রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২০

তরুনার্ক লাহার অণুগল্প : হীরের চেয়েও দামী





খুট করে শব্দ হতেই বুড়ির ঘুম ভেঙে যায়। শব্দটা যে রান্নাঘর থেকে আসছে বুড়ির বুঝতে বাকি থাকে না।আলো জ্বেলে পা টিপে টিপে রান্না  ঘরের সামনে আসে।চমকে উঠে বুড়ি।একটা ২৫-২৬ বছরের ছেলে রান্না ঘরের আনাজঝুড়িতে আতিপাতি করে কি যেন খুঁজছে।বুড়ি গলা খয়াকারি দিয়ে বলে---এই যে ব্যাটার ছেলে কি চাই তোর?
ছেলেটা মুচকি হেসে বলে---তোমার ঘুম ভেঙে গেল ,বুড়িমা?ভাবলাম একটু নিশ্চিত মনে চুরি করব তারও জো নেই।বলি পেঁয়াজ গুলো কোথায়  রেখেছ?
---কেন  রে মিনসে পিঁয়াজের কি দরকার?
----আসলে আমার বৌ মাংস  খেতে চেয়েছে। মাংসের টাকা জোগাড় করেছি।কিন্তু  পিঁয়াজের টাকাটা......তাই তোমার বাড়িতে পিঁয়াজ  চুরি করতে এলুম। তুমি এত কিপ্টে হলে কবে থেকে?
বুড়ি দন্তহীণ মাড়ি বের করে  হেসে বলে---আমাকে টাটা আম্বানি পেয়েছিস? ঠিক  আছে  দাঁড়া।তুই পাড়ার ছেলে।বিপদে আপদে থাকিস।তাছাড়া  বৌমার সখও পূরণ করা দরকার।
বুড়ি শোবার ঘরে চলে যায়।সেখানে সিন্দুকে রাখা গয়নার বাক্স থেকে তিনটে মাঝারি মাপের পেঁয়াজ  এনে চোরের হাতে তুলে দিয়ে  বলে----জানিস তো বাবা,পিঁয়াজ  এখন হীরের চেয়েও দামী। তাই এত যত্ন  করে রাখা।কিছু মনে করিস না বাবা।
লালচে পেঁয়াজ গুলো হাতে নিয়ে  কি আনন্দ  ছেলেটার।বুড়িকে প্রণাম  করতেই বুড়ি আশীর্বাদ  করে বলে----ভালো থাকিস বাবা।পিঁয়াজের মতো জীবন  দামী হোক।
                  

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন