শনিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২০

অমিতাভ দাসের অণুগল্প : তালপাতার পাখা

অমিতাভ দাস
তালপাতার পাখা


এই বস্তুটির সঙ্গে বুবলাইয়ের বিরাট শত্রুতা । জিজ্ঞেস করো কেন ?
--কেন ?
এই তালপাতার পাখা দিয়ে ঠাকুরমা হাওয়া খেতেন , পিঠ চুলকোতেন , দুষ্টুমি করলে পাখাটা ছুঁড়ে মারতেন । বাবা কাজ থেকে ফিরে হাওয়া খেতেন , পিঠ চুলকোতেন এবং অন্যায় দেখলেই পাখার ডাট দিয়ে পেটাতেন । মা'ও তাই করতেন । মাস্টারমশাই'ও তাই করতেন ।
  --তার মানে তালপাতার সঙ্গে সব-ই খারাপ স্মৃতি ? ভালো স্মৃতি নেই কিছু , বলায় বুবলাই  কান চুলকে বললে , আছে-- বেশ কিছু স্মৃতি আছে বটে ।
--শুনি কেমন সেই স্মৃতি ।
--শুনবে ? বলে বুবলাইয়ের চোখ দুটো উজ্জ্বল হয়ে উঠল ।

   মা যখন ছাদে আচার রোদে দিত , আমার কাজ ছিল তালপাতা দিয়ে হাওয়া দেওয়া ,  যাতে মাছি না বসে । কাক বা অন্য পাখি এসে মুখ না দেয় । সে ছিল খুব আনন্দের সময় । ষষ্ঠীর সময় মা  তালপাতার পাখাটা গঙ্গার জলে ভিজিয়ে আমাদের হাওয়া দিত মাথায় । বলত , ষাট ষাট...ঠাকুমাও তাই করতেন । এসব বড় ভালো লাগত ।

  দুপুর বেলা বাবা ঘেমে-নেয়ে বাড়ি ফিরলে আমি হাওয়া করতে বসতাম । বাবা রুমালের মধ্যে শালপাতায় মোড়া তালশাঁস নিয়ে আসত । দাওয়ায় বসে হাওয়া খেত । মা খুব যত্ন করে সেই পাখার চারিদিকে লাল কাপড়ের কুচি লাগিয়ে সেলাই করে রাখত । আহা , দেখতে কী যে ভালো লাগত ।
  --ওই দ্যাখো , আইসক্রিমঅলা যাচ্ছে । খাবে নাকি এক পিস ?
--কত দাম ?
--কত আর , ত্রিশ পয়সা চল্লিশ পয়সা হবে । আমার কিন্তু সবুজ রঙের আইসক্রিমটা বেশ লাগত ।
--আমার কমলা...


কথা চলছে । কথা উড়ছে । কাঁচা আমি আর পাকা আমির মধ্যে কথা । এসির ঠান্ডা ঘরে বসে বুবলাই এখন নিজের সঙ্গে নিজেই অনেক কথা বলে । অবসর জীবনে এইসব নিয়েই বেঁচে আছেন বুবলাই বোস । বাইরে ৪২ ডিগ্রি উত্তাপ  । ফ্ল্যাট । বড় বড় বাড়ি । গাড়ি । মোবাইল টাওয়ার । আকাশ নেই । গাছ নেই । মাটি নেই । সবুজ নেই...

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন