শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০

দীপালোক ভট্টাচার্য। পারক গল্পপত্র


১. 
অন্যদিনের চেয়ে আজকের সকালটা আলাদা মনে হচ্ছে কেন? সেই তো একই  মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙা। কিন্তু সেই ডাকটাও মনে হল  অন্যরকম। মোবাইলের অ্যালার্মের মতই  পূর্ব নির্ধারিত সময়ে পূর্বনির্ধারিত কণ্ঠস্বরে পূর্ব নির্ধারিত কম্পাঙ্কে ডেকে ওঠা, ‘বাবু, বাবুরে, উঠবিনা?’ আজ খুব সম্ভবত 'বাবু'র পর 'রে' বলেনি মা। একটা ধ্বনির উচ্চারণ বা অনুচ্চারনে ভাবপ্রকাশটাই কেমন পালটে যায়, তাই না?  অথবা এটাও হতে পারে, পুরোটাই শোনার ভুল।প্রায় সারারাত এপাশ ওপাশ  করার পর ভোরের ঠিক আগে আগে চোখ লেগে যাওয়া একটা মুহূর্ত তৈরী হয়,যখন মনের চেতন, অচেতন আর অবচেতনের ঘরগুলোর দেওয়াল ভেঙে যায়  হঠাৎ করেই, বাস্তব আর স্বপ্নের এক বিচিত্র ককটেলে তৈরী হয়; সেই আবছায়া   ঘোরলাগা মুহূর্তে  মা ঠিক কী বলেছিল সেটার পূর্ণাঙ্গ   প্রতিচ্ছবি তৈরী হয় না মনের সেলুলয়েডে।  আর প্রবল মনখারাপের মুহূর্তে মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই  আহত হতে চায় অবচেতন মনে। এই দুঃখ বিলাসিতাকে প্রশ্রয় না দিয়ে পারে না বাপী।  

বালিশের তলা থেকে মোবাইল টা বের করে দেখে সাতটা মোবাইল বার্তা। এলো নাকি সেই কাঙ্খিত মেসেজ, যার জন্য এখনো অপেক্ষা করে আছে বাপী? হয়ত স্যাটেলাইট, মোবাইল টাওয়ার অথবা বায়ুমণ্ডলের ট্রপোস্ফিয়ার, স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার এর কোন এক কোনে দিন কয়েক ঘাপটি মেরে থেকে হঠাৎ করে আগমন হয়েছে বাপীর ফোনের ইনবক্সে। না। মোবাইল কোম্পানীর ছাড়ের বিজ্ঞাপন, ব্যাংক থেকে আসা মাসের শেষ সম্বল দুশো টাকা তোলার ট্র্যাঞ্জাকশন বৃত্তান্ত আর সাহানার আকুতিভরা বার্তা – ‘ প্লিজ ফোনটা ধর... এভাবে ভেঙে পরিস না...  আমি আর টেনশন নিতে পারছি না’ ছাড়া আর কিছু নেই।

ধুর!

গেঞ্জিটা গায়ে গলিয়ে যেই বারান্দায় পা দিয়েছে বাপী ওমনি মায়ের সাথে চোখাচোখি হয়ে গেল। এই দু দিন ধরে যতটা সম্ভব মায়ের সাথে সরাসরি দৃষ্টিবিনিময় এড়িয়ে চলছে বাপী। চোখাচোখি হলেই মায়ের চোখের ঝাপসা দৃষ্টিতে পড়তে অসুবিধা হয় না একরাশ উৎকণ্ঠা। কিন্তু এ যাত্রায় এড়ানো গেল না।

 -‘বাবুরে, দেখচিস মোবাইলটা?  সকালে জল আনতে গেছিলাম ট্যাপে’, বাপীর মা ভারী বালতিদুটো নিকোনো বারান্দায় রাখতে রাখতে বলল, ‘ঐ যে রবিকাকার বড় পোলা আছে না, আরে ঐযে কি জানি নামখান ভুইলা গেলাম, আরে তপন, তপন। ও কইল দক্ষিন পাড়ার একটা মেয়ে আছে না, আরে তোদের সাথে ডি এড পড়ল, ওর নাকি কাইল রাতে মেসেজ আসচে। সোমবার না মঙ্গল বার ওরে ডাকচে, কোন পেরাইমারিতে চাকরি নিবে ওইটা ঠিক হবে। ওই কইল, মাসিমা বাপীরে কইইয়েন তো মোবাইলটা চেক করতে। আগে কার চাকরি হইলে জানা যাইত। এখন বইয়া থাক তীর্থের কাকের মত। কখন মেসেজ পাঠাব মোবাইলে কর্তারা। অই, তুই হাতমুখ ধুইচিস?’
 -‘এইতো ধুইতেছি’, বাপী একটা বড় হাই তুলে বলল।
 -‘তাড়াতাড়ি কর। তোর ছাত্র-ছাত্রীরা আইয়া বইয়া থাকব। সাতটায় টাইম না টিউশুনির?’, মা তাড়া লাগালো বাপীকে, ‘এত ঢিলামি করতাছিস ক্যান? মুখ ধো। আমি তোর চা দিয়া আসতেছি টেবিলে, ঠিক আছে? মুড়ি খাবি তো? তেল দিয়া একটু মুড়ি মাইখা দেই, বুঝলি?’
 -‘আইজ পড়ামু না মা’, মায়ের দিকে না তাকিয়েই বলল বাপী।
 -‘পড়াইবি না ক্যান শুনি? এমন মন খারাপ কইরা বইয়া থাকস না’, বাপীর মা ছেলের কাছে আসল, ‘দ্যাখ বাবা, তুইও তো কম চ্যাষ্টা করলি না বাবা। দুইবেলা পেরাইভেট পড়ায়, রাত জাইগা পড়লি পেরাইমারির চাকরির লগে। কি আর করবি রে বাবা। কপাল কপাল। আর শুন, এমন তো না যে, এইবার পাইলি না বইলা সারাজীবন তুই বেকার থাকবি। জল আনতে গেলাম না একটু আগে, ওইত্তো, অইহানে গনসার মা কইল সামনে নাকি গুরুপ ডি’র পরীক্ষা আছে। কয় লাখ চাকরি দিব গুরুপ ডি পুষ্টে। তারপর পেরাইমারীতে তো আরো লোক নিবই। দুই বছর পরে হইলেও নিব, তাই না? যা বাবা, দেরী করিস না’।
 -‘কইলাম তো আইজ পড়ামুনা’, বাপী গলায় ঝাঁঝ।

দাঁত মাজা পেষ্টের গন্ধটায় কেমন গা গুলিয়ে উঠল বাপীর। একবার ওয়াক উঠল। কিন্তু বমি হল না। মুখটা কেমন টক হয়ে আছে। রাতে ঠিকমত খতে পারেনি। ঘুমও হচ্ছে না ঠিকঠাক।



২. 
 -‘কিরে বাল উঠবি না। ওঠ। শালা সাড়ে দশটা বাজে, লাটসাহেবের ওঠার নাম নেই’, তন্ময় কুন্ডলী পাকিয়ে শুয়ে থাকা বাপীর শরীরে একটা লাথ কষিয়ে বলল।
 বাপী কোনরকমে চোখ মেলল। কিন্তু ঠাহর করতে পারল না কোথায় আছে। বেসিনে মুখ ধুতে গিয়ে বুঝলো, পুরো পাকস্থলী টক হয়ে আছে।
 ওর মনে পড়ল, সন্ধ্যেবেলা সমীরণ এসে বলল, ‘আই বাপী, দেড়শো টা টাকা ছাড়। জলদি’। সেটা ছিল মাসের মাঝামাঝি। তার মানে বাবার টাকা পাঠাতে আরো দিন দশ।  বাপী মনে মনে অঙ্ক কষল, পার্স থেকে দেড়শো টাকা বেরিয়ে গেলে পরে থাকা মাসটায় অসুবিধা হবে কি না।
 ‘আরে না থাকলে বল, আমি দিয়ে দিচ্ছি। পরে দিস এখন’, বাপী বুঝল সমীরণ তাড়া লাগাচ্ছে, ‘আরে কিশলয়ের বোন স্টার পেয়েছে মাধ্যমিকে। ও পাঁচশো ছাড়বে। বাকীটা আমরা শেয়ার করব। যা পার্টি হবে না, ভুলবি না, কথা দিলাম’।
 তারপর পার্স থেকে নোট খুচরো মিলিয়ে দেড়শো টাকা বের করে দেওয়া, রাতে হোস্টেলের মিল অফ করে রুটি তড়কা সহযোগে একের পর এক বীয়ারের বোতল খোলা। এবং প্রথমবারের মত বাপীর আকণ্ঠ বীয়ার পান। সমীরণের ব্লু- টুথ স্পীকারের জোরালো গানের সাথে উদ্যাম নৃত্য।

 কোনোরকমে নাকে মুখে কিছু গুঁজে কলেজে রওনা হবার সময়  বাপীর মনে পড়ল, এস কে ডি স্যারের কাছে লেসন প্ল্যান জমা দেওয়ার ডেড লাইনের কথা। ও ভেবেছিল গতকাল রাতে কভার পেজ টা এঁকে ফেলবে। কিন্তু রাতের হুজ্জুতির কারনে সেটা করে ওঠা হয় নি। আবার কিছু একটা মিথ্যে বলতে হবে স্যারের কাছে। লেখাপড়ার প্রতি একাগ্রতা আর পারিবারিক অবস্থা – এই দুটো কারনে এস কে ডি স্যারের একটা পক্ষপাতিত্ব আছে বাপীর প্রতি সেটা ও ভালোই বুঝতে পারে। স্যারকে কী  বলা যায়? এমনিতে সবাই দোকান থেকে কালার প্রিন্ট করিয়ে নেয় প্রোজেক্ট ওয়ার্ক বা লেসন প্ল্যানের প্রথম পাতা। সেটা একদিকে সুবিধে। কিন্তু বাপী নিজের হাতেই করে। ওর আঁকা এবং লেখা – দুটোর হাতই ভালো। আর যেটা সবাই কে বলা যায় না, নিজের হাতের করলে সময় হয়ত একটু বেশী লাগে, কিন্তু প্রিন্ট করার খরচ টা বেঁচে যায়। স্যারকে কী বলবে, স্কেচ পেন ফুরিয়ে গেছে, কেনা হয় নি? নাকি অন্য কিছু?

 সাহানাকে একটা ফোন করলে কেমন হয়, বাপী ভাবল। সাহানা যে মেয়েদের মেসটায় থাকে, তার পাশেই একটা জেরক্স-প্রিন্টিং এসবের দোকান। যতদূর মনে হয়, এখনো বেরোয় নি ঘর থেকে। এসব দোকানের কম্পিউটারে ফরমাস মত ছবি থাকে, বললেই নাম, রোল নাম্বার, কোন বিষয়ের লেসন প্ল্যান – টাইপ করে ছেপে দেয় মিনিট কয়েকের মধ্যে। পকেট থেকে ফোনটা বের করেও কি মনে করে আবার ঢুকিয়ে রাখল বাপী। একটা দ্বিধা কাজ করছে অবচেতন মনে। আসলে সাহানা কী ভাববে? আবার হয়ত এটাও হতে পারে ও কিছুই ভাবল না। আসলে সাহানা সম্পর্কে হয়ত বেশী কিছু ভেবে ফেলেছে বাপী। মেয়েদের থেকে একটু দূরে দূরেই থাকত ও স্কুলে পড়ার সময়। এখানে প্রথম  সেই সংকোচটা ভাঙায় সাহানা, নিখাদ বন্ধুত্বের আহ্বানে। তারপর থেকে একটা কেমনতর ভালোলাগার জন্ম। কভার পেজের ফরমাশ জানিয়ে একটা ফোন কি এই ভালোলাগায় মালিন্য আনবে? আবার ফোনটা পকেট থেকে বের করে সাহানার নাম্বার ডায়াল করে বাপী।

 বাপী নিজেই বুঝল ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে ও। নিজের কাছে এক এক সময় অচেনা লাগছে নিজেকে। এক এক সময় অপরাধবোধ গ্রাস করছে চেতনা কে।     বাবার জমি বিক্রীর টাকায় বেসরকারি প্রাইমারী টীচার্স ট্রেনিং কোর্সে ভর্তি হয়ে বাবারই ঘামঝরানো পরিশ্রমের অর্থে মদ্যপান, হুল্লোড়, মস্তি।

 কিন্তু যেটা হল, কিছুদিনের মধ্যে এই অপরাধবোধ মনের গহনে লালন করে হুল্লোড়বাজিতে মেতে ওঠার আর্টটা অভিযোজন করে নিতে পেরেছিল বাপী। এটা পেরেছিল বলেই হয়ত হোষ্টেল জীবনে একঘরে হয়ে যায়নি ও বাকীদের মত, যাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থান বাপীর মতই। শুধুমাত্র বাবা কষ্ট করে পড়াচ্ছে এই যুক্তিতে ক্লাস শেষে বিকেলের চা সাথে টা, মাঝে মাঝে মুভী দেখা, ফোনের নেটপ্যাক, মাঝে মাঝে দু একটা জামাকাপড় কেনা, কিপ্টেমি করে স্প্রে করলেও দু মাস অন্তর একটা ডিওড্রেন্ট – এ সব কিছুকে এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দেবার মত সাহস বোধ হয় ছিলনা বাপীর। আর সিনেমায়, সোশাল মিডিয়ায় সদ্য যুবাদের যে রকম ইমেজ তৈরী হয়েছে, ঠিক সেরকম ছাঁচে নিজেকে ঢেলে দেওয়ার একটা সুপ্ত বাসনা কাজ করেছিল বাপীর মধ্যে। বাবার মত সকালে গোয়ালঘর থেকে গরু বের করার বদলে অলস চোখে মোবাইলের নেট অন করাতেই বাপীর বেশী স্বস্তি। মহানগরের কর্পোরেট জীবন না হোক, একটা ছোট চাকরি, গ্রামের বাড়ী ছেড়ে শহরে একটা ছোট আস্তানা, একটা ছোটখাটো পেট্রোল বাহন আর সাহানার সাথে একটা সাজানো গোছানো সংসার – এটুকু স্বপ্ন তো দেখতেই পারে বাপী, বিশেষত যেখানে তাকে এভাবেই ভাবতে শিখিয়েছে ছোটবেলা থেকে সব্বাই। ‘বাপী সত্যি গ্রামের গর্ব’, ‘দেখো এ ছেলে একদিন অনেক বড় হবে, দেখো’, ‘চাষার ছেলে একদিন লাঙলের বদলে চক ধরবে, মাষ্টর হবে, দেখে নিও’ – মাধ্যমিকের পর এসব শুনতে শুনতে কান পচে গেছে বাপীর। আগে ভালো লাগত খুব।  এখন এসব ভাবতে গিয়ে শুধু একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেরিয়ে এল।




৩.
   -‘ছার, পড়াবেন না আজকে?’
 বাপী চাঁপাকলে মুখ ধুচ্ছিল।  ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে কুদ্দুস এসেছে। সাথে আরো জনা কয়েক ছেলে মেয়ে। এবারের মাধ্যমিকের ব্যাচ। রাস্তার ধারে ওদের ধানীজমিতে দরমার একটা একচালা ঘর করে বাপী সকাল বিকেল ছাত্র পড়ায় ব্যাচে ব্যাচে। প্রায় বছর খানেক ধরে। এর মধ্যেই টিউশন মাষ্টার হিসেবে বেশ নামডাক হয়ে গেছে। আসলে গ্রামে ভালো ছাত্র হিসেবে একটা পরিচিতি ছিলই। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকে ভালো নম্বর – প্রাইভেট টিউশনের বাজারে এগুলোই বড় পুঁজি।

   কুদ্দুসকে কী বলবে, ভেবে পেলনা বাপী। কয়েকটা ছেলে-মেয়ে ভোরবেলা সাইকেল চালিয়ে  এসেছে তার কাছে, অনেকে আবার মাসের প্রথম বলে ক’খানা একশো টাকার নোট সমৃদ্ধ  খামও নিয়ে এসেছে সাথে করে। চট করে না বলতে কেমন লাগল বাপীর।

 ‘আজকে কোনটা পড়ানোর কথা ছিল যেন?’, একচালা গুমোট টিনের ঘরে দুটো বেঞ্চে গাদাগাদি করে বসা জনা দশেক ছেলেমেয়ের দিকে প্রশ্নটা ছুড়ে দিল বাপী।
 ‘প্রাকৃতিক ভূগোলের ঘূর্ণবাত স্যার’,  রত্না জবাব দিল।

 ‘আগের দিন তোদের উচ্চচাপ আর নিম্নচাপের ব্যাপারটা বলেছিলাম, মনে আছে নিশ্চই’, নিবিষ্ট ভঙ্গিতে বলতে শুরু করল বাপী, ‘তো, ধরে নে খুব ছোট জায়গায় খুব গরম পড়ল। তার ফলে অত্যাধিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সেখানে গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হবে। তাহলে বায়ুর সমতা রক্ষার জন্য আশপাশের উচ্চপাপ কেন্দ্র থেকে বাতাস তীব্রভাবে ছুটে আসবে পাক খেতে খেতে’।
হঠাৎ একটা ঘোরের রাজ্যে চলে গেল বাপী। এই একচালা  টিনের ঘর, ওর পড়ার টেবিলের বইখাতা, মা-বাবার হতাশাকে গলায় আঁটকে রেখে ভালো থাকার ভান, পড়শির জিজ্ঞাসু চোখ - এই সবকিছুই যেন তৈরী করেছে এক প্রবল নিম্নচাপ কেন্দ্র।

 ঠিক সেই মুহূর্তে বাপীর পকেট কেঁপে ওঠে। পড়ানোর সময় মোবাইলের আওয়াজ বন্ধ করে রাখে বাপী। বুঝলো একটা মেসেজ এসেছে। চাকরী পাওয়ার সেই কাঙ্ক্ষিত বার্তা এলো কী? নাকি সাহানার হয় এস্পার নয় ওস্পার রকমের মেসেজ। ও বলেছিল, বাড়ী থেকে নাকি বিয়ের কথাবার্তা চলছে। ওর বাবার বন্ধুর ছেলে; বাইরে বড় চাকরী করে, দেখতে আসার কথা। সাহানা কী শেষবারের জন্য কিছু বলতে চাইছে? পকেটে হাত দিয়ে গিয়ে ভাবল, থাক।

ছোট্ট জানালা দিয়ে বাপী দেখলো ছাইরঙা আকাশে ঝলসে উঠছে বিদ্যুৎ স্ফুলিঙ্গ। শনশনে বাতাস জানালার শার্সিতে জানান দিয়ে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ল ঘরে। কড়াৎ করে দূরে কোথাও বাজ পড়ল। বাপী কি পড়াবে বুঝতে পারল না। 

  

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন