শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০

তপন বন্দ্যোপাধ্যায়। পারক গল্পপত্র


দুপুরের হালকা রোদের মধ্যে খণ্ত-ত-য়ের একটুকরো কালো মেঘে বহুক্ষণ ধমক দিয়ে রেখেছে আকাশের ঈশান কোণে। দুপুরের খাওয়া সেরে মেঘখণ্ডটিকে দেখতে থাকি কিছুক্ষণ। বিকেলে বেরোতে
হবে, কথা দেওয়া আছে এক সাহিত্যপাগল কিশোরকে। কিন্তু শ্রাবণদুপুরের মেঘ কি এরকমই নিরীহ,
নখদন্তহীন থেকে যাবে, না কি -----

দুপুরে বিছানায় চিল্ তে বিশ্রামের মুহূর্তে ভেসে আসে সামান্য গুরু গুরু শব্দ, নিশ্চয় মেঘধবনি। তা হলে কি বৃষ্টির সম্ভাবনা জারি হচ্ছে! বিছানা থেকে উঠে চোখ বাড়াই জানালার ওপাশে। শেষ-
দুপুরের মুহূর্তে যতখানি রোদের তেজ থাকার কথা, তা নেই। বিকেলের মতো মরা আলো মন খারাপের কিছুটা অস্থির বোধ করি। কোথাও যাওয়ার থাকলে একটু উত্তেজনা থাকে, কথা রাখার দায়
থাকে। নিশ্চেষ্ট হয়ে না থেকে বারান্দায় বেরিয়ে পরিমাপ করি রোদের জ্বর। জ্বর কমেছে দেখে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি মেঘেরা ব্যায়াম করছে স্বাস্থ্যবান হবে বলে। নীল নভে নীলের পরিমাণ কমে ধারণ করছে কৃষ্ণবর্ণ। তৃবে কি বেরোনোর আগেই বৃষ্টি নেমে যাবে!

ঘড়ির কাঁটা বলছে আরও আধঘন্টার আগে বেরোন যাবে না, তা হলে সভায় পৌঁছোতে হবে বিফোর টাইম। সময়ের আগে সভায় গেলে হাস্যকর হবে, হয়তো তখনও এসে পৌঁছোবে না উদ্যোক্তা
কিশোরের দল, হয়তো তখনও শেষ হবে না ফেস্টুন টাঙানো, হয়তো হলের দরজাই খোলা হবে না তখনও! বরং আরও আধঘন্টা দেরিতেই বেরোব।

এমন ভাবাভাবির মধ্যে আরও একবার মেঘধবনি। না, ধ্বনি নয়, এবারে গর্জন। অস্থিরতা বাড়তে থাকে ভিতরে। বাড়তে থাকে গর্জনের স্বর। অপেক্ষারত কিশোরদের মুখগুলো মনে আসে।
তারা তাদের নতুন গল্প পড়তে চায়, শুনতে হবে তাদের নতুন লেখার ধরন।

তবে কি এখনই বেরিয়ে পড়ব! ওয়ারড্রোব খুলে হাত বাড়াই পোশাকের সন্ধানে। একবার সেখানে পৌঁছে গেলে নিশ্চিন্ত। কিন্তু গায়ে পোশাক গলানোর আগেই শুনি বাইরে বৃষ্টির ফোঁটা। পোশাক পরা তখনও শেষ হয়নি, তাড়াতাড়ি বারান্দায় গিয়ে দেখি বৃষ্টির ফোঁটারা বাড়ছে আয়তনে । হঠাৎ এক বিদ্যুৎরেখা চমকে দিল আকাশের এ-কোণ থেকে ও-কোণে। পরক্ষণে তীব্র বজ্রধবনি কাঁপিয়ে
দিয়ে গেল গোটা ধরণী।

সঙ্গে সঙ্গে বমঝমে বৃষ্টি এসে ভাসিয়ে দিতে শুরু করল রাস্তা, বাড়ি গাছপালা, লম্বা পিচপথ।

পোশাক পরে বসে থাকি একরাশ মন খারাপ নিয়ে। সহসা এ-বৃষ্টির ধরন হবে না, রাখা যাবে না প্রতিশ্রুতিও। বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখতে থাকি শ্রাবণমেঘের অঝোর ঝরন।

কিছুক্ষণের মধ্যেই জল থইথই শহরের পথ মনের গভীরেও বৃষ্টিপতনের এক ধারাবাহিক শব্দ।





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন