শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০

নিখিল পান্ডে। পারক গল্পপত্র


"করোনা " পজিটিভ এসে গেছে দুজনের। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে তাদের নাম - ধাম ও মোবাইল নম্বর। পুলিশ প্রশাসন বিশেষ চিন্তিত। মাথায় বাজ পড়েছে যেন -বা!  এবার হয়তো জেলা অরেঞ্জ থেকে বেরিয়ে রেড জোনে ঢুকে যাবে।
চারদিকে থমথমে ভাব। সবাই সবাইকে দেখছে সন্দেহের চোখে। নিজের বাঁ হাতকে বিশ্বাস করতে পারছে না নিজেরই ডান হাত।

মনে মনে সবাই বলছে তফাৎ যাও। কিপ ডিসট্যান্স।

       সুমনা ভোর ভোর উঠেছে আজ। তারা যে স্ট্রীটে থাকে তার পরের স্ট্রীটেই তো " করোনার আঁতুড়ঘর। " দুজন পজিটিভ। তাই অতি সতর্কতার সঙ্গে  গৃহস্হালির কাজ- কর্ম করে নিয়েছে সে। স্যানিটাইজ করে নিয়েছে সবকিছু। চটি - জুতো থেকে বাজারের থলি পর্যন্ত।
ঘড়িতে বেলা এগারোটা এখন। বাইরে গেট খোলার শব্দ। সুমনা আতঙ্কিত। ভাবে, এই অসময়ে আবার কে?  পেপার, সবজি, মাছ- দুধ সব এসে গেছে। তবে! কে হতে পারে!  বিমূঢ় ভাবনায় তোলপাড় মনের আকাশ। এখন কেউ কারো বাড়ি যায়ও না আসেও না। কাজের মাসির তো সবেতন ছুটি। তবে!

পুতুল খেলছিল তার একমাত্র  মেয়ে তনয়া। ডাক নাম তনা। বয়স চার। স্কুল তো সেই কবে থেকেই বন্ধ। তপু, বনা, মনা এদের সঙ্গে কতদিন দেখা নেই। খেলার মাঠ যাওয়াও বন্ধ। মা বলেছে, বাইরে বের হলেই করোনা ক্ষেপি তুলে নিয়ে চলে যাবে। এখন পুতুলই তার প্রাণের বন্ধু। যত কথা সব তো পুতুলের সঙ্গে।ছুটে আসে মায়ের কাছে। বলে, " মা! গেট খোলার আওয়াজ পেলে?  ' করেনা ক্ষেপি ' আসছে না কি!  "

মনের একরাশ দ্বন্দ্ব নিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে যায় সুমনা।  দরজা খোলে। দেখে মনা এসেছে, মানসী। তনার ক্লাসমেট।  পাশের স্ট্রীটের। মুখে তার দুষ্টুমির হাসি। শুকিয়ে যায় সুমনার মুখ। কোনকিছু তোয়াক্কা না করে, সে সুমনাকে পাশ কাটিয়ে সোজা ভেতরে ঢুকে যায়। বসে পড়ে তনার সামনে। তনা তখন পুতুলের কাপড় গোছাতে ব্যস্ত। দুজনের চোখে - মুখেই খুশির ঝিলিক। মুহূর্তেই  "বর- বউ" খেলা জমে ওঠে। একজন বরপক্ষ, একজন কন্যেপক্ষ। পুতুলের বিয়ের তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়।

       ভেবে পায় না সুমনা সে এবার কী করবে! ঘামতে থাকে। মাথা ঝিমঝিম করে । মনাদের স্ট্রীটেই তো  "করোনার আঁতুড়ঘর।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন