রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২০

মধুসূদন রায়ের অণুগল্প : রশ্মি



জুতোটা সারিয়ে কোনমতে বাসস্ট্যান্ডে এসে দাঁড়াতেই 'দাদা শুনছেন' শুনে ঘুরে তাকালাম । এত‌ই ব্যস্ত যে ঘুরে তাকাব তার‌ও ফুরসৎ নেই । মনটা যদিও বেশ ফুরফুরে । ১৭ দিনের লম্বা ছুটিটা আন্দামানে কাটিয়ে গত পরশুই ফিরেছি । তার সঙ্গে গত সপ্তাহে বিখ্যাত কাগজে 'রশ্মি' গল্পটা ছাপা হতেই মনের মধ্যে একটা ফূর্তি কাজ করছে । বৌ, মহুল অবশ্য খুশি নয় । গল্পের শেষে বছর ছয়ের 'রশ্মি'র মৃত্যু দেখানোতে ওর খুব রাগ হয়েছে । শুধু রাগ নয়, বেশ কড়া স্বরেই বলেছে, 'ওর বাবা যেখানে ওকে বাঁচানোর জন্য ভিটে মাটি বিক্রি করছে, তুমি সেখানে ওকে মেরে দিলে?'
--'আরে বাবা এটা গল্প, সত্যি তো নয়, তাছাড়া মেয়েটাকে না মারলে পাবলিক গল্পটা খাবে না । ওসব ফালতু সেন্টিমেন্ট রাখো তো ।
---'কেউ না জানলেও আমি জানি, এই গল্পটা রশ্মিকে নিয়েই লেখা । আর তুমি গল্পের স্বার্থে ওকে মেরে ফেললে।'

 কাল রাতে বন্ধুরা সব এসেছিল, শ্যাম্পেন সহযোগে কেক কাটালো ওরাই,  একসঙ্গে খাওয়া দাওয়া করে ভোর রাতে ঘুমিয়েছিলাম । উঠতে উঠতে সকাল দশটা । রিক্সা থেকে নামতে গিয়ে জুতোটা গেল ছিঁড়ে ।

আরে এ যে জুতো সারানোর ছেলেটি । 'দাদা দশ টাকা হয়েছিল, আপনি পঞ্চাশ দিয়ে চলে এলেন' ।
-- রাখো টাকাটা । তোমার মেয়ের কথা শুনছিলাম কার একটা মুখে । ওকে লজেন্স কিনে দিও ।
- ১০ দিন হয়ে গেল, রশ্মি মারা গেছে ।

বুকটা যেন কেঁপে উঠল । পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে মহুলকে ফোনটা করতেই স্ক্রিনে একটা ছবি ভেসে উঠল, 'রশ্মি' যেন আমার দিকে মুখ বাঁকিয়ে হাসছে ।

৩টি মন্তব্য: