রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২০

নিখিল পান্ডের অণুগল্প : পিয়নের পদার্পণ




শেষ কবে পিয়নের পদার্পণ ঘটেছে বাড়িতে তা কেউই মনে করতে পারে না। আজ পিয়ন এসে একটা আমন্ত্রণ পত্র  দিয়ে গেছে বিনীতার হাতে।

হাতে কার্ড পেয়ে বিনীতা হাউ হাউ করে কেঁদে ওঠে। যে যেখানে ছিল বাড়ির সদস্যবৃন্দ ছুটে আসে বিনীতার কাছে।
রেখা উচ্চমাধ্যমিক ছাত্রী , টিউশন যাবার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল, মায়ের কাছে এসে দাঁড়ায়। অঙ্কন মাধ্যমিক দিয়ে বসে আছে,  তবলার ক্লাসে যাবে, সেও ছুটে এসেছে মায়ের কাছে। বাড়ির কাজের মেয়ে কাজ ফেলে হাত মুছতে মুছতে ছুটে এসেছে।  ব্যাপারটা যে কী, কেউ অনুমান করতে পারছে না। তাদের বাবা মারা গেছেন মাস সাত - আট হল। কার্ডটি ধরে মায়ের কান্না যেন থামেই না।

কী ব্যাপার! কোন শ্রাদ্ধ বাড়ির কার্ড না কি ! কিন্তু কেউ মারা যাওয়ার কোন খবর তারা ইতমধ্যে  পাইনি। রেখা লক্ষ্য করে কার্ডের এক কোণে হলুদ লাগানো আছে। শুভকর্ম সম্পাদনের নিদর্শন হলুদ। এদিকে মা কেঁদেই চলেছে!

কী যে হয়েছে, কেন যে কাঁদছে কেউই কিছু অনুমান  করতে পারছে না। একবুক আশঙ্কা নিয়ে সবাই চেয়ে আছে বিনীতার দিকে।

     বিনীতা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে বলে, " কার্ডটা আমার নামে এসেছে দ্যাখ। লিখেছে,  শ্রীমত্যা বিনীতা গোস্বামী। আগে তো সব চিঠিপত্র তোর বাবার নামেই আসতো। মানুষটা আমাকে ছেড়ে চলে গেল। সব দায়- দায়িত্বের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে গেল মাথার ওপর।  "

      রেখা কার্ডটা মায়ের হাত থেকে একপ্রকার ছিনিয়েই নেয়। দেখে, উপনয়নের কার্ড। পিসীমার নাতির উপনয়ন। তারই আমন্ত্রণ পত্র।


       

৫টি মন্তব্য: