সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২০

ভোট উৎসব ও বাংলা ছোটগল্প : পুরুষোত্তম সিংহ





ভোট উৎসব ও বাংলা ছোটগল্প
পুরুষোত্তম সিংহ


ভোট সংস্কৃতির পাল্লায় আজ গোটা ভারতবর্ষের মানুষ বিপর্যস্ত। গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উৎসবের নামে চলছে ক্ষমতা দখলদারির কায়েমরাজ। যেন তেন প্রকারে জয়ী হবার মানসিকতা আজ মানুষকে করে তুলেছে আগ্রাসী। এই মানসিকতা থেকেই শুরু হয়েছে ভোট লুণ্ঠন। বাঙালির বারোমাসে তেরো পার্বণের সঙ্গে আজ যুক্ত হয়েছে Ipl ও ভোট উৎসব। এ উৎসবে জনসংস্কৃতি এক অপসংস্কৃতির রূপ নেয়। গণতন্ত্রের নামে পক্ষ-বিপক্ষের বিভাজনে প্রতিদ্বন্দ্বী মাত্রই যেন শ্রেণিশত্রু। শিক্ষাদীক্ষাহীন দরিদ্র যে মানুষটি  অর্থনীতির কিছুই বোঝে না তার অধিকার আছে শুধু ভোট দেবার। রাজনৈতিক দলগুলি গ্রামের অতি সাধারণ মানুষগুলিকে সামান্য কিছু দিয়ে নিজের মুনাফা কায়েম করে। মোপাসাঁ’র কাছে সৃষ্টি যেন পৃথিবী পর্যবেক্ষণের ফল। হেনরী জেমস বলেছিলেন সাহিত্যে বাস্তবতার কথা। পিছিয়ে নেই আমাদের গল্পকাররা। গণতন্ত্রের নামে মানুষকে ধ্বংস করার যে মরণলীলায় সামিল হয় রাজনৈতিক দলগুলি তার রূপ ও রূপান্তর দেখি বাংলা ছোটগল্পে। তবে সময়ের ব্যবধানে তার পরিসর ভিন্ন।

 অমৃতলাল  বসুর ব্যঙ্গাত্মক রচনা  ‘গ্রাম্য-বিভ্রাট’। ইলেকসনকে নাট্যকার ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন ‘হিলিকসন’।  গ্রামে ইলেকসনের মাধ্যমে মিউনিসিপ্যালিটি প্রতিষ্ঠা করা হবে। ফলে গ্রামবাসী নাকি শহরে হয়ে উঠবে বলে নাট্যকারের বিশ্বাস। সেই ভোটরঙ্গের তামসা হাটের পথে যেতে পরাণ ঢুলী ও গ্রামবাসীদের কথোপকথনে ফুটে উঠেছিল। সরস ব্যঙ্গের মাধ্যমে নাট্যকার সমাজব্যবস্থার ভুল গুলি দেখিয়ে দেন। বনফুলের ভোটকেন্দ্রিক  একটি গল্প হল ‘ভোটার সাবিত্রীবালা। তিনি নিপূণ ব্যঙ্গশিল্পী। শব ব্যবচ্ছেদের তুলিতে তিন পৃষ্ঠার সামান্য গল্পে তিনটি মৃত্যু ঘটিয়েছেন। কাহিনি পরিবেশনে তিনি নির্মম থেকে নির্মমতর হন। ক্ষুদ্র আয়োতনেই তিনি গল্প পরিবেশন করতে ভালোবাসেন। তবে গল্পের শেষে থাকে চমক। বনফুলের গল্পের সারসত্য  উপলব্ধির জন্য শেষ বিন্দু পর্যন্ত অপেক্ষা ছাড়া পাঠকের উপায় নেই। তিনি পাঠকের অবসরের সঙ্গী নন। প্রতি মুহূর্তে তিনি পাঠককে গোলকধাঁধায় রাখতে ভালোবাসেন। সাবিত্রীবালার স্বামীর মৃত্যু আগেই ঘটেছিল, পরে দুই সন্তান তমোনাশ ও রিপুনাশের মৃত্যু ঘটে। লেখক ভারতবর্ষের কঙ্কালসার অধঃপতিত রূপকেই চিহ্নিত করেন। অর্থসংকটের কারণে গুণ্ডামি করতে গিয়ে মৃত্যু ঘটে তমোনাশের, রিপুনাশের মৃত্যু যক্ষায়। অর্থের কারণে তমোনাশের দেহ দাহ করা যায় নি, শেষে মাতা ‘অ্যানাটমি’র ছাত্রদের কাছে পুত্রের দেহ বিক্রি করে দেন। রিপুনাশ বাঁচার জন্য চুরি করে আলিপুর জেলে থাকতে চেয়েছিল, কিন্তু বিচরক লঘু অপরাধের জন্য গুরুদণ্ড দেন নি। তাঁর বিশ্বাস জেলে কিছুদিন থাকলেই যক্ষার উপশম হবে, কিন্তু বিচারক তাঁর কোন কথাই শোনে নি। আজ ভারতবর্ষ কোথায় দাঁড়িয়ে ? অথচ তার ভোট উৎসব চাই, গণতন্ত্র চাই। সাবিত্রীবালা দারিদ্র্য হলেও স্বতন্ত্রময়ী। কাজের বিনিময়ে অতিরক্ত অর্থ যেমন গ্রহণ করেনি তেমনি ভোটপার্থী বাড়িতে এলে জানিয়ে দেয়-“আপনাকে ভোট দেব কেন, কাউকেই ভোট দেব না-“ ( ‘ভোটার সাবিত্রী বালা’ পৃ.১১, একুশটি বাংলা গল্প, ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট )। সেদিন নোটার প্রসঙ্গ ছিল না তাই সাবিত্রীবালা ভোট উৎসবেই যোগদান করেনি। অভিজিৎ সেনের প্রথম জীবন কেটেছে গৌড়বঙ্গের গ্রামে গ্রামে চাকরি সুবাদে। সে সব অভিজ্ঞতাই তাঁর প্রথম পর্যায়ের গল্প উপন্যাসের পটভূমি গড়ে তুলেছে। অনন্তপলাশ পুর গ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ‘মালিনীপুরের যাত্রী’ গল্প। দীর্ঘদিন পর এখানে এসেছে অনিমেষ। বহুদিন আগে  এটি ছিল তাঁর নির্বাচনের এলাকা। আজ বৃদ্ধ বয়েসে মনে হয়েছে  এই অনন্তপলাশপুর গ্রামেই বাকি জীবন কাটাবে। সে উদ্দেশ্যেই এখানে আসা, সঙ্গী সন্দীপন। মনে উঁকি দিয়েছে সত্তর দশকের উত্তাল দিনগুলির কথা। এ গ্রামে বাকি জীবন কাটাবেন এই মনস্থির করে এলেও সে সতেরো দিন পর আবার কলকাতার উদ্দেশ্যে ফিরে গেছে। শুধু যাবার আগে ভুবনেশ্বরীকে আশ্বাস দিয়ে গেছে।

সমরেশ বসু যুবক অবস্থায় ছাত্র রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের দিকে। কালকূট ছদ্মনামে প্রথম লেখেন ‘ভোটদর্পণ’ গল্প। ভোটের পূর্বে বিভিন্ন প্রার্থীদের কার্যকলাপই এ গল্পের মূল লক্ষ্য। জীবনের সত্য অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখেই তিনি এই গল্প গড়ে তোলেন। ২৪ পরগণা জেলার ভাটপাড়াকে কেন্দ্র করে এ গল্পের প্লট আবর্তিত হয়েছে। রবিবার ছুটিতে নেতারা এসেছে ভোট প্রচারে। কংগ্রেসী নেতা দয়ারাম বেরী ও বলশেভিক পার্টির নেতা সীতা শেঠ এলাকায় এসেছে। কিন্তু ইতিমধ্যে এলাকায় অগ্নিদগ্ধ  ও তা নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষের দোষারোপের চিত্র কথক নিপূণ ভাবে তুলে ধরেছেন। নিরীহ মানুষের প্রতি অত্যাচার, স্থানীয় মস্তানরাজ ও ভাড়াটে গুণ্ডা সমস্তই তিনি ফুটিয়ে তোলেন। তবে এই যাত্রা শুরু সমরেশের, ফলে শিল্পকলায় তা রূপান্তরিত হয় নি, কোথায় যেন তা রিপোর্টাজে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে ‘বিবেক’ গল্পটি নক্‌শাল আন্দোলনের পেক্ষাপটে লেখা। গ্রামের ছেলে বিভূতি কলকাতা শহরে পড়তে গিয়ে ছাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিল। পাশ করে গ্রামে ফিরে সে রাজনীতিতে অংশ নেয়। বিভূতি যখন রাজনীতিতে প্রবেশ করে তখন পার্টির ভাঙন দশা। তাঁর গুরু ছিল কলেজের অধ্যাপক গদাধরবাবু। তখন দুটি পথ ছিল জনগণতন্ত্র ও জাতীয় গণতন্ত্র। গদাধরবাবুর নির্দেশে সে জনগণতান্ত্রিক বিপ্লবের পথ বেঁছে নেয়। এই পথে গিয়ে সে নক্‌শাল হয়ে গিয়েছিল। প্রথম বামফন্ট সরকারের পতন হতেই  সে বুঝতে পারে এ ভুল পথ। নির্বাচন নয় ক্ষমতা দখলই প্রধান উদ্দেশ্য। তাই দ্বিতীয় যুক্তফন্ট সরকারের প্রতি তাঁর কোন মোহ ছিল না। তাঁর নতুন ভাবে উত্তরণ ঘটে-
“ বাম সরকার গঠনের মোহমুক্তি আর হতাশা থেকে এক নতুন উত্তরণ। চোখে আগুন জ্বলেছিল, বুকে রক্তের তৃষ্ণা। অনেক কালের ঘৃণা ধরা নীতির পরিবর্তে, একটা তাজা টাটকা আর নিশ্চিত নীতির সন্ধান মিলেছিল। বিভূতি একলাই ওর গ্রামে ফিরে যায়নি। জেলা শহর আর কলকাতা থেকে কয়েকজন তাজা জোয়ান কমরেড ওদের সুদূর অরণ্যঘেরা গ্রামে এসে আস্তানা নিয়েছিল। গদাধর রায় রাতারাতি আণ্ডারগ্রাউণ্ডে চলে গিয়েছিলেন। সকলেই তখন আণ্ডারগ্রাউণ্ডে। শক্তির একমাত্র উৎস রাইফেলের নল।“ ( ‘বিবেক’, গল্প সমগ্র, প্রথম খণ্ড, মৌসুমী প্রকাশনী, পৃ. ৩২৩ )
ফলে বিভূতি’রাও পাল্টে যায়। পার্টির নির্দেশে বিভূতি জেল থেকেই নমিনেশন ফাইল ও নির্বাচনে লড়েছিল। সব পার্টিই তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী করেছিল কিন্তু নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল সি.পি.এম। নির্বাচনে সামান্য ভোটে অবশ্য পরাজয় ঘটেছিল তাঁর। এই পরাজয় নিয়ে নানা প্রশ্ন তাঁর মনে দানা বেধেছিল। কেন্দ্রে জনতা সরকারের উদারতা অন্যদিকে রাজ্যে মার্কসবাদী পার্টির নীতিগত আদর্শ। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে সে আর রাজনীতিতে প্রবেশ করে নি, শুধুমাত্র গোপালকে হত্যার জন্য মনে অনুশোচনা জেগেছে। স্ত্রী জ্যোতির পরামর্শে গোপালের স্ত্রী কুসুমের কাছে সে ক্ষমা চেয়েছে। বিভূতি রাজনীতিতে প্রবেশ করলেও সে যে বিবেক বর্জিত মানুষ নয় লেখক সেই সত্তায় উত্তরণ ঘটিয়েছেন।

অমর মিত্রের সাহিত্য জীবনের প্রথম দুই দশক কেটেছে গ্রামে। শহর থেকে মুক্তি পেতে চাকরি নিয়ে চলে গিয়েছিলেন গ্রামে। নিজেই জানিয়েছেন গ্রামে না গেলে ভারতবর্ষের অনেকটা দেখা বাকি থেকে যেত। ভারতবর্ষের সেই অলিখিত সামাজিক ইতিহাস তিনি লিখেছেন প্রথম পর্যায়ের গল্পে। ‘ভোটের আগের রাত্রি’ গল্পটি ভোটের আগের দিন ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ভোটকর্মীদের যাবতীয় কার্যকলাপ নিয়ে লেখা। বাদা অঞ্চলে ভোট নিতে এসেছে প্রিসাইডিং অফিসার তড়িৎ মুখার্জি ও তাঁর পোলিং পার্টি। সে নতুন তাই ভরসা প্রবীণ লক্ষ্মীকান্ত গায়েন। গ্রামের মানুষের কাছে ভোট হল ফুর্তি, মেলা- ফলে ভোটকে ঘিরে গ্রামের মানুষের আনন্দ। বিলাস মণ্ডল দীর্ঘদিন ভোট নেওয়ার ফলে সমস্তই তাঁর আয়ত্ত্বে। সে বৃদ্ধ, ভোটে ডিউটি করলে অতিরিক্ত অর্থ পাওয়া যাবে বলে এসেছে। সে প্রাচীন মানুষের মতো গল্প বলতে পারে। গল্পের তালেই এগিয়ে যায় ভোটের যাবতীয় কাজ। বামপ্রন্থা ভেঙে কীভাবে অনেকগুলি শরীক দল গড়ে উঠল তেমনি ভোটের ব্যালট বৃদ্ধি পেল –“সবেই কাস্তে রয়েছে, আবার সাইকেল, মশাল, কোদাল বেলচা, সবই লাল ফেলাগের। ব্যালট পেপার বড় হতি লাগল, এদিকি জোড়া বলদ গাই বাছুর, চাকা লাঙ্গল কাঁধে মানুষ, হাত... ব্যালট পেপার লম্বা হই যাচ্ছে, তি লোকেরও খুঁজতি সময় যাচ্ছে, ভোট দিবার টায়েম বেড়ে যাচ্ছে,” (‘ভোটের আগের রাত্রি’, ‘আসনবনি;, করুণা, পৃ. ১৬৪ ) অন্ধ কীভাবে ভোট দেবে, বোবা কী করে ভোট দেবে তা নিয়ে আলোচনা চলে। এই বুথটি সরকারি তালিকায় ‘সি’ ক্যাটাগরির অন্তভূক্ত বলে এখানে শুধু হোমগার্ড দেওয়া হয়েছে। দরিদ্র বিলাস মণ্ডল ভোটের শেষে সামান্য কেরোসিন বা লণ্ঠন বাড়ি নিয়ে যেতে চেয়েছে। ভোটকে কেন্দ্র করে খবরের কাগজগুলির দোলাচলতা ফুটে ওঠে এভাবে-‘শুনিচি এক এক কাগজ এক একরকম লেখে, হিন্দিতে কী লিখল ভোট নেতা জানতি পারলেন না, গাঁয়ে ওসব জানাজানি নেই, ভোট বলে হই হই আছে...’( তদেব, পৃ. ১৬৫ )। তাঁরা ভোটের এজেন্টদের সঙ্গে দিব্যি গল্প করে। গ্রামীণ মানুষের এই সহজ সরলতা দেখে তড়িৎ মুগ্ধ। তেমনি দেখে শহরের ভোটের সঙ্গে গ্রামের ভোটের কোন মিল নেই । ভোট এসেছে বলেই স্কুল নতুন করে সেজে উঠেছে, নয়ত তা থাকত  অবহেলিত অবস্থায়। একটি ছেলে এসে তড়িৎ এর যোগাযোগের ঠিকানা চাইলে সে দেয় না। আসলে সে চেয়েছিল তড়িৎ এর মাধ্যমে যদি কোন কাজের ব্যবস্থা করা যায়। তড়িৎ ঠিকানা না দিলেও মনে মনে দ্বগ্ধ হয়েছে। তাঁর মনে হয়েছে এই গ্রাম্য যুবক শহরের ফ্ল্যাটে গেলে ভাববে সব হয়ত ভোটের টাকায় কেনা। কিন্তু এই বাদা অঞ্চলে কিছু আসে নি। বছরের পর বছর ভোট যায় কিন্তু গ্রামগুলি এভাবেই অবহেলিত হয় লেখকের দৃষ্টি সেদিকে। সবমিলিয়ে ভোটের আগের দিন ভোটকর্মীদের কার্যকলাপের এক নিঁখুত বিবরণ লেখক পরিবেশন করেন। সেই সঙ্গে আছে প্রিসাইডিং অফিসারের গ্রাম দর্শন, গ্রাম সম্পর্কে অনভিজ্ঞতার বর্ণনা।
অমর বাবুর কাছে জীবিকা জীবনযাপনের অন্তর্গত। ফলে গল্পেও সেই জীবিকা সূত্রে দেখা মানুষগুলি উঠে আসে, এমনকি বহু গল্পে তিনিই নায়ক। ভোটকেন্দ্রিক অন্যতম গল্প হল ‘সাইকেল মেসেঞ্জার’। হাঁসপাহাড়িতে নতুন ব্লক ডেভলপমেন্ট অফিসার হয়ে এসেছে শিশির সিংহ। সে সাতষট্টি সালে এই অঞ্চলেই ফাস্ট পোলিং অফিসার হয়ে এসেছিল। সেদিন ফোন ছিল না ফলে সেক্টর অফিসের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম ছিল সাইকেল। ভোটের সময় এই খবর আদন-প্রদানের জন্য কিছু বেকার যুবককে যেমন নিয়োগ করা হত তেমনি শুধুমাত্র ভোটের জন্য কিছু বেকার যুবককে হোমগার্ড হিসেবে নিয়োগ করা হত। সেদিনের সাইকেল চালক যুবকটি আজ হয়েছে পঞ্চায়েত সমিতির প্রধান আদিত্য মুখার্জী। আদিত্য ও শিশির স্মৃতিচারণায় ফিরে গেছে সত্তর দশকের সেই ভয়ঙ্কর দিনগুলিতে। প্রিসাইডিং অফিসার বংশী কুণ্ডুর সঙ্গে ভোট নিতে এসেছিল শিশির। মাধব চ্যাটার্জীর বিপক্ষে ছিল বামপন্থী সাধন চৌধুরী। তাঁরা আহার করেছিল এক রেশন ডিলারের কাছে যা ভালো চোখে নেয় নি সাইকেল মেসেঞ্জার। তেমনি সাইকেল মেসেঞ্জারের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল রেশন ডিলার। সাইকেল মেসেঞ্জার যুবকটি প্রতিবাদ করেছিল, নিরপেক্ষ ভোটের দাবি জানিয়েছিল। গ্রামবাসী ভোট দিলেও অর্থনৈতিক অবস্থার প্রকৃত চিত্র লেখক তুলে ধরেন-
“আপনি কি জানেন স্যার যাদের ভোট নিতে এসেছেন তারা সারা বছর ভাত পায় না কেউ, কেউ দুদিন অন্তর ভাত পায়,, কেউ ভাতের জন্য গাঁ ছেড়ে চলে গেছে, সোমত্ত মেয়েকে রেশন ডিলারের ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে গাছতলায় অন্ধকারে বসে বিড়ি টানছে বাপ, আপনারা কি করে ওর ঘরের ভাত মুখে দিলেন ভাবতে পারছি না। ব্যানার্জী এমনি দেওয়ার মানুষ নয়, ভাত খেলে শোধ দিতে হয়, আপনারা নিরপেক্ষ থাকতে পারবেন ?” ( ‘সাইকেল মেসেঞ্জার’, অমর মিত্রের ছোটগল্প, প্রতিক্ষণ, পৃ. ১৬ )
তারপার কেটে গেছে বাইশ বছর। সমাজ ব্যবস্থা ও গ্রাম জীবনে পরিবর্তন এসেছে। সেদিনের সাইকেল মেসেঞ্জার আজ মোটর সাইকেল আরোহী প্রধান। শিশিরকে প্রথম দর্শনেই চিনতে কোন অসুবিধা হয় নি অদিত্যর। সে সাইকেলটি দিয়েছিল হোমগার্ডকে। সেদিনের ভোটে দারিদ্র্য হোমগার্ড সামান্য টাকার জন্য হোমগার্ডের ডিউটি দিতে এলেও বেআইনি খাবার গ্রহণ করেনি। ভোটে পরিবর্তন এসেছে কিন্তু নতুন শাসক দলের কার্যকলাপ মেনে নিতে পারে নি সেই হোমগার্ড যুবকটি, ফলে সে নক্‌শাল হয়ে গিয়েছিল। অবধারিত ভাবে মৃত্যুও ঘটল। আজ শিশিরের মনে পড়ছে সেই হোমগার্ড যুবকটির কথা। পরিবর্তনই সংসারের ধর্ম, এ পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে সময়ের সঙ্গে আপস করতে হয়, না হলে পতন অনিবার্য। গল্প শেষ হয়েছে ব্যঙ্গে, শিশিরের মনে অনুরণনে-“ মাথা তুললেন শিশির, মাথা ঝাঁকালেন, এভাবে কি বদলে যাওয়া যায় ? বরং মৃতের মতো... পাথরের মতো... তিনি র‍্যালে সাইকেল... হোমগার্ড। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালেন শিশির, পুরনো সাইকেলের ঘন্টি বাজাতে কালকের সেই যুবকটি আসছে।“ ( তদেব, পৃ. ২০ )
নলিনী বেরা স্বদেশ সমাজকেই এক আশ্চার্য মায়াবাস্তবতায় সাহিত্যে রূপায়িত করেন। ফেলে আসা গ্রাম, গ্রামের মানুষই তাঁর কথাভুবনের বিষয়। সেখানে মিশে থাকে সমাজ ব্যবস্থা, অর্থনীতি ও রাজনীতি। তেমনই একটি গল্প হল ‘যে জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের’। দ্বিজপদ আজ আটবছর পর শহর থেকে গ্রামে ফিরছে। গ্রামের বহু পরিবর্তন এসেছে, ইতিমধ্যে এসেছে অন্তর্বর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শহরের পরিস্তিতি দ্বিজপদের কাছে শুনতে চেয়েছে অনাথবাবু। লেখকের উদ্দেশ্য পলিটিকস্ নয় গ্রামীণ সমাজ বাস্তবতার প্রকৃত চিত্র প্রতিফলিত করা। ভোট মানে কিছু পাওয়া, আর গ্রামীণ মানুষের কাছে সে পাওয়া অতি সামান্য তাই ভোটের বেলোটের কাগজ দিয়ে বইয়ের মলাট লাগাতে চেয়েছে-“ ভোটকাগজ এয়েচে নাকি ? এলে দু-চারটা দিয়ো তো। নাতিটা খুব করে ধরেচে, বইয়ের মলাট করবে।“ ( ‘যে জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের’, সেরা পঞ্চাশটি গল্প, দেজ, পৃ. ১৬৬ )। ইতিমধ্যেই গ্রামে রাজনীতি প্রবেশ করেছে, ক্লাব গড়ে উঠেছে। দ্বিজকে দেখতে এসেছে এক গ্রাম্য বুড়ি। গ্রামীণ জীবনে অশিক্ষার কারণে বহু ভোট নষ্ট হয়। মানুষ মিলিয়ে ফেলে দুই ফুলের চিহ্ন। নাম নয় শুধু চিহ্নটাই বড় হয়ে ওঠে। ব্যালোটের বদলে ইভিম মেশিনে সে ভয় আরও প্রবল। সেই গ্রাম্য বুড়ি ভোট দিতে গিয়ে ভুল করে বসে-
“সে ত সুদাইমুসু ( সুধাংশু ) জানে। ওই বলল, ছাপটা হেরিকেনে দিও। আমি তো গেনু ভয়ে ভয়ে, হাত কাঁপচে। সব ভদ্দরনোকেরা ঘরের ভেতর বসে আছে। কাগজ আর এসট্যাম্পো নিয়ে চটের ঘরে গেনু। টেবিলের উপর হেরিকেন জ্বলছেল। আর কী, দু-চারটা এসট্যাম্পো হেরিকেনে দিনু। ফিরে আসতে সুদাইমুশু বলে, তুমি ঠাকহমা ভুল করেছ। হেঁ দ্বিজো,তুই-ই বল –কী ভুলটা কন্নু ?” ( তদেব, পৃ. ১৬৭ )
বুড়ি কী ভুল করেছে সে নিজে জানে না, কিন্তু সে কথা সগর্বে বলতে বিন্দুমাত্র লজ্জা নেই। অনাথ বাবুর মনে হয়েছে এঁদের দ্বারা ভোট বা রাজনীতি হবে না। কিন্তু দ্বিজপদ কোনো ভৎসনা করে নি। আসলে এই দ্বিজপদ লেখক নলিনী নিজেই। তাঁর বেশিরভাগ গল্পের নায়ক সে নিজেই। নিজের চোখে দেখা ফেলা আসা গ্রাম ভ্রমণ যেন তাঁর কাহিনিবিশ্ব। সেখানে মিশে থাকে এক আন্তরিকতা যা তাঁর স্বদেশ সন্ধান।

নলিনী বেরা’র মতো অনিল ঘড়াইও স্বদেশ স্বসমাজের কথাকার। তাঁর ভোটকেন্দ্রিক একটি গল্প হল ‘জীবনপুরের চর’। ছোটো ছোটো বাক্যে এক  আপাত সহজ ভাষায় তিনি গভীর জীবন সংগ্রামের গল্প শুনিয়েছেন। গ্রামের মানুষের শ্রেণি সংগ্রাম ফুটিয়ে তুলতে তিনি চমৎকার শব্দ ব্যবহার করেছেন। শব্দগুলি জীবন রঙে ভরপুর- এখানেই কথকের মুনশিয়ানা। প্রমীলা ও দীননাথ’রা নদীর নাম নিজেরাই ঠিক করেছে ‘পিয়াসহরণ’ ও গ্রামের নাম  ‘জীবনপুর’। এখানেই তাঁরা নিজেদের বস্তি গড়ে তুলেছে। গ্রামের প্রধান কেন্দ্র থেকে এ বস্তি বহু দূরে, তাই এখানে কেউ ভোট নিতে আসতে চায় না। কিন্তু এ বস্তিতে চল্লিশটি ভোট আছে ফলে কেউ ছাড়তেও নরাজ। ফলে গ্রাম প্রধানের চাপেই ভোটকর্মীদের আসতে হয়। ইতিমধ্যেই ভোট হয়ে গেছে, প্রধান গঠন হয়েছে। কিন্তু তোলাবাজ নানকু এসে জানায় এবার চর খালি করে দিতে হবে। বর্তমান পরিস্তিতিতে যে কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই রাজনৈতিক দল পৃথক পৃথক আবস্থান করে। সরকার পক্ষে থাকলে বিরোধীদল বিপক্ষে দাঁড়িয়ে সমস্ত  উদ্দেশ্য বাতিল করতে প্রস্তুত। তেমনি সরকারের সমস্ত ভুল ত্রুটি বিরোধীদলই ধরিয়ে দেয়। তেমনি এ গল্পে পঞ্চায়েত যখন বস্তি তুলে দেবার জন্য প্রস্তুত তখনই জীবনপুরের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বিরোধী দল-
“ভিন পার্টির লোক এসেছে আবার। তাদের শ্লোগান আলাদা। ভরসা দেয়, যে যাই বলুক তোমরা উঠবে না। সামনে ভোট। ভোটের আগে কেউ তোমাদের চুল বাঁকা করতে পারবে না। আমরা তো আছি। প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশনকে লিখব। মানবাধিকার কমিশনে যাব। জনমত গঠন করব। থানা, বিডিও অফিস ঘেরাও করব। সভাপতির ঠ্যাং ভেঙে দেব। ইনকিলাব জিন্দাবাদ। ইনকিলাব জিন্দাবাদ ! ( ‘জীবনপুরের চর’, একান্নটি গল্প, ভাষা ও সাহিত্য, পৃ. ৩৬৮ )
তাঁদের কাছে গ্রাম প্রধান ছিল দেবতা। কিন্তু বিপুল ভোটে জয়ী হতেই শুরু হয়েছে ঔদ্ধত্য। মানুষকে মানুষ মনে না করার অভিপ্রায়। ফলে এই বস্তি বহু টাকার বিনিময়ে কিনে নিতে চেয়েছে চিনি মিলের মালিক। অর্থের কাছে পঞ্চায়েত নিজের বিবেক বিসর্জন দিতে চলেছে। কিন্তু অনিল ঘড়াই প্রতিবাদের ভাষ্য রচনা করেন। প্রমীলা’রা জানে নিজেদের অধিকার নিজেদেরই আদায় করতে হবে। তাই বস্তি পুড়িয়ে দিলেও ,সবাই পালিয়ে গেলেও প্রমীলা, দীননাথ, পরিমল’রা থেকে গিয়েছিল। প্রধানকে ধরে জীবন্ত কবর দিতে প্রস্তুত হয়েছে। কিন্তু প্রমীলা আজ পরাজিত হয়েছে প্রধানের গর্ভবতী স্ত্রী’র কাছে। একজন নারী হয়ে একজন নারীকে বিধবা করে দেবার আত্মযন্ত্রণা পিছিয়ে এনেছে প্রমীলাকে। কিন্তু তাঁরা গ্রাম প্রধানকে দিয়ে বস্তি পরিস্কার করিয়ে নিয়েছে, নতুন জীবনস্বপ্ন দেখেছে।

আনসারউদ্দিন গ্রামীণ সমাজ সত্যের কথাকার। আপাত সহজ সরল ভাবেই তিনি গল্প লিখতে ভালোবাসেন। ভূমিজ মানুষের অনুভূতিকে তিনি লিপিবদ্ধ করেন। নিজেও কৃষক শ্রেণির প্রতিনিধি বলে এই কাজ আরও সহজ হয়ে ওঠে। তাঁর প্রায় গল্পের শুরুতেই একটি সুগন্ধ থাকে, গল্প পড়তে পড়তেই তা বিকশিত হয়। তিনি পাঠককে বাস্তবের এক অনুভবময় রাজ্যে নিয়ে যান। যেখানে পাঠক বসে ভাবেন এই আমার ভারতবর্ষ ! তাঁর গল্পের ভাষায় একটা ভেজস্ব গন্ধ পাওয়া যায়। বৃহত্তম ভারতবর্ষ নয় নিজের ভূগোলের কথাকেই তিনি প্রান্তিক মানুষের প্রতিনিধি হয়ে তুলে ধরেন। ফলে তাঁর ‘ভোট’ গল্পে গ্রামীণ সমাজ ব্যবস্থার এক পূর্ণাঙ্গ চিত্র ফুটে উঠতে দেখি। ‘পার্টিতে পার্টিতে দেশটা করল মাটি / পার্টি ছেড়ে আমি যাই কোথা / লাল পার্টি আর নীল পার্টি’( পৃ. ১৬০, গণিচাচার খেত-খামার, অভিযান )। শুকুর আলির এই ছড়া আজ সত্য প্রমাণিত হয়েছে। গ্রামীণ সমাজে আজ সমস্ত স্থরেই রাজনীতি বিদ্যমান। ফলে জন্ম সার্টিফিকেট, রেশন কার্ড, ইন্দিরা আবাসনের ঘর থেকে একশো দিনের কাজে পার্টির লোকের প্রাধান্য। ভোটের টিকিট পায় নি বলে ছকুরদ্দি আজ নির্দল পার্টিতে দাঁড়িয়েছে, যাকে লেখক বলেছেন ‘গোঁজ প্রার্থী’। তাঁর চিহ্ন কাঁঠাল। কিন্তু এখানেই তিনি জীবনে প্রবেশ করেন। দেওয়ালে কাঁঠালের চিহ্ন দেখে হেদা পাগলের ছেলে তা খেতে চায়। এ যে ভোটের কাঁঠাল, তা যে সত্য নয়, কে বোঝাবে তাঁকে ? হেদার জীবনের যে দারিদ্র্য তা লেখক দেখান। গ্রামের লোক কৃষিকাজ করে সন্ধ্যাবেলাতেই ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু নেতারা ভোট প্রচারে যায় সন্ধ্যার পর। ফলে গ্রামীণ মানুষের যে যন্ত্রণা তা যেমন লেখক দেখান তেমনি ভোট রহস্যের মিথ্যা বাণী শোনান-
“আমরা আমাদের অন্তিম আশ্রয় কবরস্থানের মাটিকে লাল তে-রঙা পতাকায় ভাগ করে ফেলেছি। আমাদের বারোয়ারিতলার প্রাঙ্গণে এখন আশ্চর্য নৈঃশব্দ। আমাদের গ্রাম্য দেবতা সেখানে বসে থাকেন ঠায়। একা । বসে থেকে মাইকে উড়ে আসা রাজনৈতিক নেতাদের মিথ্যা ভাষণ শোনেন। আমরা শুনে যাওয়া মিথ্যা অবলীলায় বলতে শুনেছি।“ ( তদেব, পৃ. ১৬৬ )
 মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক দল গুলির যে মহাযজ্ঞ তার নিপূণ চিত্র দেখা যায় গল্পে। মাতার ভোট নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব, অথচ মৃত্যুর পর কবরেও যে রাজনীতি চলবে তা দুই ভাইই জানেন। ভোট উপলক্ষ্যে গ্রামের মাটির দেওয়াল গুলি রঙিন হয়েছে, সেখানে নানা দলের চিহ্ন ফুটে উঠেছে। সবমিলিয়ে ভোটকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ জীবনের সাতকাহন লেখক ফুটিয়ে তোলেন। এক নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে সমাজব্যবস্থার প্রকৃতরূপ চিহ্নিত করেন।
সৌরেন চৌধুরীর ‘ঠেলাগাড়ি’ গল্পে ভোটাররাজের অত্যাচার ফুটে ওঠে। নাতির প্রতি কালিচরণের অফুরন্ত স্নেহ। বিকালবেলায় সে নাতিকে নিয়ে খেলতে থাকলে গ্রাম্য নেতা এসে জানায় ঠেলা করে স্টেশনে পৌঁছে দিতে হবে। কিন্তু কালিচরণ রাজি না হলে ঠেলা থেকে নাতিকে ফেলে দেওয়া হয়, তবুও সে ঠেলা নিয়ে যায় না, ঘোষণা করে-‘আর এগোবেন না বাবু। সামনে ভোট আসছে নেতা হতে হবে তো’।  নাতির প্রতি কালিচরণের ভালোবাসা, শোষণ ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ফুটে এ গল্পে। গ্রামে নেতাদের দেখা মেলে শুধু ভোটের আগে, রাস্তাঘাট, সেতু সব বিপর্যস্ত। কিন্তু গ্রামীণ মানুষ ভাবেন ভোটের আগে যেটুকু পাওয়া যায় সেটুকুই লাভ। ভোটের আগের দিন শুধু মাংস ভাতেই মানুষ ভুলে যায় নাগরিক অধিকার। তাই সৌরেন চৌধুরীর ‘পথের লাগিয়া’ গল্পে উচ্চারিত হতে শুনি-‘যত পারো খাও আর ভোট দাও।‘

সময়কে কেন্দ্র করেই সাহিত্য। তাই অমর মিত্রের ‘বাতাসবাড়ি জ্যোৎস্নাবাড়ি’ উপন্যাসে দেখি ভাড়াটে মস্তানদের কীভাবে রাজনীতির প্রয়োজনে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। তেমনি বুথ দখল করতে গিয়ে কীভাবে মৃত্যুমুখে পড়তে হচ্ছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গল্পে ভোটনীতির নানা পরিবর্তন এসেছে। তাই বনফুলের গল্পের সঙ্গে বর্তমান সময়ে লেখা গল্পের পার্থক্য ঘটে যায় খুব স্বাভাবিক ভাবেই।  সাহিত্য যদি সমাজের প্রতিচ্ছবি হয় তবে ভোটের রাজনীতির চিত্রণে বাংলা ছোটগল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে একথা বলাই বিধেয়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন