শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০

গল্প লেখার গল্প : গৌতম দে


প্রথমেই বলে রাখা ভালো আমি কোনও 'আগমার্কা' লেখক নই। 'পারক' পত্রিকার সম্পাদক ও লেখক সুজয় চক্রবর্তী মহাশয় "আমার গল্প লেখার গল্প" এই শিরোনামে একটি লেখা লিখতে বলেছেন। আমি যারপরনাই আহ্লাদিত হয়েছি! কী লিখব? ভেবে পাচ্ছি না।

তবে এ কথা অনায়াসে বলতে পারি, যেসব আগমার্কা লেখককুল বাণিজ্যিক পত্রপত্রিকার জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে লেখেন, সেই দলে পড়ি না। সেই পর্যায়ে যেতেও চাই না।

নিজের খেয়ালে লিখি। যখন খুশি লিখি। বাঁধাধরা কোনও নিয়ম কানুন নেই। একটু আধটু লেখার চেষ্টা করি। তখনই বাবার কথা মনে পড়ে। বাবা বলতেন, 'গাছের পাতার রঙ সবুজ, এতো সবাই জানে। এই সবুজ রঙের ভিতর অনেক রঙ আছে। তোমার চোখ দিয়ে সেই রঙকে খোঁজ। খুঁজে চলো'। সেইভাবে খুঁজে চলা নিরন্তর। আজও। প্রকৃতির মধ্যে। মানুষের জীবন যাপনের মধ্যে।

অবশেষে হয়তো কোনও একদিন মগজের ভিতর  একটি 'গল্পের ভাবনা' জেগে ওঠে। বহু সময় ধরে তাড়িয়ে তাড়িয়ে বেড়ায়। মাসের পর মাস। তারপর কোনও একসময় দুই চার লাইন লিখেও ফেলি। নিজের ভালো না লাগলে আবার কাটাকুটি করি। এই করতে করতে  একটি গল্প নিজের পায়ে দাঁড়ায়।

তবুও মনের ভিতর নিরন্তর চলে খোঁজ। এই খুঁজতে খুঁজতে বহু মানুষের কাছে আসি। চুটিয়ে আড্ডা দিই। আড্ডা দিতে ভালোবাসি। এই আড্ডায় অনেকের জীবনযাপনের কথা জানতে পারি। হয়তো বা রাস্তা দিয়ে চলতে চলতে কখনওবা কারোর কোনও 'কথা' বা কোনও একটি অচেনা 'শব্দ' কানে এলো। সেটা কারোর নামও হতে পারে। বা কোনও কথাও হতে পারে। অমনি সেই নাম সমেত একটি জলজ্যান্ত মানুষ চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কথা বলতে শুরু করে। তারপর আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নেয় তার জীবন যন্ত্রণার আখ্যান।

এইভাবে একটি গল্প গড়ে ওঠে। যে গল্প মাটির ওপর দাঁড়িয়ে আমার অভিজ্ঞতাকে জারিত করতে করতে হঠাৎ বলে ওঠে আপন মনে, এইরকম ছিলাম...এইরকম হতে পারতাম...।

এইভাবে একটি সার্থক গল্প লেখার চেষ্টা নিয়ত চলতে থাকে মনের ভিতর। আরও ভালো লাগে যদি কোনও পাঠক বলেন,  আপনার ওই গল্পটি ভালো লেগেছে তাহলে আরেক কদম এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।

এইভাবে 'আমার গল্প লেখার গল্পের' অনন্ত অতল খোঁজ চলতে থাকে।

1 টি মন্তব্য: