শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০

অমর কুমার পাল। পারক গল্পপত্র


বুনিয়াদপুর থেকে দৌলতপুরগামী অটোতে তিনজন প্যাসেঞ্জার বসে | রাকেশ অটো স্টার্ট দিয়ে তারস্বরে পাঁচমিনিট ধরে প্যাসেঞ্জার ডেকে ডেকেও কারোই দেখা পাচ্ছে না ।

তার মুখের ফেনা যখন বিধবার সিঁথি হয়ে উঠছিল, তখন হন্তদন্ত হয়ে এক শিক্ষিকা এসে বসলেন | বসার এক মিনিটের মধ্যেই, এই ভাই চলো | আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে ?

এই শিক্ষিকা সাতটাকা ভাড়া বাঁচানোর জন্য কলিগের বাইকে যান রোজ | আজ
কলিগ আসবে না তাই বাধ্য হয়েই অটোতে ।

----- কি করে যাব ম্যাডাম বলেন | চারজন নিয়ে গেলে তেলের দামও যে উঠবে না।

আরও দুইমিনিট অতিক্রান্ত |

----- আরে ভাই চলো ! স্কুলে পরীক্ষা চলছে | দেরিতে ঢুকলে বকা খেতে হবে ।
সবসময় কি লাভ দেখলে চলে, বলো !

রাকেশের বলতে ইচ্ছে করল যে, এত টাকা বেতন পান, একটু আগে বেরোলেই
তো পারেন | যে কর্মের ওপরে সংসার চলে তার প্রতি কেন যে এত অবহেলা !
কয়েকজন মাস্টার তো বারোটার পরে বিদ্যালয়ে ঢোকেন প্রতিদিন | রাকেশের সাড়ে এগারোটার ট্রিপে আসেন তারা | কিন্তু রাকেশ কথাগুলি বলতে পারল না।
চারজন নিয়ে ছাড়তেই হল অটো। তবু রাস্তার প্যাসেঞ্জারের আশায় রাকেশের
অটোর গতি আজ মন্থর ।

------ আরে ভাই, টেনে চলো | দশটা চল্লিশ বেজে গেল যে!

নলপুকুরে একজন প্যাসেঞ্জার হাত দেখাচ্ছে দেখে গাড়ি থামাল রাকেশ ।
----- কোথায় যাবা ?

------ দৌলতপুর । কিন্তু একটু দাঁড়াও আরও দুইজন আছে ।

প্যাসেঞ্জারের আবদার শুনে মাথা গরম হয়ে গেল সেই শিক্ষিকার ।
------ আরে এইভাবে গাড়ি দাঁড় করিয়ে প্যাসেঞ্জার তোলা যায় নাকি! এক্কেবারে
যা তা শুরু করেছ তো ! তুমি চলো ভাই, আমি পুষিয়ে দেব।

শিক্ষিকার কথায় আশ্বাসিত হয়ে অনিচ্ছাসত্বেও, তিনজন পনের টাকা করে ভাড়ার দৌলতপুরের প্যাসেঞ্জার ছেড়েই, সর্বাধিক গতিতে গাড়ি ছাড়ল রাকেশ।

ম্যাডামের স্কুল এল ঠিক সময়েই। রাস্তার সঙ্গেই লাগানো ম্যাডামের স্কুল।  তার ভাড়া সাত টাকা । স্কুল গেটের একেবারে সামনে নেমে তিনি দশ টাকার একটি নোট ধরিয়ে দিয়েই হাঁটা দিলেন |

রাকেশ নোটটি ধরে হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকল ম্যাডামের যাওয়ার দিকে!  ম্যাডামের পিওরসিল্ক শাড়িতে সূর্যের আলো উঁকি মারায় ঠিকরে বেরোচ্ছে তার দীপ্তি । সেই বর্ণচ্ছটায় রাকেশের ভেজা চোখ শুকিয়ে গেল মুহূর্তেই।







1 টি মন্তব্য: