট পাবেন।

এরপর আমি আর দাঁড়াইনি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন