রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২০

জয়িতা ভট্টাচার্যের অণুগল্প : ফেরার




বিকেলের আগে একটা হালকা ছায়া থাকে।সে বলে গোধূলির আর দেরি নেই।নদীটা তির্ তির্ করে বইতে বইতে হঠাৎ শেষ হয়ে গেছে এখানে, বালিতে মুখ ডুবিয়ে উটের গ্রীবার মতো।

সন্দর্ভ রোজ আসে এখানটা।শুনশান চারিদিক।কেউ কোথাও নেই।শুধু বালিয়াড়ি।নদীর ওপারে ঝুপুস আঁধারে ক্যাসুরিনাবন ঠেসাঠেসি দাঁড়িয়ে।
এ গ্রাম থেকে ওই মফস্বল।বদলির চাকরি।আসলে সন্দর্ভ পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
 সোজাসুজি তাকালে লালচোখো সূর্য টা একদৃষ্টে চেয়ে থাকে তার দিকে।গোধূলি পেরিয়ে একসময় সন্ধ্যার  আঁধার নেমে আসে।কলকাতাকে  ভুলে গেছে সে।
টিপ টিপ জোনাকি অন্ধকারে ঊর্ণণাভ সৃষ্টি করে।

আর তখনই সন্দর্ভ দেখতে পায় দূরে ওই অস্পষ্ট অবয়ব।চোখ দুটো জ্বল জ্বল করে। ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে একজন।সন্দর্ভ চেনে ওকে।

ও সায়ন।সায়নের প্রিয়বন্ধু।
সায়ন একদৃষ্টে চেয়ে থাকে।চোখ দুটো বিস্ফারিত,বিস্ময় আর বিষাদ মাখানো।তাড়াতাড়ি ফিরে আসে গোপাল মণ্ডলের ভাড়ার ঘরটাতে।সন্দর্ভ  জানে সায়ন ওর সঙ্গে সঙ্গে থাকে, ও যেখানে যায় যত দূরেই যায়  সায়ন দাঁড়িয়ে থাকে নিঝুম।শূন্য চোখে।

অথচ দশ বছর আগের বিকেলটা এমন একা ছিলো না।সায়নের জন্মদিনের পার্টিতে লাগামছাড়া নাচ গান,মদ।
সব শেষ হবার পরেও সুইমিং পুলের ধারে আবার।সায়ন আর সন্দর্ভই শেষ বোতোলটা কিনে এনেছিলো।মণিদীপা কে জড়িয়ে ধরে  চুমু খাচ্ছে সায়ন।মদের ঘোরেই তো!

মণিদীপা,সন্দর্ভর প্রেমিকা সায়ন জানতই।কেউ সুস্থ মস্তিষ্কে ছিল না। ঝগড়া ,থেকে মারপিট। কেউ নেই কয়েকটা বন্ধু ছাড়া। ওরা হাসছিল।ওরা কেউ ঠেকাতে আসেনি সেদিন সেই গ্যারেজ ঘরে।

কী করে যেন হঠাৎ ভাঙা বোতলটা সেঁধিয়ে গেল সায়নের পেটে।কাকু কাকিমা কোনো অভিযোগ করেননি।মনিদীপা বিদেশে পড়তে চলে গেল।এখন বিয়ে-থা করে ওখানেই।পুলিশের ভয়ে সে চালান হলো  কাকার বন্ধুর বাড়ি ব্যাঙ্গালোর।তারপর থেকেই পালাচ্ছে সন্দর্ভ। নিজের থেকে,সকলের থেকে,সায়নের থেকে।

সায়ন তোকে ভালোবাসি বস্।
           

২টি মন্তব্য: