সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২০

চন্দন চক্রবর্তীর অণুগল্প : পায়রা



রোজ সকালে পায়রার খুনসুটি বকমবাজি শুনে ঘুম ভাঙে। জোড়ায় জোড়ায় ঘুরপাক খায়। কাঁচ জানলার ও পাশে বসে ডাকে। পড়ার টেবিলে বসে উপভোগ করি। একটা বন্ধুত্ব তৈরি হয়।

 কিন্তু দু'দিন হল ওদের দেখা নেই। হলটা কী? তাহলে কি ওরাও মোবাইলের ম্যাসেজ পড়তে পারে? ক'দিন ধরে আবাসন তোলপাড়। পায়রার বংশ উচ্ছেদ করতে হবে। কারণ মুম্বাইয়ে দুই বয়স্কা মহিলা লাঙ ইনফেকশনে মারা গেছে। পলুউশন ছাড়াও পায়রার বিষ্ঠা এর জন্য দায়ী।

তৃতীয় দিন একটা পায়রা হাজির। চোখে- মুখে ভীতি। রোদ-আলোয় গলার কাছে সবুজের ছিটে চকচক করছে। করুণ বকমবাজি, ' কবি, আমাদের কি বাঁচার কোনও অধিকার নেই?
'কী উত্তর দেব!' ভাবনার মধ্যেই আবার ডাক, ' কবি, কিছু উপায় কি নেই? '

হঠাৎ গিন্নির প্রবেশ। হাতে ধূমায়িত চায়ের কাপ। ' জানো তো, গতকাল বেসমেন্টে ড্রাইভারগুলো পিকনিক করেছে। চাদ্দিকে রক্তের দাগ আর পায়রার পালক ছড়িয়ে।'

টু শব্দ নেই। সে উড়ে গেল। ডানায় একরাশ যন্ত্রণা।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন