শনিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২০

রাব্বীনূর আলী - তেভাগা আন্দোলন এবং আবু ইসহাকের ‘জোঁক’ : একটি বিকল্প প্রস্তাব

রাব্বীনূর আলী
তেভাগা আন্দোলন এবং আবু ইসহাকের ‘জোঁক’ : একটি বিকল্প প্রস্তাব



পরাধীন ভারতবর্ষের অবিভক্ত বাংলায় জমিদারি প্রথায় কৃষক-শ্রমিকদের উৎপাদিত পণ্যের তিন ভাগের দুই ভাগ দিতে হতো জমিদারকে। সেই ভাগের অর্থ দিয়ে জোতদার-জমিদাররা শহরে বিলাসবহুল জীবনযাপন করতো। ফলত এর বিরুদ্ধে আপামর কৃষক-শ্রমিকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের দুই তৃতীয়াংশের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে, যা ইতিহাসে তেভাগা আন্দোলন নামে পরিচিত। তেভাগা শব্দের প্রচলিত অর্থে ভাগচাষী তাদের ভাগচাষের অধিকারস্বরূপ উৎপাদনের সমান অংশ বা দুই ভাগের এক ভাগ পাওয়ার অধিকারী। ১৯৪৬-৪৭ সাল নাগাদ স্বাধীনতার প্রাক্‌ মুহূর্তে ভূমি মালিক এবং ভাগচাষীদের মধ্যে উৎপাদিত শস্য সমান দুই ভাগ করার পদ্ধতির বিরুদ্ধে বর্গাদাররা প্রবল আন্দোলন গড়ে তোলে। তৎকালীন পূর্ব বাংলা এবং পশ্চিমবঙ্গে এই আন্দোলন সংগঠিত হয়। মূলত এই আন্দোলন সংগঠিত করেন বাংলার প্রাদেশিক কৃষকসভার কম্যুনিস্ট কর্মীরা। তাদের নেতৃত্বে বর্গাচাষীরা ভূমি মালিক শ্রেণির বিরুদ্ধে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ হয়। বাংলার ১৯ টি জেলায় এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ভূমি মালিকরা ভাগ-চাষীদের দাবি প্রত্যাখ্যান করে পুলিশ দিয়ে আন্দোলনকারীদের অনেককেই গ্রেফতার করে। কিন্তু জমিদারের দমনেও আন্দোলন স্তিমিত হয়ে যায়নি। রংপুর, দিনাজপুর, খুলনা, ময়মনসিংহ, যশোর, জলপাইগুড়ি এবং চব্বিশ পরগনা প্রভৃতি জায়গায় আন্দোলন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। জলপাইগুড়ি, যশোর এবং দিনাজপুর তেভাগা এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। আন্দোলনের চাপে অনেক ভূস্বামী তেভাগা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। পরবর্তীকালে ১৯৪৭ সালে তদানীন্তন মুসলিম লীগ সরকার বিধানসভায় বর্গা প্রথা সংস্কারের উদ্দেশ্যে একটি বিল উত্থাপন করে। এই বিল বর্গাদার আন্দোলনে যেমন উৎসাহের সঞ্চার করে, তেমনই তেভাগা আন্দোলন সম্পর্কে একটা সহজ মনোভাবও গড়ে তোলে। শেষ পর্যন্ত এই নিপীড়িত আইনের বিরুদ্ধে লড়াই করে কৃষক-শ্রমিকরা জয়লাভ করে।

      তেভাগা আন্দোলনের এই কৃষক অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে  বাংলা সাহিত্যে রচিত হয়েছে অজস্র শিল্প-সাহিত্য-নাটক। প্রথিতযশা সাহিত্যিকেরা তেভাগা আন্দোলনের ওপর অসংখ্য কবিতা-উপন্যাস-ছোটগল্প রচনা করেছেন। বাংলা ছোটগল্পে তেভাগা কৃষক সংগ্রামের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হারানের নাত জামাই’, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘বন্দুক’, সমরেশ বসুর ‘প্রতিরোধ’, সৌরি ঘটকের ‘কমরেড’ প্রভৃতি গল্পে। এছাড়াও আরও অনেক গল্পকার তাঁদের লেখায় তেভাগা কৃষক সংগ্রামকে তুলে ধরেছেন।

        আমাদের আলোচ্য বাংলাদেশের বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩) সেই তেভাগা কৃষক আন্দোলনকে তুলে ধরেছেন তাঁর ‘জোঁক’ গল্পে। গল্পটি ‘মহাপতঙ্গ’(১৯৬৩) গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত। রচিত হয় ১৯৫৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। আবু ইসহাক তখন পুলিশ বিভাগের পরিদর্শক হিসেবে করাচিতে কাজ করছিলেন। গল্পকার হিসেবে আবু ইসহাকের চল্লিশের দশকে উত্থান ঘটলেও তিনি সর্বদা নিজেকে অন্তরালে রাখতেন। তাঁর সাহিত্য পরিধি বিবেচনা করলেই আমরা খুঁজে পাব বাস্তবতা। মূলত বাস্তবধর্মী গল্পকার তিনি। যারা প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করছে তাদেরকে তিনি তাঁর গল্পের উপাদান করেছেন। সেই চিত্রই আমরা খুঁজে পাই তাঁর ‘জোঁক’ গল্পে। দেশের শোষক শ্রেণির দ্বারা নির্যাতিত, নিপীড়িত কৃষক সমাজকে আবু ইসহাক তাঁর এই গল্পে তুলে ধরেছেন। জোঁক একটি পতঙ্গ হলেও গল্পকার সেটিকে একটি রূপক হিসেবে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন। গল্পে ভূমিহীন দরিদ্র কৃষক ওসমান জোতদার ওয়াজেদ চৌধুরী এবং তার ছেলে ইউসুফ চৌধুরীর ছল চাতুরির দ্বারা প্রতারিত হয়েছে। ওয়াজেদ চৌধুরী শহরের প্রতিভাবান চাকুরীজীবী। ওসমান তার জমিতে ফসল আবাদ করে। গল্পের শুরুতেই গল্পকার ওসমানের উক্তির মাধ্যমে একজন কৃষকের নিত্যনৈমিত্তিক জীবনাচারকে তুলে ধরেছেন-
          ‘সেদ্ধ মিষ্টি আলুর কয়েক টুকরো পেটে জামিন দেয় ওসমান। ভাতের অভাবে অন্য
          কিছু দিয়ে  উদরপূর্তির  নাম চাষী-মজুরের  ভাষায় পেটে জামিন দেয়া। চাল যখন
          দুর্মূল্য তখন এ ছাড়া উপায় কি?’
                  (আবু ইসহাক, নির্বাচিত গল্প সমগ্র, নওরাজ সাহিত্য সম্ভার, প্রথম সংস্করণ,
                   ২০০৫, পৃ- ১৩০)
এই খেয়েই ওসমানদের কাজে যেতে হয় স্ত্রী-সন্তানের মুখে অন্ন জোগানোর আশায়। ওসমান জোতদার ওয়াজেদ চৌধুরীর জমিতে চাষাবাদ করে। কাজে যাবার সময় সঙ্গে নেয় তার দশ বছরের ছেলে তোতাকে, পড়াশুনার পাশাপাশি তোতা পিতার কাজে সহযোগিতা করে। শ্রাবণের ভরা বর্ষায় ওসমানের আবাদ করা পাটক্ষেত স্বল্প জলে ডুবে থাকে। ওসমান তাই নৌকা করে তার  পাটক্ষেতে যায় এবং পাটক্ষেত দেখে আনন্দে আপ্লুত হয়ে উঠে। গল্পকার লিখেছেন-
         
            ‘পাট গাছগুলোর  দিকে  তাকিয়ে  ওসমানের  চোখ তৃপ্তিতে ভরে ওঠে। যেমন
            মোটা হয়েছে, লম্বাও হয়েছে প্রায় দুই-মানুষ সমান। তার খাটুনি সার্থক হয়েছে।’           
                                                                         (তদেব, পৃ- ১৩০)
কিন্তু সুপুষ্ট পাট গাছ দেখে আনন্দ হলেও ক্ষণিকেই তার মুখ ম্লান হয়ে যায়। কেননা এতো কঠোর পরিশ্রমের ফসল তার একার নয়। সে শুধুমাত্র এই আবাদের ভাগচাষী। জোতদার ওয়াজেদ চৌধুরীর গোমস্তা সঠিক সময়ে এসে সেই চাষের অর্ধেক ভাগ নিয়ে যায়। প্রতি মরশুমের সময় ওয়াজেদ চৌধুরীর ছেলে ইউসুফ ঢাকা থেকে এসে ধান-পাট বিক্রি করে সেই ভাগের টাকা নিয়ে আবার ঢাকায় চলে যায়। তাই সে আক্ষেপ করে ভাবে, তার মেহনতের ফসলে যদি কেউ ভাগ না বসাত তাহলে সবটাই সে পেত। এসব ভাবতে গিয়ে তার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। কারণ পাট কাটতে গিয়ে তাকে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে হয়েছে, পানি কামড়ানো, জোঁকের কামড়ও খেতে হয়েছে। রাগ করে সে তার আবাদি পাট গাছগুলোকেই গালাগাল দিয়ে ওঠে-
             ‘আমরা না খাইয়া শুকাইয়া মরি, আর এই শালার পাটগুলা মোট্টা অইছে কত।
             কাচিতে ধরে না। ক্যান্‌ চিক্কণ চিক্কণ অইতে দোষ আছিল কি? হে অইসে এক
             পোচে দিতাম সাবাড় কইরা।’  (তদেব, পৃ- ১৩২)
ওসমান জলের তলায় পাট কাটার দরুণ ক্রমাগত ওঠা-নামা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। খিদার চোটে সে জমিদারের উপরেও ক্ষিপ্ত হয়ে বিড়বিড় করে বলে-
             ‘ব্যাডা তো ঢাকার শহরে ফটেং বাবু অইয়া বইসা আছে। থাবাডা দিয়া আধাডা
             ভাগ লইয়া যাইব। ব্যাডারে একদিন পচা পানির কমড়া খাওয়াইতে পারতাম!’
                                                                           (তদেব, পৃ- ১৩২)
এ শুধু ওসমানের নয়, এ যেন সমগ্র কৃষক সমাজের সংগ্রামী মনোভাবাপন্ন দৃষ্টিভঙ্গী। যারা প্রতিনিয়ত জুলুমকারীর শোষণ-বঞ্চনাকে সহ্য করে চলেছে। আর তাই ওসমানের পায়ে জোঁক লাগার ফলে তার রক্ত দেখে তোতা যখন বলে ওঠে-
            ‘ইস্‌, কত রক্ত!...বাজান কেমুন কইর‍্যা জোঁক ধরল তোমারে, টের পাও নাই?’
                                                                         (তদেব, পৃ- ১৩৩)
এর প্রত্যুতরে ওসমান তার ছেলেকে বলে-
           ‘ এইডা আর এমুন কী জোঁক। এরচে বড় জোঁকও আছে।’ (তদেব, পৃ- ১৩৪)
বলার অপেক্ষা রাখে না এ জোঁক আর কেউ নয়, এরা হল সমাজের শীর্ষস্থানীয় শোষকশ্রেণি। এরা
দিনের পর দিন ওসমানের মতো কৃষকের রক্ত খেয়ে জোরপূর্বক তাদের অধিকার কয়েম করে নেয়। জোঁক যেমন ফাক পেলে মলদ্বার দিয়ে পেটের মধ্যে গিয়ে নাড়ী কেটে দেয় ঠিক তেমনি এই শোষকশ্রেনিরা কৃষকদের দিয়ে কাজ করিয়ে তাদের প্রাপ্য পাওনা না দিয়ে তিলে তিলে তাদের জীবনকে ধুলিস্বাৎ করে দেয়। গল্পকার জোঁক-কে তাই রূপক হিসেবে ব্যবহার করে সমগ্র গল্পে  শোষকদের দ্বারা শোষিত, নির্যাতিত কৃষক সমাজকে তুলে ধরেছেন।

       গল্পের শেষ পর্যায়ে ওসমান তার কষ্টের ফলানো ফসল যখন ঘরে নিয়ে আসে ঠিক তখনই ওয়াজেদ চৌধুরীর গোমস্তা ওসমানের বাড়ির ঘাটে দাড়ি-পাল্লা নিয়ে হাজির হয়। গোমস্তার কয়াল উৎপন্ন পাট মেপে মেপে তিন ভাগ করে। ওসমান ভাবে হয়তো তেভাগা আইন পাশ হয়ে গেছে এবং উৎপাদিত ফসলের তিন ভাগের দুই ভাগ সে পাবে- এ আশা করেছিল। কিন্তু না; গোমস্তা ফসলের তিন ভাগের দুই ভাগ দাবি করে। এই কথা শুনে ওসমানের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। পচা পানিতে নেমে বিষাক্ত প্রাণীর কামড় খেয়ে  অক্লান্ত পরিশ্রম করে সে চাষাবাদ করেছে, সেই ফসলের সাথে জড়িয়ে আছে তার জীবনের সুখ অথচ অত্যাচারী শোষকের এই নির্মম আচরণে ওসমান বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। সে তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে উঠে ওয়াজেদ চৌধুরীর ছেলে ইউসুফ চৌধুরীর বৈঠকখানায় চলে যায় এর কারণ জানতে। কিন্তু কিছু বুঝে উঠার আগেই ইউসুফ চৌধুরী  ফসলের সিংহভাগ দাবি করার কারণস্বরূপ জানায়, ওসমান লাঙল গরু কেনা বাবদ তাদের কাছ থেকে গত বছর টিপসই দিয়ে ৫০০ টাকা নিয়েছিল। তাই ওসমান ফসলের এক ভাগ পাবে। অথচ ওসমান এসবের কিছুই জানে না। কারণ টিপসই সে গত বছর দিয়েছিল ঠিকই কিন্তু সেটা ছিল জমি বর্গা নেওয়ার বন্দোবস্তস্বরূপ একটা লিখিত দলিল। নিরীহ ওসমান বুঝতে পারেনি এটা ছিল জমিদারের ধোঁকাবাজি। আর আইনের একটা ধারায় বলা ছিল- ‘জমির মালিক লাঙ্গল-গরু সরবরাহ করিলে বা ঐ উদ্দেশ্যে টাকা দিলে উৎপন্ন শস্যের অর্ধাংশ পাইবেন।’ (তদেব, পৃ- ১৩৫) সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে জোতদার ওয়াজেদ চৌধুরী তার ছেলেকে দিয়ে ওসমানদের মতো নিরক্ষর ভাগ-চাষীদের কাছ থেকে কাগজে টিপসই নিয়েছিল। তাই তাদের কাছে গিয়ে ওসমানের লাভ হয় না কিছু। ইউসুফ চৌধুরীও তার পিতার মতোই রক্তচোষা জোঁকে পরিণত হয়েছে। আইনের পরোয়া করে না তারা। আইন তাদের হাতের মুঠোয়-
             ‘আইন! আইন করে কি আর আমাদের আটকাতে পারে। আমরা সূচের ফুটো
             দিয়ে আসি আর যাই। হোক না আইন। কিন্তু আমরা জানি, কেমন করে
             আইনকে ‘বাইপাস’ করতে হয়। হুঁ হ্‌ হুঁ।’ (তদেব, পৃ- ১৩৫)
       জমিদারের বঞ্চনার শিকার অসহায় ওসমান প্রতাড়িত হয়ে বিলাপ করতে থাকে। তার মন থেকে রঙিন স্বপ্নগুলো হারিয়ে যায়। সে ক্লান্ত, বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। আর জোঁকরূপী রক্তশোষক ভূস্বামীরা এভাবেই ওসমানের মতো অসংখ্য ভূমিহীন কৃষকের উপর দিনের পর দিন নির্যাতন করতে থাকে।

       পরিশেষে এই ঘটনার আকস্মিকতায় ওসমান ছেলে তোতাকে নিয়ে পাগলের মতো টলতে টলতে চৌধুরীবাড়ির সীমানা পার হয়। সে সময় দেখা হয় আরেক চাষী করিম গাজীর সঙ্গে। নবুখাঁ সহ আরও দশ-বারো জন চাষীও তার সঙ্গে ছিল। এরা কেউই অত্যাচারী জোতদারের কালো হাতের আস্ফালন থেকে রেহাই পায়নি। তাই তারা সমবেত হয়ে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করে। ইউসুফ চৌধুরীর মিথ্যার কাছে নেতিয়ে পড়া ওসমান ভুয়া টিপসই দিয়ে চাষীদের কাছ থেকে উৎপাদিত শস্যের তিন ভাগের দুই ভাগ লুফে নেওয়ার প্রতিবাদে শামিল হওয়ার সাহস পায় না দেখে করিম গাজী ওসমানকে তাড়া দিয়ে বলে-
              ‘চল আমাগ লগে দেখি কি করতে পারি!...আরে এমনেও মরছি অমনেও
              মরছি। একটা কিছু না কইড়্যা ছাইড়্যা দিমু?’  (তদেব, পৃ- ১৩৬)
তাদের ঝিমিয়ে পড়া রক্ত আবার জেগে ওঠে। তারা তাদের স্বাধিকারের দাবিতে এবং জমিদারের এই ঘৃণ্য প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমে পড়ে। ওসমান গা ঝাড়া দিয়ে বলে-
            ‘হঁ, চল। রক্ত চুইষ্যা খাইছে। অজম করতে দিমু না, যা থাকে কপালে।’
                                                                       (তদেব, পৃ- ১৩৬)
        যুগ-যুগান্তর ধরে বঞ্চিত ও শোষিত মানুষের জোতদার-জমিদারের বিরুদ্ধে এই যে রুখে দাঁড়ানো, এই যে প্রতিবাদী মনোভাব- তেভাগা আন্দোলনের প্রকৃত সাফল্য এখানেই। আর এখানেই ওসমানের মতো কৃষকেরা জয়ী।







সহায়ক গ্রন্থ
১. আবু ইসহাক। নির্বাচিত গল্প সমগ্র। নওরাজ সাহিত্য সম্ভার। ঢাকা। ২০০৫।
২. জয়ন্ত ভট্টাচার্য। বাংলার তেভাগা,তেভাগার সংগ্রাম। ন্যাশনাল বুক এজেন্সি। কলকাতা। ১৯৯৬।
৩. ধনঞ্জয় রায়। তেভাগা আন্দোলন। আনন্দ। কলকাতা। ২০০০।
৪. সোমনাথ হোড়। তেভাগার ডায়েরি। সুবর্ণরেখা। কলকাতা। ১৯৯১।




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন