শনিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২০

যুগান্তর মিত্রের অণুগল্প : না ফেরার গল্প

যুগান্তর মিত্র
না ফেরার গল্প


~ হ্যারে লখা। তু উখানে চান করতি?
~ ইটা ক্যামন কতা রে বসু। চান করব নাই ক্যানে?
~ ওখেনে জল আচে? শুনি যে পুক্কুর নাই, লদী নাই, ডুবাও নাই। 
~ লদী, পুক্কুর নাই বটে। কিন্তুক জল আচে ম্যালা। মাটি থিকা একঠো মোটাপানা পাইপ দি লগবগা জল উটে। সিখানিই চান করলম। তাপ্পর হোটেলের এক বাবু কাজ দেল। শুতে দেল দুকানঘরেই। দুবেলা পেট পুরি খেতি দেয়। আর কিচু দেয় না। আমিও চাই না রে।

'পাট্টির মিটিনে' গিয়েছিল অনেকের সাথে লখিন্দরও। মঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি সে। লোকে লোকারণ্য। বড় বড় বাড়িঘর, নানা গাড়ি, ম্যালা লোকজন দেখতে দেখতেই নজর পড়ল তার গ্রামের কেউ আশেপাশে নেই। অনেককে জিজ্ঞাসা করেও হদিশ পায়নি তাদের। নিজের জেলা, সাকিন তার জানা নেই। গ্রামের নামও কেউ শোনেনি। তাই বাড়ি ফেরার কোনও সূত্র পাওয়া যায়নি। সেই থেকে লখাই কলকাতাতেই আছে। তবে মনে রেখেছে বসুমতীর কথা, যাকে সে ভালোবাসে আজও। বাড়ি ফিরলে বসু তাকে কী কী জিজ্ঞাসা করতে পারে, সেসব ভাবে সে দিনরাত।

আজ অনেকদিন পর প্রচুর লোক আসছে শহরে। লোকজনের হাতে হাতে ঝাণ্ডা। লোকনাথ ভাতের হোটেলের দরমার বেড়ার ফাঁক দিয়ে এসব দেখেই লখাই বুঝতে পারে সেদিনের মতোই কোনও 'পাট্টির মিটিন' আছে। কাজ ফেলে ছুটতে থাকে লখাই, আর চিৎকার করে বলে, 'তুমরা পলাও। ইখিনি হারাই গেলি আর ফিরা লাগবে না ঘরে। পলাও।'

'এইসব পাগল-ছাগলদের জন্য ওপরওয়ালার ধমক' শুনতে হবে পুলিশদের। তাই পুলিশের বড়বাবুর নির্দেশে লখাইকে ভ্যানে তোলা হল।
'~ ও পুলিশ কাকারা। আমি কিচু দোষ করি নিই গো। অরা মিটিনে এইচে। আর ফিরি যেতি পারবেনি। মিটিনের লুকেরা আনে শুদু, ফিরায় নেয় না গো।

ভ্যান ক্রমশ অদৃশ্য হয়ে যায়। আর হারিয়ে যেতে থাকে লখাইয়ের কথাগুলো।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন