সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২০

'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' : তপন দাস




'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গল্পে আত্মজাকে যেভাবে পেলাম
 তপন দাস
                   
দেশভাগ কোন একক মানুষের আত্মভাগ নয়, হাজার হাজার মানুষের বাস্তুভূমি ছেড়ে চলে যাওয়ার কান্না-বেদনার এক সজীব-চিত্র। ১৯৪৭ সালে বাঙালি স্বাধীনতা লাভ করেছিল, সেই স্বাধীনতা লাভ বাঙালি বড়ো চোখে দেখেছিল, কিন্তু দেখেনি দাঙ্গা, দেখেনি বাস্তুহীন্তার অভিশাপ। সেদিনের সাধারণ মানুষ নিজেদেরকে বাঙালি বলে মনে করলেও সর্বভারতীয় নেতারা নিজেদের হিন্দু বা মুসলিম বলে মনে করেছিলেন, তারা নিজেদেরকে আর বাঙালি বলে ভাবতে পারছিলেন না। ফলে তাদের মধ্যে শুরু হয়ে যায় ক্ষমতা দখলের লড়াই। সর্বভারতীয় নেতৃবৃন্দের চক্রান্ত এবং উদ্দেশ্য সেদিনের সাধারণ মানুষ বুঝে উঠতে পারেনি। আর বুঝে উঠতে পারেনি বলেই সেদিনের সাধারাণ বাঙালিকেই দেশভাগের শিকার হতে হয়েছিল। আপন বাস্তুভীটে ছেড়ে সেদিনের সাধারণ বাঙালিকে পারি দিতে হয়েছিল অজানা ঠিকানায়।
সর্বভারতীয় নেতারা যখন নিজেদেরকে হিন্দু বা মুসলমান ভাবতে আরম্ভ করল তখন সৃষ্টি হল হিন্দু-মুসলমানের জন্য আলাদা আলাদা সংগঠন। হিন্দুদের জন্য হল হিন্দু মহাসভা(১৯০৬) আর মুসলমানদের জন্য মুসলিম লীগ(১৯০৬)। আগা-খাঁর নেতৃতে এক প্রতিনিধি দল মুসলমান সমাজের জন্য আলাদা নির্বাচনের দাবি করল, আর সেদিনই যে দেশভাগের বীজ রোপণ করা হল তা বাঙালি উপলব্ধি করতে পারেনি। মুসলিম লীগের উদ্দেশ্য ছিল শাসনকার্য পরিচালনার কাজে মুসলমানদের যোগদান যাতে সহজ হয়। আর ইংরেজ সরকারও আপন স্বার্থসিদ্ধির জন্য মুসলিম লীগকে কাজে লাগাতে থাকে। শুরু হল বাঙালির ভেতরকার বিচিত্র অন্তর্বিরোধ।
১৯০৫ সালে কার্জন বাংলা ভাগের পরিকল্পনা করার সঙ্গে সঙ্গে সেদিনের বাঙালি গড়ে তুলেছিল বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন, কিন্তু সেই বাঙালি ১৯০৫ থেকে ১৯১১ সালের মধ্যবর্তী ঘটনা প্রবাহ চল্লিশ দশকে পুরোপুরি ভুলে গিয়েছিল। বঙ্গভঙ্গের উত্তাল দিনগুলিতে রবীন্দ্রনাথ হিন্দু-মুসলমানকে একসঙ্গে নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে নেমেছিল।  কিন্তু তার দেহাবসানে কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ নিজেদের ক্ষমতা দখলের পাটিগণিত নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, বাংলা এবং পাঞ্জাবকে তারা বলির পাঠা হিসাবে বেছে নেন। এই দুঃসময়ে আর রবীন্দ্রনাথ ছিলেন না, ফলে আর শোনা গেল না বাংলার মাটি বাংলার জল বাংলার ঘরে যত ভাইবোনের এক করার গান। তারা বাংলা আর পাঞ্জাবকে নিয়ে পাশা খেলায় নেমে পরেন। আর এই পাশার গুটিতে পরিণত হয়েছিল হাজার হাজার মানুষ, মানুষকে বহু প্রজন্মের  আশ্রয় হারাতে হয়েছিল এবং মিথ্যা স্ব-ভূমির আশ্বাসে প্রতারিত হয়ে ঘৃণার পাশাপাশি উদ্বাস্তু অভিধা অর্জন করতে হয়েছিল।
                                         ২
বিশ শতকের ষাটের দশকের অন্যতম কথাশিল্পী হিসাবে হাসান আজিজুল হকের আত্মপ্রকাশ। প্রথম থেকেই তাঁর গল্পে সাধারণ মানুষ, মানুষের সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থা অর্থাৎ সমকালীন বাস্তবতা স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত। হাসান আজিজুল হকের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের জেলার যবগ্রামে। জীবনের প্রথম ষোল বছর তিনি রাঢ়বঙ্গে অর্থাৎ বর্ধমানে কাটান। কিন্তু দ্বি’জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত বিভক্তির কারণে ১৯৪৭ সালের পর থেকেই পূর্ববঙ্গের বেশীর ভাগ হিন্দু বাঙালি পশ্চিমবঙ্গে চলে আসতে থাকে এবং তাদের স্থলে চলে যায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে মুসলিম বাঙালিরা। শুরু হয়ে যায় বিনিময় প্রথা, জায়গা-জমি-বাড়ির বিনিময়। এই বিনিময় ব্যবস্থার মাধ্যমে হাসান আজিজুল হকের পরিবারকে পূর্ববঙ্গে চলে যেতে হয়েছিল।
ভারত বিভক্তিতে সাম্প্রদায়িকতা শব্দটিকে এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল যাতে হিন্দু-মুসলিম পরস্পর পরস্পরকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে। ফলে শুরু হল হিন্দু-মুসলমান আন্তঃসংঘর্ষ। হিন্দু ও মুসলমান আর কেউ কাউকে মেনে নিতে পারছিল না, শুরু হল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। ১৯৪১ থেকে ১৯৪৬ সালের মধ্যে প্রতি বছর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটিত হয়েছে, ভয়াবহ ঘটনায় বাস্তব পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। ফলে শেষ পর্যন্ত দেশভাগ করতেই হয়েছে, মানুষকেও পাড়ি দিতে হল অজানা ঠিকানায়। হাসান আজিজুল হক শৈশব-কৈশোরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-১৯৪৫) ভয়াবহতা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশভাগ স্বচক্ষে দেখেছিলেন। দেশভাগের ক্ষত তাঁকে ভীষণভাবে তাড়িত করেছে। দেশত্যাগী মানুষের মানসিক বিপর্যয় একজন শিল্পীর কলমে যেভাবে উদ্ভাসিত হয় হাসান আজিজুল হকের আত্মজ ও একটি করবী গাছ গল্পে তারই এক বাস্তবচিত্র ফুটে উঠেছে।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের ফলে বহু মানুষ যে উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছিল তাদের না ছিল কোন অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, না ছিল জীবনযাপনের নিরাপত্তা। ফলে বাস্তুহীন মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে, বেকারত্বের জ্বালায় মনুষ্যত্ব বিক্রয়ে বাধ্য হয়েছিল। সাধারণ ঘরের ছেলেরা লেখা পড়া ছেড়ে উদ্দেশ্যহীন জীবনযাপন শুরু করে। দেশভাগ তাদের ভবিষ্যতের উচ্চ ভাবনার দ্বারকে রুদ্ধ করে দিয়ে চৌর্যবৃত্তি অবলম্বন করতে বাধ্য করেছে। আবার অনেক পরিবার পেটের জ্বালা মেটাতে গিয়ে নিজের আত্মজাকে অন্যের ভোগের পাত্রে পরিণত করে, এইরকম এক পীড়াদায়ক কাহিনী লিপিবদ্ধ হয়েছে আত্মজা ও একটি করবী গাছ গল্পে। গল্পের প্রথমেই তিনজন বখাটে যুবক ফেকু, সুহাস ও ইনামের সাথে গল্পকার আমাদের পরিচয় করিয়ে দেন, যারা স্কুলজীবন থেকে ছিটকে পড়েছে এবং চৌর্যবৃত্তি, ছিনতাই, পকেটমার বৃত্তি অবলম্বন করেছে। স্খলিত এই যুবকরা দেশভাগের পর ভারত থেকে চলে আসা এক পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগ গ্রহণ করে। এই যুবক দল অসহায় পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের প্রলোভন দেখিয়ে রুকুর দেহ সম্ভোগের ব্যবস্থা পাকা করে নিয়েছে। অসহায় বৃদ্ধ পিতা মনুষ্যত্ব ও মূল্যবোধ বিসর্জন দিয়ে নিজের আত্মজা রুকুকে যুবক দলের হাতে তুলে দিয়েছে। ভিটেমাটি ত্যাগ করে চলে আসা অসুস্থ বৃদ্ধ কোন রকম আর্থিক সংস্থান গড়ে তুলতে পারেনি। ফলে শীতের রাতে একটু উষ্ণতার স্পর্শে বালক দল মাত্র দু’টাকার বিনিময়ে রুকুর দেহ সম্ভোগ করে। অসহায় বৃদ্ধ নিজের আত্মগ্লানি ঢাকতে বাড়ির উঠানে রোপণ করা করবী গাছ এবং করবী গাছের বীজ থেকে যে বিষ হয় সেই প্রসঙ্গ বারবার বলতে থাকেন। নিজের হাতে গড়া আত্মজাকে লম্পটধারী ছেলেদের হাতে তুলে দিয়ে বৃদ্ধ যেন সেই করবীগাছের বিষ পাণ করে জীবন্মৃত অবস্থায় বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে।
                                         ৩
স্বল্পকাহিনীতে গল্পকার তৎকালীন সময়ের দু’ধরনের অবস্থা উদ্ভাসিত করেছেন। যথা-
ক) সামাজিক প্রতিকূলতা
খ) রাজনৈতিক প্রতিকূলতা
সামাজিক প্রতিকূলতা সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই গল্পে বর্ণিত বালক ফেকু, সুহাস ও ইনামের মতো নষ্ট চরিত্রের কথা উঠে আসে। এই তিনটি বালক সেই সময়কার ঘুণে ধরা বিকলাঙ্গ সমাজকে প্রতিনিধিত্ব করে। মূল জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন এই বালকের দল সারাদিন বিপর্যস্ত কাকের মতো ঘুরে বেরায়। তাদের এমন চরিত্রহীনতার জন্য তাদের পরিবার অনেকাংশে দায়ী। সামাজিক দুরাবস্থা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কারণে তারা লেখা পড়ার জীবনকে বেছে নিতে পারে না। পারিবারিক ভালোবাসা ও একতার অভাবে ইনাম তার পিতার ছোট স্ত্রীর পুত্র হিসাবে জন্ম নিয়েছে। পরিবারের কড়া শাসনের কারণে ফেকুর মতো ছেলে ডানপীঠে হয়ে বারে বারে দাদার কাছে ধরা পড়ে তাঁর খারাপ কাজের জন্য মার খেয়েছে। ইনাম পূর্বে স্কুলে গেলেও সে এখন আর স্কুলে যায় না। কারণ শিক্ষিত মানুষের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সুন্দর মূর্তিটি তার সামনে থেকে মহাকাল ঝাপসা করে দিয়েছে। তাই ইনাম আশাহীনভাবেই বলে-
চাকরি গাছে ফলতিছে!...লেখাপড়ার মুহি পেচ্ছাব…উঁচো জায়গায় দাঁড়োয়ে সবির উপর পেচ্ছাব। কাজ   কোয়ানে? জমি নেই খাঁটী, ট্যাঁহা নেই ব্যবসা করি-কি কলাডা করবানে?১
তাই তারা উদ্দেশ্যহীন জীবন নিয়ে চোর ও পকেটমারে পরিণত হয়। পকেট কাটতে গিয়ে বহুবার উত্তম-মাধ্যম খেয়ে ভাগাড়ে গরু পড়ার মতো অবস্থা হয় ইনামের। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সে একাজ থেকে সরে আসতে পারে না। কারণ মার খেতে খেতে এধরণের কাজে তার গা সওয়া হয়ে গেছে। মার খেয়ে একসময় তাদের ঘা শুকিয়ে যায়। ইনাম আমাদের করুণ বাস্তবতার সম্মুখীন করিয়ে দিয়ে বলে
নারকেল চুরি করে বিক্রি করলে হয়; কিন্তু ভাতের চালের অভাবে উপোষ করে থাকতে বড়ো কষ্ট।২
১৯৪৭ সালের দেশবিভাগের উনিশ বছর পর ১৯৬৬ সালে আত্মজা ও একটি করবী গাছ গল্পটি রচিত হয়। দেশবিভাগের এত বছর পরও সমকালীন দাঙ্গা, বিকৃত সমাজের ছবি হাসান আজিজুল হকের মন থেকে মুছে যায়নি। এই গল্পে ১৯৪৬-১৯৪৭ সালের রাজনৈতিক প্রতিকূলতার পরিণাম দেখানো হয়েছে। ভারত-পাকিস্তান নামক হিন্দু ও মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নামে বহু অসহায় মানুষ আপন বাস্তুভিটে ত্যাগ করে উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়। ঠিক এমনই একটি শরণার্থী পরিবারের নিজ দেশ ছেড়ে অপর দেশে আগমনের পরবর্তী সময়টি বর্ণিত হয়েছে। হাসান আজিজুল হকের ব্যক্তিগত জীবনের সাথে এই গল্পের মিল রয়েছে। তিনি জন্মে ছিলেন বর্ধমানের যবগ্রামে। স্বাধীনতার প্রাক্কালে যখন হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা আরম্ভ হয়, তখন হাসান আজিজুল হকের শিশু বয়স। কিন্তু এই দাঙ্গা যখন শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, তখন হাসান আজিজুল হকের কিশোর মনকে আলোড়িত করেছিল। আর এই দাঙ্গার বিষক্রিয়া স্বরূপ মানুষের ভাগ হতে থাকল। পাকিস্তান থেকে মানুষ বাস্তুহীন হয়ে ভারতে এবং ভারত থেকে মানুষ বাস্তুহীন হয়ে পাকিস্তানে চলে যেতে থাকে। এইভাবে বাস্তুহীন মানুষ জীবনের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। আপন বাস্তুভূমি ছেড়ে  অপর দেশে  থাকাটা যে কতটা কষ্টদায়ক তা গল্পকার এখানে উপস্থাপন করেছেন। গল্পে ফেকু, সুহাস ও ইনামের কথোপকথনে ধরা পড়ে উদ্বাস্তু মানুষের কথা:
তাদের বাড়ির পলেস্তরা-খসা দেয়াল, কারণ বাড়িটা আসলে সেনদের। ওরা চলে গেছে পঞ্চাশে।৩
                                           ৪
দেশভাগ হয়েছে, সময় পেড়িয়ে গেছে, কিন্তু উদ্বাস্তুদের অভাব-অনটন কমেনি। তাই ১৯৬৬ সালে লেখা আত্মজা ও একটি করবী গাছ গল্পে বর্ণিত অসুস্থ নিরুপায় বৃদ্ধ পেটের জ্বালা মেটাতে নিজের আত্মজা রুকুকে ইনামদের মতো বখাটে ছেলেদের হাতে তুলে দিয়েছেন। সলিল সেনের নতুন ইহুদি (১৯৫১) নাটকের পরীর জীবনের সাথে রুকুর জীবনের অনেকটা মিল খুঁজে পাওয়া যায়। এই নাটকে যে পরিবারটির কথা বর্ণিত হয়েছে তা পাকিস্তান থেকে ভারতে আসা একটি উদ্বাস্তু পরিবার। পরী অসুস্থ বাবার চিকিৎসা এবং পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দিতে অন্যের হাত ধরে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। ধর্মের ভিত্তি দেশভাগের ফলে বাস্তুহারা মানুষের আজন্ম লালিত ভিটেমাটির প্রতি মাতৃসুলভ পরম মায়া, উদ্বাস্তু জীবনের আর্থিক সংকট মানুষকে চরম সংকটে নিপাতিত করে। উদ্বাস্তু মানুষের মাতৃভূমি ত্যাগের যন্ত্রণা গল্পকার দক্ষতার সাথে উপস্থাপন করেছেন। বৃদ্ধের কথায় তা ফুটে উঠেছে-
দেশ ছেড়েছে যে তার ভেতর বাইরে নেই। সব এক হয়ে গেছে।৪
হ্যাঁ, আজ বৃদ্ধের ভেতরে বাইরে এক হয়ে গেছে, তার চিরাচরিত মূল ছিন্ন হয়ে গেছে। আর এই কারণেই ছিন্নমূল বৃদ্ধের পরিবার আজ নতুন ইহুদীতে পরিণত হয়েছে। সুস্বাদু ফলপ্রাপ্তির প্রত্যাশায় মানুষ বৃক্ষরোপণ করে, গল্পে বর্ণিত বৃদ্ধ রোপণ করেছিল করবী গাছ, যার ফল বহন করে তীব্র তিক্ততা অর্থাৎ বিষ বহন করে। কন্যার যৌবনের বিনিময়ে  অর্জিত অর্থে জীবন ধারণে বাধ্য হওয়া বৃদ্ধের কাছে করবী গাছের বিষময় ফল ভক্ষণের নামান্তর। কন্যাটি এখানে করবী গাছ এবং তার অর্জিত অর্থ এখানে করবী গাছের ফল। তা গ্রহণ করে তিক্তভাবে বেঁচে থাকা যায় মাত্র, মানুষ কখন সফলভাবে বিকশিত হতে পারে না। আর এ পরিণতির জন্য লেখক বৃ্হদার্থ দেশভাগকেই দায়ী করেছেন এবং বাংলা তথা ভারত বিভক্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত স্বাধীনতাকে বিষবৃক্ষের ফলরূপে চিহ্নিত করেছেন।



তথ্যসূত্র:
১. হক, হাসান আজিজুল। দেশভাগের ছয়টি গল্প ও টুকরো কতক স্মৃতি। সাহিত্য প্রকাশ, ঢাকা- ১০০০। প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০১৯। পৃ. ৫১।
২. পূর্বোক্ত, পৃ. ৫৩।
৩. পূর্বোক্ত, পৃ. ৫৪।
৪. পূর্বোক্ত, পৃ. ৫৬।
৫. হক, হাসান আজিজুল। আগুনপাখি। দে’জ পাবলিশিং, কলকাতা- ৭০০০৭৩। প্রথম প্রকাশ: এপ্রিল, ২০০৮।
৬) হক আজিজুল, হাসান। এই পুরাতন আঁখরগুলি। ইত্যাদি গ্রন্থপ্রকাশ, প্রথম পাবলিশার্স, ঢাকা। ২০১৪।
৭) হক আজিজুল, হাসান । লেখকের উপনিবেশ। বাংলাপ্রকাশ, ২০১৪, ঢাকা।
৮) হক আজিজুল, হাসান । চালচিত্রের খুঁটিনাটি । দে’জ পাবলিশিং। ১৩ বঙ্কিম চ্যাটার্জী, স্ট্রিট কলকাতা-৭০০০৭৩। জানুয়ারি, ২০০৯।
৯) হক আজিজুল, হাসান। ফিরে যাই ফিরে আসি । দে’জ পাবলিশিং। ১৩ বঙ্কিম চ্যাটার্জী স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০৭৩। জানুয়ারি, ২০১২
১০)  আনোয়ার, চন্দন। হাসান আজিজুল হক নিবিড় অবলোকন। কথাপ্রকাশ, ঢাকা- ১০০০। প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি, ২০১৫।                                                  
 ১১) দাশ, উদয়চাঁদ ও চট্টোপাধ্যায়, অরিন্দম। দেশ বিভাগ ও বাংলা উপন্যাস। বাংলা বিভাগ উচ্চতর বিদ্যাচর্চা কেন্দ্র, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়, বর্ধমান: ৭১৩১০৪। প্রথম প্রকাশ: ১৫ই আগস্ট, ২০০৫।
১২) চট্টোপাধ্যায়, ভবানীপ্রসাদ। দেশবিভাগ পশ্চাৎ ও নেপথ্য কাহিনী। আনন্দ, কলকাতা- ৭০০০০৯। প্রকাশ: জানুয়ারি, ১৯৯৩।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন