রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২০

অসিতবরণ বেরার অণুগল্প : কবরী



ঋজু ভঙ্গিতে মেয়েটি বাসের দিকে আসছিল । জুতোসহ পাঁচ আট হাইট তো হবেই । মেয়েটির শ্যামলা রঙ দারুণ জমেছে হলুদ রঙের শাড়িতে । তার চেয়ে বেশি চোখ টানে মেয়েটির বাহারি ঢাউস খোঁপা । পদ্মনাভ ভাবল, আহা, মেয়েটি তার পাশে বসলে বাস জার্নিটা মন্দ হয় না।
“বসতে পারি ?” বাবুল টুথপেস্টের হাসি ছুঁড়ে দেয় মেয়েটি ।
“আপনি যদি ইচ্ছে করেন ।”
ঠোঁট ছেড়ে চোখের অপাঙ্গে হাসি এনে পাশে বসে মেয়েটি বলে, “আমি কবরী সেন । বীরগঞ্জ যাব । আপনি ?”
“পদ্মনাভ দাশগুপ্ত । আপাতত বীরগঞ্জ । নামের সঙ্গে মানানসই করে কি মাথায় ধারণ করেছেন ?”
“ তা বলতে পারেন ।”
নারায়ণগড়ে বাসটা দাঁড়াতে কবরী সেন নিজের টিকিটটা পদ্মনাভকে দিয়ে বলে, “আমার ভীষণ মাথা ধরেছে । চেকপোস্টে যা হোক বলে ম্যানেজ করে নেবেন ।”
ব্যাগ থেকে একটা ট্যাবলেট বের করে জল সহযোগে খেয়ে পদ্মনাভের কাঁধে মাথা রাখে কবরী । বীরগঞ্জে চেকপোস্টে পুলিশ ছাদে, লাগেজ ক্যারিয়ারে সব বাক্স প্যাঁটরায় যন্ত্র লাগিয়ে সার্চ করতে করতে লাগল । পরে বাসে উঠে প্যাসেঞ্জারদের বডি সার্চ করতে লাগল । পদ্মনাভদের কাছে গেলে অননুকরনীয় ভঙ্গিতে পদ্মনাভ ফিস ফিস করে বলে, “ম্যাডাম অসুস্থ । সার্চ না করলেই কি নয় !”
বীরগঞ্জ  বাসস্ট্যান্ডে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে পদ্মনাভ । টয়লেট থেকে বেরিয়ে আসে কবরী সেন । কোথায় সেই ঢাউস খোঁপা ! এ তো ববকাট চুল ! কাছে এসে কবরী সেন বলে, “জার্নিটা ভালোই হল ।”
“ আপনার খোঁপা !”
“নেপাল থেকে নিয়ে আসা সোনার বিস্কুটগুলোর জন্য খোঁপটির দরকার ছিল । সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ । চলি । বাই ।”


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন