রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২০

মীরা মুখোপাধ্যায়ের অণুগল্প : সম্পাদকীয়



কি কুক্ষণেই যে ফুলশয্যার রাতে  কথায়
কথায় ঊর্মিকে মানে  আমার  বউকে বলেছিলাম যে আমি একটা লিটল  ম্যাগাজিন করি, তার ফলশ্রুতি যে এতখানি  করুন হবে তা আমি ভাবতেও পারিনি।

 ঘটনাটা একটু খোলসা করেই বলি। আমি
একটা  ছোটখাট  ব্যবসা করতাম। বি কম পাশ করে  দু চারটে চাকরির  পরীক্ষায় বসে যখন ব্যর্থ হলাম তখন ধরেই নিয়েছিলাম এ জীবন  এমনই কাটবে।

   বাবা মারা গেছেন যখন তখন আমি ক্লাস টেন আর ভাই সিক্সএ। কিছুই  সঞ্চয় নেই। শুধু মার বুদ্ধি  আর সহ্যশক্তি ভরসা করে আমরা এগিয়ে  গেছি সামনে।তারপর আমরা লেখাপড়া  শিখেছি,
এটা ওটা করে সংসার  দাঁড় করিয়েছি।

এরি মধ্যে হঠাৎ একদিন পোষ্টম্যান এসে একটা এ্যাপয়েনমেন্ট লেটার  দিল। রাজ্য সরকারের দপ্তরে ক্লার্কের  চাকরি। এটা নিয়ে কেস চলছিল।

সবেমাত্র মাস চারেক অফিস করছি ইতিমধ্যেই মা বেঁকে বসলেন । তিনি  আর সংসারের ঘানি  টানতে পারছেন না একা একা।আমায় বিয়ে  করতে হবে।

আমি যতরকম ভাবে  পারা যায়  মাকে নিরস্ত করার চেষ্টা করলাম কিন্তু  ভবি ভোলবার না। অতএব মা দিনরাত এক করে মেয়ে দেখে দেখে শেষে একজনকে পাকড়াও করে আমাকে তার সাথে গেঁথে দিলেন।সেই হলো  ঊর্মি ,আমার বৌ।

বৌভাতের  রাতে চেনা পরিচয়ের ফাঁকে ঊর্মি বলেছিল গানে এটাই তার শেষ বছর , সে এবছর গানটা চালিয়ে নিয়ে  পরীক্ষাটা দিতে চায়।আমি তাকে আশ্বস্ত করলাম  আর ঐ প্রসঙ্গেই নিজের ক্যারিস্মা দেখাতে বললাম  আমি একটা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা করি বিগত তিন  বছর  ধরে ।

   তখন ঊর্মি  ভালো  মন্দ কিছুই  বলেনি। বললো অষ্টমঙ্গলা থেকে ফিরে। রাতে  খাওয়া দাওয়ার পর আমি লেখাগুলো গোছাচ্ছিলাম, ডিটিপি করতে দিতে হবে। একটু দেরি  হয়ে গেছে।

        ঊর্মি একটা ব্যাগ নিয়ে এসে আমার পাশে বসলো, ব্যাগ থেকে বের করলো একটা ডায়েরি মিষ্টি হেসে এগিয়ে দিল চার পাঁচটা কবিতা, বললো আমি লিখেছি।

    আমি দেখলাম সেরকম কবিতা  আমার পত্রিকায় আমি কোনকালেই নির্বাচন  করিনি। অত্যন্ত  নিম্নমানের  লেখা কিন্তু   ঊর্মির হাসি মুখের দিকে তাকিয়ে  ঠিক  কি করবো বুঝে উঠতে পারলাম না।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন