শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০

বীরেন শাসমল


পেছন থেকে দেখে মনে হচ্ছে তিনিই?
হ্যাঁ,তিনিই।

ঠিক সময়ে এসে গেছি। নিশ্চিন্ত।
২০২০ সালের এই সময়ই তো তাঁর দয়ায়......যাকগে।ফরফর করে কয়েকটা পাতা উড়ে গেল পেছন দিকে।
সে একটা ফেজ গেছে জীবনে।ছোট্ট একটা দীর্ঘশ্বাস? না লুকিয়ে ফেলা ভালো।
তবু।

অন্ধকার পর্দার ওপারে একটা মঞ্চ।মঞ্চে স্বপ্ন-থইথই একটা নদী,তরী বাওয়ার সেই হাঁকডাক। গোগ্রাসে গিলে ফেলেছিলাম দি ওল্ড ম্যান অ্যাণ্ড দি সী। বুঁদ হয়ে থাকতাম একটা দর্শনে : আ ম্যান ক্যান বি কিল্ড বাট নেভার ব্রুইজ্ড!

হেমিঙ্ওয়ে সাহেব,সেই অকূল পাথার ডিঙিয়ে,স্বপ্নপুঁটুলি বুকে ধরে হাইওয়ে দিয়ে আমি হেঁটে আসতে পারিনি। স্যরি।
যাকগে যাক,নো আফশোস।এখন আমি মানি,স্ট্রাইক দি আয়রন হোয়াইল ইট ইজ হট।

লোকটা লাইনে দাঁড়িয়ে।হেসে ফেললাম।একসময় যাঁকে স্যার বলতাম,এখন 'লোকটা'?
ভোকাব পাল্টে যায় ব্রো।
ভোকাব, অনেক দিন আগের যেন বা,সামনে এসে যাচ্ছে কেন?
অনিন্দ্য,দিস ইজ নট আ চ্যারিটেবল ইন্স্টিটিশন। উই কান্ট ডু এনিথিঙ।
উনি ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে হাঁই হাঁই করে উঠলেন।
তুমি অনিন্দ্য না?
ওহ্,স্যার,আমি আপনাকে পেছন থেকে চিনতে পারিনি।
কী করছো এখন?
ওই তো,এম এম এম করে একটা কম্পানিতে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ।
এম এম এম মানে?
মাস্টার্স ইন মানি ম্যানেজমেন্ট।
গুড,গুড,ইউ হ্যাভ উওন ওভার এভরি হার্ডল উন ইওর লাইফ!

লাইন শেষ হয়ে এল। আপাতত আর কেউ নেই। আশেপাশেও কাউকে দেখা যাচ্ছে না। ঠিক সময়।
স্যার ঢুকলেন এ টি এম এ।
অপেক্ষা করি।এবার আমি ওঁর পেছনে।
এবার আমার টার্ণ।

যাও,আমার হয়ে গেছে।
কিন্তু আমার তো হয়নি স্যার।
মানে?
মানে এই যে, বলে আমি এক থাবড়ায় ওনার ওয়ালেট টা ছিনিয়ে নিলাম।
একি,করছো কী তুমি? ইউ হ্যাভ বিকাম আ স্ন্যাচার?
কী করবো স্যার? ইউ স্ন্যাচ্ড মাই ড্রিমস। ফি-জ দিতে পারিনি বলে আপনি আমাকে স্কুল ছাড়তে বাধ্য করেছিলেন,মাননীয় প্রিন্সপ্যাল।
তুমি এভাবে রিভেঞ্জ নিলে?
গুরুদক্ষিণা দিলাম স্যার। চলি।
বাই স্যার। থ্যাঙ্ক ইউ ফর টাইমলি পেমেন্ট অফ মাই ফি-জ!
 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন