শনিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২০

অদিতি রায় - মৃত্যুই ধ্রুব জীবনের পরপারে : একটি রেপ ন্যারেটিভ

অদিতি রায়
মৃত্যুই ধ্রুব জীবনের পরপারে : একটি রেপ ন্যারেটিভ


সালটা ১৯৭৬, ক্যালিফোর্নিয়ার ক্ল্যারেমন্ট গ্র‍্যাজুয়েট ইউনিভার্সিটি। একজন ছাত্র তার পিএইচডি -র গবেষণাপত্র লিখছেন ধর্ষকদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে। কিন্তু কীভাবে বিশ্লেষণ করবেন তাদের মানসিকতা? চাই কিছু ধর্ষকদের জবানবন্দী। লস এঞ্জেলসের পেপারে একটি বিজ্ঞাপন দিলেন তিনিঃ

ARE YOU A RAPIST?
Researcher Interviewing anonymously by phone to protect your identity.
Call- ********

সারাদিন বসে রইলেন ফোনের সামনে। রাত হয়ে গেল। কোনো ফোন এলোনা। অবশেষে তিনি যখন প্রায় নিরাশ সে সময় হঠাৎ বেজে উঠলো ফোন। ফোনের ওধারে একজন ধর্ষক স্বয়ং, যার মুখ থেকে জানা যাবে তাঁর মানসিকতা!  আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠলো ছাত্রের মুখ। এরপর একে একে আরো প্রায় ২০০ খানা ফোন তিনি পেয়েছিলেন। যাদের মধ্যে কেউ ধর্ষণ করেছে নিজের প্রেমিকাকে, কেউ পরিচিত কারো স্ত্রীকে, কেউ বা স্কুলের বাচ্চাকে। পেশায় এরা কেউ কম্পিউটার প্রোগ্রামার, কেউ চিত্রশিল্পী, কেউ ব্যবসায়ী কেউ বা আবার দারোয়ান। দেখে বোঝা যায়না তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে কোন ধর্ষকাম প্রবৃত্তি।

তাহলে কীভাবে তারা হয়ে উঠেছে ধর্ষক? কী বা তাদের ধর্ষণের মানসিকতা? এদের মধ্যে থেকে পঞ্চাশজনের জবানবন্দি বেছে নিয়ে তার বিশ্লেষণ করে তিনি তৈরী করলেন তাঁর গবেষণাপত্র। কাজ শেষ হলো ১৯৭৮ সালে। বিখ্যাত সেই ডিজারটেশনের নাম হলো "The Undetected Rapist" আর ছাত্রটি হলেন প্রসিদ্ধ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ড. স্যামুয়েল স্মিথম্যান।

এ তো গেল ক্যালিফোর্নিয়ার কথা। বিজ্ঞানের কথা। কিন্তু সাহিত্যে? সাহিত্যিক তো স্বয়ং ঢুকে বসেন একজন চরিত্রের অন্তর সত্তায়।
তাই করলেন বাংলাদেশের অন্যতম সাহিত্যব্যক্তিত্ব  বিপ্রদাস বড়ুয়া। (জন্মঃ ১৯৪০)

ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধ মধ্যবর্তী সময় পর্যায়ে কেটেছে তাঁর কৈশোর এবং যৌবন। এই তোলপাড় সময়ের সামগ্রিক রুপচ্ছবি প্রতিফলিত হয়েছে বাংলাদেশের সামগ্রিক সাহিত্যেই। এই রাজনৈতিক পালাবদলই বাংলাদেশের সাহিত্যের নিজস্ব ধারা সৃষ্টি করেছে, বলা ভালো একপ্রকার সাহিত্যের বুনিয়াদ গড়ে তুলেছে।
অন্যথা হয়নি বিপ্রদাস বড়ুয়ার ক্ষেত্রেও। অসামান্য দক্ষতায় "মৃত্যুই ধ্রুব জীবনের পরপারে" ছোটগল্পে এই সামাজিক পটভূমিতে তিনি মিশিয়েছেন মনস্তত্বের মশলা এবং জাদুবাস্তবতার সুগন্ধ।

সামরিকবাহিনী শাসিত বিধ্বস্ত বিচূর্ণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সামাজিক রাজনৈতিক উত্তাল পরিস্থিতির চিত্রপটে তিনি ফুটিয়ে তুললেন অনবদ্য এক রেপ ন্যারেটিভ। যেখানে কথক নিজেই একজন ধর্ষক এবং এক অর্থে একটি প্রাণের হত্যাকারী।

ভোলা অঞ্চলের একটি মেয়ে, গল্পের এক তৃতীয়াংশ অব্ধি যার কোনো নাম নেই, কারণ সে কেবলই একটি বস্তুদ্রব্য সম "মেয়ে", বরিশাল কলেজে সে ছিল পাঠরতা অর্থাৎ শিক্ষিত - বাবার কাছে টাকা নিতে এসে দাঙ্গার কবলে পড়ে তিন পরিচিত যুবক দ্বারাই অপহৃত হয় সে। কাকুতিমিনতি করে বা "দাদা" ডেকেও লাভ নেই জেনেও অসহায় আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিল মেয়েটি। কেবল হাসি দিয়ে লঘু করতে চেয়েছিল নিজের ভয় তথা পরিবেশের বীভৎসতা এবং ক্রিয়াকলাপের ভয়াবহতা। হ্যাঁ, ভয়ই তো পেয়েছিল সে, যদিও সেই ভয় ফুটিয়ে তুলতে চায়নি প্রকাশ্যে আর সেই ভয়ই সে ক্রমে সঞ্চারিত করে দিয়েছে ধর্ষকদের মনে। আর তারপর তা সঞ্চারিত হয়েছে গল্পের বিগ্রহে, অজানা শিহরণ সংক্রামিত হয়েছে পাঠকের মননে।

প্রথমেই জানা যায় মেয়েটির উপমা তার চমৎকার ক্ষুরধার শরীর, গুচ্ছ খোঁপা, পিঠের তিল। রিক্সায় দুই পুরুষের মধ্যিখানে গাদাগাদি করে বসিয়ে নিয়ে আসা হয় তাকে। রিক্সাওয়ালা পর্যন্ত সোৎসাহে প্ররোচনা দেয় ঘটতে চলা এই অনৈতিক ভোগোল্লাসের ঘটনাটিতে।

"প্রথমজনের বেলায় সে হাসিখুশি ছিল। দ্বিতীয়জনের বেলায় একটু সবুর করতে বলেছিল। তৃতীয়জনের বেলায় পানি চেয়েছিল। তার বদলে ওকে আমরা চুমু খেয়েছিলাম। পরিত্যক্ত ঘরে কোনো কলসী ছিলোনা।"

মেয়েটি যে একজন সম্পূর্ণ মানবী, ধর্ষণের কালে তা খেয়াল হয়নি তিন ধর্ষকের। তার জলের জন্য আকুলতা, হাসিমুখে অথচ কান্নাভরা গলায় তিনজনকে ডাকা...তাদের কারো কানে পৌঁছায়নি। এমনকি তার "আমি আর বাঁচবোনা".. এই আর্ত কথাটুকুও বিচলিত করেনি কাউকে।

কিন্তু মেয়েটি শেষে মারাই যায় আর তার মারা যাওয়াটুকুই শেষ পর্যন্ত বিস্মিত ও ভাবিত করে তোলে ধর্ষকদের। কথক লিখেছেন, বাংলাদেশের দাঙ্গা পরিস্থিতিতে অসংখ্য মানুষের মৃত্যুর ঘটনার মধ্যে একটি সাধারণ মেয়ের প্রাণ যাওয়াও অতি তুচ্ছ ঘটনা৷ মেয়েটির বাবা মা ছাড়া এক্ষেত্রে তার জন্য কাঁদারও কেউ নেই। কিন্তু তবু, মেয়েটির মৃত্যুই কার্যত কথকের বেঁচে থাকাকেই মিথ্যে করে দিয়েছে।

মানসিক ও শারীরিক উন্মাদনা কেটে গিয়ে তিনজন যখন স্বাভাবিক চৈতন্যে ফিরেছে তখন তারা মৃতদেহটুকুর মধ্যে প্রাণ ফিরিয়ে আনার অসম্ভব আকাঙ্ক্ষায় অনুশোচনাবিদ্ধ হয়েছে। আর বারবার তাই আত্মসমালোচনার মাধ্যমে, কৃত কার্যের পুনঃ পুনঃ বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে অজুহাত দিয়ে শান্ত করতে চেয়েছে, প্রবোধ দিতে চেয়েছে। আর ততই তারা ক্ষতবিক্ষত হয়েছে আত্ম দংশনে।

" ওর মুখের হাসি হাসি ভাবটুকুই আমাদের বিভ্রান্ত করেছে। আমরা বুঝতে পারিনি ও এত তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যাবে। আমরা আরো ভেবেছি ওর যৌবন ফুরাবার নয়। ওর মতো মেয়ের কাছে তিনজন যুবক কিছুই নয়।"

মারা যাওয়ার সময় মেয়েটি বলেছিল, "সমুদ্র তোমাদের নিয়ে যাবে।"

সে মুহুর্তে একথা তাদের কাছে হেঁয়ালী বলে মনে হলেও, এক অমোঘ অভিশাপের মতো এ কথা সত্যি হয়ে  ফলে গেছে। কাকতালীয়ভাবে হোক অথবা অখন্ডনীয় পরিণতি হিসেবে মেয়েটির কথাই তাদের জীবনে ধ্রুবক হয়ে উঠেছে।

মেয়েটি মারা যাওয়ার পর অনুশোচনার সাথে সাথে এক তীব্র ভয় এসে মেশে তিনজনের মনেও। কারণ গভীর প্রত্যয়ের সাথে মেয়েটি উচ্চারণ করেছিল কথাগুলো। তাছাড়া তারা কোনোভাবেই ভাবতে পারেনি তাদের অত্যাচারে মেয়েটির মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে যাবে। তাই অন্ধকার রাত্রে কাছে দুরে থেকে আসা লুটপাট আর ঘর পোড়ানোর চীৎকারের সাথে সাথে তারা শুনতে পায় সমুদ্রের গর্জন। এমন করে রাতের চড়ায় সাগরের ডাক আগে কখনো শোনেনি তারা।

ত্রিভুজের মতো তারা মেয়েটিকে ঘিরে বসে, যেন নিভে যাওয়া যজ্ঞের চারিদিকে তিন যজ্ঞকর্তা। তাদের একান্ত ইচ্ছেতে, একনিষ্ঠ প্রার্থনায় যেন আবার সাগ্নিক হয়ে উঠবে হোম, প্রাণ ফিরে পাবে মেয়েটি। নিজেদের "কুৎসিত হিমশীতল অত্যাচার", ইডের ধ্বংসাত্মক প্রবৃত্তিকে আহুতি দিতে প্রস্তুত তারা সেই যজ্ঞে।

তারা ভাবে, মেয়েটি বেঁচে উঠলে তাদের পকেটে থাকা লুটের বিশ পঞ্চাশ হাজার টাকা, সোনাদানা সবকিছু তাকে তারা দিয়ে দেবে। এমনকি মেয়েটির দেওয়া যে কোনো শাস্তিও মেনে নেবে তারা নির্দ্বিধায়!

কিন্তু মেয়েটি স্পন্দনহীন! দয়াভিক্ষা না করে, হাসি মুখে, অবিচলিত ভাবে নেমেসিসের মতো একটি স্তোত্র উচ্চারণ করে সে মারা গেছে, সেই মৃত্যুর চেয়ে বড় শাস্তি আর নেই এই তিনজনের পক্ষে।

মেয়েটি বাধা দিলেও তারা হয়তো বল-প্রয়োগ ই করতো, তবু এ অবস্থায় তিন ধর্ষক মায়ার বশবর্তী হয়ে ছোটবোনের মতো তাকে পোশাক পরিয়ে দিয়েছে, মরদেহ কাঁধে তুলে নিয়েছে যথাসাধ্য যত্ন ও আয়োজন সহকারে, তারপর তারই কথা মতো সমুদ্রে ভাসিয়ে দিয়েছে তাকে।

তার তীব্র কঠিন আদেশে তারা যেমন বারান্দায় চলে গিয়েছিল ধর্ষনের শেষে, তেমনই মরে গেলে সে যে সমুদ্রে যাবে..তার সেই কথা আদেশের মতো অনুরণিত হয়েছে তাদের মনে। আদেশ পালন করেছে তারা কোনো এক অজানা আশঙ্কা থেকে, আবার বিবেকের দংশন থেকে, আবার হয়তো সহজাত এক মনুষ্যত্বের মায়া থেকে, ইডের উপরে জেগে ওঠা বলিষ্ঠ ইগো এবং সুপার ইগো থেকে।

এরপরই কথক জানান, মেয়েটির নাম নাম  "মালতী" এবং বলেন, "এরপরই ওর সব কথা ফলতে শুরু করলো"... 
এখানে এসেই পাঠকের মনে পড়ে যেতে পারে রবি ঠাকুরের বাংলাদেশের সাধারণ মেয়ে মালতীর কথা, যারা ফরাসী জানেনা, জার্মান জানেনা, কেবল কাঁদতে জানে। কিন্তু তাদের মধ্যেই লুক্কায়িত যেসব অসাধারণত্বের স্ফুলিঙ্গ.. তাতে মালতীর গণিতে প্রথম হওয়ার ইচ্ছে পূরণ হয় কিনা তা জানা না গেলেও,  সেই আগুনেই এই গল্পের ধর্ষিতা মালতীর ইচ্ছে নিয়তির পরিহাসের মতোই ফলতে শুরু করে।

মাঝগাঙে ডুবে মারা যায় দুই ধর্ষক। সমুদ্রগ্রাস থেকে কোনোক্রমে  রেহাই পেয়ে যান কথক। আর তারপর থেকে তীব্র মৃত্যুভয় ধাওয়া করতে থাকে তাঁকে। মালতী মারা গেছে, সাথে নিয়ে গেছে কথকের ধর্ষক দুই সঙ্গীকেও। তিনি জানেন, এরপর হাঁটুজল নদীতে পরলেও আর প্রতিরোধের শক্তি তিনি পাবেননা। তার অবচেতনে কীভাবে যেন গেঁথে গিয়েছে, হয়তো তিনি সাঁতার জানেননা। মৃত্যু যে তার জলে ডুবেই হবে, দুই সঙ্গীর সলিল সমাধিতে সেই প্রত্যয় দৃঢ় হয়ে গিয়েছে তার মনে।

আর নিজের এই অনিবার্য পরিণতির কথা সম্পর্কে সুনিশ্চিত হয়ে গিয়েই বেঁচে থাকার প্রতিটি মুহুর্তই তার কাছে হয়ে উঠেছে মৃত্যুর অধিক। তিনি হয়ে উঠেছেন জীবন্মৃত।

"কৃষ্ণকান্তের উইল" -এ ভ্রমরের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র দেখিয়েছিলেন, অনুতাপ অনুশোচনার চেয়ে বড়ো শাস্তি আর হয়না। আলোচ্য গল্পটির ক্ষেত্রে অনুশোচনার সাথে ভরাকোটালের জোয়ারের মতো এসে মিশেছে মৃত্যুভয়।

"আমার স্নায়ু স্নায়ুতন্ত্রীকে, ইন্দ্রিয় ইন্দ্রিয়কে, রক্তকণিকা রক্তকণিকা সমূহকে, কোশ কোশকলাকে ধ্বংস করে যাচ্ছে।"

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের "নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে" উপন্যাসেও মালতী ছিলো এক তরুণী বিধবা নারী। সারা উপন্যাস জুড়ে অমলিন থাকা একটি চরিত্রকে শেষাংশে গণধর্ষিত, লাঞ্ছিত হতে হয় দেশভাগের বিক্ষুব্ধ দাঙ্গার পটভূমিকায়।
এ মালতী আসলে নির্দিষ্ট একজন মালতী নয়, এ আসলে "আত্মজা ও একটি করবী গাছ" এর রুকু, "মানুষের জন্য" গল্পের দুইভাইয়ের অসহায় মা তথা যুদ্ধবিদ্ধস্ত বুভুক্ষু  দেশের অসহায় নারী। বড় অর্থে বিত্রস্ত, লাঞ্ছিত বাংলাদেশ। অত্যাচারে মৃতপ্রায় বাংলাদেশ। হাসতে ভুলে যাওয়া বাংলাদেশ।

এই সমুদ্র হতে পারে সময়ের প্রতীক, হতে পারে পরিস্থিতির প্রতীক, অথবা শুধুই নিয়তি। ম্যাজিক রিয়ালিজমের আতসকাঁচে দেখলে এ আসলে ধর্ষিত অসহায় জীবনের অন্তর্নিহিত প্রতিশোধস্পৃহার গল্প, নেমেসিসের চূড়ান্ত প্রকোপের গল্প।

উইলিয়াম ফকনারকে উদ্ধৃত করে নোবেল পুরস্কার ভাষণে ম্যাজিক রিয়েলিজমের জাদুকর মার্কেস বলেছিলেন, ‘মানুষের অবসান মেনে নিতে আমি অস্বীকার করি। ’ তিনি বলেছেন, ‘সমস্ত দমনপীড়ন, নির্যাতন, লুটতরাজ, আত্মবিক্রয় সত্ত্বেও আমাদের উত্তর হচ্ছে- 'জীবন'। না বন্যা, না মহামারী, না বুভুক্ষা, না প্রলয়ঝড়, এমনকী শতাব্দীর পর শতাব্দীজুড়ে চিরকাল বয়ে চলা যুদ্ধবিগ্রহেও মৃত্যুর ওপর জীবনের নাছোড় প্রাধান্যকে হ্রাস করে দিতে পারেনি।"

এই দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করলে, মালতীর সমুদ্র হয়ে যাওয়া এবং ধর্ষকদের পরিণতিও আসলে আলোকিত জীবনের জয়ধ্বনির কথাই সূচীত করে।
সমাজ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রেপ ন্যারেটিভের পাশাপাশি অসামান্য প্রতীকি অর্থে এক আলো আঁধারময় ভাবনার প্রাঙ্গণ লেখক পাঠকদের জন্য রেখে যান গল্পটির ক্ষেত্রে। চৈতন্যের স্তর ভেদ করে মগ্নচৈতন্যের কড়া নাড়া দেয় গল্পটি।

গল্পটির কথনকৌশল অনবদ্য। উত্তমপুরুষ বয়ানে একজন ধর্ষকের জবানিতে এমন ধর্ষকাম মনোপ্রবৃত্তি এবং ধর্ষণোত্তর মানসিকতা প্রকাশক গল্প ভীষণই বিরল।

একজন মৃতাকে মাঝে রেখে তাঁর তিন প্রেমিকের আলাপ আলোচনা ও মনস্তত্ব নিঁখুত ভাবে লিপিবদ্ধ করেছিলেন কথাসাহিত্যিক বিমল কর "আমরা তিন প্রেমিক ও ভুবন" গল্পে।
এখানে একজন ধর্ষিতা নারীর মৃতদেহ সামনে রেখে অনুশোচনা ও আশঙ্কায় বিদ্ধ তারই তিন ধর্ষক পুরুষ। বাইরের আঙ্গিক এবং গভীর সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক নিহিতার্থের পাশাপাশি প্লট নির্বাচনের ক্ষেত্রেও অনবদ্যতার দাবি রাখে এই ছোট গল্প।

মৃত্যুই জীবনের পরপারে একমাত্র ধ্রুব। আর এ গল্পের ধর্ষক তথা কথকের জীবনে সমুদ্রগর্ভে মৃত্যুই অনিবার্য এবং ধ্রুব। তাই বরিশাল থেকে ভোলা গামী স্টিমারের পথে প্রতিটা মুহুর্ত আতঙ্কে এবং আশঙ্কায় পার করতে হয় বেঁচে যাওয়া ধর্ষককে।


1 টি মন্তব্য: