শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০

আখ্যানে উত্তরবঙ্গের জনজাতি : শ্যামল সরকার। পারক গল্পপত্র


বাসের দুলুনিতে ঘুম এসে গেছে সুরঞ্জনের। মাদারিহাট থেকে বাস ছাড়ার পর আধ ঘণ্টা পথ নধর শূকরের পিঠের মতো মসৃণ। এই সময়টাতেই বুনো বাতাস বাসের জানালা দিয়ে ঢুকে ঘুম পাড়িয়ে দেয় যাত্রীদের। সুন্দরী যুবতীর মতো একতাল নরম ঘুম এসে চোখের পাতা ভারী করে দেয়। তার পর শুরু হয় মাত্র বাইশ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবার আসল লড়াই। তখন বেশ শক্ত করে সামনের সীটের লোহার রড ধরে সতর্ক হয়ে বসে থাকে সব যাত্রী। একবার এই পথে দুর্ঘটনায় পড়া সুরঞ্জন এ ব্যাপারে বেশি সতর্ক। শত শত বালির ট্রাক চলতে চলতে পথের আর কিছু নেই। যেন অফুরান ধুলোর ভেতর দিয়ে একটা ঘন ধুলোর দেশে ঢুকে পড়া। তার উপর শুকিয়ে কাঠ হয়ে শুকনো পাথরের গায়ে বিকেলের ছায়ার মতো নির্বিকার শুয়ে থাকা বাঙডি আর তিতি নদী। পেরোতে হয় আরও দুটি ঝোরা। হেলেদুলে যেন ছিটকে পড়বে বাস চলতে চলতে একেকবার। চড়া ভাড়ায় চলে এই বেসরকারি বাসটিই কেবলমাত্র এই দুর্গম পথে। সুরঞ্জনের মনে হয় এ কোথায় পাড়ি দিই আমরা ? কোথায় থাকি ? এই কী সেই দেশ, যার পরিচালনায় আছে সাধারণ সরকার। কিন্তু এদেশের যে একটি সরকার আছে, কিছুতেই বোঝা যায় না। এসব মনে হতেই যেন একটা বোঁটকা গন্ধ নাকে লাগল ধুলোর সাথে। সে তখন একটা রুমাল তীব্র ভাবে চেপে ধরে ঘাপটি বসে থাকে বাসের ভেতর।

টোটোপাড়া হিমালয়ের পাদদেশে ভারত-ভুটান সীমান্তের একটি ছোট গ্রাম। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে তোর্ষা নদী। চারপাশে অফুরান সুপুরি বাগান। মাত্র আট বর্গকিলমিটার জুড়ে ছড়ানো তিনশ চল্লিশটি পরিবারের বসবাস টোটো পাড়ায়। সুরঞ্জন ভাবে— যে দেশের মানুষ মহাকাশ পাড়ি দিয়ে পৃথীবিকে তাক লাগিয়ে দেয় অনায়াসে, পৃথীবির ধনী দেশগুলোর সাথে পায়ে পা মিলিয়ে এগিয়ে চলছে সমানে সমানে, সেই দেশের মাত্র হাজার দেড়েক মানুষের একটি বিলিয়মান জনজাতির মানুষদের এত চরম দুর্দশা ! ওর স্ত্রী মেরেমতি এ ব্যাপারে খুব প্র্যাক্টিক্যাল। সে বলে— ‘না, এর জন্য পুরো দায়ী সরকার নয়। আমাদের পূর্বপুরুষরাই এজন্য দায়ী। ওরা এমন দুর্গম জায়গায় এসে উঠেছিলেন কেন ?’

সুরঞ্জন বোঝায়— ‘উঠেছিলেন কী সাধে ? নিশ্চয়ই কোন বিপদে পড়ে এখানে চারটি পাহাড়ের আড়ালে ঠাঁই নিতে হয়েছিল তাঁদের।’ একটুক্ষণ চুপ করে থেকে একটি নরম দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বলে— ‘বাবার মুখে গল্প শুনেছি, আমাদের পূর্বপুরুষ গোমাংস খেতেন বলে কুচবিহারের মহারাজার কোপে পড়ে প্রাণ বাঁচাতে এখানে পালিয়ে এসেছিলেন।’ মেরেমতি পুরোপুরি মানতে পারে না স্বামীর কথা। বলল— ‘এগুলো সবই লোককথা।’ সে বলল আবার—‘পাহাড়গুলো আমাদের মতই বড়ো উপেক্ষিত কিন্তু আমাদের মতই একসাথে থাকতে ভালবাসে।’ বলতে বলতে আদূরে চোখে তাকাল অদূরের ছোট ছোট চার পাহাড়— পদুয়া, হিম্বা, দাম্পি আর দপ্রুং লাকার দিকে। সুরঞ্জন মজা করতে ভালবাসে। হেসে বলল— এটা কিন্তু ভাল নয়।
কী ?
নদীর কী প্রেম শুরু হয়ে গেল পাহাড়ের সঙ্গে ? আর মানুষ কি গড়াগড়ি খাবে ?
মানে !
আমি কী জানি না, মেরেমতি এখানকার বারো নদীর একটির নাম।
সত্যি। আমার বাবার বড় প্রিয় ছিল নদী। টোটো পাড়াকে ঘিরে রাখা বারোটি নদী-ঝোরা সবাই বাবার বড় আদরের মেয়ে, আমার বোন।
সেই জন্যই তো তুই টোটো পাড়ার মিষ্টি নদী মেরেমতি।
বলতে বলতে সুরঞ্জন বুকে টেনে তার সদ্য বিবাহিতা মিষ্টি স্ত্রী মেরেমতিকে। মিষ্টি করে প্রিয়তম মানুষটির গালে একটি চুমু খেল। লাজুক মেরেমতি ছাড়া পেতে বলল— ‘মনে নেই, আজ মঙ্গলবার ? হাট বসে গেছে এতক্ষণে। যাও, নাহলে আনাজ সব শেষ হয়ে যাবে।

সুরঞ্জন টোটো সুপুরুষ। বয়স ছাব্বিশ। টোটো পাড়ার একমাত্র স্নাতকোত্তর। দৈহিক গড়ন বলিষ্ট। অন্য টোটো পুরুষদের মতই তারও পেটানো চেহারা। মাঝারি উচ্চতা। গায়ের রঙ বাদামি। চুল ছোট। চোখ দুটোও তুলনামূলক ছোট। পুরু নাক। ওর বাবা টোটো সম্প্রদায়ের মানুষদের কার্যত দলপতি ধনরাজ টোটো, একজন জ্ঞানী মানুষ। কবিতা লিখেছেন টোটো ভাষায়। তিনিই টোটো ভাষাকে একটা সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন বহুদূর। ওদের বাড়ি টোটো পাড়ার দুমসী গাঁও। মাত্র দু’মাস আগে টোটো পাড়ার এমন ছয়টি পাড়ার একটি পূঁজাগাঁও-এর চাঁদ টোটোর কলেজ পড়ুয়া চনমনে মেয়ে মেরেমতি টোটোর সঙ্গে বিয়ে হয়। মেরেমতির বয়স মেরেকেটে কুঁড়ি। সুন্দর শারিরিক গড়ন। বর্ষার স্থানীয় মেরেমতি ঝোরার মতো উত্তাল যৌবন ওর শরীরে। চোখগুলো একটু ছোট ছোট। নাক চ্যাপ্টা। একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের খেলা আছে ওর শরীরে। সুরঞ্জন মেরেমতির সঙ্গে নিজেদের ভাষা টোটোর পরিবর্তে বাংলা ভাষাতেই কথা বলে। মেরেমতির বাংলা ভাষাটা কুব প্রিয়। স্বামীর কাছে মেরেমতির সরল স্বীকারোক্তি— ‘আমি তোমাকে নিয়াংকোষা বিয়েতে রাজী হয়েছিলাম তুমি বাংলা জানো বলে, রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইতে জানো বল...।’ মেরেমতি গানের আবেশে মাখামাখি হয়ে গান ধরে তখনই—‘আমার পরানো যাহা চায়, তুমি তাই, তুমি তাই গো...।’ মেরেমতি গানের আবেশে মাখামাখি হয়ে সুরঞ্জনের বুকে নিজেকে সমর্পণ করে বলে—‘এত ভালবাসতে রবীন্দ্রনাথ ছাড়া আর কেউ শেখাতে পারে না গো।’
সুরঞ্জন মেরেমতির হৃদয়ে গভীর সম্পর্ক যখন গড়ে উঠেছে, সুরঞ্জনের বুদ্ধিমান বাবা ধনরাজ আপত্তি করে নি। বরং সে খুশিই হয়েছিল। ধনরাজ দু’হাঁড়ি ইউ একটি লাল মুরগী নিয়ে হাজির হয়েছিল পূঁজাগাঁও-এর চাঁদ টোটোর বাড়িতে। প্রস্তাব দিয়েছিল বিয়ের। চন্দ্র যেন বর্তে গিয়েছিল তার বাড়িতে ধনরাজের আগমনে। এক কথায় শেষ হয়ে গিয়েছিল বাগদান পর্ব। সেদিনই ঠিক হয়েছিল তাঁদের বড় বিয়ের দিনক্ষণ। সুরঞ্জন-মেরেমতির বিয়ের আগে কাইজি পুরোহিত ওদের বাদিলনওয়া অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠান করে। বাড়িতে তৈরি আনন্দ পানীয় ইউ দিতে হয়েছিল ধর্মস্থান ইশপাতে ধনরাজকে ছেলের বিয়ের জন্য। চন্দ্রও দিয়েছিল বড় এক হাঁড়ি। ইউ এর নেশায় চুর হয়েছিল সেদিন গোটা টোটো পাড়া। নিয়াং কোষা প্রথায় তাঁদের পণপ্রথা বিহীন বড় বিয়ে হয়ে যায় পরম আনন্দে।

দুই.

চন্দ্র টোটো চাষবাস করে। খুব সহজ সরল তাঁর জীবন যাপন। কাঠের বাড়ি। মাটি থেকে চার ফুট উঁচুতে থাকার জন্য কাঠের ঘর। বাড়ির চারপাশে অনেকগুলো সুপুরি গাছ। বাড়ির একপাশে আদা আর হলুদ চাষের এক চিলতে জমি। অন্য পাশের জমিতে চাষ হয় ধান আর মাড়ুয়া। চন্দ্র আর তাঁর স্ত্রী মোতি দুজনে মিলে চাষের কাজ করে। চাষ আর ছেলে বিধুর শ্রমেই চলে তাঁদের সংসার। ভালই চলে। তারা মেয়ে মেরেমতিকে পড়াশুনা শিখিয়েছে, বিয়ে দিয়েছে। তাঁদের ছেলে বিধু দোকান খুলেছে টোটোপাড়ার বাজারে। এখানে আগে হাট বাজার ছিল না। সবাই বাইশ কিলোমিটার দূরের দুর্গম পথ ঠেলে মাদারিহাট গিয়ে বাজার করে আসত সপ্তাহে একদিন। এখন দোকানপাট হয়েছে। হোটেল হয়েছে। অনেক মানুষ বেড়াতে আসে। প্রতি মঙ্গলবার হাট বসে। দূর দুরান্ত থেকে পাইকাররা আসে পশরা নিয়ে। বিধুর দোকানে পাওয়া যায় মুদি খানার সামগ্রী আর ছাত্রছাত্রীদের জন্য কাগজ-খাতা-পেন্সিল। হাই স্কুল হয়েছে টোটোপাড়ায়। মাস্টার মশাইরা বড়ো আন্তরিক। বড় দিদিমণি যেন পুরো টোটো পাড়ায়।

একজন অভিভাবিকা। তাঁর জন্যই মেরেমতিদের পড়াশুনা হয়েছে এতদূর। কোন ছাত্র বা কোন ছাত্রী ক’দিন স্কুলে না গেলে মাস্টারমশাই-দিদি মনিরা তার বাড়িতে গিয়ে হাজির হন। বুঝিয়ে সুঝিয়ে আবার নিয়ে যান স্কুলে। বিধুকে ম্যাডাম বলেন— ‘কোন ছাত্র যেন তোর দোকান থেকে ঘুরে না যায়।’ বিধুকে ম্যাডাম স্কুলের মিড-ডে-মিলের সামগ্রী সরবরাহের বরাত দিয়েছেন। বিধু খুশি। খুশি টোটো পাড়ার মানুষজন। বল্লালগুড়ি-টোটো পাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজ কর্ম কিছু কিছু হচ্ছে গ্রামের উন্নতিতে। কিন্তু চন্দ্র বোঝে— মানুষের জীবন যাত্রার উন্নতি কই ! ছেলেপুলেগুলো যারা পড়াশুনা শিখেছে, তাদের চাকুরি নেই। পড়াশুনা করার ইচ্ছে হারিয়ে ফেলছে ওরা ধীরে ধীরে। জামাই সুরঞ্জন এত পড়াশুনা করেও ভুটানে মজুরের কাজ করে। আরও কত ছেলেপুলেকে মজুরের কাজের জন্য ভুটানে যেতে হয়। মোতি স্বামীকে জিজ্ঞেস করে— ‘ আচ্ছা, এত মানুষ আমাদের দেখতে আসে, আমাদের এত ভাল ভাল কথা বলে। শুনতে বড় ভাল লাগে। কিন্তু বলতে পার, আমরা কতদিন আর এমন দেখার জিনিস থাকব ?’ চন্দ্র বোঝে না— এত প্রশ্ন কী করে হঠাৎ তার অশিক্ষিত স্ত্রীর মাথায় এল ? চন্দ্রকে জিজ্ঞেস করতে হলনা। মোতিই বলল তার পর— ‘সেদিন মেয়েটি এসব বলছিল। শুনে মনে হল ঠিকই তো বলছে। আমরা যেন ভদ্রলোকদের দেখার জিনিস, মানুষ নই এখনও।’ চন্দ্র কিছু বলল না, এসব কথা তার ভাল লাগে না। তার মনে একটি বিষয়ই বড়ো তৃপ্তি দেয়— টোটো মানুষ বড় সৎ। কোনদিন কিছু চুড়ি ডাকাতি হয় না এখানে কোথাও। এখানে কোন মারনাস্ত্রের ব্যবহার নেই। টোটোদের কাউকে মামলা মোকদ্দমায় যেতে হয়নি কোনদিন। চন্দ্রও মনে আছে— একবার তার সঙ্গে মতবিরোধ হয়েছিল প্রতিবেশি হিলু টোটোর। হিলুর গোরু দড়ি ছিঁড়ে অনেকটা ধানগাছের চারা নষ্ট করে ফেলেছিল চন্দ্রর। বিচার দিয়েছিল চন্দ্র সমাজপতি ধনরাজের কাছে। ধনরাজের বিচার অনুযায়ী হিলু ওই গোরুর সবটুকু দুধ চন্দ্রও বাড়িতে দিয়ে এসেছিল একদিন আর ইশপাতে এক হাঁড়ি ইউ। এক জ্যোৎস্না রাতে ওই ইউয়ের নেশায় মাতাল হয়েছিল ওদের গাঁ অনেক রাত অবধি। ভাল্বাসায়, সৌহার্দ্যে।

তিন.

বর্ষা এসে গেছে। প্রবল বৃষ্টি ফুঁসে উঠেছে পাহাড়ি নদী আর ঝোরাগুলো। তুমুল স্রোত তোর্ষা, বাংড়ি, তিতির জলে। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে পথের যোগাযোগ। সকাল থেকে বৃষ্টি হয়েছে সারা রাত ঝরার পর। আকাশে গুমোট কালো কালো মেঘের স্তূপ। চারপাশ যেন স্তব্ধ হয়ে আছে। ভোর থেকে বুকে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়েছে মতির, সঙ্গে শ্বাসকষ্ট। চন্দ্র দৌড়ে গেছে ধনরাজের বাড়ি। ভাল ঠেকে নি ধনরাজের চোখে। বিধুকে হাঁক দিয়েছে— ‘একদম দেরি নয়, মাদারিহাট হাসপাতাল নিয়ে যেতে হবে।’ সুরঞ্জন তক্ষুনি হাজির ও বাড়িতে। বলল— ‘সরকারি অ্যাম্বুলেন্স খারাপ হয়ে পড়ে আছে। এদিকে রাস্তাও বন্ধ।’ ধনরাজ মাথা নিচু করল। কিছু করার নেই। এত দুর্গম পথ ধরে মরনাপন্ন রগী নিয়ে গিয়ে যে ঠিকঠাক পৌছানো সম্বভ নয়, বেশ বুঝতে পারছে ধনরাজ। সুরঞ্জন ও বিধুর চেষ্টায় একটি গাড়ির ব্যবস্থাও হল, কিন্তু নদীর সামনে এসে আঁতকে রইল তাদের পথচলা। তীব্র যন্ত্রণায় কাতর মোতিকে নিয়ে অপেক্ষা করছে গাড়ি— কখন স্রোত কমবে। চন্দ্র মানত করেছে ইস্পাকে (দেবতা) স্ত্রীর জন্য। কিন্তু ইশ্বর অপেক্ষা করলেন না। নদী শান্ত হবার আগেই চিরশান্তিতে ঘুমিয়ে পড়ল মোতি।

টোটো পাড়া তখন কাঁদছে। কাঁদছে এই প্রাচীন জনজাতিকে পিতার মতো আগলে রাখা চারটি পাহাড়— পদুয়া, হিস্পা, দাম্পি আর দপ্রুং। দূর থেকে ভেসে আসছে ঝরে পড়া জলের শব্দ— কলকল, কলকল। মেরেমতি ডুকরে কেঁদেই যাচ্ছে মায়ের শবদেহের উপর আছড়ে পড়ে। সবাই এসেছে চন্দ্রর বাড়িতে। শত শত পাখি এসে ভিড় করছে গাছে গাছে। বাড়ির অদূরে কবর খোঁড়া হচ্ছে, প্রথা মেনে দেহ ভূমিস্থ করা হবে। একটু পরই জীবনভর মাটির সঙ্গে মিলেমিশে থাকা মানুষটা পুরো পুরি মিশে যাবে মাটিতেই। ধনরাজ চন্দ্রর পাশে এসে দাঁড়াল। উপরে তাকিয়ে দেখল মেঘ কেটে সূর্য উঠেছে। সেদিকে তাকিয়ে অস্ফুটে বলল— ওদিকে তাকাও, শক্তি পাবে। জলভরা চোখে স্থবির চন্দ্র দেখছে মানুষ ও প্রকৃতির অফুরান দুঃখ, ভালবাসার মধ্য দিয়ে মতির এক দুর্দান্ত মিশে যাওয়া প্রকৃতি মায়ের আলোমাখা শরীরে একেবারে রানীর মতো। 

1 টি মন্তব্য: