রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২০

সমর সুরের অণুগল্প : আপনজন পার্ক



    ভালবাসায় তড়িৎ বরন হয়ে গেল তরু জয়ীর কাছে।অবশ্য জয়াও হয়ে গেল জয়ী। সে যাই হোক প্রতিদিন বিকেল হলে  দুজনেই পার্কে আসে।একটু নিজেদের মতো করে চাওয়া সঙ্কোচহীন ভাবে।আজও এসেছে অন্যদিনের মতো দুজনেই আপনজনে।
           পার্কে এলেই প্রতিদিনই একটা ব্যাপার জয়ীর  নজরে আসে আর বিস্ময়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে।তরু অবশ্য এ ব্যপারে কখনও কিছুই বলেনি।বলতে বলতেই জয়ীর নজরে এলো সেই দৃশ্য  আর দেখা মাত্রই বলে উঠল তরু দেখো ঐ বেলুনওয়ালাকে। লক্ষ্য করেছো কি  প্রতিদিন ঐ ভদ্রলোক বেলুনওয়ালার কাছ থেকে বেলুন কিনে কেমন উড়িয়ে দেন শূন্যে। দেখো দেখো আজও কিনেছেন
           তরু আজও দেখলো প্রতিদিনেরই  মতো তারপর বলে উঠল প্রতিদিনতো দেখি এভাবেই বেলুন কিনে শূণ্যে উড়ান ভদ্রলোক !
--- হ্যাঁ গো।
---  বড়লোকের সখ আর কি বলে ওঠে তরু।
-- ধুস, তাই বলে বেলুন উড়াতে যাবে !
--তাহলে হয়ত ওনার সন্তান খুব বেলুন ভালবাসত। সে আজ আর হয়ত নেই !
এই শব্দবন্ধটা জয়ীকে যেন একটু বিষন্ন করে তুললো।বুঝতে পারে তরু জয়ীর মুখের দিকে তাকিয়ে ।তাই বলে ওঠে চলো ওখানে গিয়ে একটু বসি বেশ ফাঁকা আছে।
-- চলো না আজ আমরাও কয়েকটা বেলুন কিনে আনি।
-- কেন তুমিও কি বেলুন ওড়াবে?
-- না। আমি শূন্যে ছাড়বো।
-- মানে !
-- ভাবতে পারো আমার জন্মদিন।
-- ধুস। সেতো গত মাসেই হয়ে গেছে।
-- তাহলে ভাবো আমার মৃত্যু দিন।
  -- ইয়ার্কি করো না তো।সখ হয়েছে ওড়াবে, ওড়াও।
-- আচ্ছা চলো।তুমি এত তাড়াতাড়ি সিরিয়াস হয়ে যাও কেন বলতো তরু ?
     বেলুনওয়ালার কাছ থেকে বেশ কয়েকটা বেলুন কিনে নিয়ে জয়ী বেলুনওয়ালাকে বলল আচ্ছা দাদা, একটা কথা বলবো প্রতিদিন দেখি এক ভদ্রলোক আপনার কাছ থেকে বেলুন কিনে নিয়ে শূন্যে উড়িয়ে দেন  এ বিষয়ে আপনি জানেন কিছু ?
-- না দিদিমনি,তবে আমি একদিন জিজ্ঞাসা করেছিলাম উনি বললেন বন্ধুপ্রীতি। তার মানে তো আমি কিছুই বুঝি নি !
          এবার তরুর  চোখের দিকে তাকিয়ে ইশারায় প্রশ্ন রাখলো জয়ী কি বুঝলে। তরু বলে ওঠে মানুষের সব কিছুই অজানা। কে কি ভাবে আনন্দ পায় সুখ পায় দুঃখ ভুলে থাকে এ বলা খুব মুস্কিল।
      জয়ীরও কি মনে হলো কে জানে। আজ সে  তার কেনা বেলুনগুলো একটা একটা করে শূণ্যে উড়িয়ে দিতে লাগল আর আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকল।
     জয়ীকেও এইভাবে বেলুন গুলো একটা একটা করে উড়াতে দেখে তরু বলে উঠল তাহলে তুমিও কি বন্ধুপ্রীতি করছো ?
-- তা তুমি বলতেই পারো।
-- কি রকম ?
--ঐ যে বললে মানুষের সব কিছুই অজানা।তরু আর কিছুই বলে না।
           অনেক দিন ধরেই বেলুনওয়ালার চোখে আর পড়ে না পার্কের ভিতরে সেই যুবকযুবতীকে। সমস্ত পার্ক ঘুরে ঘুরে বেলুনওয়ালা খুঁজে বেড়ায় ঐ দুটি মুখকে।কোথাও দেখতে পায় না দুজনকে। বিবর্ণ মুখটা আরো যেন বিবর্ণ হয়ে পড়ে। আর ভাবে হয়ত তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। হয়ত আর সময়ই পাই না। তবুও তার চোখ খুঁজে বেড়ায়। আর মনে মনে বলে বড় ভাল জুটি।পার্কের ভিতর সে অনেককেই আসতে যেতে দেখেছে কিন্তু কখনও তাকে লজ্জিত হতে হয় নি।কখনও তাকে বেলুনওয়ালা বলে ডাকে নি বরং বেলুন না কিনলেও দাদা কেমন আছেন বলতো। এই সব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎই চোখে পড়ে দাদাবাবু আসছেন কিন্তু দিদিমনিকে তার চোখে পড়ে না। দাদাবাবু  যেন তার দিকে এগিয়ে আসছে।
           তরু বেলুনওয়ালার কাছে এসে কোন কথা না বলেই  সব কটা বেলুন কিনে নিয়ে কয়েক পা হেঁটে যেতে বেলুনওয়ালা জিজ্ঞাসা করে,দাদাবাবু,দিদিমনি আজ আসবেন না ?
ভাঙা গলায় তরু বলে হ্যাঁ আসবে বলেই হাঁটতে হাঁটতে এক এক করে সব বেলুনগুলো শূণ্যে উড়িয়ে দিতে থাকে। বেলুনওয়ালা অপারবিস্ময়ে শূন্যে চেয়ে থাকে। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন