শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০

পার্থসারথি রায়। পারক গল্পপত্র



সম্রাট এর সাম্রাজ্য বলতে পূর্ব পুরুষের রেখে যাওয়া একটি টিনের চালের ঘর।  তার মধ্যেই একদিকে মানুষ অন্যদিকে গৃহপালিত প্রাণীর অবস্থান। সে ঘরের ফুটো চালে ভেতর থেকে রোদ-বৃষ্টির দেখা মেলে। বিয়ের মাস কয়েক পর তার মা পরলোক গমন করেন। বাবা বছর দেড়েক পূর্বে স্বর্গে গিয়েছেন। তার সংসারের সদস্য বলতে বর্তমানে একটি দেশী গাই গোরু, দুটো ছাগল, দুটি মুরগি  আর স্ত্রী  দুলালী। আদর করে স্ত্রীকে সে দুল বলেই ডাকে। মাধ্যমিক স্কুল পাশ সম্রাটের বিয়েতে দুলের বাবা টিভি, হাট থেকে কেনা বড় চৌকি- আলনা, সিলভারের বড় বড় বাসনপত্র, কাপড় রাখবার ট্রাংক সবকিছুই দিয়েছেন। গুন যাই থাকুক দুল রূপে সাক্ষাৎ লক্ষ্মী।
     সম্রাটের বাবা-মা জীবিত থাকা অবস্থায় সংসারের একটু উন্নতি একটু ভালো থাকার অনেক স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু শেষমেষ তারা চরম দারিদ্রতার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে একে একে এ ধরাধাম হতে বিদায় নিয়েছেন।  বিপিএল তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও তাঁরা পাননি  সরকারি প্রকল্পের একটি ঘর পর্যন্ত। বৃদ্ধ ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে আজীবন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে তাঁরা পেয়েছিলেন শুধুই আশ্বাস।  সম্রাটের বাবা-মা তাকে বেশিদূর লেখাপড়া শেখাতে পারেননি। ছেলে একদিন অনেক বড় হবে। সে আশায় তার নাম রাখা হয়েছে সম্রাট।
  পরবর্তী বংশধরকে সুশিক্ষিত করার গভীর ইচ্ছের কথা সম্রাট একদিন দুলকে জানায়। এতে দুল ফোঁস করে ওঠে। সে বলে, "হাঁড়িতে ভাত নেই। বংশকে শিক্ষিত করার শখ কত।" এ কথায় সম্রাট চুপ হয়ে যায়। জীবনের রঙিন স্বপ্নগুলোর কথা তার আর বলার সাহস হয়না।  এদিকে গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ কাজের সন্ধানে  স্বপরিবারে ভিন রাজ্যে পারি জমিয়েছেন। বাড়িতে তাদেরকেও প্রায় দিন উপোস থাকতে হচ্ছে। অভাবের তাড়নায় ঘরের বাসনপত্র বিক্রি করে খাওয়া শেষ। এখন শুধু অবশিষ্ট ঘরে ট্রাঙ্কের উপর রাখা টিভিটি। শেষমেষ দুলও কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে যাবার সিদ্ধান্ত নিতে সম্রাটকে বাধ্য করে। অবশ্য দুলের বাবাও ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করেন।
  একদিকে অপুষ্টি ও তামাকের কাজ, অন্যদিকে সুচিকিৎসার অভাবে দিনের পর দিন সম্রাটের শরীর খারাপের দিকে যাচ্ছে। অন্নের তাগিদে গ্রামের ধনী বাড়িতে মরসুমী ফসল তামাক সংগ্রহের কাজে  সে অসুস্থ শরীর নিয়েই যায়। বছরের বেশিরভাগ সময় গ্রামে অন্য কাজ না থাকলেও কোনো কোনো বড় বাড়িতে তামাক ঢালাইমাচাইয়ের কাজ পাওয়া যায়। এই কাজ করতে করতে একপর্যায়ে তার ভীষণ কাশি দেখা দেয়। গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আউটডোরে ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা মাঝে মধ্যে চলে।
   বলতে গেলে কঙ্কালসার দুর্বল শরীরটা আজকাল দুপায়ের ওপর ভর করে আর থাকতে পারে না। সম্রাট জীবনের নানা স্বপ্নের চিত্র বিছানায় চোখ বন্ধ করলেই দেখতে পায়। আর চোখ খুললেই যেন তার সবকিছুই উলটপালট হয়ে যায়। সংসারে অভাবের মাত্রা ঊর্ধ্বমুখী হলেও দুল মনকে ভালো রাখতে মুরগির ডিম বিক্রি করে টিভি রিচার্জ করে। অসুস্থ স্বামীকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে সে টিভিতে কখনো সিরিয়াল আবার কখনো সংবাদ দেখে। প্রতিমাসে ভিনরাজ্য থেকে পাঠানো তার বাবার টাকায় তাদের দুজনের খাই খরচা কোনোরকমে চলে যায়।
    একদিন হঠাৎ টিভির সংবাদে  দুল দেখে যে বিশ্বজুড়ে এক ভয়ানক মারন সংক্রামক রোগ দেখা দিয়েছে। রোগটির নাম  "করোনা"। সেই রোগটির নাকি নতুন। তার ঔষধ নেই। রোগটির সংক্রমণ  ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও ইতিমধ্যেই ঘটতে শুরু করেছে। বাবার জন্য তার প্রাণটা কেঁপে ওঠে। লোক মারফত সে তার বাবার খোঁজ নেবার চেষ্টা করে।
   টিভির পরবর্তী সংবাদের দিকে নজর রেখে দুল জানতে পারে রোগটির প্রধান উপসর্গ কাশি-জ্বর-সর্দি। এই উপসর্গের সঙ্গে সম্রাটের রোগের মিল থাকায় দুল দুশ্চিন্তায় পড়ে। তাহলে কি .......? প্রতিবেশী চন্দনা কাকীর বিধবা বেশ তার চোখে ভেসে ওঠে। সম্রাটকে সে কিছু বুঝতে দেয় না। চন্দনা কাকী অবশ্য বেশকিছুটা সচেতন। সম্রাটকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে সুচিকিৎসার কথা দুলকে তিনি অনেকদিন ধরেই বলেন। দুল তাতে পাত্তা দেয় না।
    টিভিতে দিন কয়েকের মধ্যে এই রোগে মৃত্যু মিছিলের সংবাদের দিকে দুলের নজর থাকছেই। কিন্তু সে কি করবে? তারতো কবিরাজী চিকিৎসায় ভরসা। ওদিকে তার বাবাকে নিয়েও ভাবতে হচ্ছে। কারন চুপিচুপি ঘরে ফেরা প্রতিবেশী পরিযায়ী  শ্রমিকদের কাছ থেকে দুল জানতে পারে যে ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকরা ভীষণ দুর্ভোগে পড়েছেন। দিন পনেরো পর তার বাবাও অনেক লাঞ্ছনায় কখনো হেঁটে, কখনো বাইসাইকেলে চেপে  বাড়ি ফিরেছেন বলে সে শুনতে পায়। এতে স্বস্তি পায় সে।
    ধীরে ধীরে সম্রাটের কাশি বাড়তে থাকে। সঙ্গে প্রচন্ড জ্বর। হাত খরচা দিয়ে দুল চন্দনা কাকীকে জোরপূর্বক তার বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে মায়ের কাছ থেকে কবিরাজী ঔষধ আনিয়ে নেয়। চিকিৎসা বলতে ধুতুরা ফল বেটে দিনে দুবার কপালে তার আস্তরণ, বুকে গরম সর্ষের তেলের স্যাক, সকালে খালি পেটে তুলসী গাছের শিকড় ধোয়া জল। আর জ্বরের জন্য চন্দনা কাকীকে দিয়ে জ্বরের মিথ্যে কথা বলে  স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ধাপে ধাপে ঘরে এনে রাখা প্যারাসিটামল। সম্রাটের প্রতি অন্তরের টান থেকে তিনি অনিচ্ছা সত্ত্বেও দুলের কথা শুনতে বাধ্য হন। চন্দনা দুলকে বুঝিয়ে বলেন, "করোনা কেবল বাইরে থেকে আমাদের এদিকে আসছে। আর সম্রাটের কাশি দীর্ঘ দিনের। তামাকের কাজ করেই ওর এই রোগ ধরেছে। কাজেই এটা করোনা নয়। স্বাস্থ্য কেন্দ্র কিংবা হাসপাতালে ভর্তি করালে চিকিৎসায় ও নির্ঘাত সেরে উঠবে।" কিন্তু এই চেষ্টা তার বৃথা।
   ওদিকে গ্রামে প্রশাসন প্রচার চালাচ্ছে যে সর্দি-কাশি-জ্বর হলে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যেতে হবে। পাড়ায় পাড়ায় স্বাস্থা কর্মীরা খোঁজ নিচ্ছেন যে কারো বাড়িতে করোনা উপসর্গের রোগী আছে কিনা। পড়শীদের কাছ থেকে সে শুনতে পায় যে এই উপর্গের রোগীদের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে আর রক্ষা নেই। করোনা পজিটিভ অনিবার্য। তারপর মৃত্যু। আর যারা করোনায় মারা যাচ্ছেন তাদের লাশ পর্যন্ত পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে না। গন সৎকারের মাধ্যমে জীবনের গল্প শেষ। এই কথাগুলি গুজব নাকি সত্যি তা বিচার করার ক্ষমতা দুলের নেই। কারন কুসংস্কার তার মগজে ঠাসা। সে স্বামীর কাশির শব্দ প্রতিবেশীদের কানে না পৌঁছানোর লক্ষ্যে ঘরে সর্বদা টিভির ভলিউম মাত্রাতিরিক্ত রাখে। স্বাস্থ্য কর্মীরা যাতে ঘরে উকি মারতে না পারে তার জন্য সে নানা কৌশল অবলম্বন করে।
   স্ত্রীকে বোঝালেও সে বুঝবে না। সেটা সম্রাট জানে।  করোনার উপসর্গের সঙ্গে মিল থাকলেও তার যে টিভি বা অন্য কিছু হয়েছে সেটা সম্রাট জানে। এখন প্রয়োজন সুচিকিৎসা। কিন্তু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাবার কথা বলতেই স্ত্রীর কালী মূর্তি তাকে দেখতে হয়। নিরুপায় হয়ে এখন তার বিছানা সঙ্গী।
   এরমধ্যে দুলের বাবা এক রাতের অন্ধকারে অসুস্থ জামাইকে দেখতে আসেন। কারন হোম কোয়ারান্টিন থেকে রাতের অন্ধকার ছাড়া বেরোনোর উপায় নেই। শয্যাশায়ী জামাইয়ের কাশি দেখে মেয়েকে তিনি নিচু স্বরে বলেন, "মা, এই এলাকা অত্যন্ত ঘন বসতিপূর্ন। জামাইয়ের জ্বর-কাশির যা অবস্থা তাতে কেউ খবর দিলে পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে। আর একবার করোনা হাসপাতালে নিয়ে গেলে জামাই শেষ। বরং কবিরাজ ধরে চুপিসারে রোগটি সারিয়ে নিতে পারলে এবার তোদেরকেও আমার কাজের জায়গায় নিয়ে যাব। সেখানে কোম্পানির কাজে জামাই যুবক মানুষ অনেক পয়সা কামাতে পারবে। তোর অনেক সুখ হবে। বসন্ত কবিরাজ বলেছে, এই অমাবস্যার দিন সন্ধ্যা লগ্নে চিকিৎসা শুরু হলে রজনীতেই করোনার উপস্বর্গ খাঁচা ছেড়ে পালাবে। কাল সেই লগ্ন। কাজেই এই সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না। আমি জামাইকে আজ আমার বাড়ি নিয়ে যাই।" বাবার প্রস্তাবে দুল এক্কেবারে রাজি হয়। দুল তার সঙ্গে অসুস্থ সম্রাটকে পাঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। সে রাতেই চন্দনা কাকী সিদ্ধান্ত নেন যে পরের দিন তিনি প্রশাসনকে সম্রাটের কাশি-জ্বরের খোঁজ জানিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যেতে বলবেন।
    এই কুসংস্কারের দ্বারা তার রোগ সারবে না জেনেও নিরুপায় হয়ে সম্রাটকে শশুরের সঙ্গে রাতের অন্ধকারে যেতে হয়। রাস্তায় কাশি বন্ধ রাখতে দুল কপালের প্রলেপ শক্তপোক্ত ভাবে কাপড় দিয়ে বেঁধে দেয়। সকালের ডোজ হলেও রাতেই আর একবার শেকড়-জল খাওয়ানো হয়। বাইসাইকেলের পেছনে বসিয়ে জামাইকে  নিয়ে শশুর 21 কিমি দূরে তার বাড়িতে পৌঁছায়। বাড়ির পেছন দিকের গোয়াল ঘরে জামাইকে মাটিতে বিছানা করে শুইতে দেওয়া হয়। যাতে প্রতিবেশী কেউ বাড়িতে এলেও জামাইকে দেখতে না পায়। গোটা রাতভর মাটির ঠান্ডায় জামাইয়ের কাশি প্রচন্ড বেড়ে যায়। পরদিন প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে কার কাশি হয়েছে জানতে চাইলে বলা হয় যে গরুর কাশি হয়েছে। ওদিকে সকালে চন্দনা কাকী দুলের কাছ থেকে রাতের ঘটনার কথা জানতে পান। কপাল চাপড়ানো ছাড়া তার আর করার কিছু থাকে না।
    সন্ধ্যার অমাবস্যা লগ্নে বসন্ত বাবু যথারীতি ওই বাড়িতে আসেন। শুরু হয় কবিরাজী চিকিৎসা। তিল, সরিষাএবং কাঁচা হলুদ বাটা সহ নানা উপাদান অপরাহ্ন থেকে উপোসে রাখা রোগীকে চিৎ করে শুইয়ে তার বুকে-পেটে মালিশ চলতে থাকে 101টি মন্ত্র উচ্চারণ এর মাধ্যমে। ঘন্টা দেড়েক বাদে কবিরাজ চলে যান। নিষেধের মধ্যে থাকে কোনোভাবেই রোগীকে সূর্যোদয়ের পূর্বে জল পান করতে দেওয়া যাবে না।  রাত যত বাড়তে থাকে ততই সম্রাটের জ্বর-কাশির মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। এদিকে পাড়ার লোকের নিকট বিষয়টি সন্দেহজনক হয়। কারন গরুর কাশি আর মানুষের কাশি এক নয়। যাহোক রাত পোহালে বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলেই পড়শিরা ভেবে রাখেন। প্রচন্ড পিপাসায় সম্রাটের প্রাণ যায় যায়। কিন্তু ওদিকে শশুর বাড়ীর লোকেরা ঘুমে বিভোর।  কুসংস্কারের বলি হতে আর বিলম্ব যে নেই তা সম্রাট উপলব্ধি করতে থাকে। রোগ যন্ত্রনায় ছটফট করতে করতে সম্রাটের বন্ধ চোখে জীবনের সেই স্বপ্নগুলো ভেসে ওঠে। ততক্ষনে তার শরীর নিস্তেজ হতে কিঞ্চিতমাত্র অবশিষ্ট। তবুও তার মনে হয় যে এই কসাইখানা থেকে বেরিয়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু উঠে দাঁড়াবার শক্তি যে তার নেই। অবশেষে সূর্যোদয়ের পূর্বেই সম্রাট চিরনিদ্রা যায়। সকাল হলে ঘুম থেকে উঠেই দুলের বাবা কান খাড়া করে শোনার চেষ্টা করেন জমাইয়ের করোনা কাশি সারলো কিনা। গোয়ালঘর থেকে সেরকম কোনো শব্দ না আসায় তিনি খুশিতে বিছানা থেকে লাফিয়ে নামেন। সোজা গিয়ে গোয়াল ঘরে দেখেন জামাই ঘুমোচ্ছে। কিন্তু সূর্যোদয়ের পর জামাইকে তো জলখাবার দিয়ে উপোস ভাঙাতে হবে। কাজেই তাকে ডাকতেই হবে। জামাই, জামাই বলে ডাকা শুরু। মহা ডাকলেও তারতো কোনো সাড়া নেই। জামাইকে জাগাতে একে একে বাড়ির সকলেই গোয়ালঘরে জড়ো হয়। এক পর্যায়ে শশুর বুঝতে পারেন জামাই চলে গেছে চীরঘুমের দেশে।
    ইতিমধ্যে একথা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আর ওই বাড়িতে কাশি কার? সে রহস্যের হদিসও গ্রামবাসী এবার পেয়ে গেলেন। রব ওঠে নোটা-র জামাই "করোনার মরা"। দুলের মা কান্নার সুর -" আমার দুলের কি হবে?" এই করোনার মরা মেয়ের কাছে পাঠালেতো তারও করোনা হবে। তাই দুলের বাবা স্থির করেন তার এলাকাতেই মৃতদেহের সৎকার হবে। মেয়েকে আসতে নিষেধ করা হয়। ওদিকে সম্রাটের এলাকার মানুষ তার মৃতদেহ কে এলাকায় নিয়ে যেতে আপত্তি জানান। নোটার সিদ্ধান্তে তার প্রতিবেশীরাও বেঁকে বসেন। তাদের আশঙ্কা এবার গোটা গ্রামকে করোনায় গিলে খাবে। তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে বাসিন্দারা মৃতদেহহের করোনার নমুনা পরীক্ষার দাবি তোলেন। দিনভর চাপানউতর চলতে থাকে। বাসিন্দাদের একাংশের যুক্তি, "যেহেতু করোনার উপসর্গ নিয়ে লোকটি মারা গেল কাজেই তার সোয়াব পরীক্ষা করে বিষয়টি নিশ্চিত করা উচিৎ।" কিন্তু তাদের সেই যুক্তির গুরুত্ব প্রশাসন দিল না।
 দিনের শেষে  স্থানীয় প্রাশাসনের কর্তাব্যক্তিরা ঘোষণা করেন, "যেহেতু ওই ব্যক্তির করোনা পরিস্থিতিতে ট্রাভেল হিস্ট্রি নেই তাই মৃতের করোনার নমুনা পরীক্ষার দাবি ভিত্তিহীন।" এরপর প্রশাসনের তৎপরতায় সাইকেল ভ্যানে করে সম্রাটের মৃতদেহ নদীর ধারে নিয়ে গিয়ে দাহ করা হয়।
    এরপর দুলকে নোটারু তার বাড়িতে নিয়ে আসেন। অতীত স্মৃতি ভুলে আবার নতুন জীবনের পথে দুলের হয়তোবা অন্য কোথাও স্বপ্নময় যাত্রা শুরু হবে। কিন্ত চন্দনা কাকীর মনে স্বস্তি নেই। এঘটনায় নিজেকে তার বড় অপরাধী বলে মনে হচ্ছে। সমাজের প্রতি তার কয়েকটি প্রশ্ন, " এই   সময়ে দাঁড়িয়েও কুসংস্কারের খপ্পরে একটি তাজা প্রাণকে অকালেই কেন ঢলে পড়তে হলো? এই মৃত্যুর দায় কার? এ সমাজ থেকে কবে এই কুসংস্কার দূরীভূত হবে? এইসব প্রশ্নের উত্তর  চন্দনা কাকী আদৌ কি  তার জীবনে পাবেন ? সে সময়ই বলবে। তবে চন্দনা কাকীর মনের অনুরণন, "করোনা হোক বা নাহোক, না জানি কত জনকেই এভাবে সাজতে হবে --- করোনার মরা !

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন