শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০

তন্বী হালদার। পারক গল্পপত্র


শব্দকোষ সৃষ্টি হয় আমার শিরা উপশিরা ধমনীতে। এরা রক্তে গিয়ে মেশে। এদের সাথে আমার তখন রক্তের সম্পর্ক তৈরী হয়। এই সব শব্দগুলোকে আমি ধারণ করি জঠরে। তারপর লালন পালন করে উগরে দেই অক্ষরমালার কাছে। কালো কালো অক্ষরের কাছে আমার মাতৃ পিতৃ ঋণ জমতে থাকে। যে ঋণ অপরিশোধ্য। আমার ঘোর কাটে না। কেবল এক চেতনা থেকে আর এক চেতনায় আচ্ছন্ন হয়ে যাই। তোমাকে হারিয়ে ফেলার ভয়ে তোমাকে ছেড়ে যাচ্ছি। এই যাওয়ার মধ্যে একধরনের তর্জনীর যৌন গমনের মতো দিক নির্দেশ আছে। চল্লিশটা ট্র্যাঙ্কুইলিজার অথবা একটা ভেঁড়ীর গল্প হতেই পারতো একটা গল্পের নাম। তার বদলে উঠে এলো চকোবার। বেশ আধুনিক। সেক্সি। লকডাউনে কনডোম কেনা ছিল না আগে থেকে বলে অনেক মহিলা অনিচ্ছাকৃত মা হয়ে গেল। মৃত সৈনিকের পাঠ করতে করতে স্বামীর ভূমিকায় এতদিন পার্ট করতো যারা তাদের হাতে খেলনা বন্দুক দিয়েছে রাষ্ট্র। কে যেন বললো, সবাই কে নিয়ে চলতে শেখো। তার মানে আমি কি হিংসুটে। একাই খেতে চেয়েছিলাম চকোবার! কিন্তু একটা আইসক্রিম ক'জন কেই বা তুমি খাওয়াবে? এরপরের শর্ট ছিল ফ্রীজ হয়ে যাওয়া দৃশ্য। আর ঠিক তখনই কোথায় ঘন্টা বাজলো সেটাই ঘড়ির। ঢং ঢং ঢং ঢং। ছোটো বেলায় দুলে দুলে পড়া ইংরাজি প্রবচন আবার মনে পড়িয়ে দেয় time and tide wait for none. 

শুধু তুলতুলে রেশম লার্ভা পোড়ানোর কটু গন্ধ নাকে আসে। তোমাদের আসে? কি করা যাবে রেশম সিল্কের জন্য এটুকু ত্যাগ তো করতেই হবে ইয়ার। এই তোমার কাজ নেই। রাতে আমার স্বপ্ন দেখো? তাহলে কি আর ঘুমাবো না। জেগে থাকবো। স্বপ্ন দেখার ফ্যান্টাসি বন্ধ করতে। নাকি মহাঘুম!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন