শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০

তরুনার্ক লাহা

 
গদাধর মাইতিকে এলাকার সবাই চেনে।ঢিলেঢালা জামা পাজাম।কাঁধে মানানসই ঝোলা ব্যাগ।কাজ বলতে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ানো।কি খায়,কোতাহ্য থাকে-এ সমস্ত প্রশ্ন এলাকার মানুষকে তাড়া করলেও গদাধর অবিচলিত।প্রচন্ড কৌতুহলী মানুষ এই গদাধর মাইতি।কোথাও কিছু হোক সে ঠিক হাজির।খবর কিভাবে পায়-লোকের মনে প্রশ্ন যেন হাত ফোসকানো মাছ।ডাকবাংলার মোড়ে দুদুটো খবর কাগজের দোকান।গদাধর কাকভরেই হাজির সেখানে।কাগজ হকারদের হাতে হাত লাগায়।কাগজ গুছিয়ে মন জয় করে তাদের।মুফতে কাগজ পড়ার ফরমান হাতে পায়।হরেক কাগজের হেদলাইঙ্গুলো প্রায় মুখস্ত।চায়ের দোকানের আড্ডায় সেগুলোর অব্যর্থ প্রয়োগ নিজেকে জাহির করার সুযোগ করে দেয়।আড়ালে আবডালে লোকে বলে গদাধর জ্ঞানভান্ডার।

গদাধর এ সব গায়ে মাখে না।কোথায় যেন পড়েছিল সমাজে বাঁচতে হলে পাঁকাল মাছের মতো হতে হয়।বাস্তব প্রয়োগ করে হাতে হাতে ফলও পেয়েছে।
গদাধরের কাছে কোনোই ফেলনা নয়।বিশেষ করে পুরানো কাগজ পড়ে থাকতে দেখলে সোজা ব্যাগে চালান করে দেয়।অবসর সময় পেলেই পড়ে ফেলে সেগুলো।নিজে নিজেই ভাবে-পুরানো কাগজ তার কাছে বেদের সমান।তাছাড়া বাসি খবর বেশী মজাদার।শুধু তাই নয়,ল্যাম্পপোষ্ট বা বাসস্ট্যান্ডের বিশেষ জায়গাগুলোর দেওয়ালে সেঁটে থাকা শালীন বা অশালীন বিজ্ঞাপনগুলো তার পাঠের আওতায় পড়ে।আসলে গোটা বিশ্বই তার কাছে জ্ঞানের ভান্ডার।
একদিন ঘুরতে ঘুরতে নন্দীপাড়ার দিকে পা বাড়ায় গদাধর।এদিকতা আসাই হয় না তার।নতুন নতুন কতো বাড়ি গজিয়েছে।কতো পুরাতন বাড়ি রঙের দৌলতে খোলতাই হয়েছে।দেখেও মনটা ভরে যায়।

পথ চলতে চলতে হঠাৎ একটা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে।নতুন দোতলা বাড়ি।দেখনদারি নকশা বাড়ির আনাচে কানাচে।মনে মনে বাহাবা দেয় রাজমিস্ত্রীকে।হঠাৎ নজরে আসে একটা লেখার প্রতি।অর্থটা কিছুতেই মেলাতেই পারছে না।খটকা রয়েছে বানানে।কৌতুহল চাপতে না পেরে বাড়ির সামনে এগিয়ে যায়।সুদৃশ্য ডোরবেলে আলতো চাপ দেয়।ইংরেজি বয়ানে দরজা খোলার আবেদন।কিছুক্ষণের মধ্যেই দরজা দুফাঁক।দরজার মাঝখানে দাঁড়িয়ে এক সুবেশা সুন্দরী মধ্যবয়স্কা ভদ্রমহিলা।গদাধর মুগ্ধ গৃহ এবং গৃহিনীর সৌন্দর্যে।
ভদ্রমহিলা সুললিত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে—কাকে চাই?
গদাধর বিনয়ের সঙ্গে জানায়—আপনিই কি এই প্রাসাদের…
--হ্যাঁ হ্যাঁ বলুন।
গদাধর ইতস্তত করে।এদিক ওদিক তাকিয়ে গলা পরিস্কার করে বলে—আসলে ম্যাডাম আমার মনে হয় এখানে এই বানানটাতে কিছু ভুল আছে।
--কোথায় ভুল?
ভদ্রমহিলা আগ্রহের সাথে জানতে চায়।
--আমার মনে হয় বানানটা TO LET না হয়ে TOILET হলে ঠিক হতো।
শান্ত নম্রভদ্রমহিলা হঠাৎ লেডি দুর্বাশা।চোখে তার সক্রিয় ফুজিয়ামা।রূঢ়কণ্ঠে চিৎকার করে বলে—ভোলা,বন্দুকটা নিয়ে আয় তো?রাস্তার পাগলাটাকে গুলি করে মারলে তবে শান্তি।
বেগতিক গদাধর সামনের দিকে দ্রুত পা চালায়।কই গুলির আওয়াজ আসছে না তো?দূর থেকে শুধু একটা কথাই ভেসে এল—অসভ্য,জানোয়ার।
                

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন