রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২০

রম্যকথা : শাড়ি ও নারী ---- গোবিন্দ তালুকদার



--- কি গো!  কখন থেকে ডেকে যাচ্ছি!  সাড়া দিচ্ছ না যে? বিমলবাবু বললেন তাঁর ছত্রিশ বছরের অর্ধাঙ্গিনী সুমনা'কে।

----- বলো না!  চারদিকে করোনা করোনা নিয়ে হইচই,  তুমি শুনতে পাচ্ছো না বলে চিলচিৎকার করছো!  থামোনা!  বলছি,  কখন যে ডাকো, কখন যে বকো, বুঝতেই পারিনা।

----  আজ রিঙ্কির থুবড়া খাওয়ানোর কথা। বাজারে যেতে হবে তো! কাজটুকু করো না! সোনা বলে সোহাগ দিয়ে বলছি গো,  করো না!

----- কি কি আনতে হবে, লিষ্ট করে দাও। ভাল্লাগে না!

------- তুমিও পারো! মাছ, মিষ্টি, দৈ আর তরিতরকারি। লিষ্ট করতে হবে এটুকুর জন্য?  তোমাকে নিয়ে আর পারি না বাপু।

----- গিন্নী, তুমিই যাওনা গো। তুমি গেলে আমি একটু শান্তি পাবো। বাজারে দামটাও কমে পাবে। মহিলাদের ক্ষেত্রে দোকানীদের সহমর্মিতা একটু পার্শিয়াল।

------  ঢং!  ঢং এর কথা বলছো ! আর পারিনা বাপু।  তোমার সাথে কেন যে বিয়ে হলো আর বাপ মা দিলো বুঝিনা!  সবই কপাল!  টাকা দাও, আমিই যাচ্ছি।

------  এই নাও টাকা। একটু সজনে আর খুড়োর ডাঁটাও এনো। ভালো কথা,  শাড়িটা তুমিই আনবে তো! আর নাকে মাস্কটা পরে নাও।  বাইরে পুলিশ,  অবশ্য মহিলাকে কিচ্ছুটি বলবে না।  কিছু বললেই মুচকি হাসি দিও ছড়িয়ে।  দেখো আবার।  মহিলাদের হাসিতে পুলিশ কেন,  বড় বড় মুনিঋষিরাও কুপোকাত হয়েছে।  আর পুলিশ তো নস্যি।

------  থামো তো।  বকবকানি থামাও। আচ্ছা,   আজকালের মেয়েরা কি শাড়ি পড়ে সেরকম। বরং চুড়িদারের পিস আনলেই ভালো। কি বলো!

------ যা বোঝো তাই করো।  তবে আমার কথা, শাড়িতেই বঙ্গনারীর রূপ খোলে। শাড়িতেই নারী  নারীতে শাড়ি। রূপ খোলে ভারি।

----- দেখি ভেবে। ঠিক আছে, ভাতটার দিকে নজর রেখো। চা করে খেও, যাবো আর আসবো।
সারাজীবন তো বৌয়ের সেবা নিয়েই কাটিয়ে দিলে।  ম র ন!

----- দেরী কোরোনা কিন্তু।   তোমাকে বেশীক্ষন না দেখলে মনটা উদাসী হয়ে যায় সোনা।

------- আহা!  ঢং যে কতো দেখাবে এই বয়সে?  যতো বয়স বাড়ছে,  রস উথলে উঠছে!  সোনা!  আহা!   চললাম।
--- আসি বলতে হয়।  এসো।

------ দুগ্গা দুগ্গা..... এসো, ফিরে এসো তাড়াতাড়ি।
                           

1 টি মন্তব্য: