শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০

দেবযানী কর সিনহা


এই আষাঢ় মাসের গরমটা অসহনীয়। বলে বোঝানো যায়না। ঘেমে নেয়ে শতবার স্নানের মতো। ডেইলি প্যাসেঞ্জার অতসী। নানা লোকের নানা রকম ঘাম গন্ধ নিজের শরীরে নিয়ে রোজ বাড়ি ফেরে । এত ভীড় হয় বলে বোঝানোর না। এখন অবশ্য অনেকটাই সহ্য হয়ে গেছে। মধ্য তিরিশেও বিয়ে থা করেনি। ওকে দেখে মনে হয় বিয়ে করার খুব একটা ইচ্ছেও আর নেই। বাসী হয়ে গেছে বিয়ের ইচ্ছেটুকু মনের রঙিন স্বপ্নগুলো। সব হারিয়ে গেছে চোরা বালি এসে গ্রাস করে নিয়েছে।

মাঝে মাঝে দুঃস্বপ্ন হানা দেয়। আবার হারিয়ে যায় সেই স্বপ্নের রেশ।
 স্টেশন চত্বর একেবারে ফাঁকা মনে হচ্ছে। স্টেশনের নামটা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। অন্যদিন ট্রেনের ভেতর ভীড়ের মধ্যে নামটা দেখা যায়না। আজকে হঠাৎ নেমে পড়েছে। শরীরটা অস্থির করে উঠল, এমনিতেও এত ভীড় অনেকক্ষণ গেটের মুখে দাঁড়িয়ে ছিল। নেমে পরের ট্রেনটা  ধরবে ভেবে অজানা স্টেশনটায় নেমে পড়েছে।

 এমনিতে ভর দুপুরে লোকজন তুলনামূলক কম থাকে। অন্যদিন অমিত, শিউলি আরো অনেকে মিলে একসঙ্গে হৈ হৈ করে বাড়ি ফেরে । জায়গা শেয়ার করে বসে। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল ট্রেন এরমধ্যে ছেড়ে দিয়েছে। এখন দৌড়েও ধরতে পারবেনা। অগত্যা বসে থাকল। হাতে ঘড়ি নেই, এখন তো ফোনেই সময় দেখে নেয়া যায়। হাত ঘড়ির প্রয়োজন তো দিন দিন ফুরিয়ে আসছে। ফোনে জেনে নেয়া যায় সময়। হাতঘড়ি পরে থাকা খুব অস্বস্তিকর।

 দেখল শেডের নিচে পর পর চেয়ার বসানো। সব স্টেশনেই এরকম থাকে। একটায় বসতে পেরে স্বস্তি পেল যেন। যা রোদ, এই গরমে কোথায় ঘুরবে, একেই অচেনা জায়গা তার উপর ব্যাগ হাতড়েও ফোনটা খুঁজে পেলনা। মাঝে মাঝে অতসী সব ভুলে যায়। করে এক ভাবে অন্য।  মনে হচ্ছে এনেছে কিন্তু পেলনা।  চুপ করে অপেক্ষা করছে। পরের ট্রেন আসবে একটু পরে। হঠাৎ ঘোষণা শুনতে পায় একটু পরে যে ডাউনের ট্রেন আসবার কথা ছিল সেটা ক্যানসেল হয়েছে। আপ এর ট্রেন আসতে অনেক দেরি হবে। দু তিন ঘন্টার বেশি হতে পারে। এবার কী হবে?এখুনি কাউকে জিগ্যেস করে বাইরে  বেরিয়ে বাস ধরবে। আইডিয়া মন্দ না কিন্তু সে তো এই জায়গার কিছুই চেনেনা। তারপর এই জোরালো রোদ।

ভাবল  একটু অপেক্ষা করি । টিনের শেডের নিচে ফ্যান চলছ প্রচন্ড গতিতে, এখানে মারাত্মক গরম নেই তেমন। বাইরে গেলে আগুনের ভাপ লাগছে। জ্বালাধরা অসহ্য গরমের একা একা এইভাবে বসে থাকাও কষ্টকর। সুখী গৃহিণীরা এখন নিরাপদ আশ্রয়ে ঘুমিয়ে আছে। কারো বাড়ি ফেরার তাড়া নেই। আবার ভাবল এই স্বনির্ভর জীবনটাও খুব জরুরি। এর মধ্যে সত্যিকারের স্বাধীনতা। তাও কি ঠিক? আসলে কী যে ঠিক আর কী বেঠিক কে বলতে পারে।

ওর কলিগরা বলে বিয়ে আর চাকরি দুটো চালানো খুব কঠিন। যেমন শিল্প আর প্রেমহীনতা !!!!উফ কত কিছু ভাবছে। অতসী কবি না সে একজন চিত্রশিল্পী। অতীতে সে একটু আধটু রং নিয়ে খেলত। এখন সময় হয়না। একটা বিধ্বংসী ভূকম্পন যেমন সব এলোমেলো করে দিলে চলে গেছে । সেও একটা সংসারী বধূ হতে চেয়েছিলো সেই স্বপ্নটা কালচক্রে বিলীন হয়ে গেল। বড় একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে অতসী। পুরনো কথা নিয়ে ভাবলে একরাশ মনখারাপ জেগে ওঠে। অনেকক্ষণ হল বসে আছে। আশেপাশে কোথাও একটা লোক নেই। স্টেশন এত নির্জন হয় জানত না। যতক্ষণ পরের ট্রেন না আসে অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় কী।

দেখল একটু দূরে কয়েকটা দোকান আধখোলা। খদ্দের নেই একটাও । এখন আর কে আসবে কিনতে। ওই দোকানদারগুলো কি বাড়িতে খেতে যায়না। অনেকটা দূর থেকে একটা ভিখিরি এগিয়ে আসছে,মনে হল ছবির মতো দৃশ্য।  ভিখিরি শব্দটা ওর ভালোলাগেনা। এখুনি যদি দৃশ্যটার স্কেচ করে নেয়া যেত। পেপার পেন্সিল কিছুইতো সঙ্গে নেই।

  এতক্ষণ এইসব চিন্তা করছে। কেউ এসে সামনে দাঁড়িয়েছে খেয়াল করেনি। একঝলক দেখেই চমকে উঠল অতসী।
আমাকে চিনতে পারছ?
কথা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হল
সৌরভ? তুমি?
ওর দিকে তাকিয়ে হাসছে সৌরভ। অতসীর
সারা গায়ে কেমন যেন কাঁটা দিয়ে ওঠে । খুশি হবে না ভয়ে এখান থেকে সরে যাবে। এতদিন পর দুজনের দেখা হল। এটা কীভাবে সম্ভব? ও এখানে এল কিকরে ! অদ্ভুত উদাসীন দৃষ্টি, আগে কত শৌখিন ছিল। একেবারে অন্যরকম  দেখাচ্ছে সৌরভকে। তবে কাঁধে সেই কবেকার পুরনো সুতির ব্যাগটাই আছে । ওটা এখনো কাঁধে নিয়ে ঘুরছে ! ভাবা যায় !যাক এই নির্জন প্লাটফর্মে ভালোলাগছিল না। ভয়টা কাটল। পুরনো কথা তুলবেনা মনে মনে ঠিক করল।

এই কয়েক বছরে পৃথিবীর এত পরিবর্তন হয়ে গেছে আর ওর ব্যাগটা চেঞ্জ হয়নি। ভদ্রতা না করে যায় কোথায়। বলল
-এদিকে কোথায় এসেছিলে? এখনো অতসীর উপর রাগ থাকলে নিশ্চয়ই তাকে দেখে এগিয়ে আসতনা।

-আমি তো এখন এখানেই থাকি। একটা কাজে এসেছিলাম। ট্রেন থেকে নেমে এক নম্বর প্লাটফর্ম হয়ে ফিরছিলাম দেখলাম তুমি বসে আছ। তুমি এখানে কী করছ? কারো জন্য অপেক্ষা?
মনে মনে বিড় বিড় করে বলল, আসলে এখন আমি সব জায়গায় থাকি আতু। নিজস্ব জায়গা বলে কিছু নেই আবার সব জায়গায় আমার অবাধ যাতায়াত বলতে পারো। কেউ কেড়ে নেবেনা। আসলে কী জানো যখন ক্লান্ত হয়ে যাই পাখির মত উড়ে উড়ে এদিক সেদিক যাই। ভরদুপুরে অতসী এখানে কী করছে ভাবল। এত সুন্দর সেজেছে নিশ্চয়ই নতুন প্রেমিক এসেছে ওর জীবনে। কোনো সন্দেহ নেই।
-একটু জল খাওয়াতে পারবে? তৃষ্ণায় গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে !
-ওহ হ্যাঁ দিচ্ছি দাঁড়াও। এক মিনিট।
অতসী আগের মতোই থতমত খেয়ে ব্যস্ত হাতে  ব্যাগে জলের বোতলটা হাতড়ালো কিছুক্ষণ। পেলনা। ফোন নেই, জল পেলনা এসব কী ঘটছে ওর সঙ্গে আজকে বুঝতে পারছেনা।
জলের বোতলটা আছে কিনা অনেকক্ষণ ধরে খুঁজল। পেলনা। কিছুতেই খুঁজে পেলনা অথচ এনেছিল মনে আছে। তাহলে হয়তো ট্রেনে পড়ে গেছে জলের বোতলটা।

একটু জল চাইল, তৃষ্ণার্ত মানুষটাকে একটু জল দিতে পারল না বলে মনটা খচখচ করছে।

 সৌরভ নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছে অতসীর কাছে জল নেই। কবেই বা ছিল, সব নারী তৃষ্ণা মেটাতে পারেনা। বলল, না না লজ্জার কিছু নেই। কী করা যাবে। পরে আমি কাছের নদী না পুকুরে গিয়ে জল খেয়ে নেব। নেই যখন চিন্তা করে কী হবে।সপ্রতিভ হয়ে বলল একটু বসতে পারি, তোমার কাছে? এখানে মাথার উপর ফ্যান। একটু আরাম লাগবে। কতদিন দেখিনি তোমাকে। বলতে বলতে দুহাতে নিজের মাথাটা ধরে ওর পাশে বসে পড়ল। কিছুই টের পাওয়া গেলনা। মনে হল একটা পালক উড়ে পড়ল।
বলে কী, মাথাটা একেবারে খারাপ হয়েছে বোধহয়। কী সব বলে যাচ্ছে তখন থেকে। বর্ষার জলে প্রচুর জীবাণু থাকে তাও আবার পুকুরের ! এখনো বর্ষাকাল আসেনি কিন্তু কদিন ধরে বৃষ্টি ভ্যাপসা গরম। রোদ উঠলে তো আরো সহ্যের সীমা পেরিয়ে যাচ্ছে। না না নোংরা জল খেয়োনা বলতে গিয়েও চুপ করে যায়।

সৌরভকে দেখতে অনেক পাল্টে গেছে। যখন সম্পর্ক ছিল একটু আলাদা ছিল। তবু এখন অনেক পরিণত বোঝা যাচ্ছে। পুরোনো কথা তুলে তর্ক করার ইচ্ছে হলনা অতসীর। দোষ কার, এর মধ্যে ভুলে যাবার কথা না। ভাবল ফোন নম্বরটা চেয়ে নেবে। পরে একদিন যা বলার,বলবে। তাতে যদি বাবুর মান ভাঙে।
তেষ্টায় ছটপট করছে। মুখে না বললেও অতসী বুঝতে পারছে ভালো করে। ওর চোখ,  জিভ ঠেলে বেরিয়ে আসছে। কী বীভৎস দেখতে লাগছে ওকে।অতসী সহজে ঘাবড়ে যায়না। চারিদিকটা একবার দেখে নেয় কোনো হকার কে দেখলে জল কিনে নেবে। ঘাড় উঁচু করে দেখে নিল কোনো ফেরিওয়ালা আসছে কিনা। নাহ আশেপাশে কাউকে দেখা যাচ্ছেনা।

ততক্ষণে সৌরভ নেতিয়ে পড়েছে।
- শরীর খারাপ লাগছে তোমার?
উঠে দাঁড়ায় অতসী। নাহ দূরে একটা দোকান খোলা আছে মনে হচ্ছে।একদিন বেইমানের মতো ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে গেছিল। এখন দেখা হতেই প্রেম উথলে উঠেছে। চার পাঁচ বছর আগে অতসী কেন যোগাযোগ বন্ধ করল কেউ জানেনা। কেন সৌরভের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কটা শেষ করে দিয়েছিল হয়তো কেউ জানেনা। কাউকে বলেনি। এখন যা পরিস্থিতি এসব ভাবার সময় নেই। বাইরে প্রখর রোদ। রোদ তাতে কী। যেতেই হবে। একটা ব্যবস্থা না করলে সারাজীবন অপরাধী হয়ে থাকবে নিজের কাছেও। কী করবে?
কোথাও যেতে হবেনা। একটু পাশে বসো। ব্যস !আমি একটু পরে চলে যাব।তোমাকে ট্রেনে তুলে দিয়ে যাব। কথা বলতে বলতে চেয়ারেই ওর কোলে মাথা রেখে টানটান হয়ে  শুয়ে পড়ে।  নিরুপায়।  দিশাহীন। দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে অনেকটা সময় বসে থাকল অতসী।

কয়েকটা কাক বিশ্রী চিৎকার করে মাথার উপর দিয়ে উড়ে গেল ঠিক তখনি। গায়ে নোংরা ফেলে গেল কিনা দেখে নেয় অতসী। সৌরভ এত খুঁতখুঁতে ছিল এখন একবারও দেখলনা। হুঁশ নেই। অচেতন হয়ে পরে আছে।
অতসীর কোলে ওর মাথা রেখে দিব্যি শুয়ে পড়েছে। বাধা দিতে পারলনা। লজ্জা লাগছে এই সময়ে যদি কোনো ট্রেন এসে যায়। প্রচুর না হলেও কিছু প্যাসেঞ্জার তো নামবেই । চেনা কেউ দেখতে পেলে কী ভাববে। সৌরভের মাথাটা পাখির মতো হালকা যেন শোলার বল।
ভাগ্যিস আজ ভুল করে এইখানে নেমে পড়েছে নাহলে ওর সঙ্গে হয়তো কোনোদিনও দেখাই হতনা ! অতসী মুখ নিচু করে দেখল সৌরভ ওর দিকেই একদৃষ্টে দেখছে। চড়ুই পাখির মতো চোখদুটো।

তাহলে যা শুনেছে সেটা ভুল। সৌরভ বেঁচে আছে।  আচ্ছা, আতু তোমার বাড়িতে ঘুলঘুলিতে একটা চড়ুই আসেনা? মনে করে দ্যাখো আসে কিনা। রোজ ওকে জল দেবে। ভুলে যেওনা। দিও কিন্তু
ওর শরীরটা এত হালকা লাগছে অথচ কত লম্বা ভারী ছিল একসময়। দেখে কিন্তু বোঝা যায়না।

মাথাভর্তি উসকো খুসকো চুলগুলো আঙুল দিয়ে নেড়ে দিচ্ছে। এত প্রাণচঞ্চল মানুষটা অদ্ভুত শান্ত হয়ে গেছে। গালের দাঁড়িগুলো সেভ করা নেই, কাঁটার মতো খোঁচা দিচ্ছে। অতসী ফিরে গেছে পুরনো সময়ে। আবার নতুন করে সব শুরু করা যায়। সবকিছু আগের মতো হয়ে যাবে ভেবে শিহরিত হচ্ছে।

একসময় অতসী চোখ ফেরাতে পারত না যাকে দেখে সে এখন কত অসহায়। তাতে কী একটু ভালোবাসা পেলে মুহূর্তে পালটে যাবে।জানো  কতবার ভেবেছি তোমার পোট্রেট বানাবো কিন্তু অস্থির তুমি সময় দিতে পারোনি। তোমার ছবি সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ত। বিয়ের পর অর্থাভাব থাকত না আমাদের । মুখচোরা মেয়েটা বেপরোয়া হয়ে কথা বলছে আজকে । অনর্গল বকবক করছে। উপরে তাকিয়ে কী ভাবছ। 
আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে কবিতা বলছ?
না  না এখন আর লিখিনা। মানুষের হাড়গোড় নিয়ে মজ্জা আর রক্ত দিয়ে বানানো কালিতে লিখতে বলছ? সেদিন আর নেই অতসী? এখন সব বুঝতে পারি, সুখী না হলে লেখা যায়না। তোমাকে ছেড়ে সুখ কীভাবে আসবে বলো?
যাক এতদিন পরে দেখা হল যখন এখনো বেলা পরে আছে, নতুন করে বাঁচা যায়। আবার যদি শুরু করা যায় খারাপ না, অতসী তাকে ছেড়ে গেছিল সৌরভ ছেড়ে যায়নি মনে পড়তেই কুঁকড়ে যায় অতসী। সেও এটাই চাইছে।

ওকে দেখে মনে হচ্ছেনা এতটুকু রাগ আছে। ঘাম রুমালে মুছে নেয়। সৌরভের কপালে বিন্দুমাত্র ঘাম জমেনি।
আস্তে আস্তে জায়গাটা আরো নির্জন হয়ে গেল। একটা দুটো করে পাখিরা আসতে শুরু করেছে। ওদের বাসাগুলো ওই শেডের তলায়। গাছে থাকেনা। একটা থেকে শ'য়ে আসতে শুরু করল।
 একটা বিকট শব্দ শুনে চমকে ওঠে দুজনেই। সৌরভ উঠে বসে। অতসী দেখল বিরাট বড় একটা চিল সৌরভের মাথার উপর দিয়ে পেরিয়ে গেল।


ঠিক সেই সময়ে ট্রেনের শব্দ পেয়ে প্রায় লাফ দিয়ে উঠে বসল সৌরভ। চারিদিকটা একবার দেখে নিল। চলো এখন থেকে চলে যাই।
ট্রেন আসছে তোমার। এগিয়ে যাও।

-তুমি এখন কী করবে এখানে? চলো একসঙ্গে যাব।
 -নাহ আমি একদিন তোমাদের বাড়িতে যাব বলল সৌরভ। ওর হাতে সময় নেই এত ব্যস্ততা।
ট্রেন দু মিনিট দাঁড়াবে প্রায় ঠেলে ওকে তুলে দিল কেউ।অতসীও ব্যস্ত পায়ে ট্রেনে উঠে পড়ে।

-কিন্তু তোমাকে যে কতগুলো কথা জানানোর  ছিল ! না বলেই চলে যাব? আবার কবে দেখা হবে। বিশ্বাস করো, আমি পরিবারের কথা ভেবে তোমাকে,,,, আর কোনো উপায় ছিলনা।

 ওর কোনো কথা সৌরভ শুনলনা। বিকেল হয়ে আসছে। এখুনি ফিরে যেতে হবে। পাখিরা বাড়ি ফিরেছে আমাকেও ফিরতে হবে। পাখির মতো গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়ায়। একটা কথা শোনো, এই পৃথিবীতে রক্তপাত ছাড়া সবকিছু সুন্দর।

- এখন দোকানপাঠ খুলে যাবে।লোকজন আসতে শুরু করবে। ফোন নম্বরটা? ট্রেন ততক্ষণে স্পীড নিয়ে নিয়েছে । দুজন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। অতসীর কোনো কথা সে আর শুনবে না। তাকে এখন কোথাও কোনো নদীর চড়ে গিয়ে বসতে হবে। তার ডানার নিচে সারারাত চুপ করে বসে থাকবে একটা কাঁকড়া।  সন্ধে হবে রাত নামবে তারপর তাকে কোনো বাড়ির কার্নিসের নিচে চুপ করে থাকতে হবে সারারাত।

পেছন ফিরে দেখে সৌরভ চলে গেছে কিন্তু একটা বড় চড়ুই উড়ে গেল পুরো প্লাটফর্ম জুড়ে, তখন যে  চিলটা দেখেছিল সেও উড়ল একসঙ্গে।



1 টি মন্তব্য: