রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২০

প্রতিমা রায়ের অণুগল্প : ফারাক



দুগ্গা ।দুগ্গা  ।
সক্কাল সক্কাল প্যান্টের উপর শার্টটা চড়িয়ে গরম ভাত খেয়ে স্কুলের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়ে গঙ্গারাম । গঙ্গারাম মানে- গঙ্গারাম মাইতি । পূর্ব সাকিন- পশ্চিম মেদিনীপুরের লছমনপুর গ্রাম । বাপ ঠাকুর্দা চৌদ্দ পুরুষের পেশা চাষবাস । ব্যতিক্রম গঙ্গারাম । শহরের নামীস্কুলের গ্রুপ ডি কর্মী । তাতে করে চাষার ছেলেকে চাষা আর হতে হয়নি আর কি ।
স্কুলে গঙ্গারাম ফাইলপত্তর বয়ে নিয়ে যায়, ঘন্টা বাজায়, প্রিন্সিপ্যালের টেবিল গুছিয়ে রাখে, আরও অনেক কিছু কাজ – বিস্তর । গরমকালে অবশ্য অবসরে স্কুলের অফিসঘরে বসে এসির হাওয়ায় শরীরটা খানিক জুড়িয়ে নেয়,  শীতে শান বাঁধানো স্কুলের বারান্দায় বসে রোদ্দুরে নিজেকে সেঁকে নেয়, শুধু বসন্ত কাল আসলে স্কুলের গেটের বাঁ দিকের বটগাছটায় ডাকতে থাকা কোকিলটাকে দেখে কেন যে তার  দেশগাঁয়ের কথা মনে পড়ে কে জানে ।
স্কুলে এবার নতুন প্রিন্সিপ্যাল এসেছে । বেশ কর্মঠ মানুষ । স্কুলের স্টাফ থেকে করণিক সকলে ব্যস্ত । গঙ্গারামের ও ফুরসৎ নেই । একটু  চান্স পেয়ে  অফিসঘরের ব্যাক সিটটাতে দুদন্ড জিরিয়ে নিতে বসে ।
হেড ক্লার্ক ডাকলেন – গঙ্গারাম ।
আজ্ঞে বড়বাবু ।
চট করে বড় রাস্তার মোড়ের ওষুধের দোকান থেকে একপাতা ডিসপ্রিন কিনে নিয়ে এসো তো, প্রিন্সিপাল স্যারের মাথা ধরেছে কিনা।
গঙ্গারাম নড়ে না, চুপ করে থাকে । তারপর একটা  মস্তবড় শূন্যের মতো হাঁ করে বড়বাবুর দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ।
যাও , অমন হাঁ করে দাঁড়িয়ে আছো কেন ?  ফাইলে চোখ  বোলাতে বোলাতে বড়বাবু  বলে চললেন - বড় রাস্তার মোড় অবশ্য এখান থেকে বেশ খানিকটা দূরে । তা সাইকেলে যাবে আসবে, দূর কি আর দূর লাগবে !
না মানে ।
না , মানে কি !
না , দূর বলে ঠিক নয় ।
তবে !
 সকালে বাড়ি  থেকে স্কুলে  বেরোনোর সময় ইস্ত্রিরি বললো – খুব মাথা ধরেছে, একপাতা ডিসপ্রিন কিনে দিয়ে যাও । দিয়ে এলাম ।
তো !
না, মানে ঘরে যে কাজ করে এলাম, অফিসে ও সে কাজ ! অফিস আর ঘরের কাজের মধ্যে ফারাক খোঁজার চেষ্টা করছি  স্যা—র্---র !
বড়বাবুর  হাতের পেন ফাইল ফুঁড়ে  আটকে গেল ।।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন