সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২০

চন্দন চক্রবর্তী। পারক গল্পপত্র


'আমি মরে গেছি কিনা বুঝতে পারছি না। টোকা মারলে হার্টটা ধুকপুক করে। অনেকটা কনডেমড সেলের মতো। ছোট কুঠুরিতে বহুদিন পড়ে রয়েছি। একটা ঘুলঘুলির মতো দরজা। মাঝে মাঝে খোলা হয়, একটু খাদ্যর মতো আলো বাতাস পাই। তারপর আবার অন্ধকার। বেশ সেজেগুজে আমি ছিলাম বিদেশে। বলা যায় একটা সুন্দর কাঁচঘরে, আর পাঁচজনের সঙ্গে। সেখানে খদ্দের আসতো। কিনে নিয়ে চলে যেত। আমাকেও কিনে এনেছিলেন এক বাবু। 
বাবু আমাকে ছুঁয়েও দেখলেন না। আমার রংটা যদিও স্লেট রঙের কালচে। তবুও লোকে সুন্দরই বলতো। যাইহোক মালিক ভদ্রলোক বেশ উদার এবং দরদিও ছিলেন। তিনি আমাকে এক প্রিয়জনকে দিয়ে দিলেন। সে তো আমাকে কাছে রাখলো। ব্যবহার করলো। লোকে বললো, 'বাহ! সুন্দর।' আমি বুঝতে পারি না কোনটা সুন্দর, সে না আমি? কিছুদিন পরে সে আমাকে এই বদ্ধ কুঠুরিতে ফেলে রেখে গিয়েছিল। আজও আছি।'

ওই বাবুটি আমার মেজদা। ক'দিন আগে তাঁকে আগুন ঘরে রেখে এসেছি। আলমারির লকারে এক কোণে পড়েছিল ও। গিন্নি খুঁজতে খুঁজতে বার করেছিল। 'সিকো' দম দেওয়া বহু পুরনো জাপানি হাতঘড়ি। পঞ্চাশ বছর আগের। কালো ডায়াল। চকচকে রূপালি কাঁটা। শোরুমের  এককোণে পড়েছিল। বিদেশ থেকে কিনে এনেছিলেন মেজদা। তখন হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষা দেবো। মেজদা উপহার দিয়ে বলেছিলেন, 'এই নে, এটা পরে সময় দেখবি। 

মেজদা আর নেই। ঘড়ির কাঁটাটা দু'ঘর গিয়ে থেমে গেল। 

ঘড়ির কাঁটা সাড়া দিয়ে যেন বলে গেল আমি বেঁচে ছিলাম।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন