রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২০

দীপক কুমার মাইতির অণুগল্প : বিশ্বাস



সবিতা আজ বেশ অন্যমনস্ক। কিছুতেই কাজে মন দিতে পারছে না। প্রায় পাঁচ বছর এই বাড়িতে কাজ করছে। দুপুরে আসে কাজ করতে। তখন দিদিমনি ও দাদাবাবু অফিসে। ঘরদোর পরিষ্কর করে রাতের ও পরের দিনের সকালের রান্না করে। বাড়ির একটি চাবি ওর কাছেই থাকে। ওকে ওঁরা খুব বিশ্বাস করেন। করবে নাই বা কেন? ওরা বেশ অগোছাল। সোনার গয়না, টাকাকড়ি প্রায় বাইরে রেখে চলে যায়। সবিতা সব গুছিয়ে রাখে। আজ কাজে আসার সময় দিদিমনি ফোনে বলেন, “সবিতাদি, ফ্রিজে অনেক ইলিশ মাছ আছে। দু’রকম পদ করো। সবজি করো না।”
মাছ ধুতে ধুতে গিয়ে মনে পড়ে আজ তার ছেলে বলেছিল, “মা একদিন ইলিশ মাছ আনবে?”
ওর পাঁচ বছর বয়সে দূর্ঘটনায় বাবা মারা যায়। এই দশ বছর ছেলেকে সবিতা একাই মানুষ করেছে। শত কষ্টেও ছেলে মাকে কোনদিন কোন বায়না করেনি। আজই প্রথম করল। সবিতা ভাবে, “অনেক মাছ, দু’পিস নিয়ে গেলে ধরতে পারবে না। ছেলের জন্য নিতেই পারে!”


ছেলে খুব তৃপ্তি করে ইলিশ মাছ ভাত খায়। ওর খুশিতে সবিতা আনন্দ পায়। রাতে সবিতার ঘুম ধরে না।  বিশ্বাস ও ছেলের অপত্য স্নেহের টানাপোড়নে হার মানে সবিতা। শত অভাবে যা করেনি, আজ তাই করল। ছেলের মুখে ইলিশ তুলে দিতে বিয়ের প্রথম রাতে স্বামীর দেওয়া সোনার আংটি সবিতা বিক্রি  করছে। কিন্তু বিশ্বাসভঙ্গ করতে পারেনি।  
     

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন